অর্থনীতি
ব্যবসায়ীদের জন্য আমরা ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে পারিনি: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সমাজে চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের এমনভাবে নিরুৎসাহিত করছে যে, তারা সামর্থ্য থাকার স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না।
তিনি বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা ব্যবসায়ীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত কমফোর্ট জোন তৈরি করতে পারিনি। এ জন্য রাজনীতিবিদদের দায় রয়েছে বলে মনে করেন জামায়াত আমির।
শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁ হোটেলে আয়োজিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনের তৃতীয় অধিবেশনে তিনি এসব বলেন। ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পথরেখা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ বিষয়ক এই সম্মেলনের আয়োজন করে বণিক বার্তা।
অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এ দেশের অর্থনীতিতে গরিব-দুঃখী সবাই অবদান রেখে যাচ্ছে। আমাদের টোটাল ডেভেলপমেন্ট দুটো বড় খাত থেকে আসে; একটা বিভিন্ন পর্যায়ের ট্যাক্স, আরেকটা রেমিট্যান্স। ভিক্ষুক ও শিল্পপতি উভয়ই ট্যাক্স দেন।
যেহেতু সমাজের দায়িত্ব সবাই সমানভাবে নিচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক বিষয়টিও ন্যায্যতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে। তা না হলে এই ক্ষেত্রে অবিচার হবে, সেই অবিচার এরই মধ্যে সমাজে চলছে। এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই; কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।’
জামায়াত আমির বলেন, অর্থনীতি নিয়ে আপনি আগাবেন কীভাবে? এই অর্থনীতিতে যেমন বিভিন্ন সরকারি মার-প্যাঁচ, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য আছে, তেমননিভাবে সেখানে অনেক দুর্বৃত্তপনাও আছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই দুর্বৃত্তপনাকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করছে রাষ্ট্র। ফলে যে উদ্যোক্তার পাঁচ বছরের মধ্যে সফলতার মুখ দেখার কথা ছিল সেটা ১০ বছর গড়িয়ে চলে যাচ্ছে।
চাঁদা ও দুর্নীতি ব্যবসায়ীদের নিরুৎসাহিত করছে মন্তব্য করে জামায়াত আমির বলেন, সামর্থ্য থাকা স্বত্বেও অনেকে ব্যবসায় স্থাপনের চিন্তা করে না। উল্টো যে ব্যবসাটা আছে সেটাকে বাঁচাবে কীভাবে তা নিয়েই ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরদের বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানালে তারা জবাব দেয়, আমাদের দেশ স্ট্যাবল না, অনেক বেশি লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, জীবন ও মূলধনের হুমকি বিদ্যমান। বিপরীতে অনেক দেশ আছে যারা আমাদের উপযুক্ত পরিবেশ দেবে। (তারা বলে) তোমরা ভালো পরিবেশ দাও, আমরা আসব।’
ব্যবসায়ীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেক সময় ব্যবসায়ীদের বলা হয় সুবিধাবাদী। যখন যে দল ক্ষমতায় যায়, তখন সে দলের পেছনে লাইন দেয়। আমি মনে করি কেউ লাইন দেয় নিজের আগ্রহে কেউ লাইন দেয় বাধ্য হয়ে। আর লাইন দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না; ব্যবসাকে বাঁচাতে পারে না। এটা তাদের দায় নয়; এই দায় আমার; আমাদের রাজনীতিবিদদের। রাজনীতির বাইরে কোনো অর্থনীতি নেই।’
ব্যবসায়ীরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ আখ্যায়িত করে জামায়াতে ইসলামীর এই শীর্ষ নেতা বলেন, রাজনীতির জায়গা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আমরা কাঙ্ক্ষিত কমফোর্ট জোন ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করতে পারিনি। তবে কাউকে না কাউকে তো এগিয়ে আসতে হবে।
দেশের মেধা পাচারের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের মেধাগুলো দুনিয়ার বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। সেখানে তারা চমৎকার ভূমিকা রাখতেছে, নিজেদের মেলে ধরছে। আমার দেশে তারা পারে না কেন? কারণ, আমরা সেই পরিবেশ তাদের দিতে পারিনি। ফলে আমাদের মেধা পাচার হয়ে যাচ্ছে। তাদের যদি একটু সম্মানের জায়গা তৈরি করে দিতে পারি তাহলে তারা আসবে। এই দেশকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে তারা নেতৃত্ব দিতে পারবে।’
জামায়াতের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমাদের ফোকাস তিনটা জায়গায়। আমরা বিশ্বাস করি এই তিন জায়গা ঠিক হলে দেশ পাল্টে যাবে। এক নম্বর শিক্ষা; তবে সনদ দেওয়া শিক্ষা নয়; প্রফেশনাল এডুকেশন দিতে হবে। কৃষক থেকে শুরু করে সবাই হবে একেক জন রিসোর্স ও দক্ষ পারসন। দুই নম্বর বিষয় হলো দুর্নীতি প্রতিরোধ। দুর্নীতি প্রতিরোধ করতে গিয়ে আমরা ঢাল বা পাতা ধরে টান দিই কিন্তু মূল থেকেই যায়। আমাদের তৃতীয় বিষয় হলো ন্যায়বিচার সর্বত্র এবং সবার জন্য। এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের ব্যবসায় হবে টেকসই। জাতি হবে প্রগ্রেসিভ ও ডায়নামিক। এটা নিশ্চিত করতে না পারলে সমাজ ভালোর দিকে আগাবে না।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘এই জায়গা ঠিক হলে সমাজ ঠিক হবে; তবে একদিনে না। প্রথমে শুরু করতে হবে। তারপর ক্রমান্বয়ে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা বিপ্লবী পরিবর্তনের দিকে নয়, বরং যৌক্তিক পরিবর্তনের দিকে যেন দেশটাকে এগিয়ে নিতে পারি সে দিকে নজর দিতে হবে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। অতীতে যা হওয়ার হয়েছে আগামীটাকে বিনির্মাণ করতে হবে।’
