রাজনীতি
আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করার পক্ষে ৬৯ শতাংশ মানুষ
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী ৮০ শতাংশ মানুষ। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ‘খুবই আশাবাদী’। তবে দেশের সমস্যাগুলো নিয়ে তাদের উদ্বেগও রয়েছে। এর মধ্যে দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা বলে মনে করছেন নাগরিকরা। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সর্বশেষ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, গণতন্ত্র, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও দুর্নীতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নাগরিকদের মূল্যায়ন স্থান পেয়েছে।
চলতি বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগে এ জরিপ পরিচালনা করে আইআরআইয়ের প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ। ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০২৫’ শিরোনামে গত সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, যেখানে ৪২ শতাংশ ভিন্নমত দিয়েছেন। উন্নতির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি ও খাদ্য নিরাপত্তা। অন্যদিকে যারা মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে, তারা প্রধান কারণ হিসেবে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন। তবে এসব সত্ত্বেও দেশ নিয়ে আশাবাদী তারা। কিন্তু এ আশাবাদের পথে অন্তরায় দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার সমস্যা, বেকারত্ব ইত্যাদি।
জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশের ২১ শতাংশ নাগরিক দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন আর ১৮ শতাংশের কাছে বড় সমস্যা দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা। দেশের নাগরিকদের বড় এটি অংশের মত, চাকরি পেতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির শিকার হতে হয়। ৩০ শতাংশ মানুষের ভাবনা এমনই। অন্যদিকে ১৮ শতাংশ নাগরিক মনে করেন সরকারি জাতীয় চুক্তিগুলোয় দুর্নীতি হয়।
দেশের দুর্নীতি বন্ধ না হওয়ার পেছনে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণকে দায়ী করেছেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অন্যান্য দেশের মতো নির্বাহীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে আনতে হবে। তা না হলে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি দমনে তারা ভূমিকা রাখতে পারবে না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এ সুপারিশ দিয়েছে। কিন্তু দুদককে স্বাধীন করার বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারই বাদ দিচ্ছে বলে মনে হয়।
এদিকে, আইআরআইয়ের জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ মানুষ আগামী বছর দেশের অর্থনীতি আরো ভালো হবে বলে মনে করেন। মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন, অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। ৭২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে।
জরিপের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজনৈতিক দলের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (বিএনপি) পছন্দ করেন ৫১ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন বলে জানিয়েছেন। বিএনপিকে অপছন্দ করেন ৪৩ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীকে ৪০ শতাংশ। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগকে যথাক্রমে ৩৮, ৩৩ ও ২৫ শতাংশ মানুষ পছন্দ করেন।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন কি না- জানতে চাইলে ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা অবশ্যই ভোট দেবেন। ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আরো ২৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে, মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা সম্ভবত ভোট দেবেন না।
আগামী সপ্তাহে ভোট হলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এমন প্রশ্নে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিএনপির কথা বলেছেন, যেখানে ২৬ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে এনসিপিকে ৬ শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে ৫ এবং ইসলামী আন্দোলনকে ৪ শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। অন্য দলগুলোর ভোট রয়েছে ১১ শতাংশ। ৭ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কাকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। এ প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেন ১১ শতাংশ ভোটার।
