আন্তর্জাতিক
শান্তিতে নোবেল পেলেন মারিয়া কোরিনা মাচাদো
এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকারকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। আজ শুক্রবার বিকেল ৩টায় নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি তার নাম ঘোষণা করে।
কমিটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অবিরাম প্রচেষ্টা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ গণতন্ত্রে উত্তরণের সংগ্রামের জন্য তিনি এই পুরস্কারে ভূষিত হচ্ছেন।
ভেনেজুয়েলার গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সাহসী নেতা হিসেবে মারিয়া কোরিনা মাচাদো সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকায় অনন্য অবস্থান দাঁড় করিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক
ইরান নিয়ে ফক্স নিউজে নেতানিয়াহুর সাক্ষাৎকার, কী বললেন
সোমবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানে মার্কিন-ইসরাইলি যৌথ সামরিক অভিযান ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ নয়। একইসঙ্গে বিমান হামলার নেতৃত্ব দেয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
নেতানিয়াহু ইরানে হামলা চালানোর বিষয়টি নিয়ে বলেন, এটি একটি দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ হবে।
ফক্স নিউজকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি শুনেছি মানুষ বলছে যে, এখানে একটা অন্তহীন যুদ্ধ হতে চলেছে। এখানে সীমাহীন যুদ্ধ হচ্ছে না।’
এটি একটি দ্রুত এবং সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ হতে চলেছে এবং আমরা প্রথমে এমন পরিস্থিতি তৈরি করব যাতে ইরানি জনগণ তাদের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে এবং তাদের নিজস্ব গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে পারে।
ফক্স নিউজে প্রচারিত সাক্ষাৎকার জুড়ে, নেতানিয়াহু ইরানে হামলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন।
তিনি বলেন, ডনাল্ড জে. ট্রাম্পের মতো প্রেসিডেন্ট আর কখনও ছিল না। তার দৃঢ়তা, তার সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা, তার চিন্তাভাবনার স্পষ্টতা, তিনি যেভাবে সবকিছু করেন, একেবারে মূল বিষয়ের দিকে এগিয়ে যান। আমরা খুবই ভাগ্যবান তাকে মুক্ত বিশ্বের নেতা হিসেবে পেয়ে।
ইরানে হামলা শুরু করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নেতৃত্বের ভূমিকার উপর জোর দিয়ে নেতানিয়াহু ফ্লোরিডার পাম বিচে ট্রাম্পের মার-এ-লাগোর বাড়িতে তার সাথে দেখা করা এবং ট্রাম্পের কাছ থেকে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার গুরুত্বের উপর জোর দেয়ার একটি গল্প বলেছিলেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা মার-এ-লাগোতে দেখা করলাম। ডনাল্ড ট্রাম্প আমাকে প্রথম যে কথাটি বলেছিলেন, ‘তুমি জানো, আমাদের ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে বাধা দিতে হবে। তিনি আমাকে বলেছিলেন, শুরু থেকেই, আমি তাকে বলিনি তিনিই বলেছিলেন, আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র না পায়। তিনি তাই করেছেন।’
ইরানে এখন বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে নেতানিয়াহু যুক্তি দেন যে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এমনভাবে পুনর্গঠন করছে যে কয়েক মাসের মধ্যেই এটি কার্যকরী হয়ে উঠবে। যদি এখনই কোনো পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেন তিনি।
শনিবার ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। হামলা চালিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনিসহ গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের হত্যা করে। জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান।
সূত্র: পলিটিকো
আন্তর্জাতিক
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়ালো কাতার
ইরান-ইসরাইল সংঘাতের ঘটনায় সব ধরনের ভিসার মেয়াদ এক মাস বাড়িয়েছে কাতার। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে বা শিগগিরই মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে—এমন সব ধরনের এন্ট্রি ভিসার মেয়াদ এক মাসের জন্য বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইলেকট্রনিক সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। এর জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। এছাড়া সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে আবেদন করারও প্রয়োজন নেই।
‘তবে ২৮ ফেব্রুয়ারির আগে যেসব এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে নিয়মভঙ্গ হয়েছে, সেসব ভিসাধারীদের প্রথমে নির্ধারিত জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। এরপর উল্লিখিত তারিখ থেকে তাদের ক্ষেত্রেও মেয়াদ বৃদ্ধি এবং ফি মওকুফ প্রযোজ্য হবে’,যোগ করা হয় বিবৃতিতে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, স্থায়ী এবং ভ্রমণকারীদের আইনগত অবস্থার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