অর্থনীতি
ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন ২০ লাখের বেশি করদাতা
চলতি ২০২৫-২৬ কর বছরে ২০ লাখের বেশি করদাতা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন। শনিবার (২৯ নভেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক প্রেস বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, ই-রিটার্ন ব্যবস্থা চালুর পর এটি কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরে বড়ো সাফল্য।
গত ৪ আগস্ট অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এনবিআরের ওয়েবসাইট (www.etaxnbr.gov.bd) থেকে ই-রিটার্ন দাখিল কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই করদাতারা উল্লেখযোগ্য সাড়া দিয়ে দ্রুতগতিতে অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করছেন।
এ বছর এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব প্রবীণ, শারীরিকভাবে অসমর্থ, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার আইনগত প্রতিনিধি এবং দেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিক ছাড়া অন্য সব ব্যক্তিগত করদাতার জন্য ই-রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে। তবে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতারাও চাইলে অনলাইন পদ্ধতিতে রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।
ই-রিটার্ন সিস্টেমে কোনো দলিল বা কাগজপত্র আপলোড না করেই আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য এন্ট্রি করে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল সম্ভব। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (বিকাশ, নগদ) মাধ্যমে কর পরিশোধ করে তাৎক্ষণিকভাবে অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও আয়কর সনদ প্রিন্ট করা যাচ্ছে।
বিদেশে অবস্থানরত করদাতারা পাসপোর্ট নম্বর, এনআইডি ও ই-মেইলসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ereturn@etaxnbr.gov.bd এ পাঠালে তাদের ই-মেইলে OTP ও রেজিস্ট্রেশন লিংক পাঠানো হচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা সহজেই রেজিস্ট্রেশন ও রিটার্ন দাখিল করতে পারছেন।
করদাতাদের সহায়তায় এনবিআর একটি কল সেন্টার (০৯৬৪৩ ৭১ ৭১ ৭১), অনলাইন অভিযোগ সুবিধা, এবং সব কর অঞ্চলে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক চালু রেখেছে। পাশাপাশি করদাতা, কর আইনজীবী, সিএ, সিএমএ ও চার্টার্ড সেক্রেটারিদের ই-রিটার্ন পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এনবিআর সব ব্যক্তিগত করদাতাকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর তারিখের মধ্যে ই-রিটার্ন দাখিলের অনুরোধ জানিয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
ডলার সংকট নেই, যত ইচ্ছা আমদানি করা যাচ্ছে: গভর্নর
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, দেশে এই মূহুর্তে ডলার সংকট না থাকায় যত ইচ্ছা আমদানি করা যাবে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে চতুর্থ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
গভর্নর বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে ডলার এক্সচেঞ্জ রেট বাজার ভিত্তিক করা হয়েছে, এতে আমরা সফল হয়েছি। আমরা যত ইচ্ছে আমদানি করতে পারি, ব্যাংকিং খাতে আমদানিতে কোনো সমস্যা নেই। কারণ সব মার্জিন উঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
যদি কেউ আমদানি করতে না পারে; সেটা তার নিজের সমস্যা মন্তব্য করে ড. মনসুর বলেন, আমদানি করার পর টাকা নিয়ে আসা ব্যবসায়ীদের দায়িত্ব।
দেশে ডলার সংকট নেই জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে এখনো পর্যন্ত কোন শঙ্কা নেই আমদানিতে। প্রতিটি পণ্যের আমদানি বেশি হয়েছে।
এমকে
অর্থনীতি
নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে সিআইডি। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম পরিচালিত প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখ যায়– চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ডক্টর হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট পিসিএল নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণ করেন। উক্ত প্রতিষ্ঠানটি ২০০৮ সালে যাত্রা শুরুর পর ২০১৩ সালের মধ্যেই ১০টি মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডে সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পায়। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির অধীনে ১৩টি ফান্ড রয়েছে। মূলত এ মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবৈধ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীরা। চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ ও সহযোগী ডক্টর হাসান তাহের ইমামের সঙ্গে মিলে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরবর্তীতে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক পদ লাভ করেন। এমনকি কৌশলে চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদকে সাউথইস্ট ব্যাংকেরও পরিচালক বানান।
