জাতীয়
জুলাই সনদ বানচাল হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে: অ্যাটর্নি জেনারেল
জুলাই সনদ বানচাল হলে দেশ পিছিয়ে পড়বে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (১৮ অক্টোবর) এফডিসিতে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে গণতন্ত্র সুরক্ষিত হবে’ শীর্ষক ছায়া সংসদে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই সনদকে একটি রাজনৈতিক বন্দোবস্ত উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, এটি অতীতের যেকোনো বন্দোবস্তের চেয়ে স্বচ্ছ, সুগঠিত ও সুনির্দিষ্ট। এই সনদ আইনের পাতায় স্মরণীয় একটি ইতিহাস হিসেবে রয়ে যাবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে যদি ব্যর্থ হই তাহলে আমরা আগামী প্রজন্মের কাছে ভীরু কাপুরুষের উপমা হয়ে থাকবো।
তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জ থাকলেও তা উত্তরণ সম্ভব। জুলাই সনদ নিয়ে তর্ক করা হলে তা হবে অনাহত বিতর্ক। এটা কোরআন বা বাইবেল নয় যে পরিবর্তন করা সম্ভব হবে না। ৩৬ জুলাইয়ের পরাজিত শক্তির ন্যারেটিভ গ্রহণ করে, আমরা যদি জুলাই সনদ বানচাল করতে চাই, তবে দেশ পিছিয়ে পড়বে। বাহাত্তরের সংবিধানকে অনেক কাটাছেঁড়ার মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকার আইনের শাসন ব্যাহত করে মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে জনগণ তাদের ভোটের অধিকার ফিরে পাবে। জুলাই হত্যার বিচারও স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়তে এগিয়ে যাবে। এই বিচারকার্য কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত হবে না। বিগত ফ্যাসিস্টদের গুম-খুনের বিচারের সব প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে, যুক্তি-তর্ক চলছে, এখন রায়ের অপেক্ষা। জুলাই চেতনার অঙ্গীকারই এই বিচারের মূল ভিত্তি।
ছায়া সংসদের ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, জুলাই সনদ জাতির এক ঐতিহাসিক দলিল, যার বাস্তবায়নের ওপরই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। এই সনদ ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে, দেশে অস্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটবে, আর গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।
তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ জনগণের ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার প্রতিফলন। এর বাস্তবায়নের মাধ্যমে স্বৈরাচারী কাঠামোর বিলোপ ঘটবে এবং ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের পথ সুস্পষ্ট হবে। তবে কেবল নির্বাচন নয়, সুশাসন ও জবাবদিহিতার মাধ্যমেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। যে দল এই সনদ বাস্তবায়নে ব্যর্থ হবে, জনগণ ভবিষ্যতে তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।
জাতীয়
পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে, তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।
সমাপনী কুচকাওয়াজের উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বিপিএম।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএস এর ০১ জন, ৩৫তম বিসিএস এর ০৩ জন, ৩৬তম বিসিএস এর ০১ জন, ৩৭তম বিসিএস এর ০২ জন এবং ৪০তম বিসিএস এর ০২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে উক্ত সহকারী পুলিশ সুপারগণ বিভিন্ন জেলায় ০৬ (ছয়) মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য পদায়িত হবেন।
এমকে
জাতীয়
বাংলাদেশিদের কল্যাণে ডিজিটাল উদ্যোগ নিল মালদ্বীপ
মালদ্বীপে বসবাসরত ও কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার, মর্যাদা এবং সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সঙ্গে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশি প্রবাসীদের সুরক্ষা ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের সঙ্গে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কার্যালয়ে ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ-এর সম্প্রতি এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বৈঠকে মালদ্বীপের ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল সিপি (অব.) আহমেদ ফাসীহ হাইকমিশনারকে তাদের সাম্প্রতিক ডিজিটাল উদ্যোগ সম্পর্কে অবহিত করেন।
