সারাদেশ
সখিপুরে সাজেদা-জাব্বার হাসপাতালের উদ্বোধন
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শরীয়তপুর জেলার সখিপুর বাজারে আধুনিক চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র সাজেদা-জাব্বার হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় আনুষ্ঠানিক এ হাসপাতালের উদ্বোধন করা হয়।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক শাহজাহান মুন্সির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সখিপুরে আধুনিক চিকিৎসা সেবার এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শান্তির প্রতীক কবুতর ও বেলুন উড়িয়ে এবং ফিতা কেটে হাসপাতালের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। এসময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও অসংখ্য স্থানীয় মানুষ।
হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা প্রিয় শাহজাহান মুন্সি বলেন, সখিপুর ও আশপাশের মানুষ যেন উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন, সেই লক্ষ্যেই সাজেদা-জাব্বার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখানে মানবতার সেবাই হবে মুখ্য বিষয়। আমি চাই- এই হাসপাতাল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক এবং সখিপুর থেকেই একদিন নার্সিং হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হোক।
তিনি আরও বলেন, ২৫ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সকল রোগীর জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হবে।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মো. শফিকুর রহমান কিরন। তিনি বলেন, শাহজাহান মুন্সি ভাইয়ের এই উদ্যোগ সখিপুরের মানুষের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই হাসপাতাল শুধু চিকিৎসা নয়, মানবতার সেবায়ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
অধ্যাপক ড. মাহমুদ হোসেন বকাউল বলেন, সাজেদা-জাব্বার হাসপাতাল মানসম্মত চিকিৎসার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এখানকার সাধারণ মানুষ এখন স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা সেবা পাবেন।
সাবেক এডিশনাল আইজিপি মো. মনির হোসেন বকাউল বলেন, প্রিয় শাহজাহান মুন্সি ভাইয়ের এই মহৎ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর জন্য আন্তরিক দোয়া ও শুভ কামনা রইল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি বাচ্চু সরকার, সখিপুর বিএনপির সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলাম সরদার, থানা যুবদলের সভাপতি মাসুম বালা, যুবনেতা সারোয়ার আহমেদ দিপু, সখিপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মানিক সরদার, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদার, সাবেক ছাত্রদল সভাপতি তোফায়েল আহমেদ সরদার, স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক ফাইজুল ইসলাম সরদার, ছাত্রদলের সভাপতি নিহাদ মাহমুদ সরদারসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাজেদা-জাব্বার হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মুন্সি, পরিচালক জায়ান মুন্সি, সায়ান মুন্সি, মো. আজাদ মুন্সি, মো. খোকন মুন্সি, মানিক মুন্সি ও নাসির উদ্দিন।
উদ্বোধন শেষে অতিথিবৃন্দ হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন এবং এর আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও সেবার মান দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
কাফি
সারাদেশ
শরীয়তপুরের চরভাগায় জিওব্যাগ চুরি: ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেন এমপি কিরণ
শরীয়তপুরের চরভাগা এলাকায় পদ্মা নদীর ডান তীর রক্ষা বাঁধের ‘সোনার বাংলা এভিনিউ’ অংশ থেকে জিওব্যাগ চুরির ঘটনায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শরীয়তপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ। আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে চুরি হওয়া জিওব্যাগ ফিরিয়ে দেওয়ার আল্টিমেটাম দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে ব্যাগ ফেরত না দিলে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) শরীয়তপুরের সখিপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন, পদ্মা নদীর ভয়াবহ ভাঙন থেকে চরভাগাসহ আশপাশের জনপদ রক্ষায় সরকার ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণে বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। বাঁধের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে স্থাপন করা হয় জিওব্যাগ, যা নদীর তীব্র স্রোতের চাপ কমিয়ে বাঁধকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি রাতের আঁধারে এসব জিওব্যাগ চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে, যা বাঁধের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
তিনি আরও বলেন, যারা জিওব্যাগ চুরির সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত এসব অপকর্ম বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজন হলে অভিযান চালিয়ে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সংসদ সদস্য আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দলের কেউ যদি কোনো অপকর্মে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দল থেকেও বহিষ্কার করা হবে।
সখিপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক এস এম হামিদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মাজহারুল ইসলামের সঞ্চালনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান বাচ্চু সরকার। নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি শামসুল আলম দাদন, সখিপুর থানা যুবদলের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ মাসুম বালা, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান রাজীব সরদার এবং নড়িয়া ও সখিপুর উপজেলার বিএনপি ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এছাড়া বিভিন্ন ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ৫৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫ দশমিক ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ স্থায়ী ডান তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করে, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে চরভাগাসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা পদ্মা নদীর ভাঙন থেকে সুরক্ষা পাবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এমএন
সারাদেশ
সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবীদের সহযোগিতা চাই: মতিউর রহমান আকন্দ
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং বিচারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। তিনি বলেন, অসহায় ও বিচারবঞ্চিত মানুষকে আইনি সহায়তা দিতে আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ল ইয়ার্স কাউন্সিল বগুড়া ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, “আমরা সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে চাই। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিচারবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। এ কাজে আইনজীবীদের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনজীবীদের পবিত্র কোরআনের আলোকে জীবন পরিচালনার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সংগঠনের বগুড়া ইউনিটের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম আকন্দের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন।
এছাড়া বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া শহরের আমির ও বগুড়া সদর আসনের উপনির্বাচনে এমপি প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি গোলাম রব্বানী, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুলহক সরকার, শহর সেক্রেটারি আব্দুল মালেক এবং জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল হাকিম।
ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় বগুড়ার বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন।
এমএন
সারাদেশ
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে কৃষি উৎপাদন বাড়ানো হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে সিলেট সদর উপজেলায় ‘জাঙ্গাইল সুরমা নদী হতে বলাউরা জিলকার হাওড় পর্যন্ত বংশীখাল খনন’ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক কৃষিজমি শুকনো মৌসুমে সেচের পানির অভাবে অতিরিক্ত ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়। এই সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে জাঙ্গাইল থেকে বলাউরা পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বংশীখাল খনন করা হবে।
