জাতীয়
ইউনূসের কাজে সন্তুষ্ট ৬৯ শতাংশ মানুষ, বিএনপির চেয়ে জামায়াতে পছন্দ বেশি
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর দেশের বেশিরভাগ মানুষের আস্থা ও সন্তুষ্টি রয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সর্বশেষ জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৯ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসকে সমর্থন করেছেন, আর ৭০ শতাংশ বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া আগামীতে অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ৮০ শতাংশ মানুষ।
আইআরআইয়ের সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ গত ১৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের আটটি বিভাগে এই জরিপ পরিচালনা করে। ‘ন্যাশনাল সার্ভে অব বাংলাদেশ, সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৫’ শিরোনামে গতকাল সোমবার সংস্থাটির ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৫৩ শতাংশ মনে করেন দেশ সঠিক পথে এগোচ্ছে, যেখানে ৪২ শতাংশ ভিন্নমত দিয়েছেন। উন্নতির কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন—অর্থনৈতিক অগ্রগতি, আইনশৃঙ্খলার উন্নতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা। অন্যদিকে যারা মনে করেন দেশ ভুল পথে যাচ্ছে, তারা প্রধান কারণ হিসেবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষ বর্তমান সরকারের কাজ সমর্থন করেন বলে জানানো হয়েছে। যেখানে ২৬ শতাংশ মানুষ এটার বিরোধিতা করেছেন এবং বাকি চার শতাংশ মানুষ কোনো মতামত প্রদান করেননি। একই প্রশ্নে ৬৯ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
রাজনৈতিক দলের পছন্দের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে ৫১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)কে পছন্দ করে। অন্যদিকে ৫৩ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে পছন্দ করেন বলে জানিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং আওয়ামী লীগকে যথাক্রমে ৩৮, ৩৩ ও ২৫ শতাংশ মানুষ পছন্দ করেন।
আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন কি না জানতে চাইলে ৬৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা অবশ্যই ভোট দেবেন। এছাড়া ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে জানিয়েছেন আরো ২৩ শতাংশ মানুষ। অন্যদিকে, মাত্র ৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা সম্ভবত ভোট দেবেন না।
আগামী সপ্তাহে ভোট হলে কোন দলকে ভোট দেবেন- এমন প্রশ্নে ৩০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিএনপির কথা বলেছেন। যেখানে ২৬ শতাংশ মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দেবেন বলে জরিপে উঠে এসেছে। অন্যদিকে এনসিপিকে ছয় শতাংশ, জাতীয় পার্টিকে পাঁচ শতাংশ এবং ইসলামী আন্দোলনকে চার শতাংশ মানুষ ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। অন্য দলগুলোর ভোট রয়েছে ১১ শতাংশ। সাত শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তারা কাকে ভোট দেবেন এখনো নিশ্চিত নন। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকার করেছেন ১১ শতাংশ ভোটার।
অংশগ্রহণকারীদের ৮০ শতাংশ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। এর মধ্যে ৪২ শতাংশ ‘খুবই আশাবাদ’ ব্যক্ত করেছেন। দেশের প্রধান সমস্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে ২১ শতাংশ দুর্নীতিকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখিয়েছেন, আর ১৮ শতাংশ রাজনৈতিক অস্থিরতাকে সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
জরিপে অংশ নেওয়া ৪৮ শতাংশ মানুষ আগামী বছর দেশের অর্থনীতি আরো ভালো হবে বলে মনে করেন। মাত্র ১৮ শতাংশ মনে করেন অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাবে। ৭২ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রয়েছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৬৯ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করাকে তারা সমর্থন করেন। এছাড়া দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ মনে করেন ভবিষ্যতের নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। তবে জরিপে অংশগ্রহণকারী প্রায় ৫২ শতাংশ জানিয়েছেন, তারা দেশে নতুন রাজনৈতিক দল দেখতে চান। যেখানে ৪৩ শতাংশ বর্তমান দলগুলোর ওপর সন্তুষ্টি ব্যক্ত করেছেন।
অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৮ শতাংশ মানুষ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সংস্কার বলে মনে করেন। ৭৪ শতাংশ মানুষ মনে করে বর্তমান সরকার সুন্দরভাবে সংস্কার কাজ শেষ করতে পারবেন।
জাতীয়
তথ্য মন্ত্রণালয়ে ৬৮ জনের চাকরির সুযোগ, দ্রুত আবেদন করুন
তথ্য অধিদফতরের রাজস্ব খাতভুক্ত ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নেবে ৬৮ জন। এসব পদের আবেদনের শেষ তারিখ ২১ এপ্রিল ২০২৬।
চাকরির বিবরণ—
১. পদের নাম: ইনফরমেশন অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ১৪
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অথবা ৪ বছর মেয়াদি অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি; কম্পিউটারে এমএস ওয়ার্ড অ্যান্ড পাওয়ার পয়েন্ট সম্পর্কে অভিজ্ঞতা; পত্রপত্রিকায় নিয়মিত ফিচার বা নিবন্ধ লেখার অভিজ্ঞতা এবং ইংরেজি থেকে বাংলায় এবং বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার অভিজ্ঞতা।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা (গ্রেড-১১)
২. পদের নাম: ফটোগ্রাফার
পদসংখ্যা: ০৭