তবে আগামী নির্বাচনে ইসলামী দলগুলো বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোটবদ্ধ নির্বাচন করলে সেটি বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এ পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেও দুই দলের ভোট বিএনপির সমান। সেক্ষেত্রে অন্য যেসব দল ও সাধারণ ভোটার আছে, তারা মূল ব্যবধান গড়ে দেবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিএনপি-জামায়াতের জনসমর্থন প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন বাড়তে দেখা যাচ্ছে। এর কারণ হিসেবে দুই দলের মধ্যে দুর্নীতি করা না করার বিষয়টি রয়েছে বলে মনে করেন ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের একটা সুনাম আছে, তারা দুর্নীতিবাজ নয়। মানুষ বলছে, বিএনপি-আওয়ামী লীগ- দুটিই দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব। জামায়াত সরকার গঠন করতে পারবে কি না আমি জানি না। তবে একটি ভালোসংখ্যক আসন নিয়ে তারা সংসদে যাবে বলে মনে হয়। সেটা একদিক দিয়ে ভালো, সংসদে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল আসবে।
বিএনপির আগামীর রাজনীতি নিয়ে ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, যদি খালেদা জিয়ার কিছু হয় আর তারেক জিয়া আসতে না পারেন আমার মনে হয় নির্বাচনটা তাহলে পিছিয়ে যাবে।’
এদিকে জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের বেশিরভাগ মানুষের আস্থা ও সন্তুষ্টি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসকে সমর্থন করেছেন, আর ৭০ শতাংশ বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যেখানে ২৬ শতাংশ মানুষ এর বিরোধিতা করেছেন এবং বাকি চার শতাংশ মানুষ কোনো মতামত দেননি।
জরিপের তথ্যে আরো দেখা গেছে, ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মানুষ জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করাকে তারা সমর্থন করেন। এ ছাড়া দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন ভবিষ্যতের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা দেশে নতুন রাজনৈতিক দল দেখতে চান। যেখানে ৪৩ শতাংশ বর্তমান দলগুলোর ওপর সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮ শতাংশ মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজনকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সংস্কার বলে মনে করেন। আর ৭৪ শতাংশ মনে করে বর্তমান সরকার সুন্দরভাবে সংস্কার কাজ শেষ করতে পারবে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, পলিটিক্যাল এলিট ও জনগণের মধ্যে বিশাল দূরত্ব দেখছেন ৮৮ শতাংশ মানুষ। ৯ শতাংশ মানুষ মনে করছেন এর বিপরীত। অন্যদিকে ধর্ম ও জাতীয়তার ভিত্তিতে বৈষম্য রয়েছে বলে দাবি জানিয়েছেন ৩৪ শতাংশ মানুষ। ৬১ শতাংশের দাবি এর চেয়ে ভিন্ন। জরিপে গণমাধ্যমের ওপর আস্থা রয়েছে ৬০ শতাংশ মানুষের।
জরিপ অনুযায়ী, বাংলাদেশের ওপর সবচেয়ে বেশি (৬৩ শতাংশ) ইতিবাচক প্রভাব আছে রাশিয়ার। আর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব (৬০ শতাংশ) রয়েছে ভারতের। সেনাবাহিনীর কাজে আস্থা রয়েছে ৭৯ শতাংশ মানুষের।
এ ছাড়া সমযোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নারীদের কর্মক্ষেত্রে নিয়োগের পক্ষে মত দিয়েছেন মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ। আর পুরুষদের নিয়োগের পক্ষে মত ৬২ শতাংশের। তবে ২০ শতাংশ মনে করেন এক্ষেত্রে বৈষম্য করা ঠিক নয়।
আইআরআইয়ের পরিসংখ্যানমতে, স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ করতে পারেন বলে মনে করেন ৬৩ শতাংশ মানুষ। ৩৫ শতাংশ তা মনে করেন না। ৯০ শতাংশ মানুষ মনে করেন দেশে সবার সমান অধিকার রয়েছে। গত এক বছরে রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাব বেড়েছে বলে মনে করেন ৫০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। তবে ২৬ শতাংশের দাবি, অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে।
দেশের পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলো অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে করেন ৬৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। ৩০ শতাংশের দাবি এর বিপরীত। আওয়ামী লীগের পতন হওয়া আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন ৭০ শতাংশ নাগরিক, এর বিরোধিতা করেন ২৩ শতাংশ। অন্তর্বর্তী সরকারকে বৈধ বলে মনে করেন ৬৪ শতাংশ মানুষ।
