অর্থনীতি
সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বাড়ল ৬ টাকা
বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে ৩ টাকা। এ ছাড়া প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৩ টাকা।
সোমবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গত আগস্টে ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ নিয়ে সরকার ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মাত্র এক টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। এতে করে ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হন এবং সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী তখন দাম জানায়নি তারা।
জানা গেছে, নতুন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪৫ টাকা।
কাফি
অর্থনীতি
পেপ্যাল আসছে দেশে, কার্ড পাবেন ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার
দেশে বহুল প্রতীক্ষিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপ্যাল’ চালুর কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশাবাদী সরকার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে জানিয়েছেন, আগামী ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান এবং কয়েক হাজার তরুণকে প্রশিক্ষিত করার মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতায় বিভিন্ন সংস্থা/দপ্তর তথ্য-প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে নানা পরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক ৫ বছরে ১০০০ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে এবং ৫ বছরে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে।
ইতোমধ্যে ৭৫০০ জন ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড প্রদান করা হয়েছে এবং এ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ: বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ২০২৬ সালে ২৪০০ জনকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), মেশিন লার্নিং (ML) এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটির মতো উচ্চপ্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান ত্বরান্বিত করতে ৮৩টি সেবা অনলাইনে প্রদান করা হচ্ছে এবং আগামী ১ বছরে আরও ১০টি নতুন সেবা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হাই-টেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারসমূহ কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদেশে Paypal এর কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল: আগামী ৫ বছরে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের মাধ্যমে ২০টি ব্যাচে প্রায় ১০০০ জন আন্ডার গ্র্যাজুয়েট/গ্র্যাজুয়েটদের ITEE (Information Technology Engineers Examination) প্রশিক্ষণ পরিচালনা করা হবে। বিসিসির মাধ্যমে ৫ হাজার ২০ জন চাকরি প্রার্থী এবং ছাত্র-ছাত্রীদের এআই, মোবাইল অ্যাপ্স ডেভেলপমেন্ট, পাইথন প্রোগ্রামিং, ডাটা অ্যানালাইটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি ইত্যাদি বিষয়ে স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণসহ ১ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রায় ৭০০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭০০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে WIFI (Women in ICT Frontier Initiative) বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাকরির ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ITEE প্রশিক্ষণের আওতায় এপ্রিল-২০২৬ সেশনে ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ জন শিক্ষার্থীর প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। ৪০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীকে বেসিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও ২০ জন নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে WIFI প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে।
অর্থনীতি
নেপালের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান শিল্পমন্ত্রীর
নেপালের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২২ এপ্রিল) শিল্প মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারীর সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য এবং বিদ্যুৎ ও বিনিয়োগ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে দ্রুত শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুবিধাজনক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
তিনি নেপালের উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, শিল্পখাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং উভয় দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
নেপালের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেন।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পখাতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং শিল্পমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়া, আঞ্চলিক সহযোগিতা, যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।
এসময় মন্ত্রণালয় এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থনীতি
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল
দেশের অর্থনীতিতে আবারও একটি বড় স্বস্তির খবর এসেছে। দেশে মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা মজুত আবারও বৃদ্ধি পেয়ে ৩ হাজার ৫১২ কোটি ৫৯ লাখ ডলার বা ৩৫.১২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা ও ডলার সংকটের নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও রিজার্ভের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
শুধু মোট রিজার্ভই নয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত আন্তর্জাতিক হিসাবায়ন পদ্ধতি বা ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) অনুযায়ী নিট রিজার্ভের পরিমাণও বেশ সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হালনাগাদ তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে নিট রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৫ কোটি ৯০ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩০.৪৬ বিলিয়ন ডলারে।
ব্যাংকিং খাতের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবারের এই রিজার্ভ বৃদ্ধির খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বড় অঙ্কের আমদানি বিল পরিশোধ করার পরও রিজার্ভের এই উন্নতি হয়েছে।
সাধারণত, প্রতি দুই মাস অন্তর আকুর বিল পরিশোধের পর দেশের রিজার্ভে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। এবারও আকুর বিল পরিশোধের পর ধীরে ধীরে আবারও এই শক্তিশালী অবস্থানে উঠে এসেছে। এটি আর্থিক খাতের জন্য একটি বড় ইতিবাচক দিক জানান দিচ্ছে।
বর্তমান রিজার্ভের এই মজুত দেশের অর্থনীতিকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বর্তমানে যে পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রয়েছে, তা দিয়ে দেশের প্রায় সাত মাসের সম্পূর্ণ আমদানি ব্যয় অনায়াসেই মেটানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, যেকোনো দেশের কাছে অন্তত তিন মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ থাকাকে নিরাপদ বলে বিবেচনা করা হয়। সেই হিসেবে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থান কেবল নিরাপদই নয়, বরং বেশ শক্তিশালী।
বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই রিজার্ভ বৃদ্ধি সরকারের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। বাড়তি ডলার খরচ করে জ্বালানি তেল ও এলএনজি আমদানির এই কঠিন সময়ে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রা হাতে থাকা অত্যন্ত জরুরি। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে এবং শিল্পকারখানার চাকা সচল রাখতে নিয়মিত বিপুল পরিমাণ ডলার ব্যয় করতে হচ্ছে। এমন একটি চ্যালেঞ্জিং সময়ে রিজার্ভ ৩০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে অবস্থান করাটা নীতিনির্ধারকদের দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের ইতিবাচক প্রবাহ ও রপ্তানি আয়ের ধারাবাহিকতার কারণেই রিজার্ভের এই শক্ত অবস্থান ধরে রাখা সম্ভব হয়েছে। আগামী দিনগুলোতে প্রবাসী আয় ও বিদেশি বিনিয়োগের এই ধারা অব্যাহত থাকলে বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আরও শক্তিশালী হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অর্থনীতি
জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির পর বাস-ট্রাক ভাড়া নির্ধারণ বৃহস্পতিবার: সেতুমন্ত্রী
বাস-ট্রাকসহ পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সচিবালয়ে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ সংক্রান্ত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, “আজকের বৈঠকে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। পরিবহনের নতুন ভাড়া নির্ধারণ নিয়ে বৃহস্পতিবার সিদ্ধান্ত হবে।”
এদিকে, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি বলছে, পরিবহন খাত বর্তমানে ক্রমবর্ধমান আর্থিক চাপের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি ডিজেলে লিটার প্রতি ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানিকৃত খুচরা যন্ত্রাংশ ও সামগ্রিক যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
এ অবস্থায় পরিবহন খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জ্বালানির দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত ও যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবহন নেতারা।
এর আগে গত রোববার (১৮ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বনানীতে বিআরটিএ কার্যালয়ে বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বৈঠক শুরু হয়। রাত ১০টার দিকে বৈঠকটি শেষ হয়। এতে বিআরটিএর কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক–শ্রমিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকের পর বিআরটিএ চেয়ারম্যান গণমাধ্যমকে জানান, ভাড়া বিষয়ে একটি খসড়া করা হয়েছে। দ্রুতই মন্ত্রণালয় থেকেই খসড়া প্রস্তাব চুড়ান্ত হয়ে নির্দিষ্ট কত ভাড়া বৃদ্ধি হবে সে বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নতুন এই দাম রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্ধারিত নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা থেকে ১৫ টাকা বেড়ে ১১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অকটেন ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়ে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা থেকে ১৯ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা থেকে ১৮ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের দূরপাল্লার রুটের জন্য সরকার নির্ধারিত বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা। ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে বাসের বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ৪২ পয়সা।
এমএন
অর্থনীতি
জ্বালানি সংকটে উৎপাদন ধস ঠেকাতে গার্মেন্টস কারখানায় সোলার উদ্যোগ বিজিএমইএর
জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে গার্মেন্টস শিল্পে উৎপাদন ধস ঠেকাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি প্রতিটি কারখানার ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে সোলার প্যানেল স্থাপন করলে সার্ভিস ফিতে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে। তবে সোলার প্যানেল আমদানি নীতিতে পরিবর্তন না আনলে এ উদ্যোগের সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন গার্মেন্টস মালিকরা।
সংগঠনটির মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। জেনারেটর ব্যবহার করেও পর্যাপ্ত ডিজেল না পাওয়ায় উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এতে গার্মেন্টস কারখানাগুলোতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে সদস্য কারখানাগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বিশেষ নোটিশ দিয়েছে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনাও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।
বিজিএমইএর পরিচালক মো. এম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, যদি ইন্ডাস্ট্রি সোলার প্যানেল স্থাপন করে, তাহলে স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা দেয়া হবে। সোলার প্যানেল স্থাপন করা গেলে প্রায় ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অবশ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজারগুলোতে কঠোর পরিবেশগত কমপ্লায়েন্স থাকায় সোলার প্যানেল স্থাপন এখন কৌশলগত ব্যবসায়িক শর্ত বলে মনে করে বিজিএমইএ। এজন্য ৫ থেকে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে ঋণ সুবিধা রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আগামী ৩ মাসের মধ্যে যেসব কারখানা সোলার প্যানেল স্থাপন করবে, তাদের সার্ভিস ফি-এর ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে।
জ্বালানি সংকটের এই সময়ে বিজিএমইএর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির সাবেক মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মনজারে খোরশেদ আলম বলেন, এটি একটি যুগোপযোগী ও টেকসই উদ্যোগ। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ এবং উদ্যোক্তা; উভয়ের জন্যই উপকার হবে।
তবে গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি নীতিতে জটিলতা থাকলে এই উদ্যোগ সফল হবে না। বিশেষ করে শুল্কহার ও নীতিগত বাধার কারণে সোলার প্যানেল স্থাপন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই তারা আমদানি নীতিতে পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
বিজিএমইএর পরিচালক রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট এসআরও জারি করা প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হয়ে সোলার প্যানেল ব্যবহার করতে পারেন।
ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে ৪ হাজারের বেশি গার্মেন্টস কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি ৮টি ইপিজেডে আরও প্রায় ৬০০ কারখানা রয়েছে। এসব কারখানা থেকে বছরে প্রায় ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রফতানি আয় আসে।



