জাতীয়
শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের কপি পাঠানো হবে ২ মন্ত্রণালয়ে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রায়ের কপি পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের কাছে কেন্দ্রীয় কারাগারেও রায়ের কপি পাঠানোর কথা রয়েছে।
এর আগে, সোমবার (১৭ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে ফাঁসির আদেশ এবং দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়ে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়া আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেন বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১
রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির অপরাধ প্রমাণিত। দুটি অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একটি অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাপ্রুভার (রাজসাক্ষী) হওয়ায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথম মামলা হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনও আসামি। তাদের মধ্যে মামুন দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো।
এ মামলায় ৮৪ সাক্ষীর মধ্যে সাক্ষ্য দিয়েছেন ৫৪ জন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় চলতি বছরের ৩ আগস্ট। প্রথম সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-আগস্টের বীভৎসতার চিত্র তুলে ধরেন খোকন চন্দ্র বর্মণ। গত ৮ অক্টোবর মূল তদন্ত কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরার মাধ্যমে শেষ হয় সাক্ষ্যগ্রহণের ধাপ।
এরপর গত ২৩ অক্টোবর প্রসিকিউশন ও স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণের জন্য ১৩ নভেম্বর দিন রাখা হয়। এদিন রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর দিন ঠিক করা হয়।
জাতীয়
ভোটে ভুয়া তথ্য রোধে বাংলাদেশকে সহায়তা করবে জাতিসংঘ
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া ব্যাপক ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের সহায়তা চেয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে এ সহায়তা চান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
টেলিফোনে আলাপকাল অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া তথ্যের এক প্রকার বন্যা বইছে। এটি বিদেশি গণমাধ্যম ও স্থানীয় উৎস- উভয় দিক থেকেই আসছে।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর, গুজব ও নানান ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর কী হতে পারে, তা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এবং এ ক্রমবর্ধমান বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ভুল তথ্যের পরিমাণ অনেক বেশি। এখন যা যা প্রয়োজন, আমরা তা করবো। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
টেলিফোন আলাপে দুই নেতা আসন্ন গণভোট, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের গুরুত্ব, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের কাজ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠন এবং বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন।
ভলকার টুর্ক জোর দিয়ে বলেন, গুম সংক্রান্ত বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে একটি বাস্তব অর্থে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশ এরই মধ্যে জারি করা হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। আমরা দায়িত্ব ছাড়ার আগেই এটি সম্পন্ন করবো।
ড. ইউনূস জানান, তিনি গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি এটিকে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের শিকার ভুক্তভোগীদের জন্য জবাবদিহি ও বিচার নিশ্চিতের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্যোগ ও ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, তার দপ্তর গুম তদন্ত কমিশনের কাজে সহায়তা করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
টেলিফোনে আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি সমন্বয়কারী ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয়
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে: বার্নিকাট
যুক্তরাষ্ট্রের শতবর্ষী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেন ওয়াশিংটনের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও নীতি নির্ধারকরা। তার প্রয়াণে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা জানাতে আয়োজিত সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সংগ্রাম, আত্মত্যাগ এবং বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ন্যাশনাল প্রেসক্লাবের সদস্য ও মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর আয়োজনে এই স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত ১১৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে মার্ক শেফ, এপি’র সাবেক সম্পাদক ম্যারন বিলকাইন্ড, বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা ও রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট, স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো স্টিভ রোজ, ভয়েস আমেরিকা বাংলা বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ইকবাল বাহার চৌধুরী, বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মুর্তজা ও আমেরিকান ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের অধ্যাপক এহতেশামুল হক।
