আন্তর্জাতিক
ভারতে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নারী সাংবাদিকবর্জিত সংবাদ সম্মেলন
ভারত সফররত আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির নারী সাংবাদিকবর্জিত সংবাদ সম্মেলনকে ঘিরে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রসহ বিরোধী রাজনীতিক ও নারী সাংবাদিকরা এ ঘটনায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শুক্রবার নয়াদিল্লিতে আফগান দূতাবাসে অনুষ্ঠিত ওই সংবাদ সম্মেলনে কেবল পুরুষ সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। নারী সাংবাদিকরা উপস্থিত হলেও তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। বৈষম্যের প্রতিবাদ জানালেও কোনো সাড়া মেলেনি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো নিন্দা জানায়নি। শনিবার কেবল জানানো হয়, ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন বা ব্যবস্থাপনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো ভূমিকা ছিল না।
তবে সাংবাদিকরা পাল্টা জানতে চান, ভূমিকা না থাকলেও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ভারত কি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে? আফগান সরকারের এই নীতির বিরোধিতা করেছে কি না—এ প্রশ্নের কোনো উত্তর মেলেনি।
দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সংবাদদাতা সুহাসিনী হায়দার এক্সে (টুইটার) লেখেন, ‘তারা ভারত সরকারের অতিথি, অথচ এ দেশে এসে আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁর নারীবিদ্বেষী নীতি প্রয়োগের অনুমতি দেওয়া হলো। তালেবান তাদের নারীবিদ্বেষ ভারতেও টেনে আনল—এটা বাস্তববাদিতা নয়, আত্মসমর্পণ।’
সাংবাদিক স্মিতা শর্মা বিস্ময় প্রকাশ করে লেখেন, ‘মুত্তাকির সংবাদ সম্মেলনে কোনো নারী সাংবাদিককে ডাকাই হয়নি। আফগান নারীদের দুর্দশা নিয়ে জয়শঙ্করের ভাষণ বা যৌথ বিবৃতিতে একটি শব্দও নেই। অথচ তাকে লালগালিচা দিয়ে স্বাগত জানানো হলো—যে দেশে নারীর সাফল্যে গর্ব করা হয়!’
সাংবাদিক বিজেতা সিংয়ের মন্তব্য, ‘পুরুষ সাংবাদিকদের উচিত ছিল এই বৈষম্যের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করা।’ আর গীতা মোহন লিখেছেন, ‘এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
বিরোধী দলগুলোও সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ করে এক্সে লেখেন, ‘আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নারী সাংবাদিকবর্জিত সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আপনার অবস্থান স্পষ্ট করুন। আপনার নারীনীতি কি শুধু নির্বাচনের সময় পর্যন্ত সীমিত? দেশের সবচেয়ে যোগ্য নারীদের এই অপমান কীভাবে ঘটতে দেওয়া হলো?’
তৃণমূলের মহুয়া মৈত্র লেখেন, ‘নারীবর্জিত সংবাদ সম্মেলনের অনুমতি দিয়ে সরকার দেশের নারীদের সম্মানহানি ঘটিয়েছে। এটা মেরুদণ্ডহীনতার প্রকাশ।’
প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরম লেখেন, ‘ভূরাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা আমি বুঝি, কিন্তু তাদের আদিম নারীবিদ্বেষী রীতি মেনে নেওয়া লজ্জাজনক। পুরুষ সাংবাদিকদেরও উচিত ছিল এই সংবাদ সম্মেলন বর্জন করা।’
কংগ্রেস মুখপাত্র শামা রহমান বলেন, ‘আমাদের আমন্ত্রণে এসে যদি তারা তাদের বৈষম্যমূলক নীতি প্রয়োগ করে, তবে মোদি–জয়শঙ্করের লজ্জিত হওয়া উচিত।’
নয়াদিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের পর আফগান দূতাবাসে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে কোনো দেশের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করা হয়নি। তবে সংবাদ সম্মেলনের টেবিলে তালেবান সরকারের স্বীকৃত ছোট পতাকা রাখা হয়।
তালেবান সরকারকে ভারত এখনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি। তবু মুত্তাকি জানিয়েছেন, কাবুলে ভারতীয় দূতাবাস পুরোপুরি চালু করার পাশাপাশি নয়াদিল্লির আফগান দূতাবাসেও নতুন কূটনীতিক নিযুক্ত করা হবে।
আন্তর্জাতিক
ইরান থেকে নাগরিকদের ফিরিয়ে আনবে ভারত
ইরান থেকে নিজ নাগরিকদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দেশটি তাদের নাগরিকদের উদ্দেশ্যে জরুরি বার্তা দিয়েছে দ্রুত সময়ে ইরান ছাড়তে বলেছে। মূলত ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়ে যাওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে নয়াদিল্লি।
কাল শুক্রবার তেহরান থেকে বিশেষ ফ্লাইট পরিচালনা করবে দেশটি। প্রথম দফায় ফিরিয়ে আনা হবে শিক্ষার্থীদের।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গুলিস্তান বিশ্ববিদ্যালয় এবং শহীদ বেহেস্তি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থীকে প্রথম দফায় ফিরিয়ে আনা হবে। তারা কালই ভারতে অবতরণ করবেন।
