জাতীয়
শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) তাদের মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। ফলে শেখ হাসিনা ও কামালকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে।
গত ১৭ নভেম্বর দুপুরে জনাকীর্ণ আদালতে বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই দুই আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। আরেক আসামি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) রাজসাক্ষী চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে দেওয়া হয়েছে ৫ বছরের লঘুদণ্ড। রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যারা ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে নিহত হয়েছেন, তাদের কনসিডারেবল অ্যামাউন্ট (উল্লেখযোগ্য পরিমাণ) আন্দোলনকারীদের ক্ষতিপূরণ দিতে সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া আহত আন্দোলনকারীদের আঘাতের মাত্রা ও ক্ষতি বিবেচনায় পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে রায়ে।
ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। তারা চৌধুরী মামুনের সাজা কম হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল পলাতক থাকায় রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিলের সুযোগ পাচ্ছেন না। আপিল করতে হলে তাদের ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করতে হবে। শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবীও বলেছেন, আইনে না থাকায় তার আসামির আপিলের সুযোগ নেই।
জুলাই আন্দোলনে ১৪০০ ছাত্র-জনতাকে হত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে করা কোনো মামলায় এটিই প্রথম রায়। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
জনগণকে জিম্মি করে স্বৈরাচারী কায়দায় সাড়ে ১৫ বছর দেশে শাসনের নামে পরিবারতন্ত্র কায়েক করেছিলেন শেখ হাসিনা। তার আশপাশে গড়ে তোলেন চাটুকার বাহিনী। তাদের সবার স্বার্থরক্ষা করতে গিয়ে শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন জনগণের প্রতিপক্ষ। কিন্তু তার গুম-খুন বাহিনীর ভয়ে কেউ তার অপশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পরত না। ২০২৪ সালের আমি আর ডামি নির্বচনের মধ্য দিয়ে একদলীয় শাসনের চূড়ান্ত নীলনকশা নতুন প্রজন্ম ও ছাত্রছাত্রীরা বুঝতে পেরে তারা শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কোটা সংস্কার আন্দোলন ইস্যুতে মাঠে নামে। শেষ পর্যন্ত টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তিনি কোনো মতে ভারতে পালিয়ে গিয়ে নিজের জীবন রক্ষা করেন। তার সঙ্গে ছোট বোন শেখ রেহানাও পালিয়ে যান। শেখ হাসিনা ভারতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন বলে রাজনৈতিক দলগুলো অভিযোগ করে আসছে। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণহত্যার রায় যত এগিয়ে আসছিল, তিনি ততই বেপরোয়া আচরণ শুরু করেন। তার নির্দেশে দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির কিছু দুষ্কৃতকারী কর্মী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার কঠোর অবস্থানে থাকায় তারা সুবিধা করতে পারেনি। এমন বাস্তবতায় সোমবার দেওয়া হলো ঐতিহাসিক সেই রায়। যার জন্য দেশবাসী ৫ আগস্টের পর থেকে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় ছিলেন।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম সাবেক সরকারপ্রধান, যার মাথার ওপর এখন ঝুলছে মৃত্যুদণ্ডের রায়। এর আগে আর কোনো সরকারপ্রধানকে এভাবে গণহত্যার জন্য মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে হয়নি কোনো আদালত থেকেই। এবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকেই শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ সাজার রায় এলো, যে আদালত তার সরকার গঠন করেছিল একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে ভিন্নমতের রাজনীতির মুখ বন্ধ করার জন্য।
যে অভিযোগে শেখ হাসিনার সাজা: প্রথম অভিযোগের অধীন তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করে রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, প্রথম ঘটনা হচ্ছে উসকানি, দ্বিতীয়টি হত্যা করার আদেশ, তৃতীয়টি হচ্ছে নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধে নিষ্ক্রিয়তা এবং দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতা, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসারে শাস্তিযোগ্য। এ তিন ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য স্বাভাবিক মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হলো।
মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় তিনটি ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ সম্বোধন করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন। একই দিন রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথন আন্দোলনকারীদের রাজাকার বলে তাদের ফাঁসি দেবে বলেন। যা উসকানি ও আদেশ দেন এবং অপরাধ সংঘটনে আসামিরা তার অধীন ব্যক্তিদের কোনো বাধা প্রদান করেননি। ফলে রংপুরে আবু সাঈদকে পুলিশ গুলি করে হত্যা করে। এই তিনটি ঘটনায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ উল্লেখ করে রায়ে বলা হয়, অনেক ঘটনা আছে। একটি হচ্ছে আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে ড্রোন, হেলিকপ্টার ও লেথাল উইপন ব্যবহারের আদেশ দিয়েছেন, যার মাধ্যমে তিনি মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটন করেছেন। শেখ হাসিনা একই ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছেন উল্লেখ করে রায়ে আরও বলা হয়, চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যা, যা সংঘটিত হয়েছে তার আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বলে বর্ণনায় এসেছে। একইভাবে অন্য একটি ঘটনায় তিনি একই অপরাধ করেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ। এ কারণে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, ‘এই তিনটি ঘটনায় তাকে (শেখ হাসিনা) একটি সাজা প্রদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেটি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ডের সাজা।’
যে অভিযোগে আসাদুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড: রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, আসাদুজ্জামান খান কামাল মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য দায়ী ঢাকার চানখাঁরপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনার জন্য। এ ঘটনার ক্ষেত্রে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে দায়ী সহযোগিতার জন্য এবং নিষ্ঠুরতা প্রতিরোধ ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার জন্য।
