জাতীয়
জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা
১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বীর শহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সূর্যোদয়ের সময় সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করেন রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা।
প্রথমে সকাল ৬টা ৩৩ মিনিটে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এর কিছুক্ষণ পর সকাল ৬টা ৫৬ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস।
রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গার্ড অব অনার প্রদান করে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।
এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।
বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
১৬ ডিসেম্বর প্রত্যুষে ঢাকায় ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উদযাপন শুরু হয়।
দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবন এবং বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনায় আলোকসজ্জা করা হয়েছে। ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়ক দ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন এবং রঙিন পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।
মহান বিজয় দিবস দেশব্যাপী জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদ্যাপনের অংশ হিসেবে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুটিং করে বিশ্ব রেকর্ড গড়া হবে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে শহরের তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে পৃথকভাবে ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শন করবে। সেখানে একটি বিশেষ বিজয় দিবস ব্যান্ড শো আয়োজন করা হবে।
‘টিম বাংলাদেশ’-এর ৫৪ জন প্যারাট্রুপার দেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর উপলক্ষে সকাল ১১টা ৪০ মিনিট থেকে পতাকাবাহী স্কাইডাইভ প্রদর্শন করবে। যা বিশ্বের সর্ববৃহৎ পতাকা-প্যারাশুটিং প্রদর্শনী হবে, যা একটি নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড স্থাপন করবে।
এ ছাড়া, দেশের অন্যান্য শহরেও সশস্ত্র বাহিনী দ্বারা একই রকম ফ্লাই-পাস্ট প্রদর্শনী পরিচালিত হবে। এর পাশাপাশি, পুলিশ, বিজিবি এবং আনসার বাহিনী দেশব্যাপী ব্যান্ড শো আয়োজন করবে। সমস্ত অনুষ্ঠান জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের সব জেলা ও উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বিজয় মেলার আয়োজন করবে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসন শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধের ওপর আবৃত্তি, প্রবন্ধ রচনা এবং চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং দিবসটি উদ্যাপনের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
সকাল ৯টায় বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের সমাবেশ, জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় সংগীত পরিবেশন, কুচকাওয়াজ ও ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হবে।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১৫ ডিসেম্বর ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিকেল ৩টায় আ্যক্রোবেটিক শো ও সন্ধ্যা ৬টায় যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’ অনুষ্ঠিত হবে।
১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পরিবেশিত হবে বিজয় দিবসের গান। পাশাপাশি সারাদেশের ৬৪ জেলায় একযোগে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের গান পরিবেশন করবেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা।
এ উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করবে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা উপজেলা পর্যায়ে সুবিধাজনক সময়ে স্কুল, কলেজ, মাদরাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, কাবাডি ও হাডুডু প্রভৃতি খেলার আয়োজন করা হবে।
রাষ্ট্রপতি কর্তৃক বঙ্গভবনে অপরাহ্নে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া, মহানগর, জেলা ও উপজেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ এ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট প্রকাশ করবে।
দেশের সব হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, পথশিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হবে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি বেতার ও টিভি চ্যানেলে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসভিত্তিক অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হবে। দেশের সব শিশু পার্ক ও জাদুঘর বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ঢাকাসহ সারা দেশের সিনেমা হলগুলোতে বিনামূল্যে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হবে।
এ ছাড়া, সকাল ৯টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত চট্টগ্রাম, খুলনা, মংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা ও বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি’র ঘাটে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্টগার্ড একক ও যৌথভাবে জনসাধারণের দেখার জন্য জাহাজ উন্মুক্ত রাখবে।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য কামনা এবং দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে সারাদেশে মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।
এমকে
জাতীয়
কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে ব্যালটসহ ভোটের উপকরণ
গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ ভোটের উপকরণ কেন্দ্রে কেন্দ্রে যাচ্ছে৷
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা নিজের দপ্তর থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নির্বাচনী সকল উপকরণ বিতরণ করছেন।
ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন। পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন।
আর হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
এসব ভোটার ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে ভোটদান করার সুযোগ পাচ্ছেন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে ২১ হাজার ৫০৬টি।
নির্বাচনে ৭ লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ভোট নেবেন। এদের মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের দুই বিভাগীয় কমিশনার, ৬৪ জন জেলা প্রশাসক ও তিনজন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৫৯৮ জন।
১২ ফেব্রুয়ারি ২৯৯ আসনের ভোটে ৬০টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে ৫০টি দল অংশগ্রহণ করছে।
এতে দলের প্রার্থী রয়েছে ১ হাজার ৭৫৫ জন। স্বতন্ত্র ২৭৩ জন। নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮৩ জন। এরমধ্যে দলীয় প্রার্থীর সংখ্যা ৬৩ জন। বাকি ২০ জন হচ্ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী।
ভোটে পুরুষ প্রার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৪৬ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৯২ জন দলীয় প্রার্থী। পুরুষদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৫৩ জন।
শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় ভোট স্থগিত করেছে কমিশন, যেখানে পরবর্তীতে নতুন তফসিলের মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন করবে ভোট আয়োজনকারী সংস্থাটি।
জাতীয়
নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জ্বালানি উপদেষ্টার
দরজায় কড়া নাড়ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টারা শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করেছেন। তারই ধারায় সুষ্ঠু নির্বাচন ও নতুন সরকারের প্রতি অগ্রিম শুভ কামনা জানিয়েছেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শেষ কার্যদিবস অতিবাহিত করেছি। যদিও আইন অনুযায়ী নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ পর্যন্ত আমি উপদেষ্টা পদে বহাল থাকব, নির্বাচনের পর নৈতিক বিবেচনায় আমি আর কোনো নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার থেকে বিরত থাকব।
জাতির সেবার সুযোগ পাওয়া যে কোনো নাগরিকের জন্য ভাগ্যের বিষয়। এ সৌভাগ্যের জন্য আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। উপদেষ্টা পদে কার্যকালে, আমার সাথে কর্মরত সচিববৃন্দ, দফতর ও কোম্পানি প্রধানসহ সকল সহকর্মীর সমর্থন ও অকুণ্ঠ সহযোগিতা পেয়েছি, এজন্য তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, সহিংসতা মুক্ত ও উৎসবমুখর হোক। আমি আগেও বেশ কয়েকবার বলেছি, যে দল বা জোটই বিজয়ী হোক না কেন, আমরা জাতি হিসেবে তাদের পেছনে দাঁড়াব। নতুন সরকারের জন্য শুভ কামনা।
এমএন
জাতীয়
বিদায়বেলায় উপদেষ্টারা, সাফল্যের মূল্যায়নে কে কত নম্বর দিলেন
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোট। এই নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হবে এবং বিদায় নেবে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দেড় বছরের দায়িত্ব পালন শেষে নিজেদের সাফল্য, ব্যর্থতা এবং কাজের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তারা ১০০ নম্বরের মধ্যে নিজেদের বিভিন্ন নম্বর দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নিজেদের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা দেন। এর মধ্যে তিনজন উপদেষ্টা নিজেদের কাজের মূল্যায়নে ৭০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত নম্বর দিয়েছেন। তবে কেউই নিজেকে শতভাগ সফল বলে দাবি করেননি। এছাড়া অন্যান্য উপদেষ্টারাও নানা বিষয় তুলে ধরেছেন।
নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই : অর্থ উপদেষ্টা
নিজের মূল্যায়নে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমি খুব প্র্যাগমেটিক মানুষ। নিজেকে ১০০ নম্বর কেন দেব? আমাদের অনেক ইচ্ছা ছিল, অনেক কাজ শুরু করেছি, কিন্তু সব শেষ করে যেতে পারিনি। সে কারণেই আমি নিজেকে ৭০ বা ৮০-এর বেশি দিতে রাজি নই।
তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সময়ে অর্থনীতি পরিচালনা করা সহজ ছিল না। কাঠামোগত দুর্বলতা, প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।
৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি : নৌপরিবহন উপদেষ্টা
নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, সাফল্যের শতাংশ আমি মেবি (সম্ভবত) ৭০ শতাংশ দেব। এটা আমার মূল্যায়ন। ৩০ শতাংশ হয়তো আরও ভালো হতে পারত, কিন্তু হয়নি। হয়নি বিভিন্ন কারণে, নানাবিধ কারণে।
দেশের অস্থির সময়ে পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এত বড় প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখেও পুলিশ কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেনি। এমনকি লাঠিচার্জের ক্ষেত্রেও তারা যথেষ্ট সংবরণ দেখিয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, লাঠি মারলে লোকে বলে পুলিশ লাঠি মারছে, আর রাইফেল তো কথাই নেই; রাইফেল তো বলতে গেলে আনইউজড (অব্যবহৃত)।
বিপ্লবের পর অনেক দেশ বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা ও গৃহযুদ্ধের (সিভিল ওয়ার) মধ্যে কাটিয়েছে। সেই তুলনায় বাংলাদেশের মানুষ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় এবং সুশৃঙ্খল বলেও মনে করেন তিনি।
প্রশাসনিক জটিলতা ও জনবল সংকটে শতভাগ সফল হতে পারিনি : ধর্ম উপদেষ্টা
ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, আমি ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছি। আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকাণ্ডে অনেক অর্গান আছে, অনুদান শাখা আছে। অনুদান শাখার মাধ্যমে দেশের মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, কবরস্থান এবং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মীয় জাতিগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হয়েছে।
