অর্থনীতি
নগদ টাকার লেনদেন কমাতে পারলে দুর্নীতি কমে আসবে: গভর্নর
নগদ টাকার লেনদেন কমাতে পারলে স্বভাবতই দুর্নীতি কমে আসবে। আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাও বাড়বে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ইন্সট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় ‘ইনক্লুসিভ ইনস্ট্যান্ট পেমেন্ট সিস্টেম’ তৈরিতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গেটস ফাউন্ডেশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে।
আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে দেশের ১৩টি মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিসসহ (এমএফএস) ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা, মাইক্রোক্রেডিট, ইন্স্যুরেন্স ও এনবিএফআইসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিজেদের মধ্যে আন্তঃলেনদেন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।
গভর্নর বলেন, আগামী ২০২৭ সালের জুলাইয়ে এ উদ্যোগ শতভাগ অপারেশনাল হবে। দেশের পূর্ণ জনগোষ্ঠীকে এই সিস্টেমের আওতায় আনা গেলে অর্থনৈতিক লেনদেনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে, কর আদায় বাড়বে এবং দুর্নীতি কমবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৭ সালের মধ্যে সব মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস, মাইক্রোক্রেডিট প্রতিষ্ঠান ও ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমকে এমনভাবে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে আন্তঃলেনদেন সম্পূর্ণরূপে সহজ ও তাৎক্ষণিক হয়।
অর্থনীতি
দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দামে সোনা
বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে সোনার দম। এবার ভরিতে ৪ হাজার ১৯৯ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩২ হাজার ৫৫ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) থেকেই নতুন এ দাম কার্যকর হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনীতি
৪৩ পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে প্রণোদনার মেয়াদ বাড়লো
সরকার ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাতে রপ্তানির বিপরীতে দেওয়া নগদ সহায়তা বা প্রণোদনার মেয়াদ আরও ছয় মাস, অর্থাৎ চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়িয়েছে। ফলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পুরো সময়েই রপ্তানিকারকরা এই সুবিধা পাবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এর আগে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসের জন্য প্রণোদনা কার্যকর ছিল। তবে রপ্তানি পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এর মেয়াদ ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হলো।
গত অর্থবছরের মতোই এবারও প্রণোদনার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খাতভেদে রপ্তানিকারকরা সর্বনিম্ন ০ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ সহায়তা পাবেন। মোট ৪৩টি পণ্য ও সেবা খাত এই প্রণোদনার আওতায় রয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, নগদ সহায়তা গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে নিযুক্ত বহিঃনিরীক্ষক বা অডিট ফার্মের মাধ্যমে রপ্তানি সংক্রান্ত হিসাব নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
এছাড়া প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রপ্তানিমুখী দেশীয় বস্ত্র খাতে শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ইউরো অঞ্চলে রপ্তানিকারকদের জন্য বিদ্যমান সহায়তার সঙ্গে অতিরিক্ত ০ দশমিক ৫০ শতাংশ বিশেষ প্রণোদনাও বহাল থাকবে।
প্রজ্ঞাপন দেখতে ক্লিক করুন।
অর্থনীতি
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএ সই ৬ ফেব্রুয়ারি
জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে এই চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত থাকবেন।
ভুটানের সঙ্গে অগ্রাধিকার বাণিজ্যচুক্তি (পিটিএ) ছাড়া এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের আর কোনো দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নেই। জাপানের সঙ্গে ইপিএ সইয়ের মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। সরকারের আশা, এতে শুধু পণ্য বাণিজ্য নয়, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারনির্ভরতা কিছুটা কমে জাপান বাংলাদেশের একটি বড় বাজারে পরিণত হতে পারে। তবে চুক্তি বাস্তবায়নে কিছু ঝুঁকিও থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশ-জাপান ইপিএর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। তখন দর-কষাকষির ভিত্তি তৈরিতে একটি যৌথ গবেষণা দল গঠন করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ১৭টি খাত চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে আলোচনা এগোনোর সুপারিশ করা হয়।
এর আগে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি সইয়ের দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিকভাবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অন্যদিকে জাপানের ১০৩৯টি পণ্য বাংলাদেশের বাজারে একই সুবিধা পাবে। ইপিএর মাধ্যমে বাংলাদেশের ৯৭টি উপখাত জাপানের জন্য উন্মুক্ত হবে। অন্যদিকে, জাপানের ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত হবে বাংলাদেশের জন্য। পণ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ এবং সহযোগিতাও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অর্থনীতি
বিএফআইইউর প্রধান হলেন ইখতিয়ার উদ্দিন মামুন
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কমিশনার ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ বিধিমালা, ২০১৯-এর বিধান অনুযায়ী ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ মামুনকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদমর্যাদায় সার্বক্ষণিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর মেয়াদে বিএফআইইউ-এর প্রধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি অন্য কোনও প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। এ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি অনুমোদিত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
অর্থনীতি
এলপিজি আমদানিতে ঋণ সুবিধা পাবেন ব্যবসায়ীরা
দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি প্রক্রিয়া সহজ করতে বড় ধরনের নীতি সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এলপিজি আমদানিতে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালর ম্যাটেরিয়াল’ বা শিল্প কাঁচামালের সুবিধা পাবেন আমদানিকারকরা। এর ফলে তারা ‘সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট’ বা ‘বায়ার্স ক্রেডিট’র আওতায় সর্বোচ্চ ২৭০ দিন মেয়াদে বাকিতে এলপিজি আমদানি করতে পারবেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে সব ব্যাংকে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, এলপিজি মূলত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে সিলিন্ডারজাত করা হয়। এই প্রক্রিয়াকরণের ধাপগুলো বিবেচনায় নিয়ে এলপিজিকে শিল্প কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
এর আগে গত ২৯ ডিসেম্বর জারি করা এক সার্কুলারে শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ২৭০ দিনের ইউজান্স পিরিয়ড (বাকিতে মূল্য পরিশোধের সময়) সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এলপিজি আমদানিকারকরাও একই সুবিধা ভোগ করবেন।
এছাড়া আমদানিকারকরা বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ‘বায়ার্স ক্রেডিট’ নিতে পারবেন। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যাংকের অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) থেকে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধা গ্রহণের সুযোগও থাকবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এলপিজি আমদানির পর তা সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ এবং বাজারজাত করতে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় লাগে। আমদানিকারকদের নগদ অর্থপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং জ্বালানি খাতের এই গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের আমদানিতে গতি আনতেই ঋণের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই সুবিধার ফলে এলপিজি আমদানিতে ডলারের তাৎক্ষণিক চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে মূল্য পরিশোধের সুযোগ পাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও কমবে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের এলপিজি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সরকারি নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, অনেক ক্ষেত্রে বেশি দাম দিয়েও সরবরাহ মিলছে না। এতে ভোক্তা পর্যায়ে সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে এলপিজি আমদানি সহজ করতে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সুপারিশ করে। সেই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সার্কুলার জারি করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ সুবিধা নিশ্চিত হলে এলপিজির সরবরাহ বাড়বে এবং বাজার স্থিতিশীল হতে সহায়ক হবে।