উভয় (চানখাঁরপুল ও আশুলিয়া) ক্ষেত্রে ছয়জন করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবব্যুনাল আইনের সংশ্লিষ্ট বিধানের অধীন আসাদুজ্জামান খান কামাল দায়ী বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে, চানখাঁরপুল ও আশুলিয়ার ঘটনার ক্ষেত্রে অপরাধ সংঘটনে সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতা। এসব ঘটনায় তাকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যে কারণে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল–-মামুনের পাঁচ বছরের কারাদণ্ড : চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ মামলার বিচারের ক্ষেত্রে তিনি অবদান রেখেছেন পরিস্থিতি সম্পর্কে তার জানা সম্পূর্ণটা ও সত্য প্রকাশের মাধ্যমে। এমনকি তিনি স্বীকার করেছেন এবং তিনি ৩৬ দিনের আন্দোলনের সব ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন। তার অবদান, স্বীকার করার সঙ্গে বস্তুগত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিবেচনায় তার সাজা প্রদানের ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে, যেখানে অপরাধের সম্পৃক্ততায় সর্বোচ্চ শাস্তি। কিন্তু তার অবদান বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদানের।
চৌধুরী মামুন জবানবন্দিতে বলেছিলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে সরাসরি ‘লেথাল উইপন’ (মারণাস্ত্র) ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ১৮ জুলাই শেখ হাসিনার ওই নির্দেশনা তিনি পেয়েছিলেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের মাধ্যমে। সোমবার রায়ের সময় শেখ হাসিনাসহ আসামিদের অপরাধের প্রমাণ হিসাবে আমলে নেওয়া ফোনালাপের রেকর্ড শোনানো হয়। জুলাই সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিবেদনও উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ প্রমাণিত হওয়ায় শেখ হাসিনার এ শাস্তি হয়েছে। এখানে রংপুরে আবু সাঈদ হত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে।
ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন শেখ হাসিনা: আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এটা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য। শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালত রায়ে বলেন, গত বছরের ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে রাজাকার বলে সম্বোধন করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটা একটি উসকানিমূলক বক্তব্য। এর পরিপ্রেক্ষিতে একই রাতে তিনি তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি মাকসুদ কামালের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনকারী ছাত্রদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের আদেশ দেন। এমনকি হত্যারও আদেশ দেন। ১৮ জুলাই ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে ফোনে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে গুলি ও ড্রোনের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার অবস্থান নির্ণয়ের নির্দেশ দেন। রায় পাঠের সময় ঘুরেফিরে আসে শেখ হাসিনার র্বিভিন্ন ধরনের অডিও-ভিডিও ফোনালাপ। আসাদুজ্জামান কামালের বাসা থেকে কোর কমিটির মিটিংয়ের মাধ্যমে হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়ন হতো। তার বিরুদ্ধে সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং আলামত ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশসংক্রান্ত দালিলিক প্রমাণ হিসাবে এগুলো সাব্যস্ত হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংকগুলোর জন্য আইএফসি’র সহায়তার ঘোষণা দিলেন অর্থমন্ত্রী
মূলধন সংকটে থাকা দেশের রুগ্ন ব্যাংকগুলোকে আর্থিক সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি) বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে সরকারি, বেসরকারি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক খাতেও সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে সংস্থাটি।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের কারসাজি রোধে পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান। আইএমএফ-এর বসন্ত সভার তৃতীয় দিন শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসি থেকে আরও জানাচ্ছেন মুহিব্বুল্লাহ মুহিব।
বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ-এর বসন্ত সভার তৃতীয় দিন বাংলাদেশের জন্য বড় সুখবর নিয়ে আসে সরকারের প্রতিনিধি দল। এ দিন ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি), বিশ্বব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জেপি মরগানসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দল।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রভাব বাংলাদেশের ওপর কমাতে অর্থনৈতিক বিষয়ে বিভিন্ন আশ্বাস পেয়েছে বাংলাদেশ।
মূলধন সংকটে থাকা ব্যাংক, সরকারি প্রকল্প, বেসরকারি সংস্থা ও অর্থনৈতিক খাতগুলোতে বিনিয়োগ ও সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে আইএফসি। এছাড়া প্রবাসীদের দক্ষ করে গড়ে তোলা এবং দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে বিশ্বের বিভিন্ন সংস্থার সহযোগিতা পাওয়ার বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
দিন শেষে তৃতীয় দিনের অর্জন নিয়ে কথা বলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী। তিনি জানান, আইএফসি বড় ধরনের ঋণ সহায়তা দেবে এবং ঋণনির্ভর সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নেও পাশে থাকবে।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সূচক শেয়ারবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে জেপি মরগান। পরামর্শের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সহায়তাও পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
দেশের অর্থনীতি আর গৎবাঁধা নিয়মে পরিচালিত হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতীয়