স্বাগত বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আমরা শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করছি তা নয়, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রিক সংগ্রামের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রটেক্টর এবং অর্থনৈতিক প্রগতির নির্মাতা। যখন দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসপ্রাপ্ত এবং বিরোধী মতের কণ্ঠ রুদ্ধ, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। বিশ্বে নজির সৃষ্টিকারী এক অনন্য নেতা।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সাহসের উৎস ছিল ইতিহাস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংস অভিযানের সময় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অস্ত্রাগার থেকে অস্ত্র সরানোর উদ্যোগে তিনি বাধা দেন।
স্বামী মেজর জিয়াউর রহমানের অনুমতি ছাড়া অস্ত্র সরানো যাবে না, এই দৃঢ় অবস্থানের মধ্য দিয়েই তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিরোধের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, যা ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।
বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য অন্যায়ভাবে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মুশফিক বলেন, এই হয়রানিমূলক মামলার বিরুদ্ধে দেশ-বিদেশে প্রতিবাদ হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের বার্ষিক মানবাধিকার রিপোর্টে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজিনা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অন্যকে সম্মান দিয়ে নিজেও সম্মানিত হতেন।
অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি অন্যদের খোঁজখবর নিতেন। গণতন্ত্র ও বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে খালেদা জিয়ার নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সবসময় আমার প্রতি আন্তরিক ছিলেন এবং যখনই চেয়েছি তার সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি। তিনি আরও বলেন, আপনি (মুশফিক) এখানে বাংলাদেশের ইতিহাসের কিংবদন্তি খালেদা জিয়াকে স্মরণ করার জন্য সবাইকে একত্রিত করায় আপনাকে ধন্যবাদ জানচ্ছি। বাংলাদেশের জন্য অসামান্য অবদান রেখেছেন খালেদা জিয়া।
তাকে আমার ভালো করে জানার সুযোগ হয়েছে। আমার দায়িত্ব পালনকালে বিরোধীদলে ছিলেন খালেদা জিয়া। সবাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে সহজে যোগাযোগ করতে পারতো। তিনি সবার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি সহজ করে রেখেছিলেন। আমি তার সঙ্গে যখনি দেখা করতে গিয়েছি তিনি সময় দিয়েছেন।
রাষ্ট্রদূত মজিনা বলেন, অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে তিনি সংগ্রাম করে গেছেন। অন্যরা যখন কষ্টে হাল ছড়ে দিয়েছে তিনি কখনো তা করেনি। কখনো প্রশ্ন করেননি- কেন আমাকে এ ধরনের নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে? তিনি ছিলেন উন্মুক্ত এবং উদার হৃদয়ের মানুষ। তিনি ছিলেন খুবি আন্তরিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী মানুষ।
রাষ্ট্রদূত হিসেবে আমার কিছু সীমাবদ্ধতা এবং নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখেই আমি খালেদা জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তিনি একজন মহৎ মানুষ। তার সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ যে সম্মানের সঙ্গে খালেদা জিয়াকে চিরবিদায় জানিয়েছেন, তাতে তিনি অভিভূত।
আরেক সাবেক রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেন, বহু নির্যাতন সহ্য করেও বেগম খালেদা জিয়া কখনো অভিযোগ করেননি। সকালের নাস্তা কিংবা রমজানের ইফতার সব আয়োজনে তার অতিথিপরায়ণতা ও হৃদ্যতা মুগ্ধ করতো সবাইকে।
মার্শা বার্নিকাট বলেন, খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার অনেকবার দেখা হয়েছে। খুব বিপদ এবং সংকটের মধ্যেও তিনি ছিলেন হাস্যেজ্জ্বল এবং আন্তরিক। খালেদা জিয়া ছিলেন খুবই অমায়িক প্রকৃতির মানুষ। তিনি বাংলাদেশের জনগণের কল্যাণে কাজ করেছেন। একজন নারী হিসাবে বাংলাদেশকে খালেদা জিয়া যেভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন তা উপমহাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন তার লিগ্যাসি স্মরণে রাখবে মানুষ।
ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি মার্ক শেফ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক চ্যাম্পিয়নের স্মরণসভা আয়োজন করতে পেরে তারা গর্বিত। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত।
সাংবাদিক ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, ১৯৮১ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে তিনি রাজনীতির হাল ধরতে বাধ্য হন। সমর্থকদের চাপে বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণ করে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ সময় রাজনীতির কেন্দ্রে অবস্থান করেন।
এহতেশামুল হক বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় দুই সন্তানসহ আটক হওয়া, স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত, পরবর্তী সময়ে সন্তানদের নিয়ে সীমাহীন অনিশ্চয়তা সবকিছু ছাপিয়ে তিনি গণতন্ত্রের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্যেও তাকে দমিয়ে রাখা যায়নি।
ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তজা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে জিয়া পরিবার সবচেয়ে জনপ্রিয় অবস্থানে পৌঁছেছে। গণতন্ত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের অবদান অনস্বীকার্য।
ম্যারন বিলকাইন্ড বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের শিক্ষা দেয়- গণতন্ত্র কোনো উপহার নয়, এটি রক্ষার জন্য প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত থাকতে হয়। যারা ক্ষমতায় থাকেন তারাই ইতিহাস গড়েন না, বরং যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য ও সাহস নিয়ে লড়াই করেন, তারাই ইতিহাসের নায়ক হয়ে থাকেন।
আলোচনার আগে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও রাজনৈতিক সংগ্রাম নিয়ে নির্মিত একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত অতিথিদের আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ওয়াশিংটনের এই স্মরণসভা ছিল গণতন্ত্রের এই মহান নেত্রীর প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা ও সম্মানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা প্রমাণ করে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নাম বিশ্বমঞ্চে আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক ও শ্রদ্ধার।
জাতীয়
নতুন সূচকে ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখন ৯৫তম, আগের সূচকে যা ছিল ১০০তম। সেই হিসাবে, নতুন তালিকায় পাঁচ ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু, এই তালিকা অনুযায়ী ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার বা আগাম ভিসা ছাড়া এখন কতটি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা?
হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স-এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পাসপোর্ট র্যাংকিয়ের তালিকায় দেখা গেছে, দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৫তম। প্রতিবেদন অনুসারে, নতুন তালিকায় বাংলাদেশের পাসপোর্টধারী ব্যক্তিরা আগাম ভিসা ছাড়া এখন বিশ্বের ৩৭টি দেশ ভ্রমণ করতে পারবেন।
চলতি বছর সূচকের শীর্ষ তিনটি পাসপোর্টই এশিয়ার দেশগুলোর। এর মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে সিঙ্গাপুর। আর যৌথভাবে দুই নম্বরে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। সূচক অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরের নাগরিকরা বিশ্বের ২২৭টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে ১৯২টিতে ভিসা ছাড়াই প্রবেশ করতে পারেন। আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরা ভিসামুক্তভাবে ১৮৮টি গন্তব্যে যেতে পারেন।
হেনলি সূচকে একই স্কোর পাওয়া একাধিক দেশকে একই অবস্থানে রাখা হয়। সেই অনুযায়ী, পাঁচটি ইউরোপীয় দেশ যৌথভাবে তিন নম্বরে রয়েছে। দেশগুলো হলো- ডেনমার্ক, লুক্সেমবার্গ, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। এসব দেশের নাগরিকরা ১৮৬টি দেশ ও অঞ্চলে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার পান।
চতুর্থ স্থানেও পুরোপুরি ইউরোপীয় দেশগুলোর আধিপত্য। ১৮৫ স্কোর নিয়ে এই অবস্থানে রয়েছে অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে। পঞ্চম স্থানে রয়েছে হাঙ্গেরি, পর্তুগাল, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশগুলোর স্কোর ১৮৪।
ভিসা ছাড়াই যেসব দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা
আগাম ভিসা ছাড়া এবার বাংলাদেশিদের ভ্রমণের তালিকায় আছে বাহামা, বার্বাডোজ, ভুটান, বলিভিয়া, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, বুরুন্ডি, কম্বোডিয়া, কম্বোডিয়া, কেপ ভার্দ আইল্যান্ডস, কোমোরো আইল্যান্ডস, কুক আইল্যান্ডস, জিবুতি, ডমিনিকা, ফিজি, গ্রেনাডা, গিনি-বিসাউ, হাইতি, জ্যামাইকা, কেনিয়া, কিরিবাতি, মাদাগাস্কার ও মালদ্বীপ।
