জাতীয়
প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানিয়ে লঙ্কান প্রধানমন্ত্রীর ফোন
ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ থেকে জরুরি সহায়তা পাঠানোয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী ড. হারিনী আমারাসুরিয়া। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় লঙ্কান প্রধানমন্ত্রী অধ্যাপক ইউনূসকে ফোন করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী আমারাসুরিয়া শ্রীলঙ্কার বিশাল অংশে শত শত মানুষের প্রাণহানি এবং ধ্বংসাত্মক ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার পর বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ‘সহায়তা এবং সংহতির প্রকাশের জন্য’ প্রধান উপদেষ্টাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
অধ্যাপক ইউনূস ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি তার সমবেদনা এবং গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি শ্রীলঙ্কাকে এই সংকট মোকাবিলায় সহায়তা করার জন্য অতিরিক্ত জরুরি সহায়তা এবং দুর্যোগ-প্রতিক্রিয়া বিশেষজ্ঞ পাঠানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যা কিছু প্রয়োজন তা করতে আমরা খুশি হবো।
এর আগে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রীলঙ্কায় গত বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ১০ টন ত্রাণ সহায়তা পাঠায় বাংলাদেশ। এই সহায়তার মধ্যে ছিল তাঁবু, শুকনো খাবার, মশারি, ওষুধ, টর্চ লাইট, রেসকিউ হেলমেট এবং গাম বুটের মতো জরুরি সরঞ্জাম। বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি দল, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে দেশটির রাজধানী কলম্বোয় পৌঁছান।
সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে শ্রীলঙ্কায় সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ফলে এখন পর্যন্ত ৩৩৪ জন নিহত এবং অন্তত দু’শতাধিক নিখোঁজ রয়েছেন। ২০ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১ লাখ ২৩ হাজার মানুষকে সরকার পরিচালিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
ফোনালাপের সময়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান। কথোপকথনকালে সিনিয়র সচিব এবং এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোর্শেদ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৪০০ জনের বেশি
রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করে সর্বমোট ৪১৬ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে শেষদিনের শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন ২০ জন প্রার্থী। এদিন শুনানিতে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন শুনানিতে কোনো পক্ষপাত হয়নি বলে দাবি করেছেন।
গত রোববার নির্বাচন ভবনে টানা ৯ দিনের শুনানি শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তাদের দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানিতে কোনো পক্ষপাত করিনি।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের আমরা ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের বিষয়টিও ছেড়ে দিয়েছি। আমরা চাই যে সবাই অংশগ্রহণে একটা সুন্দর নির্বাচন হোক।’ সিইসি বলেন, ‘আপনারা হয়তো আমাদের সমালোচনা করতে পারেন। আপনারা সহযোগিতা না করলে কিন্তু হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আমার টিমের তরফ থেকে কোনো পক্ষপাতিত্ব করে কোনো জাজমেন্ট আমরা দেইনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আপনারা কোয়ারি করেছেন, কোয়ারির জবাব দিয়েছেন, আই এম এমাজ টু সিই এট দিস। আপনাদেরকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই ইসির পক্ষ থেকে। আমি আশা করব, ভবিষ্যতেও আপনাদের কাছ থেকে এ ধরনের সহযোগিতা পাব।’ এ সময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘আমরা ঋণ খেলাপি যাদেরকে ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদেরকে পারমিট করেছে বিধায়।’
এর আগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এছাড়া স্বতন্ত্র থেকে জমা পড়ে ৪৭৮টি মনোনয়নপত্র। এরপর ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তারা মনোনয়নপত্র বাছাই করে রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ৭২৩টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। বৈধ হয় ১৮৪২ জন। বাতিল ৭২৩টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন ৩৫০ জনের মতো। বাকিগুলো ৫১টি নিবন্ধিত দলের। আবার দলগুলোর মধ্যে বিএনপির ২৭, জামায়াতে ইসলামীর ৯, জাতীয় পার্টির ৫৭ ও ইসলামী আন্দোলনের ৪১ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। বিএনপির বাতিল হওয়া ২৭ জনের মধ্যে বেশির ভাগই দলীয় পরিচয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দলীয় প্রার্থী হওয়ার প্রত্যয়ন ছিল না। বিএনপির পরিচয়ে ৩৩১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর ৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। দলটি থেকে ২৭৬ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৬৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪১ জনের প্রার্থিতা বাতিল হয়। বৈধতা পান ২২৭ জন। দলগতভাবে সবচেয়ে বেশি প্রার্থিতা বাতিল হয় জাতীয় পার্টির। দলটির ২২৪ জনের মধ্যে ৫৭ জন বাদ পড়েন। বৈধতা পান ১৬৭ জন।