তিনি বলেন, এরপর অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে ফান্ডের টাকায় মাল্টি সিকিউরিটিজ নামক একটি ব্রোকার হাউজ ক্রয় করে তার ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতারণাপূর্বক ফান্ডের অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও চৌধুরী নাফিস সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের টাকা দিয়ে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি নামীয় ফান্ড ক্রয়/বিনিয়োগ করেন, যার অধীন একাধিক ফান্ড রয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, জাল-জালিয়াতির ব্যাপ্তি এতই বিস্তৃত ছিল যে, হিসাব বিও ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ রাজউক থেকে একাধিক প্লট হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছিলেন অভিযুক্তরা।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বেস্ট হোল্ডিংসের বন্ডে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে চাপ প্রয়োগ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং একাধিক বাড়ি–ফ্ল্যাট কেনাসহ নানা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশিত হয়। এসব অভিযোগ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অনুসন্ধান শুরু করে।
অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরী এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকসমূহে মোট ৭৮টি হিসাব পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ঐ হিসাবগুলোতে মোট প্রায় ১৮০৯.৭৫ কোটি টাকা জমা এবং প্রায় ১৮০৫.৫৮ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তন্মধ্যে, চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ এবং ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে মোট ২১টি হিসাব চলমান রয়েছে, যার বর্তমান স্থিতি মাত্র ২৯.২১ লাখ টাকা। এ সব হিসাবে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা লেনদেন হওয়ায় ঐ হিসাবগুলোর তথ্য/দলিলাদি সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
সিআইডির মুখপাত্র বলেন, অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের মালিকানাধীন একাধিক প্রতিষ্ঠানের ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে। যেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এছাড়া নাফিস সরাফতের ছেলে রাহীব সাফওয়ান সারাফাত চৌধুরীর নামে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকে হিসাব যেমন– মোট ৭৬টি হিসাব পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, চৌধুরী নাফিস সরাফাত এর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এ ৩ রুমের একটি ফ্ল্যাট ও ৫ রুমের ১টি ভিলা রয়েছে। সিঙ্গাপুরে হাসান তাহের ইমামের মালিকানাধীন একটি কোম্পানিরও ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে বাংলাদেশে তাদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য পেয়েছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে ১ হাজার ৬১৩ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) গুলশান থানায় তাদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং আইনে মামলা করে সিআইডি।
অর্থনীতি
ব্রয়লারের দাম বাড়লো, অপরিবর্তিত মাছ-মাংস
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। একই সঙ্গে লেয়ার, সোনালীসহ অন্যান্য মুরগির দামও আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া মাছ-মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে, বাজারে আগের তুলনায় ইলিশ মাছের পরিমাণ বেড়েছে। এর মধ্যে মাঝারি আকারের ইলিশ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়।
শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর নিউমার্কেটের বনলতা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ব্রয়লার মুরগি কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৭০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৩৩০ টাকার মধ্যে, দেশি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬৫০ টাকায়, আর লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। বাজারে দাম বাড়ার মূল কারণ হিসেবে বিক্রেতারা ফিডের দাম ও খামার পর্যায়ের অন্যান্য খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন।
মুরগি বিক্রেতা আজাদ মিয়া বলেন, শুনেছি গত এক সপ্তাহে ফিডের দাম অনেক বেড়ে গেছে। আগে আমরা কেজি প্রতি ব্রয়লার মুরগি ১৭০ টাকায় বিক্রি করতাম, এখন সেটি ১৯০ টাকা। শুধু ফিডই নয়, খামারে খরচ, শ্রমিকদের মজুরি ও পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের তো কিছু করার নেই। কারণ, আমরা পাইকারি মার্কেট থেকে মুরগি কিনি। সেখানেই দাম বাড়তি। যার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়েছে।