কোন কোন নাগরিককে ফিরিয়ে আনা হবে তাদের একটি চূড়ান্ত তালিকা কালকের মধ্যে প্রকাশ করবে ভারত সরকার।
গতকাল বুধবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ওই সময় তারা ইরান ও ইরানের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
আলাদাভাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জসওয়াল এক সতর্কবার্তায় ভারতীয়দের ইরান ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ধারণা করা হয় ইরানে প্রায় ১০ হাজার ভারতীয় রয়েছেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। যা গত বৃহস্পতিবার সহিংস রূপ ধারণ করে। এরপর শুক্রবারও সহিংসতা অব্যাহত ছিল। এই বিক্ষোভ দমনে ওই দুইদিন ব্যাপক কঠোর অবস্থানে যায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুমকি দিয়ে আসছিলেন যদি ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা শুরু করে তাহলে তারা সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করবেন। দিন যত যাচ্ছিল তার হুমকি তত বাড়ছিল। এতে করে হামলার শঙ্কাও তীব্র হয়েছিল। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে ট্রাম্প এ পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন। তবে তার হুমকির কারণে অনেক দেশ নাগরিকদের ইরান ছাড়তে বলেছিল।
বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান তিনি জানতে পেরেছেন ইরান বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা বন্ধ করেছে। এছাড়া তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরও স্থগিত করেছে। তার এ বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছিল তিনি তার আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছেন।
আন্তর্জাতিক
তেহরানে দূতাবাস বন্ধ করল যুক্তরাজ্য
সম্প্রতিক সময়ে ইরানে সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘাতের জেরে দেশটিতে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকদের ইরানে ভ্রমণের ব্যাপারে সতর্কতাও জারি করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বুধবার যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ইরানে যুক্তরাজ্যের দূতাবাসের সব কর্মকর্তা ও কর্মীকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে ফের স্বাভাবিকভাবে দূতাবাস চলবে। তার আগ পর্যন্ত দূর থেকে দূতাবাস পরিচালনা করা হবে।
নাগরিকদের ভ্রমণ সতর্কবার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, “নিরাপত্তাজনিত কারণে ব্রিটিশ নাগরিকদের আপাতত ইরানে ভ্রমণ না করার আহ্বান জানাচ্ছে সরকার; যেসব নাগরিক বর্তমানে ইরানে অবস্থান করছেন— তাদের উদ্দেশে বলা হচ্ছে— আপনারা যে যেখানেই আছেন, নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বদা সজাগ থাকবেন এবং ঝুঁকি এড়িয়ে চলবেন।”
উল্লেখ্য, গত দু’সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আকারে সরকারবিরোধী আন্দোলন চলছে ইরানে। দিন যতো গড়াচ্ছে, আন্দোলনের মাত্রাও ততো তীব্র হচ্ছে।
এ আন্দোলন-বিক্ষোভ উস্কে ওঠার প্রাথমিক কারণ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি । বছরে পর বছর ধরে অবমূল্যায়নের জেরে ইরানের মুদ্রা ইরানি রিয়েল বিশ্বের সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রার স্বীকৃতি পেয়েছে। বর্তমানে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়েলের মান ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫। অর্থাৎ ইরানে এখন এক ডলারের বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৯ লাখ ৯৪ হাজার ৫৫ ইরানি রিয়েল।
জাতীয় মুদ্রার এই দুরাবস্থার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি চলছে ইরানে। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো মেটাতে রীতিমতো হিমসিম খাচ্ছেন ইরানের সাধারণ জনগণ।
এই পরিস্থিতিতে গত গত ২৮ ডিসেম্বর মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে ধর্মঘটের ডাক দেন রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন বাজারের পাইকারি ও খুচারা ব্যবসায়ীরা। সেই ধর্মঘট থেকেই বিক্ষোভের সূত্রপাত।
