অর্থনীতি
বাংলাদেশে আমদানি বন্ধ, ভারতে নষ্ট হচ্ছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ
বাংলাদেশের বাজারে স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের পর পশ্চিমবঙ্গ ও মহারাষ্ট্রের রপ্তানিকারকরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। সীমান্তে আটকে থাকা প্রায় ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ দ্রুত নষ্ট হতে শুরু করেছে। ব্যবসায়ীরা নাসিক থেকে ১৬ রুপি কেজি দরে কিনে পরিবহনসহ ২২ রুপি খরচ করে সীমান্তে আনা সেই পেঁয়াজ এখন মাত্র ২ রুপি কেজিতে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
শুক্রবার মালদহের মাহাদিপুর-সোনামসজিদ সীমান্তে দেখা গেছে, ৫০ কেজির একটি বস্তা মাত্র ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে। অথচ মালদহের স্থানীয় খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ২০–২২ রুপি। সীমান্তে কম দামে পেঁয়াজ কিনতে ক্রেতারা ছুটে আসছেন, কিন্তু এটি রপ্তানিকারকদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হঠাৎ বাংলাদেশি আমদানিকারকরা আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে।
রপ্তানিকারকরা জানান, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মাহাদিপুর ও হিলি সীমান্তে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ মজুত করা হয়েছিল। শুধু মাহাদিপুরেই ছিল প্রায় ২০ হাজার টন। রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে কেজি প্রতি ৩০–৩২ রুপি দরে বিক্রি করে ৮–১০ রুপি লাভ হতো। কিন্তু এখন পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। ক্ষতি কমাতে প্রতিদিন শতাধিক শ্রমিক লাগিয়ে পচা পেঁয়াজ আলাদা করতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ী সাজিরুল শেখ বলেন, ‘২২ রুপি কেজি দরে নাসিক ও ইন্দোর থেকে পেঁয়াজ এনেছিলাম। এখন পচা শুরু করায় বাধ্য হয়ে ২, ৬ বা ১০ রুপিতে বিক্রি দিচ্ছি।’ আরেক ব্যবসায়ী জাকিরুল ইসলাম জানান, ‘দুই মাস আগেও প্রতিদিন ৩০–৩৫ ট্রাক পেঁয়াজ বাংলাদেশে পাঠিয়েছি। এখন স্টক পচে যাওয়ায় লোকাল মার্কেটে যেটুকু দাম পাওয়া যায়, সেটাতেই বিক্রি করছি। বাংলাদেশ পরিষ্কার জানিয়েছে, তারা এখন পেঁয়াজ নেবে না।’
মালদহ ও দক্ষিণ দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দু’মাস আগেও বাংলাদেশে রপ্তানি স্বাভাবিক ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় মজুত করা ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ এখন তাদের মাথাব্যথার কারণ। অন্যদিকে পেট্রাপোল ও ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে তুলনামূলক কম মজুত থাকায় সেখানে বড় কোনো সংকট তৈরি হয়নি।
পানির দরে পেঁয়াজ কিনলেও ভারতীয় ভোক্তারা সন্তুষ্ট নন। মালদহের ক্রেতা খাইরুল হক বলেন, ‘রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবহেলায় বাজারের এই অবস্থা। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত, আর খুচরা বাজারে দাম এখনও ২০–৩০ রুপি।’
কলকাতাসহ আশপাশের শহরে তুলনামূলক ভালো মানের পেঁয়াজ ২৫–৩০ রুপি কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বিক্রেতাদের মতে, গুদামে থাকা স্টক বাজারে আসতে শুরু করলে দাম আরও কমে যেতে পারে।
অর্থনীতি
ব্যক্তি পর্যায়ে কর বাড়বে কিনা জানালেন বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যক্তিখাতে কর বাড়ানো হবে না। কর বাড়ানো নিয়ে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে মিডিয়ায় এসেছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ট্যাক্স জিডিপির রেশিও অনেক কম। আশপাশের সব দেশে অনেক বেশি। বাংলাদেশে এই রেশিও কম হওয়ার কারণে আমাদের যা রাজস্ব আদায় হয় তা সরকারের খরচ মেটাতে চলে যায়। উন্নয়নে ব্যয় করা সম্ভব হয় না। তাই অর্থমন্ত্রী ট্যাক্স জিডিপির রেশিও বাড়ানোর কথা বলেছেন। ব্যক্তিখাতে কর বাড়বে না।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে মুক্তবাণিজ্য (ফ্রি ট্রেড) চুক্তির বিষয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও মুক্তবাণিজ্য চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে শনিবার সকালে সিলেটের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেন তিনি। সভায় প্রবাসী, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি অংশ নেন।
এসময় প্রবাসীকল্যাণ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, বন্ধ থাকা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে সরকার কাজ করছে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