পাকিস্তানে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইসলামাবাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস দেশের ‘বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি’ উল্লেখ করে সব ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিলের ঘোষণা করেছে।
মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, এই আদেশ ইসলামাবাদে অবস্থিত দূতাবাসের পাশাপাশি লাহোর ও করাচিতে অবস্থিত কনস্যুলেটগুতেও প্রযোজ্য। যা, আগামী শুক্রবার ৬ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর রোববার (১ মার্চ) করাচিতে কনস্যুলেটে বিক্ষোভকারীদের উপর নিরাপত্তা কর্মীদের গুলি চালানোর ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের একটি বেসামরিক বন্দরে অস্থায়ী মার্কিন অপারেশন সেন্টারে সরাসরি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। সোমবার বিকেলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইসরায়েলের বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি হিজবুল্লাহর
উত্তর ইসরায়েলের রামাত ডেভিড বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে সশস্ত্র ইসলামী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ।
তারা জানিয়েছে, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে ড্রোন মোতায়েন করে ঘাঁটির রাডার সাইট এবং নিয়ন্ত্রণ কক্ষগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
লেবাননের বেশ কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি।
অন্যদিকে, বাহরাইনে মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে ইরান। আইআরজিসি জানিয়েছে, তারা আজ সকালে বাহরাইনের শেখ ইসা এলাকায় একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক
যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ ইরান সরকারের হাতে নয়, বিপ্লবী গার্ডের কাছে
যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটি ও অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পাশাপাশি দখলদার ইসরায়েলকেও টার্গেট করা হয়েছে।
এরমধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, ইরানের এই পাল্টা আক্রমণে নেতৃত্বে দিচ্ছে সেনাবাহিনীর এলিট ইউনিট ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। তিনি বলেছেন, বিপ্লবী গার্ড এখন ‘স্বাধীনভাবে’ বা নিজেদের মতো করে হামলা চালাচ্ছে। এতে সরকার কোনো নির্দেশনা দিচ্ছে না।
ওমানে গতকাল ইরানের হামলায় পাঁচজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরেই ইরানি মন্ত্রী জানালেন, বিপ্লবী গার্ড এখন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ করছে। এক্ষেত্রে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর রুহুল্লা খোমেনি বিপ্লবী গার্ড প্রতিষ্ঠা করেন। ওই সময় ইরানের সংবিধানও পরিবর্তন করা হয়। এতে সাধারণ সেনাবাহিনীকে দেশ ও সীমান্ত রক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। অপরদিকে বিপ্লবী গার্ড পায় ইসলামিক বিপ্লব রক্ষার দায়িত্ব।
বিপ্লবী গার্ড নিজেদের কার্যক্রমের ব্যাপারে অবহিত করে সুপ্রিম লিডারের কাছে। যেহেতু সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হয়েছেন। তাই বিপ্লবী গার্ড এখন নিজেদের মতো করে যুদ্ধ চালাচ্ছে।
ওমানে হামলার নির্দেশ আমরা দেইনি
ওমানের বন্দরে পাঁচজন নিহত হওয়ার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করেছিল সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। জবাবে তিনি বলেছেন, “ওমানে যা হয়েছে তা আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল না। আমরা আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে ইতিমধ্যে বলেছি তারা কিসে হামলা চালাচ্ছে সে ব্যাপারে যেন সতর্ক থাকে।”
এর সঙ্গে সঙ্গে তিনি বলেন, “আসল ব্যাপার হলো, আমাদের সামরিক ইউনিটগুলো এখন সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং একরকম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা আসলে আগে থেকে দিয়ে রাখা সাধারণ নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই এখন কাজ করছে।”
আরাগচির এ বক্তব্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ। তার এ কথার অর্থ হলো— নিহত হওয়ার আগে সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যে নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন বিপ্লবী গার্ড এখন সেভাবেই কাজ করছে।
তবে বার্তাসংস্থা এএফপি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হামলা চালানের ‘অজুহাত’ হিসেবে আরাগচির এমন মন্তব্য করেছেন। কারণ তারা দেশগুলোতে থাকা মার্কিন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালালেও আবার তাদের সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে চান।
সূত্র: এএফপি