এদিকে জরিপের বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম বলেন, দেশ নিয়ে একটা বড়সংখ্যক মানুষ আশাবাদী, তবে যুবক ও তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গিও মূল্যায়ন করতে হবে। তাদের মধ্যে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করছে, দেশ ভুল পথে যাচ্ছে। এ জন্য দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারকে বিবেচনায় নিতে হবে। আওয়ামী লীগ আমলে দেশের ভঙ্গুর দশার বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সহজসাধ্য কাজ নয়। অন্তর্বর্তী সরকার সে কাজটা করতে চেষ্টা করছে। তবে এ কাজে সরকারকে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি সমর্থনের বিষয়ে ড. মঈনুল ইসলাম বলেন, যেই সময়ে জরিপ চালানো হয়েছে সেই সময়টাতে মানুষ সঠিকভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পেরেছে কি না সেটি নিশ্চিত নয়। কারণ তখন নির্বাচনের সময়সীমা স্পষ্ট ছিল না। এ ছাড়া অনেকেই তাদের প্রার্থী চয়েস করতে পারেননি। তবে এখন করলে এটার সঙ্গে জরিপের পার্থক্য হবে।
এমকে
রাজনীতি
মার্কিন সহকারী মন্ত্রী সাথে বৈঠক করেছে বিএনপি
ঢাকায় সফররত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে নেতৃত্ব দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী হয় এবং বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে শেষ হয়।
বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হয়েছে বলে বিএনপির পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৈঠকে বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে অংশ নেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমির, সংসদ সদস্য ডা: মাহবুবুর রহমান, সংসদ সদস্য নায়েবা ইউসুফ, ঢাকা জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।
এদিকে আজ সকাল ৯টায় রাজধানীর গুলশানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতের ৫ সদস্যের এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলটির নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের এমপি। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক ও সমসাময়িক রাজনৈতিক নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এমএন
রাজনীতি
মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী সঙ্গে জামায়াতের প্রতিনিধিদলের বৈঠক
সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদল। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল ৯টায় ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহেরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও বিরোধীদলীয় হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান ও জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্র বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম।
এর আগে দুই দিনের সফরে ঢাকায় পৌঁছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা পল কাপুর দিনভর কয়েক দফা বৈঠক করেন। শুরুতেই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এছাড়াও তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
এদিকে বৃহস্পতিবার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং দুপুরে বিএনপির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। বিকালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
পরে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন বলেও জানা গেছে। এ ছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ইফতার মাহফিলেও যোগ দেওয়ার কথা আছে তার।
এমএন
রাজনীতি
ডেপুটি স্পিকারের আলোচনায় ৫ নাম—জামায়াতের ৪, এনসিপির ১
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে আগামী ১২ মার্চ। এই অধিবেশনেই নির্বাচন করা হবে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্পিকার হবেন সরকারি দল থেকে। আর বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের জন্য প্রস্তাব দেওয়া দেওয়া।
জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করার বিধান রাখা হয়েছে। এটি রাষ্ট্রব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে গণতন্ত্র সুসংহত করতে বিরোধী দলের মত প্রকাশের ও সংসদ পরিচালনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি প্রস্তাব। যদিও বিদ্যমান সংবিধানে সাধারণত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয়ই সরকারি দল থেকে নির্বাচিত হন। কিন্তু জুলাই সনদে এই প্রথা পরিবর্তন করে বিরোধী দলকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে যেটা আমরা সমঝোতায় এসেছি, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে সেটার বাস্তবায়ন এখন থেকেই শুরু করতে চাই। আমাদের দলের পক্ষ থেকে আমরা প্রধান বিরোধী দলকে মৌখিকভাবে ও সাক্ষাতে অফার করেছি, তারা যেন ডেপুটি স্পিকার ঠিক করে। সেটা জাতীয় সংসদে স্পিকার নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে নির্বাচিত হতে পারে।’
জামায়াত সূত্রে জানা যায়, ডেপুটি স্পিকার পদে এখন পর্যন্ত চারজন সংসদ সদস্যের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এর বাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে মৌখিকভাবে দলের সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে।
জামায়াতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে আলোচনায় আছেন পাবনা-১ আসন থেকে নির্বাচিত নাজিবুর রহমান মোমেন, ঢাকা-১৪ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম, কুড়িগ্রাম-৩ আসন থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী এবং পিরোজপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত মাসুদ সাঈদী। এদের মধ্যে নাজিবুর রহমান মোমেনের নাম সবচেয়ে এগিয়ে আছে।
অন্যদিকে এনসিপি থেকেও ডেপুটি স্পিকার পদ চাওয়া হয়েছে। এনসিপির দায়িত্বশীল এক নেতা বলেন, ডেপুটি স্পিকার পদটি জোটের পক্ষ থেকে এনসিপিকে দেওয়ার জন্য মৌখিকভাবে জামায়াতে ইসলামীকে জানানো হয়েছে।
সে ক্ষেত্রে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে আশা করি এটি চূড়ান্ত হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘বিএনপি এ বিষয়ে আমাদের অফার করেছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদের বিষয়টি রয়েছে। তবে এ বিষয় নিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা করা হয়নি।’
এমএন
রাজনীতি
আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে : নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। বিচার সংস্কার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম নতুন করে শুরু করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের যে গণরায়ের ভিত্তিতে এই সরকার গঠিত হয়েছে, সেই রায়কে বাতিল করতে আদালতকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে। আদালতকে আবারও দলীয়করণের চেষ্টা হচ্ছে।
সোমবার (২ মার্চ) এনসিপির চট্টগ্রামের বিভাগীয় ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের কাজে যদি আদালতকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে তার পরিণত ভালো হবে না। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান নাহিদ ইসলাম। জনগণের প্রত্যাশা অনুসারে নির্বাচনী ইশতেহার পাল্টানোর আহ্বান জানান নাহিদ।
নাহিদ আরো বলেন, আমাদের সবাইকে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। ঢাকায় শুধু নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর নেতৃত্ব দিলে হবে না। আমরা আশা করি, এই চট্টগ্রাম থেকে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ তৈরি হবে।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ও এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
রাজনীতি
সেলিনা হায়াৎ আইভী আবারও গ্রেপ্তার
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী উচ্চ আদালত থেকে পাঁচটি মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আরো একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার (শ্যোন অ্যারেস্ট) হয়েছেন।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মণ্ডলকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় তাকে এই গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্রআন্দোলনের সময় ইন্টিরিয়র মিস্ত্রী সেলিম মণ্ডল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার মামলাটির নম্বর ৪১।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আইভীকে পৃথক পাঁচটি মামলায় জামিন দিয়েছিলেন।
তবে কারাগার থেকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরুর আগেই পুলিশ তাকে সিদ্ধিরগঞ্জের একটি মামলায় ‘শ্যোন অ্যারেস্ট’ দেখানোর আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। এর ফলে বর্তমানে কারাগারে থাকা সাবেক এই মেয়রের বিরুদ্ধে মোট মামলার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
গত বৃহস্পতিবার ডা. আইভী ফতুল্লা থানায় দায়ের করা বাসচালক আবুল হোসেন মিজি হত্যা, আব্দুর রহমান হত্যা, মো. ইয়াছিন হত্যা ও পারভেজ হত্যা মামলাসহ সদর মডেল থানায় করা পুলিশের ওপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় জামিন পেয়েছিলেন।
বর্তমানে এই ৫টি মামলায় জামিন থাকলেও সিদ্ধিরগঞ্জের নতুন এই মামলাটি তার কারামুক্তির পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আরো পাঁচটি হত্যা মামলা বর্তমানে আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ২০২৫ সালের ৯ মে ভোররাতে শহরের দেওভোগ এলাকায় অবস্থিত তার পৈত্রিক নিবাস ‘চুনকা কুটির’ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর থেকেই তিনি বিভিন্ন পর্যায়ক্রমে একের পর এক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।




