কর্পোরেট সংবাদ
এস আলমের অবৈধ নিয়োগ বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ
ব্যাংক খাতের অর্থ লুটকারী এস আলম কর্তৃক অবৈধভাবে নিয়োগকৃত অদক্ষ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ইসলামী ব্যাংক থেকে অপসারনের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে ইসলামী ব্যাংক শেয়ারহোল্ডারস ফোরাম।
সোমবার (৬ অক্টোবর) রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে মানববন্ধন করেন তারা। একই সাথে সারাদেশে ইসলামী ব্যংকের প্রতিটি শাখার সামনে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম অবিলম্বে ইসলামী ব্যংক থেকে এস আলমের মাধ্যমে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্ত করার দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে।
সমাবেশে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক থেকে অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণের আহ্বান জানান। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অবৈধ এসব কর্মকর্তাদের অপসারণ করা না হলে শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবে বলে জানিয়েছেন।
প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মো. মোহতাছিম বিল্লাহ, হাফিজুর রহমান, ইমাম হোসাইন, মাহমুদুল হাসান, এটিএম সিরাজুল হক, ড.হারুনুর রশিদ, মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও মো. রতন সহ আরো অনেকে।
এসময় ইসলামী ব্যংক গ্রাহক ফোরাম, সচেতন ব্যবসায়ী ফোরাম, ইসলামী ব্যাংক প্রাক্তন ব্যাংকার পরিষদ ও বৈষম্যবিরোধী চাকুরী প্রত্যাশী পরিষদ, সচেতন পেশাজীবী গ্রুপ, ইসলামী ব্যাংক সিবিএ এবং সচেতন ব্যাংকার সমাজ একই দাবীতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এস আলম রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যংক জবরদখল করে নেয়। এ ব্যাংক থেকে বৈধ মালিকদের ভয় দেখিয়ে বিদায় করে। পাশাপাশি বিদেশী শেয়ারহোল্ডারদেরও নানাবিধ ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিতাড়ন করে। এ ব্যাংককে নিজের কব্জায় নিয়ে তিনি ইচ্ছামত নিয়োগ দিয়ে মোটা অংকের টাকা আয় করেছেন। তিনি কোন রকম বিজ্ঞাপন ছাড়াই পটিয়া চট্টগ্রামের লোক নিয়োগ দিয়ে এ ব্যাংকের চমৎকার কর্মপরিবেশ এবং উন্নত গ্রাহক সেবা ধ্বংস করে দিয়েছেন।
বক্তারা বলেন, ইসলামী ব্যাংক মানবতা দেখিয়ে এতদিন এসব কর্মকর্তাদের চাকরিতে রেখেছে। এতে ব্যাংকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবছর এসব অবৈধ কর্মকর্তার পিছনে ১৫০০ কোটি টাকার উপরে ব্যায় হচ্ছে। ইসলামী ব্যাংক তাদের বৈধ করার জন্য যোগ্যতা মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করেছিল। ব্যাংকের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা করে তারা এ বাংকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বড় ধরণের বিদ্রোহ। এ ধরণে বিদ্রোহীদের ব্যাংকে বহাল রাকার আর কোন বৈধ পথ খোলা নাই। তাদেরকে দ্রুত অপসারণ করার জন্য বক্তারা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। তারা সারা দেশ থেকে মেধা যাচাইয়ের মাধ্যমে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী নিয়োগ দেয়ার দাবী জানান।
তারা আরো বলেন, অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্তদের অপসারণকে কোন ভাবেই মানবাধিকার লঙ্ঘন বলা যাবে না। ৬৩ টি জেলার মানুষকে বঞ্চিত করে শুধুমাত্র পটিয়া এবং চট্টগ্রামের লোকদের রাতের আঁধারে বাক্স বসিয়ে চাকরি দিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মানবাধিকার লংঘন করা হয়েছিল। অবৈধ কর্মকর্তাদের অপসারনের মাধ্যমে এ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকরা যেকোন মূল্যে ইসলামী ব্যাংককে মাফিয়ার হাত থেকে রক্ষা করবে।
জানা গেছে, এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখলের পর ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদায় শুধুমাত্র চট্টগ্রামের ৭২২৪ জনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫০০ জনের বেশি শুধুমাত্র পটিয়া উপজেলার। সারা দেশের চাকরিপ্রার্থীদের বঞ্চিত করে একটি জেলার প্রার্থীদের গোপনে নিয়োগ দিয়ে ব্যাংকের শৃংখলা চরমভাবে ধ্বংস করা হয়েছে।
এছাড়াও ব্যাংকের পুরোনো কর্মীদের ব্যাংক থেকে বিতাড়ন করে নিজ উপজেলার লোক নিয়োগ দেয়ার কর্মসূচী হাতে নেয় এস আলম। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে জুলাই বিপ্লব পর্যন্ত ব্যাংকের দেড় শতাধিক কর্মকর্তা কর্মচারিকে নানাবিধ ভয়ভীতি দেখিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় এবং বরখাস্ত করে।
