জাতীয়
সারাদেশে সেনা অভিযানে গ্রেফতার ৩৩
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে সাত দিনে ৩৩ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসময় তাদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইএসপিআর জানায়, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, শৃঙ্খলা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ ডিসেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের অধীন ইউনিট কর্তৃক অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বেশকিছু যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এসব যৌথ অভিযানে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, মাদকাসক্ত, ডাকাত সদস্য, কিশোর গ্যাং, চোরাকারবারিসহ মোট ৩৩ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারদের কাছ থেকে ১০টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ১২ রাউন্ড বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ, ১২টি ককটেল, দেশি-বিদেশি মাদকদ্রব্য ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারদের প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদ এবং আইনি কার্যক্রম সম্পন্নের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
আইএসপিআর আরও জানায়, দেশব্যাপী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত টহল কার্যক্রম ও নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা করছে। পাশাপাশি, শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী যথাযথ দায়িত্ব পালন করছে।
দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অস্বাভাবিক কার্যকলাপ পরিলক্ষিত হলে তা নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করতে সাধারণ জনগণকে অনুরোধ জানিয়েছে আইএসপিআর।
জাতীয়
যেসব কারণে বাতিল হবে পোস্টাল ব্যালট
স্বাক্ষর ছাড়া গণভোট, কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে এবং একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দিয়ে পোস্টাল ব্যালট পাঠালে তা বাতিল করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এছাড়াও আরও বেশি কিছু কারণে পোস্টাল ব্যালট বাতিল করবে সংস্থাটি।
ইসির উপ-সচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন ইতিমধ্যে এমন সিদ্ধান্তের চিঠি সকল রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, বৈধ ব্যালট পেপারসমূহ জাতীয় সংসদের ক্ষেত্রে প্রার্থীভিত্তিক এবং গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না ভিত্তিক আলাদা করার পর তা গণনা করতে হবে।
তবে ইস্যুকৃত পোস্টাল ব্যালট, নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে, প্রিজাইডিং অফিসার কোনো প্রার্থীর অনুকূলে গণনা করবেন না:
(ক) খামের মধ্যে ঘোষণাপত্র না থাকলে;
(খ) ঘোষণাপত্রে ভোটারের স্বাক্ষর না থাকলে;
(গ) একাধিক প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে;
(ঘ) কোনো প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া না হলে;
(ঙ) এমনভাবে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হয়েছে যে ভোটটি কোনো প্রার্থী/প্রতীকের পক্ষে দেওয়া হয়েছে তা যুক্তিসঙ্গতভাবে নিশ্চিত করা যায় না;
(চ) OCV (প্রবাসী) এর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতীক ব্যতীত অন্য প্রতীকে টিক বা ক্রস চিহ্ন দেওয়া হলে;
(ছ) ব্যালট পেপারে টিক বা ক্রস চিহ্ন ব্যতীত অন্য কোনো চিহ্ন প্রদান করা হলে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গণনার সময় উপযুক্ত কারণে ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের অবৈধ বা বাতিল ব্যালট পেপারসমূহ একত্রে একটি নির্ধারিত খামে রেখে খামের ওপর সংখ্যা উল্লেখ করতে হবে। এছাড়া মোট অবৈধ বা বাতিল ব্যালটের সংখ্যা ফলাফল বিবরণীর নির্ধারিত স্থানে লিপিবদ্ধ করে ফলাফল বিবরণী প্রস্তুত করতে হবে।
এদিকে কোনো আসনের পোস্টাল ব্যালট অধীনে ভোট গণনা শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিকট না পৌঁছালে উক্ত পোস্টাল ব্যালট গণনার অন্তর্ভুক্ত হবে না।
এছাড়া কোনো আদালতের আদেশে কোনো নির্দিষ্ট নির্বাচনী আসনের প্রার্থীনতালিকায় পরিবর্তন ঘটলে উক্ত আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনার প্রয়োজন হবে না (‘যথাসময়’ বলতে মোট পাঁচ দিন তথা ভোটগ্রহণের দিনসহ পূর্ববর্তী ০৪ দিন সময়কে বোঝাবে)।
বাতিল ব্যালটগুলো QR কোড ডুপ্লিকেট হওয়ার কারণে এবং ভোটার কর্তৃক পোস্টাল ব্যালট পাওয়ার পর খামের QR কোড স্ক্যান না করার কারণে বাতিল হওয়া ব্যালটের খামের সঙ্গে আলাদাভাবে সংরক্ষণ করতে হবে এবং তার হিসাব প্রকাশ করতে হবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দেশের ভেতর থেকে ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত সরকারি চাকরিজীবী, কয়েদী ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এবং প্রবাসীরা মিলে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার নিবন্ধন করেছেন ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার।
এমকে
জাতীয়
বিআরটিসির সব বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়: উপদেষ্টা রিজওয়ানা
বিআরটিসির যত বাস আছে, সবকটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। সবকটা বাস আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম। প্রতিটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি চ্যালেঞ্জ করে এ কথা বলেন।
এসময় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা কাজের কথা একটু মন খারাপ করে বলি। বিআরটিসির যত বাস আছে, সবকটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। সবকটা বাস আমি চ্যালেঞ্জ করে বলে গেলাম। প্রতিটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বের হয়। এইগুলো কি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না?’