তিনি জানান, মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন এরই মধ্যে ই-ভিসা সিস্টেম ও ইমিগ্রেশন মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রবাসীরা অনলাইনে তাদের ভিসার অবস্থা যাচাই করতে পারবেন। নিকট ভবিষ্যতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভিসা ইস্যু করার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির।
ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আরও জানান, বর্তমানে বৈধ ভিসাধারীদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ই-ভিসায় রূপান্তরিত হবে। আর নতুনদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বৈঠকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক শ্রমিক বৈধভাবে মালদ্বীপে এলেও প্রতিশ্রুত কর্মসংস্থান না পেয়ে চরম ঝুঁকিতে পড়েন। তিনি তথাকথিত ‘ফ্রি-ভিসা’ প্রথা বন্ধে সমন্বিত সচেতনতা তৈরি এবং শ্রমিকদের শোষণ ও প্রতারণা থেকে রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।
এছাড়া, ডলার সংকট নিরসনে একটি নিরাপদ ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, ন্যায্য বেতন কাঠামো নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি এবং প্রবাসীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়টি আলোচনায় নিয়ে আসেন হাইকমিশনার। প্রতারণায় জড়িত প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ হাইকমিশনে আসা বিভিন্ন অভিযোগ ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলারের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি।
ইমিগ্রেশন কন্ট্রোলার জেনারেল আশ্বস্ত করে বলেন, যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে প্রতারণায় জড়িত কোম্পানি ও নিয়োগকর্তাদের ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ বা কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মালদ্বীপের ‘লেবার রিলেশন অথরিটি’ (এলআরএ)-তে অভিযোগ দাখিলের পরামর্শ দেন তিনি। উভয় পক্ষই দায়িত্বশীল ও নৈতিক নিয়োগ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, নতুন পাসপোর্টে তথ্য পরিবর্তন হলে বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফিকেশন লেটার প্রয়োজন হবে। এছাড়া কোনো প্রবাসীকে গ্রেপ্তার বা বহিষ্কারের ক্ষেত্রে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জানানো হয়। আইনানুগ বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে গড়ে তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলে জানানো হয়।
এমকে
জাতীয়
প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিলের শেষ দিনের শুনানি আজ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির শেষ দিন আজ। একই সঙ্গে দ্বৈত নাগরিকত্ব থাকা প্রার্থীরা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়েও সিদ্ধান্ত জানাবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে আপিল শুনানি শুরু হবে।
এর আগে, শনিবার আপিল শুনানির অষ্টম দিনে মোট ১১২টি আবেদনের শুনানি গ্রহণ করে কমিশন। এর মধ্যে ৪৫টি আপিল মঞ্জুর করা হয়। মঞ্জুর হওয়া আপিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ছিল ৪৩টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ছিল ২টি আবেদন।
অন্যদিকে, কমিশন ৩৭টি আপিল নামঞ্জুর করেছে। এর মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে ১৩টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের বিরুদ্ধে ২৪টি আবেদন নামঞ্জুর করা হয়।
শুনানিকালে ৯টি আপিল আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং ২ জন আপিলকারী অনুপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ১৯টি আপিল আবেদন কমিশন অপেক্ষমাণ রেখেছে।
উল্লেখ্য, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। আগামী ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। ভোটের প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার), সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এমকে
জাতীয়
ঢাকার বাতাস আজ খুব অস্বাস্থ্যকর
বিশ্বে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। শহরটির বাতাসের মান ‘বিপজ্জনক’। অন্যদিকে এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে রাজধানীর ঢাকা। ২৭৬ স্কোর নিয়ে যার বাতাসের মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
রবিবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান নির্ধারণ সংস্থা আইকিউএয়ারের সূচক থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আইকিউএয়ারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ৩৩৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, ২৩২ স্কোর নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা, পঞ্চম স্থানে রয়েছে চীনের চ্যাংডু, স্কোর ২২৫।
আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠী’র (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।
এমকে
জাতীয়
তিন দিন ৭ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জরুরি মেরামত, সংরক্ষণ ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যায়ক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, সাময়িক এই ভোগান্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরও স্থিতিশীল, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে চট্টগ্রাম নগরীর উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও বন্দর-পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফিডারের আওতাধীন এলাকাগুলোতে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
১৮ জানুয়ারি: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত অক্সিজেন, শীতল ঝর্ণা আবাসিক এলাকা, গোলবাগ আবাসিক এলাকা, কয়লার ঘর, ওয়াজেদীয়া, নয়ারহাট, চালিতাতলী, বদির কলঘর, খন্দকার পাড়া, পূর্ব মসজিদ, ভুক্তপূর, বক্সুনগর, পাঠানপাড়া, হাজীপাড়া, বেলতল, তুলা কোম্পানি, কামরাবাদ, জাহানপুর, বনানী আবাসিক এলাকা, গরীবে নেওয়াজ আবাসিক এলাকা, সবুর আবাসিক এলাকা, শহীদ নগর, রূপনগর আবাসিক এলাকা, আশেকানে আউলিয়ার ডিগ্রি কলেজ এলাকা, সংগীত সিনেমা রোড থেকে জাঙ্গালপাড়া, নয়ারহাট, হিন্দুপাড়া, ভক্তপুর আংশিক, ওয়াজেদীয়া মাদ্রাসা, নজরা পুকুর পাড়, কফিক কমিশনারের বাড়ি, হাশেম মেম্বারের বাড়ি, পূর্ব শিকারপুর, রশিদ বাড়ি, মদুনাঘাট বাজার, দক্ষিণ মাদ্রাসা, মধ্যম মাদ্রাসা, গ্রিন কলোনি রোড়, চিনারপোল, রহমানিয়া সেতু, ব্রাক্ষ্মণহাট তার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
১৯ জানুয়ারি: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত বায়োজিদ এলাকার ক্লিপটন গার্মেন্টস, রেনেস্কো গার্মেন্টস, এম কে স্টীল, খন্দকিয়া বাজার, খন্দকিয়া ট্যাম্পু স্ট্যান্ড, মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া, কেডিএস গার্মেন্টস হতে শেরশাহ, পাহাড়িকা আবাসিক, ভেড়া ফকির, সমবায় আবাসিক, সাংবাদিক সোসাইটি, মোহাম্মদ নগর, শান্তি নগর, রাজামিয়া মার্কেট, শেরশাহ কলোনী, তারা গেইট, আর্মড পুলিশ ব্যাট্যালিয়ান, পদ্মা প্লাষ্টিক, চক্রোশো কানন, ধূপ পোল, কুয়াইশ,ভরা পুকুর, নজুমিয়া হাট, তেতুঁলতলা, মধ্যম বুড়িশ্চর, বুড়িশ্চর বাজার, উত্তর ও দক্ষিণ বুড়িশ্চর, ফকিরের দোকান, রশিদ বাড়ি, খালেকের হাট, আজিজিয়া মাজার ও তার আশে পাশের এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
২০ জানুয়ারি: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ৩টায় পর্যন্ত নগরীর গাউসিয়া আবাসিক এলাকা, গ্রীনভিউ আবাসিক এলাকা, হামজারবাগ লেইন, পশ্চিম শহীদ নগর, উত্তর গেইট, দেলওয়ার কোম্পানির বাড়ি, ফকির টিলা, মির্জাপাড়া, মুরাদনগর, হক ফুড গলি, ভান্ডারী গলি, বড় বাড়ি গলি, এশিয়া ফ্যান ফ্যাক্টরী, আমিন জুট মিলস, আমিন টেক্সটাইল, বিবিরহাট কাঁচাবাজার, বশর মার্কেট, ফরেস্ট গেট থেকে মুরাদপুর মোড়, খ্রিস্টান কবরস্থান, সামারহিল, মৌমিনবাগ, হামজারবাগ, ফুলেশ্বরী আবাসিক, তাহেরাবাদ, আতুরার ডিপু পিয়াজু গলি, রৌফাবাদ সমাজ সেবা হতে ফয়েজ টাওয়ার, সংগীত সিনেমা রোড়, সংগীত আ/এ, জাংগালপাড়া, ওয়েলফুড গলি, সামাদপুর, মীরপাড়া, হাজিপাড়া গার্মেন্টস, সামারহিল, খ্রিষ্টান কবরস্থান, হাটহাজারী রোড, খন্দকিয়া বাজার, খন্দকিয়া ট্যাম্পুস্ট্যান্ড, মাজার গেইট, ভুলিয়াপাড়া, বাথুয়া, কুলগাঁও মাজার গেইট হতে সাদ মুছা গার্মেন্টস, নতুন পাড়া, কাঠাঁল বাগান রোড়, তুফানী রোড়, চিকনদন্ডী, পূর্ব কুলগাঁও, কুলগাঁও আবাসিক এলাকা, বালুছড়া, বালুছড়া আবাসিক এলাকা, কাশেম ভবন, কুয়াইশ কলেজ, পশ্চিম কুয়াইশ, ষোল পোল, ভরা পুকুর, হামিদ শরিফ রোড , নজুমিয়া হাট, বাথুয়া, নেয়ামত আলী রোড, বড় বাড়ি, পূর্ব শিকারপুর, রশিদ বাড়ি, মদুনাঘাট বাজার, দক্ষিণ মাদ্রাসা, মধ্যম মাদ্রাসা, গ্রিন কলোনি রোড , চিনারপোল , রহমানিয়া সেতু, ব্রাহ্মণহাট তার আশে পাশের এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এমকে



