জাতীয়
শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) তাদের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ফলে শেখ হাসিনা ও কামালকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের লঘুদণ্ড। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন, তাদের কনসিডারেবল অ্যামাউন্ট (উল্লেখযোগ্য পরিমাণ) আন্দোলনকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আহত আন্দোলনকারীদের আঘাতের মাত্রা ও ক্ষতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে রায়ে।
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। তারা চৌধুরী মামুনের সাজা কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। আপিল করতে হলে তাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীও বলেছেন, আইনে না থাকায় তার আসামির আপিলের সুযোগ নেই।
জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে করা কোনো মামলায় এটিই প্রথম রায়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জনগণকে জিম্মি করে স্বৈরাচারী কায়দায় সাড়ে ১৫ বছর দেশে শাসনের নামে পরিবারতন্ত্র কায়েক করেছিলেন শেখ হাসিনা। তার আশপাশে গড়ে তোলেন চাটুকার বাহিনী। তাদের সবার স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন জনগণের প্রতিপক্ষ। কিন্তু তার গুম-খুন বাহিনীর ভয়ে কেউ তার অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পরত না। ২০২৪ সালের আমি আর ডামি নির্বচনের মধ্য দিয়ে একদলীয় শাসনের চূড়ান্ত নীলনকশা নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীরা বুঝতে পেরে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে মাঠে নামে। শেষ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি কোনো মতে ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করেন। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও পালিয়ে যান। শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার রায় যত এগিয়ে আসছিল, তিনি ততই বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। তার নির্দেশে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির কিছু দুষ্কৃতকারী কর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থানে থাকায় তারা সুবিধা করতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় সোমবার দেওয়া হলো ঐতিহাসিক সেই রায়। যার জন্য দেশবাসী ৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যার মাথার ওপর এখন ঝুলছে মৃত্যুদণ্ডের রায়। এর আগে আর কোনো সরকারপ্রধানকে এভাবে গণহত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে হয়নি কোনো আদালত থেকেই। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেই শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার রায় এলো, যে আদালত তার সরকার গঠন করেছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ভিন্নমতের রাজনীতির মুখ বন্ধ করার জন্য।
যে অভিযোগে শেখ হাসিনার সাজা: প্রথম অভিযোগের অধীন তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, প্রথম ঘটনা হচ্ছে উসকানি, দ্বিতীয়টি হত্যা করার আদেশ, তৃতীয়টি হচ্ছে নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শাস্তিযোগ্য। এ তিন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তিনটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে তাদের ফাঁসি দেবে বলেন। যা উসকানি ও আদেশ দেন এবং অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তার অধীন ব্যক্তিদের কোনো বাধা প্রদান করেননি। ফলে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, অনেক ঘটনা আছে। একটি হচ্ছে আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও লেথাল উইপন ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন করেছেন। শেখ হাসিনা একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন উল্লেখ করে রায়ে আরও বলা হয়, চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা, যা সংঘটিত হয়েছে তার আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলে বর্ণনায় এসেছে। একইভাবে অন্য একটি ঘটনায় তিনি একই অপরাধ করেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ কারণে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এই তিনটি ঘটনায় তাকে (শেখ হাসিনা) একটি সাজা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেটি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডের সাজা।’
যে অভিযোগে আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড: রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামাল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য দায়ী ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনার জন্য। এ ঘটনার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে দায়ী সহযোগিতার জন্য এবং নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য।
উভয় (চানখাঁরপুল ও আশুলিয়া) ক্ষেত্রে ছয়জন করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবব্যুনাল আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীন আসাদুজ্জামান খান কামাল দায়ী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতা। এসব ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কারণে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড : চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তিনি অবদান রেখেছেন পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জানা সম্পূর্ণটা ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে। এমনকি তিনি স্বীকার করেছেন এবং তিনি ৩৬ দিনের আন্দোলনের সব ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তার অবদান, স্বীকার করার সঙ্গে বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তার সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, যেখানে অপরাধের সম্পৃক্ততায় সর্বোচ্চ শাস্তি। কিন্তু তার অবদান বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদানের।
চৌধুরী মামুন জবানবন্দিতে বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তিনি পেয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে। সোমবার রায়ের সময় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের অপরাধের প্রমাণ হিসাবে আমলে নেওয়া ফোনালাপের রেকর্ড শোনানো হয়। জুলাই সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনার এ শাস্তি হয়েছে। এখানে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন শেখ হাসিনা: আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এটা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য। শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালত রায়ে বলেন, গত বছরের ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই রাতে তিনি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের আদেশ দেন। এমনকি হত্যারও আদেশ দেন। ১৮ জুলাই ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি ও ড্রোনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অবস্থান নির্ণয়ের নির্দেশ দেন। রায় পাঠের সময় ঘুরেফিরে আসে শেখ হাসিনার র্বিভিন্ন ধরনের অডিও-ভিডিও ফোনালাপ। আসাদুজ্জামান কামালের বাসা থেকে কোর কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হতো। তার বিরুদ্ধে সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং আলামত ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশসংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ হিসাবে এগুলো সাব্যস্ত হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অ্যাকশন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তাদেরকে অতি শিগগিরই আইনের আওতায় আনা হবে। কীভাবে আনা হবে সেই পরিকল্পনা ফাঁস করতে চাই না। শিগগিরই অ্যাকশন শুরু হবে।
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যত শীর্ষ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ আছে তারা অতি শিগগিরই যেন আইনের আওতায় আসে সে ব্যবস্থা আমরা খুব দ্রুত নেব। আমাদের পরিকল্পনা এখানে ফাঁস করতে চাই না। কোনোকিছু বাদ থাকবে না, এদেরকে আইনের আওতায় আনবোই। এ বিষয়ে আমার অত্যন্ত কঠোর।
চট্টগ্রামে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ দুই মাস আগেও একজন বড় ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা চেয়েছে। এরপর চট্টগ্রামের পুলিশ কমিশনার ওই ব্যবসায়ীর নিরাপত্তা এবং বাসায় পুলিশ প্রহরী দিয়েছে। সে সন্ত্রাসী গ্রুপ হয়তো সুবিধা পায়নি সেজন্য দুমাস পরে আবার একই রকমের কর্মকাণ্ড করেছে। এ সময় তারা হেভি উইপেন্স (ভারী অস্ত্র) দিয়ে গোলাগুলি করেছে।
তিনি বলেন, চট্টগ্রামের গোলাগুলির ঘটনায় সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা গেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে।
বিএনপি দলের নামের চাঁদাবাজির এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাদের সোপর্দ করেন। কিন্তু কোনো অভিযোগ ঢালাওভাবে করলে তার জবাব দেওয়া যায় না।
আগের তুলনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক ভালো উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে স্থিতিশীলতা আসে, মানুষের মনে শান্তি এবং নিশ্চয়তা আসে।
এমএন
জাতীয়
ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চায়: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইস্যুতে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের চায় বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা
রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, আমরা চাই উত্তেজনা প্রশমিত হোক এবং এই সমস্যার সমাধান কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে আসুক। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশ এখন ভৌগোলিক-রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। আমাদের অনেক নাগরিক মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত রয়েছেন। তাদের কর্মসংস্থান সেখানে নির্ভরশীল।
তিনি আরও বলেন, এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান বিষয় হচ্ছে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং তাদের সহায়তা করা, যাতে তারা কোনো দুর্ভোগে না পড়েন। যারা যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ করছেন, তাদেরও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যারা যাত্রী, প্রয়োজনে তাদের ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়েও যেসব দেশে আমাদের নাগরিকরা কাজ করেন, সেসব দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, এই মুহূর্তে আমাদের যে মজুত রয়েছে, তা নিয়ে তেমন কোনো সমস্যা হবে না। অতীতেও দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে জ্বালানি খাতে কিছু ওঠানামা হতে পারে। তবে সেসব মোকাবিলায় আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই।