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি ১০টা মাস যাবৎ যতবার ফোন করছি একটা স্ক্র্যাপ পলিসির জন্য, আমি জানি না ফাওজুল ভাই (সড়ক উপদেষ্টা) কতবার ফোন করেছেন। গত অক্টোবরের ২৮ তারিখে যেই স্ক্র্যাপ পলিসি ফাইনাল হয়ে যাওয়ার কথা, সেটি এখনও হয়নি। আমরা যদি কয়েকটা দূষণকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠিন না হই, আর কেউ কঠিন হবে না।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, প্রতিটা বাস থেকে কালো ধোঁয়া বেরচ্ছে। তারা মেইটেন্যান্সে যাবে। সেখানে বিআরটি-এর একটা বড় দায়িত্ব আছে। এটা পালন করার একটা সমন্বিত উদ্যোগ হতে হবে। যাদের পুরোনো বাস আমরা বলছি না আজকেই সরে যান, কিন্তু আমরা তো সময় দিচ্ছি আপনারা অন্তত দয়া করে মেনটেন্যান্সটা করেন। পুরোনো বাস বদলাতে বুঝলাম সময় লাগবে। আর কত সময়? ৫৪ বছর হয়ে গেছে, না? আরও সময় লাগবে? আর তো সময় লাগার কোনো কারণ নাই।
পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, আমরা আজকে যে প্রশিক্ষণটা শুরু করেছি বিআরটিএ সব চালকদের জানাবেন তাদের আসলে দায়িত্বশীলভাবে কেমন করে গাড়ি চালাতে হবে। যখন হর্ন বাজানো বন্ধ করবেন, তখন গাড়ির গতিও কমে আসবে। দুর্ঘটনাও কমে যাবে। এটা কোনো বিরক্তের জায়গা না। আর কোনো জায়গায় ক্ষমতা দেখাইতে পারি না, গাড়িতে উঠে হর্ন বাজানো শুরু করব। এটার জন্য মানুষের কষ্ট হয়।
এমকে
জাতীয়
প্রবাসীদের হাত ধরে বিদেশি বিনিয়োগ এলে মিলবে নগদ প্রণোদনা
প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়াতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) নগদ প্রণোদনা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রবাসীরা যদি দেশে এফডিআই আনতে সহায়তা করেন, তাহলে বিনিয়োগের একটি নির্দিষ্ট অংশ তারা নগদ প্রণোদনা হিসেবে পাবেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) গভর্নিং বোর্ডের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
সভা শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক ব্রিফিংয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন জানান, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দেশে নতুন বিনিয়োগ আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি যদি দেশে ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখেন, তাহলে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নগদ প্রণোদনা পাবেন। এটি প্রবাসীদের জন্য একটি স্বীকৃতিস্বরূপ প্রণোদনা, যা প্রবাসী আয়ের বিদ্যমান ক্যাশ ইনসেনটিভ ব্যবস্থার মতোই কাজ করবে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ বলেন, ব্যক্তিগত ভোগের জন্য অর্থ পাঠানোর পরিবর্তে যারা শিল্প ও ব্যবসা খাতে বিনিয়োগ আনবেন, এই নীতির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করা হবে। কোনো প্রবাসী যদি ১০ কোটি ডলারের ইকুইটি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করেন, তাহলে সরকার তাকে ১২ লাখ ৫০ হাজার ডলার প্রণোদনা দেবে।
এই উদ্যোগের পেছনে যুক্তি হিসেবে তিনি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বসবাসরত দেশগুলোর সমাজ ও বিনিয়োগ মহলে ভালোভাবে সংযুক্ত। সেই সংযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বিনিয়োগের গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।
নীতিগতভাবে অনুমোদন পেলেও এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের আগে শেষ একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাবটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আরেকটি উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশে বিডার অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চীনে অফিস খোলা হবে। এরপর দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি দেশে অফিস স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, এসব অফিসে স্থায়ী বেতনভিত্তিক নিয়োগের পরিবর্তে কমিশন বা পরিবর্তনশীল পারিশ্রমিক ব্যবস্থায় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। বিনিয়োগ আনতে পারার সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই তাদের পারিশ্রমিক নির্ধারিত হবে। চীনের ক্ষেত্রে স্থানীয় ভাষা ও বাজার সম্পর্কে অভিজ্ঞ চীনা নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