স্পেনে অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স যথাসময়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নদী ও খাল খনন এবং হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে কাজ চলছে। এ কাজে কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, জিরো টলারেন্স নীতিতে সরকার কাজ করছে। দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করা সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে সিলেট অঞ্চলে প্রতিনিয়তই ঢলের পানি আসে। এ কারণে বর্ষায় এখানে বন্যা হয়ে যায়। এটি আমাদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের কিছু প্রকল্প চলমান আছে। নতুন আরও কিছু প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
অর্থনীতি
সোনার দাম আরও বাড়লো, ভরি ২৬৫৪১৪ টাকা
দেশের বাজারে সোনার দাম আরও বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
আজ শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। তার আগে ২১ ফেব্রুয়ারি বাড়ানো হয় ৩ হাজার ২৬৬ টাকা। এতে তিন দফায় ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম বাড়ানো হলো ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার ৪১৪ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ৩ হাজার ৫৫৭ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম ২ লাখ ১৭ হাজার ১২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৯১৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৭৭ হাজার ৭০১ টাকা।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ হাজার ৪১ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম এক হাজার ৮০৮ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনান দাম এক হাজার ৪৫৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। আজ সকাল ১০টা ২৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামে সোনা বিক্রি হয়েছে।
এবার সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৮৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ৫৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
খাদ্যপণ্য খালাস না করে জাহাজ নদীতে, ব্যবস্থা নিতে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নির্দেশ
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুদামে পণ্য খালাস না করে নদীতেই লাইটার জাহাজে রেখে দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেবার নির্দেশ দিয়েছেন নৌ পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় আকস্মিক পরিদর্শনে নেমে তিনি মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুর এলাকায় ধলেশ্বরী নদীতে কয়েকটি লাইটার জাহাজ দেখতে পান।
এসব জাহাজে আমদানি করা গম ও ভূট্টা মজুদ করা ছিল। এ খাদ্যপণ্যগুলো আমদানিকারকের গুদামে খালাসের কথা থাকলেও তা ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত নদীতেই রেখে দেওয়া হয়েছে বলে জানান নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের বিশেষ কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোকসানা খায়রুন নেসা।
তিনি বলেন, যেসব কোম্পানি এ জাহাজগুলোতে পণ্য মজুদ করে রেখেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অর্থ্যাৎ নিয়মিত মামলা করার নির্দেশনা দিয়েছেন মন্ত্রী।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সদ্য সাবেক নৌ পরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় ঘাটে পৌঁছানোর তিন দিনের মধ্যে লাইটার জাহাজ থেকে পণ্য খালাস না করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
নৌ পরিবহন অধিদপ্তরের ডেপুটি নটিক্যাল সার্ভেয়ার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ডিকসন চৌধুরী বলেন, পরিদর্শনে তিনটি লাইটার জাহাজ ধলেশ্বরী নদীতে নোঙর করা পাওয়া যায়। মাদার ভেসেল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত এ জাহাজগুলো ৬ থেকে ১৮ দিন পর্যন্ত এখানে নোঙর করা আছে।
খাদ্যপণ্যবোঝাই জাহাজগুলো ‘মদিনা গ্রুপ’, ‘এসএস ট্রেডিং’, ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’ ও ‘আমান গ্রুপ’-এর নামে কোম্পানির অধীনে পণ্য ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এক্ষেত্রে কয়েকটি ঘটনা ঘটে। অনেকক্ষেত্রে গুদাম ফাঁকা থাকে না, তাই ভাসমান গুদাম হিসেবে জাহাজগুলো ব্যবহার করে কোম্পানিগুলো। আবার অসৎ উদ্দেশ্যও থাকে, যেমন গুদামজাত না করে, পরে পণ্যের দাম বাড়লে তা বাজারে ছাড়া এবং অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন। কিন্তু এক্ষেত্রে জাহাজ মালিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