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি; ডিজিটাল ক্যামেরা পরিচালনা ও কম্পিউটার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা; কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ডিজিটাল ফটোগ্রাফিতে অন্যূন ৬ মাসের কোর্সের সনদ; বাংলা ও ইংরেজিতে ছবির ক্যাপশন লেখায় দক্ষতা এবং ফ্রিল্যান্স ফটোসাংবাদিকতার যোগ্যতা।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ১২,৫০০-৩০,২৩০ টাকা (গ্রেড-১১)
৩. পদের নাম: সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর
পদসংখ্যা: ০৬
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি; কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং বাংলা ও ইংরেজি শর্টহ্যান্ডে প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন বাংলা ৪৫ শব্দ ও ইংরেজি ৭০ শব্দ এবং কম্পিউটার টাইপিং গতি প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন বাংলা ২৫ শব্দ ও ইংরেজি ৩০ শব্দ।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ১০,২০০-২৪,৬৮০ টাকা (গ্রেড-১৪)
৪. পদের নাম: ড্রাইভার
পদসংখ্যা: ১১
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ; হালকা গাড়ি চালনার বৈধ হালকা ড্রাইভিং লাইসেন্স; অভিজ্ঞতাসম্পন্ন চালকেরা অগ্রাধিকার পাবেন।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)
৫. পদের নাম: ক্যাটালগার
পদসংখ্যা: ০১
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতাসহ কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)
৬. পদের নাম: স্টোর অ্যাসিস্ট্যান্ট
পদসংখ্যা: ০১
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতাসহ কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)
৭. পদের নাম: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক
পদসংখ্যা: ০৯
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে অন্যূন দ্বিতীয় শ্রেণি বা সমমানের জিপিএ–সহ উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা এবং কম্পিউটার টাইপিং গতি প্রতি মিনিটে সর্বনিম্ন বাংলা ২০ শব্দ ও ইংরেজি ২০ শব্দ।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)
৮. পদের নাম: অফিস সহায়ক
পদসংখ্যা: ১৯
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা: কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
বেতন স্কেল ও গ্রেড: ৯,৩০০-২২,৪৯০ টাকা (গ্রেড-১৬)
আবেদনে বয়সসীমা
১ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১৮-৩২ বছর।
আবেদনের নিয়ম, আগ্রহী প্রার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত নির্দেশনা মোতাবেক আবেদন করতে পারবেন।
আবেদন ফি,
গ্রেড ১১ থেকে ১২–এর জন্য আবেদন ফি ১৫০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ১৮ টাকাসহ মোট ১৬৮ টাকা।
গ্রেড ১৩ থেকে ১৬–এর জন্য আবেদন ফি ১০০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ১২ টাকাসহ মোট ১১২ টাকা।
গ্রেড ১৭ থেকে ২০–এর জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ০৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।
**সব গ্রেডে অনগ্রসর নাগরিকদের জন্য আবেদন ফি ৫০ টাকা, সার্ভিস চার্জ ৬ টাকাসহ মোট ৫৬ টাকা।
আবেদনের সময়সীমা
অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ ও পরীক্ষার ফি জমাদান শুরুর তারিখ ও সময়: ১ এপ্রিল ২০২৬, সকাল ১০টা।
অনলাইনে এ আবেদনপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ও সময়: ২১ এপ্রিল ২০২৬, বিকেল ৫টা।
জাতীয়
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক জোরদারে ঢাকায় মার্কিন স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ক্লোজ সম্পর্ক রয়েছে। সে সম্পর্ককে এগিয়ে নেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসেছেন স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বেলা ১১টায় রাজধানীর শাহজাদপুর লাইট ফেয়ার স্কুলে টিকা ক্যাম্পেইন পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আগত স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত বলেন, হামের টিকা ও লোকবলের কোনো কমতি নেই। যতক্ষণ পর্যন্ত সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে এবং ক্যাম্পেইন চলবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, আগামী প্রজন্মের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক ও দুদেশের পার্টনারশিপগুলো এগিয়ে নিতে স্পেশাল এনভয় চার্লস হার্ডারকে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট।
আর বাংলাদেশ হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র পাশে আছে জানিয়ে চার্লস হার্ডার জানান, সম্পর্ক এগিয়ে নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এমএন
জাতীয়
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
দেশের বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর। তিনি বলেছেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি দেশের মূল্যস্ফীতির জন্য দায়ী নয়। আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশে জ্বালানির দাম সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সংসদে রুমিন ফারহানা তার বক্তব্যে জানতে চান, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ডাবল ডিজিটে ছিল, যা এখনো খাদ্যদ্রব্যের ক্ষেত্রে ৯ শতাংশের উপরে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ আছে কি না।
জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি কেন বাড়ছে, সেটি আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম যে অনুপাতে বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশে সেটি অনেক কম। আমরা জ্বালানির দাম খুবই মডারেট হারে বাড়িয়েছি।
তিনি বলেন, একটি শিল্প কারখানায় মোট উৎপাদন খরচের মাত্র ৭ থেকে ৮ শতাংশ ব্যয় হয় জ্বালানির পেছনে। সেখানে ডিজেলের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, উৎপাদন খরচের সেই ৭-৮ শতাংশের ওপর ১৫ শতাংশ প্রভাব পড়েছে, যা খুব বড় কোনো অভিঘাত নয়।
পরিবহন খাতের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, একটি বাস ২০০ কিলোমিটার চলতে ২৫-৩০ লিটার ডিজেল ব্যবহার করে। এতে খরচ বেড়েছে ৪৫০ টাকা। এই ৩০ লিটার ডিজেলের জ্বালানি দিয়ে যে ট্রাকটি পণ্য পরিবহন করে, সেটি ১০ হাজার কেজি পণ্য বহন করতে পারে। অর্থাৎ, এই ৪৫০ টাকার প্রভাব ১০ হাজার কেজি পণ্যের ওপর পড়ে। শুনলে মনে হতে পারে দাম অনেক বেড়েছে, কিন্তু পরিবাহিত পণ্যের ইউনিটের ভিত্তিতে হিসাব করলে এটি মূল্যস্ফীতি ঘটানোর মতো কোনো বড় উদ্দীপক নয়।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর অনেক দেশে জ্বালানি তেলের দাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড)। সেখানে সরকারের আলাদা পদক্ষেপের প্রয়োজন হয় না। আমেরিকার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, যুদ্ধের আগে সেখানে গ্যালনপ্রতি দাম ২ ডলার ৭০-৮০ সেন্ট থাকলেও তা পরে ৫ ডলার ছাড়িয়েছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, আপনি অর্থনীতিকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন না, যে জায়গায় ফান্ডামেন্টাল ব্যালেন্স ইমব্যালেন্সে পৌঁছে যায়। সেই ভারসাম্য রক্ষার্থে পৃথিবীর সব দেশ যে নীতি নিয়েছে, আমরাও সেই নীতি অবলম্বন করে মডারেটভাবে মূল্যবৃদ্ধি করেছি।
এমএন
জাতীয়
শুধু বগুড়ার না, দেশের উন্নয়নে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার শুধু বগুড়ার উন্নয়ন নয়, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করছে। কোনো একটি এলাকার উন্নয়নকে প্রাধান্য দিয়ে অন্য অঞ্চলকে বঞ্চিত করা হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বগুড়া সফরে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান ও বেগম জিয়ার ওপর এলাকার মানুষের অধিকার আছে। তাই বলে সব উন্নয়ন যদি বগুড়া ও গাবতলীতে হয়, তাহলে সারাদেশের মানুষতো বঞ্চিত হবে। সারাদেশের অনেক জায়গা এখনও খুবই অবহেলিত, তাই সেগুলোর আগে উন্নয়ন করতে হবে।
বিগত সরকার দেশের টাকা লুট করে বিদেশে পাঠিয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে লুট ও পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে এনে কৃষককার্ড ফ্যামিলিকার্ডের মাধ্যমে জনগণকে দেয়া হবে।
এছাড়া বগুড়া সিটি করপোরেশন নিয়ে তারেক রহমান বলেন, বগুড়ার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা সিটি করপোরেশনের। ২০০১ সাল থেকে কাজ শুরু করে বিএনপি। ২০০৬ পর্যন্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো গড়ে তোলা হয়েছিল। আজ বগুড়া সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো।
সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সকাল ১০টার দিকে তিনি বগুড়ায় পৌঁছান। এরেআগে, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে তিনি বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দিনব্যাপী এই সফরে প্রধানমন্ত্রী দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’-এর ফলক উন্মোচন করেন। এছাড়া জেলাজুড়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এমএন
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনে বগুড়া সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে বগুড়া।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এর উদ্বোধন ঘোষণা করেন। পরে সিটি করপোরেশন চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এদিন সকাল ৬টায় ঢাকার গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা দেন। সকাল ৯ টা ৫৫ মিনিটে তিনি বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। পরে বেলা সাড়ে ১১টায় পায়ে হেটে জেলা জজ আদালতে ই-বেইল বন্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এরপর তিনি বগুড়া সিটি করপোরেশনের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। উদ্বোধন শেষে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ পৈতৃক এলাকা বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন এবং পৈতৃক বাড়ি পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
সফরের শেষপর্যায়ে বিকেল ৪টায় জেলা বিএনপির সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বক্তব্য শেষে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে বগুড়া প্রেসক্লাবের নতুন ভবন উদ্বোধন করবেন। পরে বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটেই বগুড়া বাইতুর রহমান কেন্দ্রীয় মসজিদের পূর্ণনির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন। সবশেষে সন্ধ্যা ৬টায় বগুড়া পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে সংক্ষিপ্ত বিরতি শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার বগুড়া পৌরসভার সীমানা সম্প্রসারণ করে আশপাশের ৪৮টি মৌজা অন্তর্ভুক্ত করে এবং ওয়ার্ড সংখ্যা ১২ থেকে বাড়িয়ে ২১ করা হয়। সে সময় থেকেই বগুড়াকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে বগুড়া সিটি করপোরেশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।