তিনি জানান, খালটি খনন সম্পন্ন হলে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এর ফলে কৃষকরা অতিরিক্ত ফসল উৎপাদনের সুযোগ পাবেন, তাদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নবনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২১ দিনের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় জনগণের সামনে যে উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। এর মাধ্যমে সিলেটসহ সারা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাবে সরকার।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী বংশীখাল খনন কাজের উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সরওয়ার আলম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়াত এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল কাশেমসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
এমএন
সারাদেশ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২ জন
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর (ছিন্নমূল/আলীনগর) এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ অস্ত্র মজুদ ও পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের প্রেক্ষিতে যৌথবাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (৯ মার্চ) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিভাগীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালিত হয়। এই অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), এপিবিএন ও আরআরএফসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ৩ হাজার ১৮৩ সদস্য অংশ নেন। পাশাপাশি সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনায় তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি, র্যাব ও সিএমপির তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় একযোগে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেন যৌথবাহিনীর সদস্যরা।
অভিযানটি চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এর নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। এ সময় র্যাব-৭ এর সিও লে. কর্ণেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খাঁন সরেজমিনে উপস্থিত থেকে সার্বিক অভিযান তদারকি ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় যৌথ বাহিনী কর্তৃক তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।
অভিযানে আরও উদ্ধার করা হয় ১৯টি সিসি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলার। এসব সরঞ্জাম অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথবাহিনী জানায়, আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে অবস্থিত সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানাসহ অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছে। পাশাপাশি আলীনগরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ ও পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।
অভিযান চলাকালে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি এবং সার্বিক পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেফতাকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন সদস্য এবং আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পে আরআরএফ, এপিবিএন ও র্যাব-৭ এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এছাড়া জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত চেকপোস্ট ও পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানের ফলে স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন এবং যৌথবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, অপরাধীদের নেটওয়ার্ক দুর্বল করা এবং দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও জানান, সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাস দমন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
এমএন
সারাদেশ
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ মওকুফের ঘোষণা: অর্থমন্ত্রী
কৃষকদের ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মওকুফ করার ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, কৃষকদের দুর্দশা লাঘব এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে চট্টগ্রাম নগরের এয়ারপোর্ট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পেয়েছে এবং সেই দায়িত্ব থেকেই মানুষের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক কর্তব্য।
কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষকদের কথা চিন্তা করে আমরা প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার কৃষিঋণ মাফ করেছি। কারণ আমরা জানি, অনেক কৃষকের কাছে সেই ঋণ পরিশোধ করার মতো সামর্থ্য ছিল না। তাদের হতাশা দূর করতে এবং নতুন করে কৃষিকাজে উৎসাহ দিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক। একটি পরিবারকে শক্তিশালী করা গেলে সমাজ শক্তিশালী হয়, আর সমাজ শক্তিশালী হলে দেশ এগিয়ে যায়। সে চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোটি কোটি পরিবারকে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে তাদের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির লক্ষ্য।
নারীদের অবদান প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা চাই নারীরা নিজেদের মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে সামনে এগিয়ে আসুক। একজন নারী প্রতিদিন পরিবারের জন্য যে ত্যাগ স্বীকার করেন, পরিবারের সব কাজ শেষ করে পরিবারে সেবা দেন— সে অবদানকে কখনো অবহেলা করা যায় না। তারেক রহমান সবসময় বলেছেন, মানুষের মর্যাদা বাড়াতে হবে, নারীর সম্মান বাড়াতে হবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সেই চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এখানে কোনো দলীয় বিভাজন নেই। ধর্ম-বর্ণ বা রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সবাই এই সুবিধা পাবে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারের জন্য ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে এবং প্রতিটি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। একটি পরিবারে ২৫০০ টাকা হয়তো কারও কাছে ছোট মনে হতে পারে, কিন্তু অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সহায়তা। এই অর্থ দিয়ে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বহু অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধন তার কাছে বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে, কারণ এটি সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সাধারণ মানুষের জন্য একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। আমরা ইতোমধ্যে টিসিবির কিছু কার্ড বিতরণ করেছি এবং সেখানে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত ডিসকাউন্টে পণ্য দেওয়া হয়েছে। একটি ফ্যামিলি কার্ডে যে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে— অনেক পরিবারের জন্য এটি বড় সম্পদ। এটি তাদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।
এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, বিএনপি কখনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। এই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি উদাহরণ। অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাত্র এক মাসেরও কম সময়ে খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ শুরু হয়েছে। এগুলো মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, দেশের রাজনীতিতে অনেক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সব সময় তা বাস্তবায়ন হয় না। তবে তারেক রহমান যেসব প্রতিশ্রুতি দেন, সেগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। এটাই নতুন বাংলাদেশের রাজনীতি, যেখানে কথা দেওয়া হলে তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হয়।
চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, বিএনপি কখনো মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেয় না। আমরা যা বলি, তা করার চেষ্টা করি। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ এবং চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। তারা বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সরাসরি উপকৃত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বিপিএম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী এবং বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় এ অনুষ্ঠানে। জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রামের আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় প্রধান অতিথি প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপকারভোগীর হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। এই কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণ আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাবে।
এমএন