ওসব বিবেচনায় নৌ পরিবহন অধিদপ্তর টাস্কফোর্স গঠন করে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত দেড় মাসে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৮৩৮টি জাহাজে অভিযান চালানো হয়েছে বলেও জানান ডিকসন চৌধুরী।
অর্থনীতি
দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ট্যাক্স বাড়াতে হবে: অর্থমন্ত্রী
দেশের নাজুক অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অর্থনীতি সচল করতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে এবং এর মাধ্যমে বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান হবে না, এজন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে সরকার জোর দিচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান আসছে বাজেটের অগ্রাধিকার।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থানাধীন জেলে পাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নির্ধারিত জমি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বিকেল ৩টায় মন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল-২ এর পশ্চিম পার্শ্বে অবস্থিত মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। পরবর্তীতে তিনি পতেঙ্গায় একটি সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত মোট ১৪.২১৯০ (চৌদ্দ দশমিক দুই এক নয় শূন্য) একর এবং ২.৭ (দুই দশমিক সাত) একর জমি সরেজমিন পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান মন্ত্রীকে জমির অবস্থান, ভৌগোলিক পরিবেশ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পারিপার্শ্বিক অবকাঠামোগত সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন সম্ভাবনা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন।
এ সময় অধিনায়ক বানৌজা উল্কা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে পতেঙ্গা ও আশপাশের জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং চট্টগ্রাম মহানগরীর চিকিৎসা অবকাঠামো আরো শক্তিশালী হবে। এ ছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ে ভোলা, সদস্য সরফরাজ কাদের রাসেল।
এমএন
অর্থনীতি
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ
২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৩.৪৯ শতাংশ। গতকাল বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ এ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৪.২২ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই প্রবৃদ্ধি ছিল ৫.৭৮ শতাংশ।
জিডিপি বা মোট দেশজ উৎপাদন বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে একটি দেশে উৎপাদিত সব ধরনের পণ্য ও সেবার চূড়ান্ত মূল্যকে বোঝায়।
বিবিএস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৬৯ মার্কিন ডলার।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় হিসাবের চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) চূড়ান্ত হিসাব তুলে ধরা হয়েছে।
আগের অর্থবছর (২০২৩-২৪ অর্থবছর) মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৩৮ মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৩১ মার্কিন ডলার বেড়েছে।
এর আগে সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় ছিল ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। এরপর ডলারের মান বৃদ্ধির কারণে ডলারের সমমূল্যে মাথাপিছু আয় আর বাড়েনি।
বিবিএস-এর হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৯৩ মার্কিন ডলার। এরপর ২০২২-২৩ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৪৯ মার্কিন ডলার। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরো কমে দাঁড়ায় ২ হাজার ৭৩৮ মার্কিন ডলার।
বিবিএস-এর হিসাবে মাথাপিছু আয়ের পার্থক্য মূলত ডলার বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে হয়েছে। গত অর্থবছরের মাথাপিছু আয় নির্ধারণে বিবিএস প্রতি ডলারের গড় বিনিময় হার ধরেছিল ১২০.৮২ টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ১১১.০৬ টাকা।
গত অর্থবছর (২০২৪-২৫ অর্থবছর) মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা। এর আগের অর্থবছর (২০২৩-২৪ অর্থবছর) তা ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা।
সূত্র : বাসস
এমএন