হাসান উদ্দিন নামের অন্য আরেক বিক্রেতা বলেন, সোনালী ও দেশি মুরগির দাম বেশি থাকায় অনেকে ব্রয়লার মুরগি কিনতে আসেন। এখন সেটার দাম কিছুটা বেড়েছে। আমরা চাইলেই দাম কমাতে পারি না। কারণ, পাইকারিতে চড়া দামে বিক্রি করে। তবে সম্প্রতি যদি বাজারে সরবরাহ বাড়ে তবে দামও স্থিতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষও সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে, মাছের বাজারে সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি পড়ছে ইলিশে। মাঝারি আকারের ইলিশ কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ টাকায়। বড় আকারের ইলিশের কেজি ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।
বনলতা কাঁচাবাজারের মাছ বিক্রেতা ইব্রাহিম আলী বলেন, ইলিশের সরবরাহ এখন বেড়েছে। তবে জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেশি হওয়ার সুবাদে দাম কমছে না। মাঝারি ইলিশের চাহিদা অনেক বেশি। কেউ নিতে চাইলে কম-বেশি দরদামে দিয়ে দিচ্ছি।
তবে ইলিশ ছাড়াও অন্যান্য মাছের দামও চড়া। রুই, কাতল ও মৃগেল আকার ও মানভেদে কেজিতে ৩০০ থেকে ৭৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস ও তেলাপিয়ার মতো তুলনামূলক কম দামের মাছও ১৯০-২৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না।
এছাড়া, মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, সিলকার্প মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, কালিবাউশ মাছ ৪৫০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ছোট মাছের মধ্যে কাঁচকি মাছ ৪৫০ টাকা, মলা মাছ ৩০০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩০০-৬০০ টাকা এবং গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৬৫০-১০০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।
অর্থনীতি
ব্যাংকিং খাতে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার ঘরে, বিনিয়োগে চাপ বাড়ছে: পিআরআই
বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন ও খেলাপি ঋণ মিলিয়ে মোট ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে সতর্ক করেছে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত “মান্থলি ম্যাক্রোইকনমিক ইনসাইটস (এমএমআই)” অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, বর্তমানে খেলাপি ঋণ ৬.৪ লাখ কোটি টাকা— যা ব্যাংকিং খাতের মোট ঋণের প্রায় ৩৬ শতাংশ। তবে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের আকার আরও বড়, যা সাড়ে ৯ লাখ কোটি টাকার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে; এই হিসাব দেখায় যে এসব ঋণ পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা খুবই কম।
ড. আশিকুর রহমান বলেন, উচ্চ খেলাপি ঋণ ব্যাংকগুলোর ঋণ দেওয়ার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। ফলে অন্তত ১৬টি ব্যাংক নতুন ঋণ বিতরণে অক্ষম হয়ে পড়েছে। এতে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমছে, বেকারত্ব বাড়ছে এবং সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি শেষ পর্যন্ত চারটি চাপ তৈরি করে— উচ্চ সুদহার, বাড়তি মূল্যস্ফীতি, কম প্রবৃদ্ধি এবং দুর্বল বিনিয়োগ।
সেমিনারটির সভাপতিত্ব করেন পিআরআই চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ এখন বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। “অনেকে নতুন বিনিয়োগের জন্য নয়— পুরোনো ঋণ স্ট্যান্ডার্ড রাখতে নতুন ঋণ নিচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, অর্থনীতির সংকট স্পষ্ট হলেও নীতিনির্ধারকেরা সে বার্তা শুনছেন না। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি দুই দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন— ৭ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা। তবে পারভেজ মনে করেন, প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি। ঋণ পুনঃতফসিলের সময়সীমা ৬ মাস থেকে কমিয়ে ৩ মাস করা হলে খেলাপি ঋণ আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ীরা দায়ী— এমন ধারণার বিরোধিতা করে পারভেজ বলেন, “জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়েছে, কিন্তু সরবরাহ স্থিতিশীল করা যায়নি। গ্যাস–নির্ভর শিল্পে উৎপাদন ৪০ শতাংশে নেমেছে— এটি কি ব্যবসায়ীদের দোষ?”
তিনি আরও বলেন, এনবিআরের ৫৫ হাজার কোটি টাকার অতিরিক্ত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়াবে, বিশেষ করে উৎসে কর কর্তনের মাধ্যমে। সরকারের তড়িঘড়ি সংস্কারের সমালোচনা করে তিনি জানান, “এই পরিবর্তন এনবিআরকে আরও জটিল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।”
সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, অর্থনীতি কিছুটা মন্থর হলেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত আছে। কর্মসংস্থান বাড়াতে আরও সহনশীল নীতি প্রয়োজন। পাল্টা শুল্কের ফলে রপ্তানি সামান্য কমলেও বাংলাদেশ এখনো ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় ভালো অবস্থানে আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



