আইন-আদালত
মাহবুব উল আলম হানিফসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে পরোয়ানা
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তিনটি অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আল হানিফসহ চার জনের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারির আদেশ দিয়েছেন।
সোমবার (৬ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।
পরে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, মাহবুব উল আলম হানিফসহ চারজনের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা হিসাবে আন্দোলন দমনের জন্য ছাত্রলীগ যথেষ্ট-ওবায়দুল কাদেরের এমন মিটিংয়ে উপস্থিত থেকে একমত পোষণ করা, ২৯ জুলাই কুষ্টিয়ায় একটি মিটিং করে ছাত্র জনতাকে হত্যার নির্দেশ দেওয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এবং ছয়জনকে হত্যা করার অভিযোগ আনা হয়েছে। আজকে এসব অভিযোগ আমলে নিয়েছেন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
আগামী ১৪ অক্টোবর পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে উপস্থিত করার জন্য দিন নির্ধারণ করেছেন।
এর আগে রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে দুপুর দেড়টা থেকে চারটার মধ্যে কুষ্টিয়ার বক চত্বর থেকে অনুমান ৫০ গজ উত্তরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, বার্মিজ গলিতে সুরুজ আলী বাবু, হরিপুর গামী রাস্তা আড়ং এর সামনে শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুত্তাকিন, মো. উসামা, তুলা পট্টির গলিতে ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও ফায়ার সার্ভিসের বিপরীত দিকে রাস্তার ওপর চাকুরিজীবী ইউসুফ শেখ শহীদ হন।
কাফি
আইন-আদালত
হাসিনা-কামালের মৃত্যুদণ্ডের ৪৫৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম কালো অধ্যায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মঙ্গলবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করেন। ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ রায়ে উঠে এসেছে ভয়ংকর সব নৃশংসতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদে হত্যার নীল নকশা।
গত ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেছিলেন। পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান দুই আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি পৃথক অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার অন্যতম আসামি সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় তাকে বিশেষ বিবেচনায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া রায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত তার ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছেন এবং অপরাধগুলোকে দুটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। প্রথম শ্রেণিতে উসকানি ও প্ররোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
রায়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রাজাকার বলে সম্বোধন করেন। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত উসকানি।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্যের সঙ্গে শেখ হাসিনার কথোপকথনের রেকর্ড থেকে এটি প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই উসকানি ও প্ররোচনার সরাসরি ফল হিসেবে রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান কামালকে আমৃত্যু কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে সরাসরি হত্যার নির্দেশ ও নৃশংসতার বিষয়টি উঠে এসেছে। পূর্ণাঙ্গ রায়ের সবচেয়ে ভয়ংকর অংশটি হলো ১৮ জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত জানিয়েছেন, তৎকালীন মেয়র ফজলে নূর তাপস এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল সভাপতি হাসানুল হক ইনুর সঙ্গে কথোপকথনে শেখ হাসিনা ড্রোনের মাধ্যমে আন্দোলনকারীদের অবস্থান নির্ণয় করে হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের সরাসরি নির্দেশ দেন।
এই নির্দেশের নিষ্ঠুর প্রতিফলন দেখা যায় ৫ আগস্ট ঢাকার চানখারপুলে, যেখানে ছয়জন এবং আশুলিয়ায় আরও ছয়জনকে গুলি করে হত্যার পর পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই পাশবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসি প্রদানের রায় ঘোষণা করা হয়।
রায়ে আদালত একটি নজিরবিহীন নির্দেশনা দিয়েছেন। দণ্ডিত ব্যক্তিদের নামে দেশে বিদ্যমান সকল স্থাবর যেমন জমি ও বাড়ি এবং অস্থাবর যেমন ব্যাংক ব্যালেন্স ও শেয়ার সম্পত্তি রাষ্ট্রকে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই বাজেয়াপ্ত করা অর্থ ও সম্পদ যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবার এবং আহতদের কল্যাণে ব্যবহৃত হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকারকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের মাধ্যমে জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এক চূড়ান্ত ধাপে উপনীত হলো। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ৪৫৭ পৃষ্ঠার এই রায়টি ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে হেলিকপ্টার ব্যবহার করে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ এবং পরবর্তীকালে লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার মতো জঘন্য অপরাধের বিচারিক দলিল হিসেবে এটি সংরক্ষিত থাকবে।
রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশিত হওয়ার পর জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই রায়ের মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হলো যে, জনগণের ওপর গুলি চালিয়ে কেউ পার পায় না। তারা এখন এই রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে এই দণ্ড কার্যকরের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা বা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন বিশিষ্টজনরা।
শহীদ আবু সাঈদ থেকে শুরু করে আশুলিয়ার পুড়ে যাওয়া সেই দেহগুলো, সবার রক্তের যে ঋণ, এই ৪৫৭ পৃষ্ঠার রায়ে তার আংশিক বিচার প্রতিফলিত হয়েছে। বিচার বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করেছে; এখন দেখার বিষয় সরকার কত দ্রুত দণ্ডিতদের ফিরিয়ে এনে এবং তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে।
এমকে
আইন-আদালত
শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান।
গত ৫ জানুয়ারি একই আদালত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। পরে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ৮ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), রাজউকের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
পরবর্তীতে মামলায় যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এমকে
আইন-আদালত
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন ফের পেছাল
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য থাকলেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত নতুন এ দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে ৯২ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলে সময় চাইলো তদন্ত সংস্থা।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে সুইফট কোডের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ ডলার হাতিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে ওই টাকা ফিলিপাইনে পাঠানো হয়। সংশ্লিষ্টরা ধারণা করেন, দেশের অভ্যন্তরের কোনো চক্রের সহায়তায় হ্যাকার গ্রুপ রিজার্ভের অর্থ পাচার করেছে।
ওই ঘটনায় ২০১৬ সালের ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্টের উপ-পরিচালক জোবায়ের বিন হুদা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ ধারাসহ তথ্য ও প্রযুক্তি আইন-২০০৬ এর ৫৪ ধারায় ও ৩৭৯ ধারায় মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি সিআইডির তদন্তাধীন।
এমকে
আইন-আদালত
হাসিনার প্লট দুর্নীতির দুই মামলার যুক্তিতর্ক, সাক্ষ্যগ্রহণ আজ
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সরকারি প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার সন্তানদের বিরুদ্ধে দায়ের করা দুটি পৃথক মামলায় আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা এক মামলায় আজ যুক্তিতর্ক অনুষ্ঠিত হবে।
অপরদিকে, শেখ হাসিনা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা আরেকটি মামলায় একই দিনে অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
মামলা দুইটিতেই শেখ হাসিনা ও ব্রিটিশ সংসদ সদস্য টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পৃথকভাবে এসব মামলা দায়ের করে।
এই দুই মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম ও উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
এছাড়া পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন শেখ হাসিনার একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এমকে
আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সালমান-আনিসুলের বিচার শুরু
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যায় উসকানি দেওয়ার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ সোমবার এ আদেশ দিন।
বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সূচনা বক্তব্যের জন্য দিন রাখা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হক উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের কাছে জানতে চান, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। এ সময় তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলি মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম এবং আসামিপক্ষে মনসুরুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপক্ষের শুনানি শেষে গেল ৬ জানুয়ারি সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে তিনি তার আসামিদের নির্দোষ দাবি করেন। সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি-প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্র।
এছাড়া সালমান ও আনিসুল হক চব্বিশের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগ। গত ৪ ডিসেম্বর অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। একইদিন সকালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।
গত ২২ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি শেষ করেছিল। শুনানির ওই পর্যায়ে সালমান ও আনিসুলের একটি বিতর্কিত ফোনালাপ ট্রাইব্যুনালে বাজিয়ে শোনানো হয়েছিল।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় করা ওই ফোনালাপের পর ঢাকা ও সারা দেশে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। কারফিউ চলাকালে আন্দোলনকারীদের ‘শেষ করে দেওয়ার’ এই প্ররোচনা হত্যাকাণ্ডে উসকানি হিসেবে কাজ করেছে।
এমকে