নূরুল হক নামক একজন ড্রাইভার বলেন, আমাকে তৎকালীন এইচআরের একজন প্রতিনিধি ডেকে নিয়ে বলেন “আপনি পদত্যাগপত্র জমা দেন। তা না হলে আপনি সার্ভিস বেনিফিট থেকে বঞ্চিত হবেন।” বাধ্য হয়ে আমি পদত্যাগপত্র জমা দেই। এভাবে বারবার চাপ দেয়া হয়। আমার মত খলিল, আব্দুর রহমান, আব্দুল মোমিন ও দেলোয়ারও পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, এভাবে ড্রাইভার, মেসেঞ্জার ও ক্লিনারসহ কয়েকশ নিম্নপদস্থ এবং আরো বেশ কিছু কর্মকর্তা ও নির্বাহীদের জোরপূর্বক অবসরে পাঠানো হয়। আমাদের সবারই চাকরির বয়স আরও পাঁচ বছর অবশিষ্ট ছিল। এস আলমের পিএস আকিজ উদ্দিন পটিয়া উপজেলা থেকে লোক নিয়োগ দেয়ার জন্য এমন করেছিল বলে তিনি জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাহী বলেন, এস আলমের কথামত ভুয়া বিনিয়োগের ফাইলে সাক্ষর না করায় ব্যাংকের বেশ কজন ঊর্ধ্বতন নির্বাহীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের হাতে হাতকড়া পরিয়ে অপরাধী হিসেবে মিডিয়ার সামনে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তার যোগ্যতা ও দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য ব্যাংক ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র মাধ্যমে মূল্যায়ন পরীক্ষার আয়োজন করে। এসব কর্মকর্তারা মূল্যায়ন পরীক্ষা দিতে অস্বীকার করে। ২৭ সেপ্টেম্বর এসব কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে ৫৩৮৫ জনের মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে বলা হয়। ব্যাংকের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে এদের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৪৯৭১ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকে। এর মধ্যে ৪১৪ জন কর্মকর্তা মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশ নেন। যারা পরীক্ষায় অংশ নেয়নি ব্যাংক তাদের ওএসডি করেছে এবং বিদ্রোহী ৪০০ জনকে চাকুরিচ্যুত করেছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত তাদেরকে অপারেশনাল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে।
কর্পোরেট সংবাদ
বিদেশি বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে বিডা-ইউসিবি সমঝোতা স্মারকে সই
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যাংকিং সেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সমঝোতা স্মারক সই করেছে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি)। এর ফলে ইউসিবির সেবা বিডার অনলাইন ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালের সঙ্গে যুক্ত হবে।
সম্প্রতি বিডার প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিডার মহাপরিচালক জীবন কৃষ্ণ সাহা এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদনান মাসুদ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এই চুক্তিতে সই মাধ্যমে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিভিন্ন আর্থিক ও প্রশাসনিক কাজ আরও সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিডার নির্বাহী সদস্য এয়ার কমোডর মো. শাহারুল হুদা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক মো. শাহীনুজ্জামান, ইউসিবির ট্রানজেকশন ব্যাংকিং ডিভিশনের প্রধান শাহবাজ তালাতসহ ঊর্ধতন কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, বিডার অনলাইন ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালটি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে কোম্পানি নিবন্ধন, ইউটিলিটি সংযোগ, আমদানি অনুমোদনসহ ৫০টিরও বেশি সেবা এক জায়গায় পাওয়া যায়। এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হওয়ার ফলে ইউসিবি এখন সরাসরি ব্যাংকিং সেবা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সহায়তা সহজেই প্রদান করতে পারবে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি পৌঁছে যাবে নগদে
২০২৬ সালে ভর্তিকৃত ষষ্ঠ শ্রেণি (স্কুল ও মাদ্রাসা) এবং ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ ও আলিম প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নগদ নম্বরে উপবৃত্তির টাকা পেতে শুরু হয়েছে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম।
নতুন শিক্ষার্থীদের তথ্য নিবন্ধনের জন্য https://hsp.pmeat.gov.bd/login এই লিংকে গিয়ে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করতে হবে। এরপর মেন্যুতে গিয়ে ‘প্রাথমিক নির্বাচন’ অপশনে চাপ দিয়ে ‘নতুন শিক্ষার্থী এন্ট্রি’ অপশনে চাপ দিতে হবে। এরপর এন্ট্রি ফরমে শিক্ষার্থীর তথ্য, ঠিকানা ও আর্থসামাজিক তথ্য এন্ট্রি করে তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করে তা সংরক্ষণ করতে হবে। আগামী ৭ মে ২০২৬ পর্যন্ত এই নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান থাকবে।
মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদে শিক্ষার্থীদের অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে পিতা/মাতার মধ্যে যাকে অভিভাবক হিসেবে নির্বাচন করা হবে, তার এনআইডি দিয়ে সংশ্লিষ্ট সিম রেজিস্ট্রেশন ও অ্যাকাউন্ট খুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টধারীর নাম হিসেবে শিক্ষার্থীর পিতা/মাতার নাম থাকবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির টাকা সফলভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে নগদ।
এ বিষয়ে নগদের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মো. সামসুল ইসলাম বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ভাতা ও উপবৃত্তির টাকা অত্যন্ত সফলভাবে বিতরণ করে আসছে নগদ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তির টাকা গ্রহণেও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে থাকবে নগদ। তিনি বলেন, সহজে সবখানে সেবা পাওয়ায় নগদ এখন মানুষের কাছে একটি আস্থার নাম।
২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে সরকার ৯ হাজার কোটি টাকার সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা নগদের মাধ্যমে বিতরণ করে। চলতি অর্থবছরে এই অঙ্ক আরো অনেক বড় হবে। সহজে যেকোনো জায়গায় নগদের ক্যাশ আউট করার সুবিধা ও সর্বনিম্ন ক্যাশ আউট চার্জের জন্য শুরু থেকেই ভাতাভোগীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে নগদ।
কর্পোরেট সংবাদ
ইবিএলের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন হাসান ও. রশিদ
দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি ব্যাংক ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি (ইবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন হাসান ও. রশিদ।
ইবিএলে যোগদানের আগে তিনি প্রাইম ব্যাংক পিএলসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যাংকিং খাতে ৩১ বছরের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হাসান দেশি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বে ছিলেন। এর মধ্যে ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ইন্দোসুয়েজ, এইচএসবিসি এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র পদে কাজ করেছেন।
ট্রান্সফরমেশন, ইনোভেশন এবং কৌশলগত নেতৃত্বের জন্য হাসান ও রশিদ সুপরিচিত। ইতোপূর্বে তিনি ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইবিএলের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এসময় তিনি ব্যাংকের অবস্থান সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে ইবিএলের ব্যালান্স শিট দ্বিগুণ হয়, ট্রেড ফাইন্যান্স কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয় এবং দেশে প্রথমবারের মতো কমার্শিয়াল পেপার ও জিরো-কুপন বন্ডের মতো আর্থিক উপকরণ চালু করা হয়।
তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন বড় অবকাঠামো প্রকল্পে অর্থায়ন, এসএমই ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করা এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতি ও ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক এবং গারভিন স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল ম্যানেজমেন্ট, থান্ডারবার্ড থেকে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাপনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল স্টুডেন্ট অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভের কৃতিত্ব অর্জন করেন এবং যুক্তরাজ্যের ওমেগা থেকে ‘ক্রেডিট প্রফেশনাল’ সনদ অর্জন করেছেন।
পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। বর্তমানে তিনি Association of Bankers, Bangladesh (এবিবি)-এর ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি রোটারি ক্লাব অব রমনা, কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবের সদস্য এবং সেন্ট জোসেফ ওল্ড বয়েজ অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গলফ খেলা ও লং ডিস্ট্যান্স রানিং এ আগ্রহী।
কর্পোরেট সংবাদ
বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডসে একাধিক স্বীকৃতি পেল ‘স্বপ্ন’
দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ বাংলাদেশ রিটেইল অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এ একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। এই অর্জনের মাধ্যমে দেশের আধুনিক খুচরা বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরাম আয়োজিত এবং বাংলাদেশ রিটেইল ফোরামের সহযোগিতায় অ্যাওয়ার্ডটির তৃতীয় আসর রাজধানীর রেডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্ভাবন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার মাধ্যমে খুচরা খাতে পরিবর্তন আনছে, এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানটির টাইটেল স্পন্সর হিসেবেও ‘স্বপ্ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫৩টি প্রতিষ্ঠানের ৩৪৭টি মনোনয়নের মধ্যে ১৬ সদস্যের বিচারক প্যানেলের কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে স্বপ্ন চারটি
গুরুত্বপূর্ণ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পায়:
* বেস্ট রিটেইল অর্গানাইজেশন অব দ্য ইয়ার-স্বপ্ন: রিডিফাইনিং রিটেইল ইন বাংলাদেশ
* বেস্ট ইউজ অব টেকনোলজি ইন রিটেইল-স্বপ্ন ভিডিও অ্যানালিটিক্স প্রজেক্ট
* মোস্ট সাসটেইনেবল রিটেইল ইনিশিয়েটিভ-ফার্ম টু শেল্ফ: ট্রেসেবল, এথিক্যাল ও ইনক্লুসিভ ফ্রেশ প্রোডিউস সাপ্লাই চেইন গড়ে তোলা
* মোস্ট ইনোভেটিভ রিটেইল ব্র্যান্ড অব দ্য ইয়ার ২০২৫-স্বপ্ন ১৬০ টাকা বিফ কম্বো
এছাড়া, ‘ট্রলি রান’ ক্যাম্পেইনের জন্য বেস্ট রিটেইল ক্যাম্পেইন ক্যাটাগরিতে স্বপ্ন ‘অনরেবল মেনশন’ অর্জন করে।
এই অ্যাওয়ার্ডের মাধ্যমে এমন রিটেইলারদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়, যারা পরিবর্তিত গ্রাহক আচরণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে, অফলাইন ও অনলাইন অভিজ্ঞতার সমন্বয় করছে এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
‘স্বপ্ন’-এর এই অর্জন প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম, গ্রাহকদের জন্য মূল্য সৃষ্টি এবং একটি টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রিটেইল পরিবেশ গড়ে তোলার ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই প্রতিফলন।
এই সাফল্যের মাধ্যমে ‘স্বপ্ন’ দেশের বিকাশমান রিটেইল খাতে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করে চলেছে এবং আধুনিক খুচরা বাণিজ্যে পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
কর্পোরেট সংবাদ
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স ও সেভেন টন এক্সপ্রেসের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি সম্প্রতি সেভেন টন এক্সপ্রেস লিমিটেডের সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এর মাধ্যমে সেভেন টন এক্সপ্রেসকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অফিসিয়াল ডেলিভারি পার্টনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই কৌশলগত চুক্তির আওতায় সেভেন টন এক্সপ্রেস লিমিটেড বাংলাদেশ ফাইন্যান্সকে সারাদেশে ডকুমেন্ট, প্যাকেজ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অপারেশনাল উপকরণ দ্রুত, নিরাপদ ও কার্যকরভাবে সরবরাহের জন্য পূর্ণাঙ্গ ডেলিভারি ও লজিস্টিকস সেবা প্রদান করবে। এই অংশীদারিত্ব বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের অপারেশনাল উৎকর্ষতা ও গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করার অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।
সহযোগিতার মাধ্যমে সেভেন টন এক্সপ্রেসের দক্ষতা ও দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স তাদের লজিস্টিকস সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে পারবে। ফলে অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে, সেবাদানের সময় কমবে এবং সামগ্রিক গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নত হবে।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কায়সার হামিদ এবং সেভেন টন এক্সপ্রেস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজ্জাদুল ইসলাম।
এ ছাড়া উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা এই অংশীদারিত্বের দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ ফাইন্যান্স জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর সমাধান গ্রহণের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ, যার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নির্ভরযোগ্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে তাদের গ্রাহকদের জন্য আরও সহজ, দ্রুত এবং নিরবচ্ছিন্ন আর্থিক সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
এমএন