তপশিল অনুযায়ী, গতকাল রবিবার ইসির আপিল শুনানি শেষ হয়েছে, প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা যাবে ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আগামী জাতীয় নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে। রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। আর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
আপিলে বিএনপির দুই জনের প্রার্থিতা বাতিল :চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর ও কুমিল্লা-১০ আসনে দলটির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার আলাদা আপিল শুনানি শেষে ইসি এ রায় দেয়। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে এই দুই জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছিল। ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিরুদ্ধে করা আপিল মঞ্জুর করেছে ইসি। এতে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহাল রাখা হয়েছে। কুমিল্লা-১০ আসনে বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়া দ্বৈত নাগরিক বলে আপিলে অভিযোগ করা হয়। এই প্রার্থী আপিল শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন। ইসি তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল :ফেনী-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল রবিবার শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা বহাল রাখে নির্বাচন কমিশন। এর আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করলে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকার অভিযোগ মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিলে আপিল আবেদন জমা পড়ে ইসিতে। তবে তিনি মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষদিন ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন করায় ও টাকা জমা দেওয়ায় আপিলটি নামঞ্জুর করে ইসি। ফলে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বিএনপির এ প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আর কোনো বাধা থাকল না।
এমকে
জাতীয়
টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য আজ সোমবার সকাল থেকে টানা ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না
বায়োজিদ এলাকার ক্লিপটন গার্মেন্টস, রেনেস্কো গার্মেন্টস, এম কে স্টীল, খন্দকিয়া বাজার, খন্দকিয়া ট্যাম্পু স্ট্যান্ড, মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া, কেডিএস গার্মেন্টস হতে শেরশাহ, পাহাড়িকা আবাসিক, ভেড়া ফকির, সমবায় আবাসিক, সাংবাদিক সোসাইটি, মোহাম্মদ নগর, শান্তি নগর, রাজামিয়া মার্কেট, শেরশাহ কলোনী, তারা গেইট, আর্মড পুলিশ ব্যাট্যালিয়ান, পদ্মা প্লাষ্টিক, চক্রোশো কানন, ধূপ পোল, কুয়াইশ,ভরা পুকুর, নজুমিয়া হাট, তেতুঁলতলা, মধ্যম বুড়িশ্চর, বুড়িশ্চর বাজার, উত্তর ও দক্ষিণ বুড়িশ্চর, ফকিরের দোকান, রশিদ বাড়ি, খালেকের হাট, আজিজিয়া মাজার ও তার আশে পাশের এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, সাময়িকভাবে গ্রাহকদের কিছুটা ভোগান্তি হলেও এই মেরামত ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এমকে
জাতীয়
চীনের সম্মতি পেলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: রিজওয়ানা হাসান
চীনের সম্মতি পেলেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার চীনের কাছে সব কাগজপত্র পাঠিয়েছে। অর্থব্যয়-সংক্রান্ত বিষয়েও চূড়ান্ত আলোচনা সম্পন্ন করেছে। চীনা সরকারের বিশেষজ্ঞ দল যাচাই বাছাই করছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পাশাপাশি জনগণেরও দায়িত্ব রয়েছে।
প্রসঙ্গত, নীলফামারীতে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘গণভোট ২০২৬, দেশের চাবি আপনার হাতে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ভোটের গাড়ি কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে রোববার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি র্যালি বের হয়ে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
এমকে
জাতীয়