চৌধুরী আশিক মাহমুদ আরও জানান, দেশের ছয়টি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করে একটি একক কাঠামোর আওতায় আনার রোডম্যাপ অনুমোদন দিয়েছে সরকার। ‘সিঙ্গেল আমব্রেলা’ নামে পরিচিত এই ব্যবস্থার আওতায় বিডা, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা), হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)—এই ছয়টি সংস্থাকে একীভূত করা হবে।
তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতিটি সংস্থার গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে সরকার প্রধান থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। অতীতে এসব সংস্থার বোর্ড সভা গড়ে পাঁচ বছরে একবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। একীভূত কাঠামোর মাধ্যমে নিয়মিত তদারকি ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা হবে। আদর্শভাবে ছয় মাস পরপর বোর্ড সভা হওয়া উচিত বলে মত দেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে কোনো সংস্থাকে বাড়তি সুবিধা না দিতে স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নীতিগত অনুমোদন মিললেও আইনগত ও কাঠামোগত বাস্তবায়নের কাজ পরবর্তী সরকারের সময়েই সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি। আপাতত নতুন সংস্থার নকশা ও কাঠামো তৈরির কাজই অগ্রাধিকার পাবে।
এ ছাড়া বিডার কার্যপরিধির আওতায় বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়ার জন্য একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাও অনুমোদন দিয়েছে বোর্ড। আগে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা না থাকলেও নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমিশন ভিত্তিতে বিনিয়োগ ব্যাংক নিয়োগ দিয়ে সরকারি সম্পদ বেসরকারিকরণের পথ সুগম করা হবে বলে জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান।
এমকে
জাতীয়
খামারিদের বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় দেবে সরকার
প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য খামার, হ্যাচারি, গবাদি পশু এবং পোল্ট্রি খামারে উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের জন্য ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল ছাড় (রিবেট) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতে বিদ্যুৎ রিবেট বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগ থেকে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য খামার ও হ্যাচারি, পাশাপাশি গবাদি পশু ও পোল্ট্রি খামারে উৎপাদন ব্যয় হ্রাসের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট খামারি ও উদ্যোক্তারা বিদ্যুৎ ব্যয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সরকারের বিদ্যুৎ রিবেট সংক্রান্ত বিদ্যমান নীতিমালার আওতায় বর্তমানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উৎসাহ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে মোট ১৬টি খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ রিবেট প্রদান করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এ সুবিধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভর্তুকির আওতায় থাকা খাতগুলো হলো- পশু ও পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী শিল্প, ফিশ ফিড উৎপাদন শিল্প, পোল্ট্রি শিল্প এবং দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণ শিল্প।
দুগ্ধ প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে রয়েছে দুধ পাস্তুরিতকরণ, গুঁড়ো দুধ, আইসক্রিম, কনডেন্সড মিল্ক, মিষ্টান্ন, পনির, ঘি, মাখন, চকোলেট ও দইসহ বিভিন্ন পণ্য।
সরকারি এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়বে এবং নিরাপদ ও মানসম্মত প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনে দেশ আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
আসন্ন নির্বাচন সবার জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নিদের্শনা প্রদান করেন।
আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে. জেনারেল এস এম কামরুল হাসান অভ্যর্থনা জানান।
সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন



