আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড-নাগরিকত্ব পাবেন না ১৯ দেশের নাগরিকরা
বিশ্বের ১৯টি দেশের অভিবাসন সংক্রান্ত সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরফলে এসব দেশের নাগরিকরা আর যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্ব পাবেন না। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) এ তথ্য জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি জানান, জাতীয় ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল গার্ডের দুই সদস্যকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন এক আফগান শরণার্থী। তার হামলায় এক সেনা ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আরেকজনের অবস্থা বেশ গুরুতর।
এরপর থেকেই তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো থেকে শরণার্থী নেওয়া বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। যদিও গত জুনে এসব দেশের ওপর আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এখন এগুলোর ওপর পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলো।
১৯টি দেশ হলো- ১. আফগানিস্তান। ২. মিয়ানমার। ৩. চাদ। ৪. কঙ্গো প্রজাতন্ত্র। ৫. গিনি। ৬. ইরিত্রিয়া। ৭. হাইতি। ৮. ইরান। ৯. লিবিয়া। ১০. সোমালিয়া। ১১. সুদান। ১২. ইয়েমেন। ১৩. বুরুন্ডি। ১৪. কিউবা। ১৫. লাওস। ১৬. সিয়েরা লিওন। ১৭. টোগো। ১৮. তুর্কমেনিস্তান। ১৯. ভেনেজুয়েলা।
এমকে
আন্তর্জাতিক
বিশ্ববাজারে সোনার দামে নতুন রেকর্ড, বাড়তে পারে দেশেও
আন্তর্জাতিক বাজারে পুরোনো সব রেকর্ড ভেঙে ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বর্ণের দাম। সেইসাথে বেড়েছে রুপার দামও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপের কয়েকটি শীর্ষ দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়ার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিশ্ববাজারে। ফলে, দেশের বাজারেও নতুন আরেক রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে সোনা-রুপার দামে।
সোমবার মার্কিন স্পট মার্কেটে লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়ে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৬৯০ দশমিক ৫৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে রুপার দাম উঠে যায় আউন্স প্রতি ৯৪ দশমিক ১২ ডলারে, যা ইতিহাসে সর্বোচ্চ। (১ আউন্স = প্রায় ২ দশমিক ৪৩ ভরি)
গত শনিবার ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার পরিকল্পনার বিরোধিতা করায় যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ডেনমার্ক, নরওয়ে, সুইডেন, নেদারল্যান্ডস ও ফিনল্যান্ডের ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এসব দেশ থেকে আমদানি করা সব ধরনের পণ্যের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যতক্ষণ না পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিনল্যান্ড কেনার অনুমতি দেওয়া হবে ততক্ষণ ইউরোপের মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপ ক্রমবর্ধমান হারে অব্যাহত রাখা হবে। এমন উদ্বেগের মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা ও রুপার দিকে ঝুঁকেছেন বিনিয়োগকারীরা। এশিয়ার বাজারেও দিনের শুরুতেই সেই প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, শুল্ক আরোপ ও সম্ভাব্য বাণিজ্য উত্তেজনা ঘিরে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ এড়িয়ে সোনা ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকছেন।
এদিকে দেশের বাজারে ইতোমধ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকায়। এছাড়া, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২৪ হাজার ৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা ১ লাখ ৫৭ হাজার ২৩১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে।
অন্যদিকে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৯৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৫ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৬৭৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বিশ্ববাজারে ফের সোনা-রুপার দামে যে লাফ দেখা গেছে, তার প্রভাব পড়তে পারে দেশের বাজারেও।
এমকে
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে শপিংমলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৫
পাকিস্তানের করাচিতে গুল প্লাজা নামে এক শপিং মলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে করাচির এমএ জিন্নাহ রোডে লাগা এ আগুন এখন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানও চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে রাতভর চলা এ ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ডনের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এসব তথ্য।
এদিন সকালে করাচির দক্ষিণাঞ্চলের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল (ডিআইজি) সৈয়দ আসাদ রাজা জানান, সবশেষ তথ্য অনুযায়ী এ অগ্নিকাণ্ডে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে সিভিল হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. সাবির মেমন জানিয়েছিলেন, তিনটি মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়, যারা সবাই আগেই মারা গিয়েছিলেন।
রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র হাসানুল হাসিব খানও মৃতের সংখ্যা পাঁচ বলে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। রোববার ভোর পর্যন্ত আগুন মাত্র ৩০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে।
উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা জানান, শপিং মলটিতে প্রায় ১ হাজার ২০০ দোকান রয়েছে। এসব দোকানে ক্রোকারিজ, পোশাক, বৈদ্যুতিক সামগ্রী, প্রসাধনী ও পারফিউমসহ দাহ্য পণ্য থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
আগুন নেভাতে রোববার সকালে বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের অন্তত ২০টি ফায়ার টেন্ডার কাজ করছিল। তবে ভবনটি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় আগুনের তাপে যে কোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানান রেসকিউ ১১২২-এর মুখপাত্র। ভবনের নিচতলার দোকানগুলো থেকেই আগুনের সূত্রপাত বলে জানান তিনি।
এদিকে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া এধি ফাউন্ডেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগুনের তীব্রতায় ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে।
গার্ডেন সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার (এসডিপিও) মোহসিন রাজা প্রাথমিকভাবে জানান, কোনো একটি দোকানে শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পুরো মার্কেটে ছড়িয়ে পড়ে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভয়াবহ এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিন্ধুর গভর্নর কামরান তেসোরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম ও ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন চেয়েছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন গভর্নর।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলার তেল বেচার অর্থ কাতারের ব্যাংকে
ভেনেজুয়েলার তেল বেচা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এটা পুরোনো খবর। এই খবরের পরবর্তী অধ্যায় হচ্ছে, এই তেল বিক্রির অর্থ কাতারের ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হচ্ছে।
সিএনএনের সংবাদে বলা হচ্ছে, হতে পারে, এই অর্থ দ্রুত ও ঝামেলাহীনভাবে ভেনেজুয়েলায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তা কাতারের ব্যাংকে রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আবার প্রশ্ন ওঠে, এভাবে কাতারের ব্যাংকে টাকা রাখা কতটা নৈতিক।
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে আনার কারণ যে দেশটির তেলসম্পদের অধিকার নেওয়া, তা নিয়ে রাখঢাক নেই যুক্তরাষ্ট্রের। একাধিকবার ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল যুক্তরাষ্ট্রের অধীন থাকবে। ইতিমধ্যে ৫০ কোটি ডলারের তেল যুক্তরাষ্ট্র বিক্রিও করেছে। সেই তেল বিক্রির অর্থ কাতারের ব্যাংকে গচ্ছিত রাখা হয়েছে।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা তো কেবল শুরু, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি করে আরও অনেক অর্থ আসবে। ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকবে। যদিও তেল কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাইছে। তা না পেলে তারা ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএন–এ বলেন, এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকে রাখা হয়নি বা সরাসরি ভেনেজুয়েলাতেও পাঠানো হয়নি; বরং সেগুলো কাতারে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে বলেন, তেল বিক্রির নগদ অর্থ গত বৃহস্পতিবার থেকেই ভেনেজুয়েলায় পাঠানো শুরু হবে। ভেনেজুয়েলার আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে পরিচিত দুই সূত্রের ভাষ্য, দেশটির ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যে নগদ অর্থের বিজ্ঞাপন দিতে শুরু করেছে। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, তেল বিক্রির আয় দেশে পৌঁছেছে।
ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের বিভিন্ন পশ্চিমা সরকারের নিষেধাজ্ঞার মুখে আছে। ফলে দেশটি কার্যত বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়েছে। গত কয়েক দশকে দেশটির বিভিন্ন সরকার বিদেশি তেল কোম্পানি জব্দ করেছে—যার ক্ষতিপূরণ দাবি করে আসছে বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের তেলসম্পদ ‘চুরি’ করছে। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তেল বিক্রির অর্থ যেন সরাসরি ভেনেজুয়েলার উপকারে আসে। তিনি যেটা নিশ্চিত করতে চাইছেন, সেটি হলো ভেনেজুয়েলার তেল আয়ের ওপর যাদের দাবি আছে, তারা যেন এই অর্থের নাগাল না পায়।
এই লক্ষ্যে ট্রাম্প শুক্রবার নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন। আদেশে বলা হয়, ওই অর্থের ওপর কোনো ধরনের লিয়েন বা অন্য কোনো আইনি দাবি আরোপের চেষ্টা করা হলে তা অবরুদ্ধ থাকবে। আদেশে আরও সতর্ক করে বলা হয়, যদি এসব অর্থ আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত না থাকে, তাহলে তা ভেনেজুয়েলায় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টায় গুরুতর বাধা সৃষ্টি করবে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে তেল বিক্রির অর্থ পশ্চিমা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পাওনাদারদের নাগালের বাইরে রাখতেই কাতারের ব্যাংক হিসাবে রাখা হচ্ছে।
ভেনেজুয়েলার পাওনাদারেরা এই অর্থপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, তা যেমন দেশটির জন্য সমস্যাজনক হবে, তেমনি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভেনেজুয়েলা ও পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক এক বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, এটা প্রকৃতই বড় সমস্যা; ভেনেজুয়েলার কাছে সবারই টাকা পাওনা।
সেই বিশেষজ্ঞ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাতার দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকা পালন করে আসছে। নিকোলা মাদুরোকে তুলে নেওয়ার পর কাতারের ভূমিকা আরও বেড়েছে। বাস্তবতা হলো কাতার তারও অনেক আগে থেকে দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগে বিশেষ ভূমিকা পালন করে আসছে।
অন্যান্য বিশেষজ্ঞ সিএনএনকে বলেন, বাইডেন প্রশাসনের সময়ও কাতারের ব্যাংকগুলো একই ধরনের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে। সে সময় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করা হলে তেল বিক্রির কিছু অর্থ ইরানে পাঠাতে দেওয়া হয়।
লাতিন আমেরিকার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইকোঅ্যানালিটিকার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক আলেহান্দ্রো গ্রিসান্তির মতে, কাতারের যে ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ রাখা হয়েছে, ভেনেজুয়েলার ব্যাংকগুলোর কাছে সেই অর্থ নিলামের মাধ্যমে ছাড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে খাদ্য, ওষুধ ও ছোট ব্যবসাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
গ্রিসান্তি আরও বলেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংগ্রহ করবে এবং যুক্তরাষ্ট্র যে শর্ত নির্ধারণ করে দেবে, সে অনুযায়ী বণ্টন করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নিউজম্যাক্সকে বলেন, এই অর্থ ভেনেজুয়েলা সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম, নিরাপত্তা ও খাদ্য সরবরাহে ব্যয় করা হবে।
ভেনেজুয়েলায় পাঠানোর আগে কাতারের ব্যাংকে কেন অর্থ রাখা হচ্ছে—এই বিষয়ে হোয়াইট হাউস সরাসরি মন্তব্য করতে চায়নি।
মার্কিন এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, ‘মনে করিয়ে দেওয়া দরকার, ভেনেজুয়েলা অনেক বছর ধরে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে প্রশাসন দ্রুত কাজ করছে। সেই সঙ্গে আমরা বিদ্যমান আইনি কাঠামো ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করে দেখছি।’
স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ
সেই বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে পাওনাদারদের পক্ষে ভেনেজুয়েলায় প্রয়োজনীয় অর্থপ্রবাহে বাধা দেওয়া সম্ভব ছিল না। বিষয়টি হলো অর্থ কাতারে রাখা হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের আইনি চ্যালেঞ্জের আওতার আরও বাইরে চলে যায় না; বরং অর্থ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বচ্ছতাও কমে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘যদি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে জানা না যায়, যেখানে বলা থাকবে, এই অর্থের তহবিল কীভাবে পরিচালিত হবে, কারা নিয়ন্ত্রণে থাকবে, কী ধরনের দুর্নীতিবিরোধী ও অর্থ পাচার রোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তাহলে পুরো ব্যবস্থা কার্যত “গোপন তহবিলের” মতো হয়ে যাচ্ছে। এটা খুবই উদ্বেগজনক।’
বিশেষজ্ঞের মত, এই অর্থ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অসৎ উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এমন ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাস্তব উদ্বেগ আছে। সেটি হলো ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে এই অর্থ ব্যবহার করে সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত অংশ, আধা সামরিক গোষ্ঠী ও মাদক কার্টেলকে তোষণ করে যেতে পারেন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলছেন—এই অর্থ কাতারে পাঠানোর পেছনে ট্রাম্পের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী।
ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর জব্দ করা সম্পদ বিক্রি করে প্রেসিডেন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে অফশোর হিসাব খুলবেন, এর আইনি ভিত্তি নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিকদের আকৃষ্ট করার মতো।’
কেন ভেনেজুয়েলার তেল
একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক—এই ক্ষেত্রে অন্য সবার চেয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে। যুক্তরাষ্ট্র যে তেল উৎপাদন করে, তা মূলত হালকা ও অপরিশোধিত ধরনের; কিন্তু তাদের বেশির ভাগ তেল পরিশোধনাগারের যে সক্ষমতা, তাতে তাদের ভারী ও অপরিশোধিত তেল প্রয়োজন।
অন্য কথায়, নিজের দেশের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে এই থিকথিকে ও ভারী অপরিশোধিত তেলের ওপর নির্ভর করতে হবে। খবর স্কাই নিউজ
এটিই হচ্ছে বাস্তবতা। এ থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মার্কিন পরিশোধনাগারগুলোকে নতুন করে ঢেলে সাজাতে হবে। সে জন্য প্রয়োজন হবে হাজার হাজার কোটি ডলার। এ কারণে নিকট–ভবিষ্যতে কেউই তা করতে বিশেষ আগ্রহী নয়।
কাগজে-কলমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ভূখণ্ড থেকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অপরিশোধিত তেল উত্তোলন করে ঠিক; কিন্তু ভারী তেলের চাহিদা মেটাতে দেশটিকে এখনো পুরোপুরি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে হালকা অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হয়, তার সিংহভাগ বিদেশে রপ্তানি করা হয়। অথচ টেক্সাস ও লুইজিয়ানার পরিশোধনাগারগুলো চালু রাখতে তাদের প্রতিদিন ছয় হাজার ব্যারেলের বেশি ভারী তেল আমদানি করতে হয়।
এ বাস্তবতা মাথায় রাখলেই সমীকরণ মেলানো সম্ভব। এ সমীকরণ অনিবার্যভাবে ভেনেজুয়েলার দিকেই নিয়ে যায়। কেননা, কানাডা ও রাশিয়ার পাশাপাশি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভারী তেলের মজুত ভেনেজুয়েলায়।
আন্তর্জাতিক
মাইক্রোফোন কেড়ে নিয়ে রিপাবলিক বাংলার সাংবাদিককে ধাওয়া
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেলডাঙার বাসিন্দা জনৈক আলাউদ্দিন শেখের লাশ ঝাড়খণ্ড রাজ্যে উদ্ধার হওয়ার খবর পাওয়া যায়। সেখানে কাজে গিয়েছিলেন ওই পরিযায়ী শ্রমিক।
পরিবারের দাবি, ‘নৃশংস ভাবে’ আলাউদ্দিনকে খুন করা হয়েছে। এই খবরের ফলে বেলডাঙ্গায় সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে পড়েন রিপাবলিক বাংলার সংবাদকর্মী।
জানা যায়, ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন আলাউদ্দিন। ভাড়াবাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার হয়। তবে গ্রামবাসীদের অভিযোগ, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তার দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, মুর্শিদাবাদের শ্রমিক হওয়ার কারণেই যুবকের এই পরিণতি।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুর খবরে শোরগোল পড়ে যায় মুর্শিদাবাদে। শুক্রবার সকাল থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় বেলডাঙায়। বিক্ষোভে পথে নামেন স্থানীয়েরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং রেল অবরোধ করা হয়।
অবরোধের খবর সংগ্রহ করতে যান কলকাতার স্যাটেলাইট টেলিভিশন রিপাবলিক বাংলার রিপোর্টার। এ সময় মহাসড়কে তোপের মুখে পড়েন ওই সংবাদকর্মী। তার মাইক্রোফোনও কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে সেখান থেকে ধাওয়া দিয়ে বের করে দেওয়ায়।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলছিলেন, রিপাবলিক বাংলা টেলিভিশন দাঙ্গা বাঁধাইয়।
তারা কথাকে ভুলভাবে প্রচার করে। সাক্ষাৎকার নেয় একটু, আর সেটাকে প্রচারের সময়য় ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচার করা হয়।
প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে ঘণ্টা অবরোধ চলে। অবরোধের কারণে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চরম ভোগান্তির শিকার হন হাজার হাজার যাত্রী। ভাঙচুর চলে বেলডাঙার রাস্তায় থাকা ট্রাফিক কিয়স্কে। ভাঙা হয় পুলিশের গাড়ি। ছোড়া ইটের ঘায়ে অন্তত ১২ জন আহত হন।
আন্তর্জাতিক
৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুতের সন্ধান পেলো সৌদি আরব
সৌদি আরব চারটি ভিন্ন স্থানে মোট ৭৮ লাখ আউন্স সোনার বিশাল মজুতের সন্ধান পাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি ‘মাদেন’ এই সোনার সন্ধান পেয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা খনি এবং নতুন ও পুরোনো বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খনন কার্যক্রম চালানোর পরই এই সাফল্য এসেছে।
গত ১২ জানুয়ারি এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। মাদেন জানিয়েছে, কোনো একটি দেশের ভেতরে চালানো খনিজ অনুসন্ধান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম বৃহত্তম প্রচেষ্টা।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক খননকাজে ৯০ লাখ (৯ মিলিয়ন) আউন্সের বেশি সোনার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে খনন ব্যয়, পণ্যের দামসহ বার্ষিক সাধারণ হিসাব-নিকাশ সমন্বয়ের পর প্রকৃত নতুন সোনার মজুতের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৭৮ লাখ আউন্স।
সবচেয়ে বেশি সোনা পাওয়া গেছে মাদেনের প্রধান প্রকল্প ‘মানসুরা মাসারাহ’ থেকে। গত এক বছরে এই প্রকল্পে নতুন করে ৩০ লাখ আউন্স সোনা যোগ হয়েছে। এ ছাড়া ‘উরুক ২০/২১’ ও ‘উম আস সালাম’ এলাকা থেকে মোট ১৬ লাখ ৭০ হাজার আউন্স সোনার সন্ধান পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল জাও’ এলাকায় প্রথমবারের মতো আনুমানিক ৩৮ লাখ আউন্স খনিজ সম্পদের খোঁজ মিলেছে।
মাদেন জানিয়েছে, ‘সেন্ট্রাল অ্যারাবিয়ান গোল্ড রিজিওন’-এ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খননকাজ চালানোর ফলে বেশ কয়েকটি নতুন খনিজ অঞ্চল চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ‘মাহদ’ স্বর্ণখনির আশপাশে অনুসন্ধান চালিয়েও নতুন খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে। এর ফলে খনিটির কার্যকাল আরও বাড়ানো সম্ভব কি না, তা যাচাই করা হবে।
মাদেনের প্রধান নির্বাহী বব উইল্ট জানিয়েছেন, এসব ফলাফল কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি অনুসন্ধান কৌশল যে সঠিক পথে রয়েছে, তা প্রমাণ করে। তিনি বলেন, ‘চারটি এলাকায় ৭০ লাখ আউন্সেরও বেশি সোনা যুক্ত হওয়া আমাদের স্বর্ণভাণ্ডারের বিশালতা ও সম্ভাবনাকেই তুলে ধরে।’
তিনি আরও বলেন, এই প্রবৃদ্ধি ভবিষ্যতে কোম্পানির আয় বাড়াতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি দেখায় যে ‘অ্যারাবিয়ান শিল্ড’-এ স্বর্ণের যে সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে কোম্পানি এখনো প্রাথমিক পর্যায়েই রয়েছে।
সোনার পাশাপাশি অন্যান্য খনিজের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির কথা জানিয়েছে মাদেন। ‘জাবাল শায়বান’ ও ‘জাবাল আল ওয়াকিল’ এলাকায় প্রাথমিক খননকাজে তামা, নিকেল এবং প্ল্যাটিনাম গ্রুপের ধাতুর সন্ধান পাওয়া গেছে।
মানসুরা মাসারাহ প্রকল্পে বর্তমানে মোট খনিজ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ টন। এখানে প্রতি টনে গড়ে ২ দশমিক ৮ গ্রাম সোনা রয়েছে, যার মোট পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ৪ লাখ (১০.৪ মিলিয়ন) আউন্স।
মাদেন জানিয়েছে, গভীর স্তরে আরও খনিজ সম্পদ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেখানে খননকাজ চালানো হবে।
এই আবিষ্কারকে সৌদি আরবের খনি খাতের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিকে বহুমুখী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে খনি খাতকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।