ইসির সামনে বিজিবি মোতায়েন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনের সামনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম।
এদিন ইসি ভবনের ভেতরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত শেষ দিনের আপিল শুনানি চলছে। এবং ইসি ভবনের বাইরে একাধিক দাবি নিয়ে অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
এমকে
জাতীয়
সংস্কারের পক্ষে কথা বলা বর্তমান সরকারের প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব: প্রেস উইং
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়ন বিষয়ে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রকাশ্য সমর্থন গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থি নয় বলে দাবি করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
রবিবার দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রেস উইং জানায়, অন্তর্বর্তী সরকারের এই অবস্থান কোনোভাবেই নিরপেক্ষতার লঙ্ঘন নয়; বরং এটি সরকারের দায়িত্ব ও সংস্কারমূলক ম্যান্ডেটের স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।
বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দৈনন্দিন রাষ্ট্র পরিচালনা বা নির্বাচন আয়োজনের জন্য গঠিত হয়নি। দীর্ঘদিনের অপশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণতান্ত্রিক সংকটের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রকে স্থিতিশীল করা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার করা এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের একটি গ্রহণযোগ্য কাঠামো প্রস্তুত করা।
প্রেস উইং আরও জানায়, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত প্রায় ১৮ মাস ধরে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও তরুণদের সঙ্গে ধারাবাহিক পরামর্শের মাধ্যমে যে সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই প্রতিফলন। ফলে এই সংস্কারের পক্ষে তার অবস্থান নেওয়াকে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলা যায় না।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চায় সরকারপ্রধানদের গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তন নিয়ে প্রকাশ্যে মতামত দেওয়া অস্বাভাবিক নয়। গণভোটের ক্ষেত্রে নেতারা তাদের অবস্থান জনগণের সামনে ব্যাখ্যা করেন এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভোটারদের ওপর ছেড়ে দেন— এটাই গণতান্ত্রিক রীতি।
প্রেস উইং জানায়, গণতান্ত্রিক বৈধতার মূল প্রশ্ন হলো— ভোটাররা স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন কি না, বিরোধী পক্ষ সমানভাবে প্রচারের সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য কি না। বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব শর্ত অক্ষুণ্ণ রয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংস্কার গণভোটকে দীর্ঘদিনের শাসনব্যর্থতার জবাব হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, এই মুহূর্তে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাব নির্দেশ করে। যে অন্তর্বর্তী নেতৃত্ব সংস্কারের দায়িত্ব নিয়ে গঠিত, তাদের পক্ষে সংস্কারের পক্ষে কথা বলা পক্ষপাত নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব।
আন্তর্জাতিক উদাহরণ টেনে প্রেস উইং জানায়, যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক ও কিরগিজস্তানের মতো দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে বা বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক রীতির অংশ হিসেবে স্বীকৃত।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আরও বলা হয়, এই গণভোটের ফলাফলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো নির্বাচনী স্বার্থ জড়িত নয়। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যাত হলে তার বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের ওপর।
জেলা পর্যায়ে সরকারি সম্পৃক্ততা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রেস উইং জানায়, প্রশাসনের মাধ্যমে পরিচালিত কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো সংস্কারের বিষয়বস্তু জনগণের কাছে স্পষ্ট করা, বিভ্রান্তি দূর করা এবং ভোটারদের সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করা।
বিবৃতির শেষে বলা হয়, সংস্কার প্রশ্নে দ্বিধা বা নীরবতাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারমূলক ম্যান্ডেট, আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক চর্চা এবং ভোটারদের প্রতি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে জনগণের হাতেই— এটাই গণতন্ত্রের প্রকৃত নিশ্চয়তা।
এমকে



