রাজনীতি
জুলাই সনদ সই অনুষ্ঠানে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ
জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানাতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতারা রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বুধবার (১৬ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৮টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত এই সাক্ষাৎ হয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার ও মনির হায়দার চৌধুরী বিএনপি চেয়ারপারসনের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। তারা কমিশনের সভাপতি ও সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানান।
এসময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. এ জেড এম জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে ড. বদিউল আলম মজুমদার সাংবাদিকদের বলেন, ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার কাছে আমন্ত্রণ জানাতে এসেছি। তিনি তার শারীরিক সুস্থতা কামনা করেছেন। খালেদা জিয়া এ দাওয়াতে আনন্দিত হয়েছেন। শুক্রবারের জাতীয় জুলাই সনদ স্বাক্ষর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট।
মনির হায়দার চৌধুরী বলেন, আমরা আশা করি সব রাজনৈতিক দলই এতে অংশ নেবে। খালেদা জিয়া অংশগ্রহণ করুক বা না করুক, তাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য ড. ইউনূস বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এ সনদ স্বাক্ষরের সাফল্য কামনা করেন। কমিশন এখনই কোনো নেতিবাচক চিন্তা করতে চায় না।
তিনি আরও জানান, বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তার আমন্ত্রণপত্র চেয়ারপারসনের একান্ত সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
রাজনীতি
তারেক রহমানের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব ও বিএনপি চেয়ারম্যান ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য হুমায়ুন কবির। এরআগে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত নেপাল ও ভুটানের রাষ্ট্রদূত। বিকেল ৪টায় নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি গুলশান কার্যালয়ে আসেন। তিনি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নেপালের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকের পরপরই বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে পৌঁছান ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাসো কর্মা হামু দর্জি। তিনি তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় বৈঠকে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাষ্ট্রদূতেরা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে বিএনপির মনোভাব সম্পর্কে অবগত হন। বিএনপি নেতারা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে জোরালো সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।
রাজনীতি
‘ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতার আর সুযোগ নেই’
১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে আসন সমঝোতার আর কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির। বাকি ৪৭ আসনে আলোচনার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের সরে যাওয়ার পেছনে তৃতীয় পক্ষের কোনো ইন্ধন নেই দাবি করে তিনি বলেনব, ‘বোঝাপড়ার ঘাটতি থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের মাঠে খুব বেশি প্রভাব পড়বে না।’
মামুনুল হক বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে নতুন করে কোনো বৈঠকের সম্ভাবনা নেই। তবে তারা যদি আবার জোটে ফিরতে চায়, তাহলে সাদরে গ্রহণ করা হবে। আর যদি না আসে, তাহলে বাকি আসনগুলো শক্তিশালী অবস্থান ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে বণ্টন করা হবে।’
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের বক্তব্যকে সঠিক নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ইসলামী মূল্যবোধ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা থেকে যে জোটের সূচনা হয়েছিল, আদর্শিক অবস্থান থেকে কেউ পিছপা হয়নি।’
মামুনুল হক আরও বলেন, ‘জোটের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে সংবাদ সম্মেলনে ২৫৩ আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে জাাময়াতসহ ১০ দলীয় জোট।
এর পরদিন শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান ঘোষণা দেন, ২৬৮টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তারা।
রাজনীতি
হাসনাতের আসনে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন কমিশন ভবনের বেজমেন্ট-২-এর অডিটরিয়ামে শুনানি শেষে এ ঘোষণা দেন ইসি।
এই আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী জোট থেকে নির্বাচন করছেন এনসিপির আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ।
ইসি সূত্র জানায়, কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী ও এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধতার বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি আপিল করা হয় নির্বাচন কমিশনে।
আজ শনিবার শুনানি শেষে ইসি মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল এবং হাসনাত আব্দুল্লাহর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে।
রাজনীতি
কৌশলের নামে ‘গুপ্ত’ বা ‘সুপ্ত’ বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান
বিএনপির ‘আপসহীন ভূমিকার’ কারণে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে এই দলকে দমিয়ে রাখা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, “দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ-মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও রাজপথ ছাড়েনি।
“একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরও তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।”
শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে; সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না, ইনশাআল্লাহ।”
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি আগামী দিনের গণতান্ত্রিক যে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা; আমরা দেখছি সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না।
“সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।
“কিন্তু তার পরও বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে, আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্টলি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তার পরেও রাজনৈতিক একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই“
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠান আয়োজন করে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ ও ‘মায়ের ডাক’। অনুষ্ঠানে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
‘কেউ কেউ গণতন্ত্রের পথকে বাধাগ্রস্ত করছে’
দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “স্বাধীনতাপ্রিয়, গণতন্ত্রপ্রিয়—প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে, যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়।
“আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন; সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।”
অতীতের সব অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, “এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া, করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আমাদের যে শহীদ—সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে।
“৭১ সালে যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যারা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্নভাবে নির্যাতিত পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ২৪ সালের ৫ অআস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, যে হাজারো মানুষ যারা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন; প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয়, তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশের একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।”
তারেক বলেন, “আপনারা যারা আজকে সামনে বসে আছেন, এখানে উপস্থিত হয়েছেন শত কষ্ট বুকে নিয়ে, এই মানুষগুলো যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে, দেশের আইন অনুযায়ী যাতে ন্যায়বিচার পেতে পারে—তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে, সেই ন্যায় বিচারটা নিশ্চিত করার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে, বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
“যেই সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে, যেই সরকার মানুষের যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে।”
‘সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা জানা নেই’
যুক্তরাজ্যে দেড় দশকের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তার পরপরই মা, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারান তিনি।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন প্রসঙ্গে তারেক বলেন, “বহু বছর দেশ, স্বজন, মানুষ থেকে দূরে থাকতে হয়েছে আমাকে বাধ্য হয়ে। দূর থেকে যতটুকু সম্ভব হয়েছে, আমার নেতাকর্মী যারা আছেন, নেতাকর্মীর বাইরেও এই স্বজনহারা মানুষ সারা দেশে যারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন, দলীয় অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করেছি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে সরব উপস্থিতি রাখতে, প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে তুলতে।
“ঠিক একইভাবে আমরা সেই সময় যতটুকু আমাদের সাধ্য ও সামর্থ্য ছিল তা দিয়ে আমরা চেষ্টা করেছি আমাদের এই স্বজনহারা মানুষগুলোর পাশে গিয়ে দাঁড়াতে। আমরা কতটুকু পেরেছি, কতটুকু পারিনি, সেটির জবাব ভিন্ন।
“তবে এতটুকু আপনাদের সামনে বলতে পারি, আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি ছিল না। হয়তো সীমাবদ্ধতা ছিল, সীমাবদ্ধতা আছে—এখনও প্রতিটি মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর। কিন্তু তার পরেও আমরা আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি এবং ইনশাল্লাহ এই চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবেও ভবিষ্যতে।”
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে আমাদের হাজার হাজার নেতাকর্মীকে অত্যাচার, নির্যাতন, হত্যা করা হয়েছে। হাজারের মতো নেতাকর্মীকে হতে হয়েছে গুমের শিকার, যার কিছু অংশের পরিবার আজকে এখানে হাজির আছে। সারাদেশে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সময় শুধুমাত্র বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দেড় লক্ষের বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। যার বোঝা প্রায় ৬০ লক্ষের মতো নেতাকর্মীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে।
“এর ভেতরে লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, সপ্তাহের পর সপ্তাহ, দিনের পর দিন ঘরবাড়ি ছাড়া থাকতে হয়েছে, স্বজনহারা থাকতে হয়েছে, স্বজন থেকে দূরে থাকতে হয়েছে। এসব সকল মামলাই ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
তারেক রহমান বলেন, “গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিন বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন; তাদের সত্যিকারে যদি বলতে হয় আসলে আপনাদেরকে সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা বোধহয় আমাদের কাছে নেই।
“এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি। এই দুঃসময়ে এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজকে কয়েকজন সন্তান তার কষ্টের কথাটি উল্লেখ করে গেছেন। যে সন্তান একদিনের জন্যেও তার পিতাকে বা পিতার মুখকে দেখার সুযোগ পান নাই তেমন সন্তান আজ আমাদের ভেতরেই আছে, উপস্থিত।
“হয়তোবা একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন, যে সন্তান তার পিতাকে না দেখার কষ্টের কথা এখানে বলে গিয়েছে। আমরা জানি না, একমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামিন জানেন—সেই সন্তান তার পিতাকে আবার কোন দিন দেখবে কি না। অনেক সন্তান এখনও অপেক্ষায় আছেন।”
রাজনীতি
জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছিল ‘নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ’: নয়াদিল্লি
জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকের যে ‘গোপন’ সাক্ষাতের কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সেটা ‘নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগের অংশ’ ছিল বলে দাবি করেছে নয়াদিল্লি।
সাক্ষাতের খবর সামনে আসার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এমন বক্তব্য এল বলে ‘হিন্দুর’ খবরে বলা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “আপনারা জানেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের ঘনিষ্ঠ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রয়েছে। আমাদের হাই কমিশনের কর্মকর্তারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
“জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ভারতের এই যোগাযোগকেও সেই প্রেক্ষাপটেই দেখা উচিত।”
ডিসেম্বরের শেষ দিকে রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান, যেটি প্রকাশিত হয় ৩১ ডিসেম্বর।
সেখানে তিনি বলেন, ভারতের এক কূটনীতিক তার সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন, তবে ভারতের ইচ্ছায় সেই সাক্ষাতের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
জামায়াত আমিরের সঙ্গে ভারতীয় কূটনীতিকের সাক্ষাৎ হওয়ার খবরটি সামনে আসে এমন এক দিনে, যেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষশ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ছিলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
সেদিন রয়টার্সের খবর ধরে দেশীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে সেই বৈঠককে ‘গোপন’ বলায় পরের দিন ‘তীব্র নিন্দা’ জানান শফিকুর রহমান।
নিজের ফেইসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের দুই কূটনীতিকের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল। তাদের ইচ্ছাতেই তখন সেটি প্রকাশ করা হয়নি, তবে ‘এখানে গোপনীয়তার কিছু নেই’।