এরপর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের ৩১টি প্রদেশের প্রায় সবগুলো শহর-গ্রামে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ এবং দিনকে দিন বিক্ষোভের তীব্রতা বাড়তে থাকে। বর্তমানে পুরো দেশকে কার্যত অচল করে দিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভ দমনে ইতোমধ্যে ইন্টারনেট-মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করেছে ইরান, সেই সঙ্গে দেশজুড়ে মোতায়েনপুলিশ-নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি মোতায়েন করেছে সেনাবাহিনী। জনগণ ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে সংখাতে ইতোমধ্যে ১২ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সেই সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরও হাজার হাজার বিক্ষোভকারী।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ‘কোনো পরিকল্পনা নেই’।
স্থানীয় সময় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাকে জানানো হয়েছে যে বিক্ষোভকারীদের হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং পরিকল্পিত ফাঁসিও স্থগিত করা হয়েছে। ইরানে হামলার হুমকি দেওয়ার পর তার এই বক্তব্য সংকট নিয়ে তুলনামূলক নরম অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কাতারের একটি মার্কিন ঘাঁটি থেকে কিছু সেনা প্রত্যাহার শুরুর কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প জানান, তিনি ‘অন্য পক্ষের খুব গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের’ সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পরিস্থিতি কীভাবে এগোয় তা তিনি দেখবেন। তবে সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের বিষয়টি পুরোপুরি নাকচও করেননি তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেখব প্রক্রিয়াটা কীভাবে এগোয়’ । তিনি আরও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র একটি ‘খুব ভালো বিবৃতি’ পেয়েছে।
পরে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই নেই। তিনি বলেন, ‘ফাঁসির প্রশ্নই ওঠে না’।
ওয়াশিংটন থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক মাইক হান্না জানান, ট্রাম্পের বক্তব্যে ইরানের প্রতি তার অবস্থান কিছুটা নরম হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষায়, ট্রাম্প এখনো বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে ভাবছেন, তবে তাৎক্ষণিক সামরিক পদক্ষেপ থেকে সরে আসার ইঙ্গিত মিলছে।
সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির সিনিয়র গবেষক সিনা তুসসি আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য হয়তো সামরিক হস্তক্ষেপ এড়ানোর একটি ‘সম্মান রক্ষার পথ’। তবে একেবারে সংঘাতের সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে—এমনও বলা যাচ্ছে না।
তুসসি আরও বলেন, ‘ট্রাম্প বড় ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে অনাগ্রহী। ইরানের ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি ছিল। আজকের মন্তব্যে মনে হচ্ছে, তিনি পরিস্থিতি থেকে সম্মানজনকভাবে সরে আসার পথ খুঁজছেন।’
স্টিমসন সেন্টারের বিশ্লেষক বারবারা স্লাভিন বলেন, ইরান নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ট্রাম্প সম্ভবত দ্বিধায় আছেন। তিনি হয়তো ‘আরেকটি দ্রুত জয়’ চান, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে চান না। তার ধারণা, ট্রাম্প সীমিত আকারে হামলা চালাতে পারেন, যাতে তিনি ইরানের জনগণকে ‘সহায়তা করার’ প্রতিশ্রুতি পূরণের দাবি করতে পারেন, কিন্তু বড় ধরনের যুদ্ধ এড়ানো যায়।
এর আগে বুধবার যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র কাতারের একটি বিমানঘাঁটি থেকে কিছু কর্মী সরিয়ে নেয়, কারণ এক ইরানি কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—যুক্তরাষ্ট্র হামলা করলে তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানবে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে তারা পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর বলেছেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভুল হিসাবের’ জবাবে ইরান ‘নির্ণায়কভাবে’ প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে পাকপুর বলেন, আইআরজিসি এখন ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুত অবস্থায়’ রয়েছে। তিনি ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ‘ইরানের যুবকদের হত্যাকারী’ বলেও আখ্যা দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ফক্স নিউজকে বলেন, তিন দিনব্যাপী ‘সন্ত্রাসী তৎপরতার’ পর এখন পরিস্থিতি শান্ত এবং সরকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে।