এছাড়াও আছে মাইক্রোনেশিয়া, মন্তসেররাত, মোজাম্বিক, নেপাল, নুউয়ে, রুয়ান্ডা, সামোয়া, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, শ্রীলঙ্কা, সেইন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, গাম্বিয়া, তিমুর, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, টুভ্যালু এবং ভানুয়াতু।
এর মধ্যে কিছু দেশ ও অঞ্চলে অন-অ্যারাইভাল বা বিমানবন্দরে নামার পর ভিসার সুবিধা এবং কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে নিতে হবে ই-ভিসা।
জাতীয়
চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগ পেলেন ৯ জুলাইযোদ্ধা
চট্টগ্রাম বন্দরে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নয় জন জুলাইযোদ্ধাকে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়। এরপর বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসারের এক দফতর আদেশে তাদের পদায়ন করা হয়।
সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরের প্রধান ব্যক্তিগত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের সই করা এক বিভাগীয় অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে আট জনকে প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী এবং একজনকে প্রশিক্ষণ সেবা সহকারী পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আদেশে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে প্রশাসন, হাইড্রোগ্রাফি, মেরিন, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, ইলেকট্রিক্যাল, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ও পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিভাগে প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী ও সহকারী পদে নয় জন গেজেটভুক্ত জুলাইযোদ্ধার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন– আর বি মোহাম্মদ আল মিরাজ, মোহাম্মদ সাকিল, মো. মেহরাজ হোসেন, মাহবুবুল আলম, মো. শেফাতুল কাদের, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ তারেক, মো. আমির হোসেন ও মো. ইব্রাহিম।
দফতর আদেশে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো মাসিক ভিত্তিতে নিয়োগপ্রাপ্তদের হাজিরা শিট প্রশাসন বিভাগে পাঠাবে। হাজিরা শিটের ভিত্তিতে প্রশাসন বিভাগ সেবামূল্যের বিল প্রস্তুত করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে পাঠাবে। অর্থ ও হিসাব বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে মাসিক সেবামূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা নেবে। এ ছাড়া চুক্তিবদ্ধ প্রশিক্ষণ সেবা সহযোগী ও সহকারীদের আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের ব্যাংক হিসাব সংক্রান্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নয় জন জুলাইযোদ্ধাকে অস্থায়ী ভিত্তিতে এক বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী তারা থোক টাকা পাবেন।’
জাতীয়
বাংলাদেশের সঙ্গে যোগাযোগের সব পথ খোলা আছে: ভারতের সেনাপ্রধান
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন, ভারত ও বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল খোলা রয়েছে।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ক্ষমতায় কী ধরনের সরকার রয়েছে, তা আমাদের জন্য বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। যদি এটি একটি অন্তর্বর্তী সরকার হয়, তাহলে দেখতে হবে তারা যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, সেগুলো আগামী ৪-৫ বছরের জন্য নাকি কেবল আগামী ৪-৫ মাসের জন্য। আমাদের বিবেচনা করতে হবে এখনই আমাদের কোনো তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজন আছে কি না।
আজ মঙ্গলবার নয়া দিল্লিতে সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেন, এই মুহূর্তে তিন বাহিনীই তাদের যোগাযোগের সব চ্যানেল পুরোপুরি খোলা রেখেছে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাধিক যোগাযোগের চ্যানেল সক্রিয় রয়েছে এবং আমি সেখানে তাদের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি।
তিনি বলেন, অন্যান্য চ্যানেলের মাধ্যমেও আমরা যোগাযোগ বজায় রাখছি। আমরা সেখানে একটি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছিলাম, যারা মাঠপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। একইভাবে নৌবাহিনীর প্রধান এবং বিমানবাহিনীর প্রধানও কথা বলেছেন।
জেনারেল দ্বিবেদী বলেন, ‘এর উদ্দেশ্য হলো, কোনো ধরনের যোগাযোগের বিভ্রাট বা ভুল-বোঝাবুঝি যেন না হয়। আমি আশ্বস্ত করতে চাই যে এই মুহূর্তে তিন বাহিনীর পক্ষ থেকে যে পদক্ষেপগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কোনোটিই কোনোভাবেই ভারতের বিরুদ্ধে নির্দেশিত নয়।
তিনি আরো বলেন, ‘সক্ষমতা উন্নয়নের বিষয়টি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ভারতও তা করছে, অন্যান্য দেশও করছে। আর আমাদের প্রস্তুতির দিক থেকে বলতে গেলে, আমরা সেখানে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’