আজকের বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভাগীয় বৈঠক ও মন্ত্রীদের বৈঠক নিয়মিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য নেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন। বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি নিয়মিত দিকনির্দেশনা দেন।
তিনি জানান, ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) সংক্রান্ত বিষয়েও আজ তথ্য দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন এবং ওআইসি সফর ও বৈঠক সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের ভেতরে থাকা যাত্রী এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের যাতে কোনো দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমি নিজেও গতকাল বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবন্দরে গিয়েছি। আমাদের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ সমন্বয় করছি।ৎ
এমএন
অন্যান্য
পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার মায়ের মৃত্যু
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতার মা হুরন নাহার রশিদ মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
রোববার (১ মার্চ) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুনার রশীদ খান মুন্নুর সহধর্মিণী ও মুন্নু গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান হুরন নাহার রশিদ দীর্ঘদিন থেকে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্যের অবনতি হলে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রোববার ভোরে মারা যান।
মৃত্যুকালে তিনি দুই মেয়ে ও তিন নাতি রেখে যান। তার বড় মেয়ে আফরোজা খানম রিতা বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির দায়িত্বে রয়েছেন। আর ছোট মেয়ে ফিরোজা মাহমুদ ‘আমার দেশ’ পত্রিকার ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
মন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. আব্দুল আউয়াল বুলবুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গুলশানের আজাদ মসজিদে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তার মরদেহ মানিকগঞ্জের মুন্নু সিটিতে নেয়া হবে। সেখানে নামাজে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
মরহুমার স্বামী সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কবরের পাশেই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে।
এমএন
জাতীয়
জেদ্দা-রিয়াদ-মাস্কাটে নির্ধারিত সময়ে উড়বে ইউএস-বাংলার ফ্লাইট, বন্ধ থাকছে দুবাই-দোহা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যেই সৌদি আরবের জেদ্দা ও রিয়াদ এবং ওমানের রাজধানী মাস্কাটের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইট পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।
রোববার (১ মার্চ) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) মো. কামরুল ইসলাম।
ইরান-ইসরাইল সংঘাতের জেরে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) নিরাপত্তাঝুঁকিতে মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এছাড়া এয়ার ইন্ডিগো, ইউএস-বাংলা, সৌদি এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত রাখে। এতে ঢাকা বিমানবন্দরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েন যাত্রীরা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও জেদ্দা এবং ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী ফ্লাইট পরিচালিত হবে। যাত্রীদের নির্ধারিত ফ্লাইট সূচীর চার ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। বিমানবন্দরে উপস্থিত হয়ে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে চেক-ইন কাউন্টার থেকে বোর্ডিং পাস সংগ্রহ করার জন্যও অনুরোধ জানায় কর্তৃপক্ষ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবী, শারজাহ ও কাতারের রাজধানী দোহায় ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছে। আরব আমিরাত ও কাতারে ফ্লাইট চলাচল উপযোগী হওয়া মাত্রই যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।
এমএন
জাতীয়
চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশের মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে বিদেশের ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) রেসিডেন্ট চিকিৎসকদের ইনডাকশন প্রোগ্রামে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসায় বিদেশনির্ভরতা কমাতে হবে। বিএমইউতে মলিকিউলার ল্যাবরেটরি গঠন ও আবাসিক সংকট সমাধান করা হবে। যতক্ষণ মন্ত্রণালয়ে আছি চিকিৎসকদের জন্য যা যা দরকার সব করে দেব।
মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মেডিকেল শিক্ষাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার অনুরোধ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। কারণ মেডিকেল শিক্ষার্থীরা রাজনীতিতে জড়ালে দেশের মানুষ সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হবেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেন, দেশের মানুষের জন্য মানসম্পন্ন চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দুর্নীতি ও সীমাবদ্ধতা দূর করে সেবা দিতে পারলে দেশের প্রান্তিক মানুষও স্বাস্থ্যসেবা পাবে।
দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। তরুণ চিকিৎসকদের গবেষণায় গুরুত্ব দেয়ার আহ্বান জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। সেইসঙ্গে তরুণ চিকিৎসকদের এআইসহ আধুনিক প্রযুক্তিতে জ্ঞান অর্জনের অনুরোধ করেন ডা. এম এ মুহিত।