ডিসেম্বরে স্থানীয় মুদ্রার দরপতন ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে দোকানিরা রাস্তায় নামলে আন্দোলনের সূচনা হয়, যা পরে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্বীকার করেছে, সহিংসতায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে। সরকারপক্ষ বলছে, ‘সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ এর জন্য দায়ী।
রাষ্ট্রীয় হিসাবে, দুই সপ্তাহের অস্থিরতায় ১০০–এর বেশি নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, নিহতের সংখ্যা আরও বেশি এবং তাতে হাজারো বিক্ষোভকারী রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি বলেছে, তারা দুই হাজার ৪০০–এর বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। তবে আল জাজিরা স্বাধীনভাবে এসব সংখ্যা যাচাই করতে পারেনি।
এদিকে ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নেটব্লকস জানিয়েছে, এই ব্ল্যাকআউট ১৪৪ ঘণ্টা ছাড়িয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা এমন প্রমাণ পেয়েছে যা ইঙ্গিত করে—গত এক সপ্তাহে ইরানে ‘অভূতপূর্ব মাত্রায় বেআইনি হত্যাকাণ্ড’ ঘটেছে, যেখানে বেশিরভাগই ছিল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষ। সংস্থাটি বলেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মাথা ও চোখ লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে—এমন ভিডিও প্রমাণও তারা পর্যালোচনা করেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে মুক্তি দিলো আরব আমিরাত
৫৪তম জাতীয় দিবস (ইদ আল ইতিহাদ) উপলক্ষে ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এটি দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব দেশব্যাপী বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকে ক্ষমা করে দেয়।
প্রতি বছর ঈদ, জাতীয় দিবসসহ প্রধান জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব, উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা দণ্ডিতদের এ ধরনের রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো—ক্ষমাশীলতা, সমাজে পুনরায় একীকরণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা।
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় আমিরাত বিপুল সংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরাও ছিলেন। এতে তারা নিজেদের জীবন পুনর্গঠন এবং পরিবার ও সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
এই উদ্যোগ আমিরাতের শাসকের মানবিক মূল্যবোধ ও সহানুভূতির প্রতি প্রতিশ্রুতিকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস—ইদ আল ইতিহাদ প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর পালিত হয়। দিনটিতে ১৯৭১ সালে এক পতাকার অধীনে আমিরাতসমূহের ঐতিহাসিক ঐক্যকে স্মরণ করা হয়।
এমকে
আন্তর্জাতিক
৪৪০ বাংলাদেশি বন্দিকে ক্ষমা করলো আরব আমিরাত
৫৪তম জাতীয় দিবস (ইদ আল ইতিহাদ) উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা ৪৪০ বাংলাদেশি বন্দির রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এটি দেশটির দীর্ঘদিনের মানবিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ইদ আল ইতিহাদ উদযাপনের অংশ হিসেবে এ ক্ষমার ঘোষণা দেওয়া হয়। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতৃত্ব দেশব্যাপী বিভিন্ন দেশের হাজারো বন্দিকে ক্ষমা করে দেয়।
প্রতি বছর ঈদ, জাতীয় দিবসসহ প্রধান জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব, উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকরা দণ্ডিতদের এ ধরনের রাজকীয় ক্ষমা ঘোষণা করেন। এর উদ্দেশ্য হলো—ক্ষমাশীলতা, সমাজে পুনরায় একীকরণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনকে উৎসাহিত করা।
কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, ২০২৫ সালের শেষের দিকে ক্ষমা কর্মসূচির আওতায় আমিরাত বিপুল সংখ্যক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকরাও ছিলেন। এতে তারা নিজেদের জীবন পুনর্গঠন এবং পরিবার ও সমাজে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
এই উদ্যোগ আমিরাতের শাসকের মানবিক মূল্যবোধ ও সহানুভূতির প্রতি প্রতিশ্রুতিকে জোরালোভাবে তুলে ধরে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাতীয় দিবস—ইদ আল ইতিহাদ প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর পালিত হয়। দিনটিতে ১৯৭১ সালে এক পতাকার অধীনে আমিরাতসমূহের ঐতিহাসিক ঐক্যকে স্মরণ করা হয়।