আ.লীগ আমলের হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ: আইনমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান ৷ ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান জানান, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার সম্পূর্ণ সচেতন এবং এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর পূর্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিগত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করার লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার জন্য বর্তমান সরকার ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট ‘কেন্দ্রীয় কমিটি’ গঠন করে। কেন্দ্রীয় কমিটি জেলা কমিটির কাছ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যসহ যে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়েরকৃত যে কোন ধরনের রাজনৈতিক (হত্যা মামলাসহ) মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের জন্য যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে গঠিত জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটি মামলাগুলো পর্যালোচনা করবে। পর্যালোচনায় কোনো মামলা রাজনৈতিকভাবে হয়রানিমূলক বলে প্রতীয়মান হলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এমএন
জাতীয়
আ.লীগ আমলে বিসিএস নিয়োগে দুর্নীতি-দলীয়করণ, ব্যবস্থা নেবে সরকার
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৫তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন সংসদে অধিবেশনের সভাপতিত্ব করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সকালে সংসদে লিখিত প্রশ্ন রাখেন পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছর প্রশাসনে দলীয়করণে চরম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে কতজন বিসিএস ক্যাডারকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে, কতজন বিসিএস অফিসারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে, কতজন বিসিএস অফিসারকে ওএসডি করা হয়েছে?
তিনি আরেকটি প্রশ্নে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগের সময়ে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও দলীয়করণের অভিযোগগুলো নিয়ে সরকার তদন্তপূর্বক কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে কিনা?
এ প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছর বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসর, ৩৯ জন কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে ওএসডি করেছে। তাদের সময় বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি দলীয়করণের বিষয়ে দুদকসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন ও সুপারিশ পাওয়ার পর সে বিষয়ে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
জাতিসংঘ সমর্থন আদায়ে তিন দেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী
তিন দেশ সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছেড়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান সুসংহত এবং গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন।
জানা গেছে, সফরের প্রথম পর্যায়ে ১৭ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত তুরস্কে অবস্থান করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত পঞ্চম আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে তিনি বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।
ফোরামে অংশগ্রহণের পাশাপাশি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও পাকিস্তান ও গাম্বিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী ও প্রতিনিধিদের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
মূলত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে বৈশ্বিক সমর্থন আদায়ই এই সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তুরস্ক সফর শেষে ১৯ এপ্রিল বেলজিয়াম ও পরে ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবায় যাবেন। এই সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নের পাশাপাশি জাতিসংঘের নির্বাচনে পূর্ণ সমর্থন নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
জাতীয়
মুমেক অধ্যক্ষকে ঢামেকে বদলি, যোগদানপত্র গ্রহণ না করে ১৩ দিন পর ওএসডি
মুগদা মেডিকেল কলেজের (মুমেক) সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তাফিজুর রহমানকে বদলির পরও ১৩ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) যোগদান করতে দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়ে মাতুয়াইল শিশু ও মাতৃ-স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গত ৩০ মার্চ এক আদেশে তাকে মুমেকের অধ্যক্ষ পদ থেকে সরিয়ে ঢামেকের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে পদায়ন করা হয়। তিনি ১ এপ্রিল মুমেক থেকে অব্যাহতি নিয়ে ঢামেকে যোগদানপত্র জমা দিলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ২০২৪ সালে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সে সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ ও অর্থ সহায়তার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে ১৮ জুলাই তাকে অধ্যাপক পদ থেকে পদাবনতি দিয়ে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে বদলি করা হয়। তবে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ১১ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার সেই আদেশ বাতিল করে।
চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি তিনি মুগদা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে যোগ দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় চিকিৎসকদের সর্ববৃহৎ সুপারনিউমারারি পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি, যার ধারাবাহিকতায় তাকে অধ্যক্ষ করা হয়।
অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কলেজটির দীর্ঘদিনের আর্থিক জটিলতা নিরসনে ভূমিকা রাখেন তিনি। বকেয়া বেতন পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ডোনেশনের মাধ্যমে একটি বাস সংগ্রহের সিদ্ধান্তও নেন।
তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মাত্র দুই মাস ২০ দিনের মাথায় তাকে অধ্যক্ষের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে ঢামেকে যোগদান আটকে রেখে তাকে আবারও ওএসডি করা হয়।
সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের পার-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এ সংক্রান্ত আদেশে স্বাক্ষর করেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ ও ২০১৩ সালে পদোন্ননা থেকে বঞ্চিত হন অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পেলেও একদিনের মধ্যেই সেই আদেশ বাতিল করা হয়।