নিজের সফলতার খতিয়ান তুলে ধরে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসনিক কিছু জটিলতা ও জনবল সংকটের কারণে আমি শতভাগ সফল হতে পারিনি। প্রশাসনিক কাজ একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। তবে আমরা ইতোমধ্যে শূন্যপদ পূরণে ছয়জন কর্মকর্তা নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছি এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আর কিছুদিন সময় পেলে ওয়াকফ প্রশাসনকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে এবং জবাবদিহির আওতায় নিয়ে আসতে পারতাম। ওয়াকফ সংক্রান্ত কাজগুলো বেশ জটিল, বিশেষ করে ভূমিসংক্রান্ত মামলার কারণে হাইকোর্টে বছরের পর বছর শুনানি ঝুলে থাকে।
জ্বালানি খাত ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, কোনোটাই পাইনি : জ্বালানি উপদেষ্টা
জ্বালানি খান ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কিন্তু, এর কোনোটাই তিনি পাননি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে এ খাতে দৃশ্যমান কিছু না করতে পারার ব্যর্থতা শিকার করে তিনি বলেন, জ্বালানি খাতকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় ও বিনিয়োগ প্রয়োজন। তার কোনোটাই পাননি তিনি। তবে রাজনৈতিক সরকার নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে এ খাতকে ঢেলে সাজাতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ফাওজুল কবির খান বলেন, ভর্তুকি দিয়ে কোনো প্রকল্প হাতে নিতে চায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আদানি চুক্তি নির্বাচিত সরকারের হাত ধরে সমাধান হবে।
বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না : ভূমি উপদেষ্টা
সরকারের ভেতরে অন্যদের সমর্থন না পাওয়ায় ভূমি নিবন্ধন আইন মন্ত্রণালয় থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনতে পারেননি বলে জানিয়েছেন খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিদায়ের সময় ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না।
ভোগান্তি লাঘবে ভূমি নিবন্ধনকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার একটা প্রক্রিয়া ছিল। সেই বিষয়ে অগ্রগতি জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন বিদায় নিচ্ছি তখন ভেতরের কথা নিয়ে তিক্ততা বাড়াতে চাই না। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কিন্তু আমরা সফল হইনি।
কেন সফল হননি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের তো সমর্থন পেতে হবে, এটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারের আরও যারা আছেন তাদের সমর্থন লাভ করতে পারিনি।
ভুলত্রুটি থাকলে ক্ষমা করবেন, আমাকে ভুলে যাবেন : বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ইনশাআল্লাহ নতুন সরকার গঠন হওয়ার পরে সাথে সাথে আমি আমার কর্মজীবনে ফেরত যাব। আশা করি আপনারা আমাকে ভুলে যাবেন এবং মাফ করে দেবেন। আমি ভুলে থাকতে চাই। আমি কখনোই কোনো যোগাযোগ মাধ্যমে আসিনি আগে। আমি আবার চাই আপনাদের মাধ্যমে একটি স্বনির্বন্ধ অনুরোধ করতে চাই, শেষ অনুরোধ, যে আমাকে দয়া করে ভুলে যাবেন।
তিনি বলেন, গত দেড় বছর বিভিন্ন প্রশ্ন ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে সাংবাদিকরা তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রেখেছেন। এতে তার কাজের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি যেসব জায়গায় ভুল ছিল, সেগুলো সংশোধনের সুযোগও তৈরি হয়েছে।
‘সরকারে আসার সময় আমার তেমন কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। তবে চেষ্টার কোনো কমতি রাখিনি। আল্লাহর রহমতে সৎভাবে কাজ করার চেষ্টা করেছি। কারও প্রতি বৈষম্য বা স্বজনপ্রীতি করিনি। সম্মিলিতভাবে আল্লাহ তায়ালা বরকত দিয়েছেন।’
এমএন
জাতীয়
বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন সিইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন (ইসি) এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আগের দিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি)
ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার আগামীকাল বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তার এই ভাষণ রেকর্ড করার কথা রয়েছে। বুধবার বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এটি সম্প্রচার করা হবে।
ভাষণে সিইসি নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি দেশবাসীকে জানাবেন এবং ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ১১ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ওই ভাষণের মাধ্যমেই তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সারা দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সংসদীয় ভোটের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয়
ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান: প্রধান উপদেষ্টা
ভয় নয়, সাহস নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “ভয়কে পেছনে রেখে, সাহসকে সামনে এনে ভোটকেন্দ্রে যান। আপনার একটি ভোট শুধু একটি সরকার নির্বাচন করবে না, এটি ১৭ বছরের নীরবতার জবাব দেবে, বাধাহীন ফ্যাসিবাদের জবাব দেবে, জাতিকে নতুনভাবে গঠিত করবে এবং প্রমাণ করবে- এই দেশ তার তরুণ ও নারী এবং সংগ্রামী জনতার কণ্ঠ আর কোনোদিন হারাতে দেবে না।”
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোট বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
তিনি বলেন, এই নির্বাচন শুধু জনপ্রতিনিধি বাছাই নয়; বরং রাষ্ট্র কোন পথে এগোবে—তার সিদ্ধান্ত জনগণ নেবে।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
গুজব ও অপপ্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর করবে—এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ নেই।



