জাতীয়
হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে আজ থেকে দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’
শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে দেশব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে আগামী ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে এই কর্মসূচি। এই সময়ে হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতে সহযোগিতা চাইতে সরকার, রাজনৈতিক দল ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানুষের কাছে যাবেন সংগঠনটির সদস্যরা।
একইসঙ্গে, আগামী ৭ জানুয়ারির মধ্যে হাদির খুনি ও খুনের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করার দাবিও জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তা না হলে ৭ জানুয়ারির পর থেকে চূড়ান্ত আন্দোলনে নামবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। ২২ কর্মদিবসের মধ্যে বিচার না করলে সরকার পতনের আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনটির নেতারা।
এর আগে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন।
এসময় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে বলেন, আপনাদের সঙ্গে যদি কেউ বৈঠক করতে আসে, আপনারা অবশ্যই বৈঠক করবেন। কিন্তু সেই বৈঠক হতে হবে ওপেন। কোনো সিক্রেট বৈঠক নাই। দিল্লির সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন বৈঠক চলবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তিন পাশ থেকে ভারতীয় আধিপত্যবাদ, যার কারণে আমরা ভারতীয় আধিপত্যের বিপক্ষে কথা বলি। এখন যদি আমেরিকা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদ খাটাইতে চায়, আমরা কি আমেরিকার বিরুদ্ধে কথা বলব না? আমরা কি কারো কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব দিয়ে দিব? না, দেব না। আমাদের এই লড়াইটা কেবল শুরু।
ওসমান হাদির আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব বলেন, ওসমান হাদি আমাদের এই লড়াইয়ের পথটা দেখিয়ে গেছেন। এখন আমাদের সেই অনুযায়ী সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমাদের কথা একটাই, বাংলাদেশের সব ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আমরা এই লড়াইটা করব, ইনশাআল্লা
জাতীয়
দক্ষিণ এশীয় উচ্চশিক্ষা সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা
‘উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা-২০২৬’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রধান অতিথি হিসেবে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি।
রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে সম্মেলনটি আজ শুরু হয়ে চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিসহ মোট ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন।
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘হায়ার এডুকেশন এক্সিলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট)’ প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।
দেশের উচ্চশিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করা এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চশিক্ষা কমিশন নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করতে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।
এ ছাড়া অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেম, ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীম উদ্দিন খান।
সম্মেলনে সার্কভুক্ত দেশের ইউজিসি ও উচ্চশিক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা, বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষাবিদ, গবেষক, কূটনীতিক উপস্থিত থাকবেন।
তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলনে মোট ৮টি সেশন অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দিনে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা, সুশাসন ও গুণগতমান এবং অন্তর্ভুক্তি’ এবং ‘গবেষণা, উদ্ভাবন, স্থায়িত্ব এবং সামাজিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক দু’টি সেশন থাকবে।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় গুরুত্ব পাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সমন্বয়, ডিজিটাল রূপান্তর এবং স্মার্ট লার্নিং ইকোসিস্টেম’, ‘গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা’, উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ পথরেখা : সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং নেটওয়ার্কিং’, ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে অংশীজনদের সংলাপ : সুশীল সমাজের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘উপাচার্যদের সাথে সংলাপ: হিট প্রকল্পের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক সেশন অনুষ্ঠিত হবে।
সম্মেলনের শেষ দিনে ‘উচ্চশিক্ষায় জেন্ডার ইস্যু’ নিয়ে আলোচনা শেষে ‘ঢাকা হায়ার এডুকেশন ডিক্লারেশন’ বা ঢাকা ঘোষণার মাধ্যমে সম্মেলনের সমাপ্তি ঘটবে।
জাতীয়
১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সব সংগঠনের নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রভাবমুক্ত রাখতে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সব ধরনের পেশাজীবী ও অন্যান্য সংগঠনের নির্বাচন আয়োজন না করার নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনী কার্যক্রমকে যেকোনো ধরনের প্রভাবমুক্ত রাখার লক্ষ্যে কমিশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সব পেশাজীবী সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সব ধরনের নির্বাচন, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সমিতি, সাংবাদিক সমিতি, বণিক সমিতি (চেম্বার অব কমার্স), সমবায় সমিতি ও ট্রেড ইউনিয়নসহ অন্যান্য সব নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত সংগঠনের নির্বাচন বন্ধ রাখতে নির্দেশনা দিয়েছে ইসি।
ইসির নির্দেশনায় আরও জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সংগঠনগুলোর যেকোনো নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির পর আয়োজন করতে হবে। সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় বা পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব সৃষ্টি না হয়, সেজন্য এই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।
জাতীয়
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন-কমিশনার নিয়োগে বাছাই কমিটি
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারপারসন ও কমিশনার নিয়োগে সুপারিশ দিতে বাছাই কমিটি গঠন করেছে সরকার।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুযায়ী, সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ কমিটি গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।
ছয় সদস্যের এ কমিটির সভাপতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব। কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন- মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহনাজ হুদা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুল হাসিব চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বা তার মনোনীত মানবাধিকার বিষয়ে সাংবাদিকতায় অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একজন সাংবাদিক প্রতিনিধি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কুবলেশ্বর ত্রিপুরা।
কমিটি লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ বাচাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সচিবিক সহায়তা দেবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ নভেম্বর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেন। চেয়ারম্যানের পাশাপাশি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পাঁচজন অবৈতনিক সদস্যও মো. আমিনুল ইসলাম, কংজুরি চৌধুরী, বিশ্বজিৎ চন্দ, অধ্যাপক তানিয়া হক এবং সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজাও পদত্যাগ করেন।
এরপর ৯ নভেম্বর ২০০৯ সালের আইন বাতিল করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী চেয়ারপারসন ও চারজন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিশন গঠন হবে। চেয়ারপারসন ও কমিশনারদের মেয়াদ হবে চার বছর।
জাতীয়
ভোট ডাকাতি আর যেন না ঘটে সেই ব্যবস্থা করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতামও। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়া হয়েছে— এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশন। প্রতিবেদন গ্রহণকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, ড. মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে… এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ সে সময় অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায়, সেজন্য এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল— সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, আমাদের সেই স্থায়ী ব্যবস্থা করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ‘অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা’ কাজ করেছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত তিনটি নির্বাচনের এই অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়। এটি বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল, যা ‘নির্বাচন সেল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
২০১৪-২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
জাতীয়
বাংলাদেশ মিশনের চার প্রেস কর্মকর্তাকে দেশে ফেরার নির্দেশ
বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস উইংয়ে দায়িত্ব পালনরত চার কর্মকর্তাকে অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
চার কর্মকর্তা হলেন—মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রথম সচিব (প্রেস) সুফি আব্দুল্লাহিল মারুফ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কন্স্যুলেট জেনারেল অফিস অব বাংলাদেশের প্রথম সচিব (প্রেস) আরিফুর রহমান, সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) আসাদুজ্জামান খান ও জাপানের টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্বিতীয় সচিব (প্রেস) ইমরানুল হাসান।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৭ মার্চ বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের প্রেস উইংগুলোর চার কর্মকর্তাকে তাদের বর্তমান পদ ও কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে পরবর্তী পদায়নের জন্য ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে দেশে ফেরার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীকালে ১৩ এপ্রিল জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করে এ মিশনগুলোতে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া হয়।
এরই মধ্যে এসব মিশনে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে এবং তাদের অনুকূলে আর্থিক সরকারি আদেশ জারি হয়েছে বলেও জানিয়েছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসব কর্মকর্তাকে আবশ্যিকভাবে অবিলম্বে কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিয়ে দেশে ফেরার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।




