আন্তর্জাতিক
গাজার একেবারে কাছাকাছি ফ্লোটিলার জাহাজ মরগানা
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার জাহাজ মরগানা ইসরায়েলি নৌবাহিনীর নজর এড়াতে সক্ষম হয়েছে এবং বর্তমানে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। বহরের বাকি নৌযানগুলোও গাজার উদ্দেশে অগ্রসর হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) ফ্লোটিলা কর্তৃপক্ষ এক্স বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে। পোস্টে একটি ম্যাপের ছবি সংযুক্ত করেছে সংগঠনটি। এতে দেখানো হয়েছে, মরগানা জাহাজটি গাজার কতটা কাছাকাছি রয়েছে।
এদিকে, ভূমধ্যসাগর হয়ে গাজার দিকে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার ১৩টি নৌ-যানকে ইসরায়েলি নৌবাহিনী আটক করেছে। এসব নৌ-যান থেকে ৩৭টি দেশের দুই শতাধিক মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র সাইফ আবু কেশেক জানান, গ্রেপ্তার যাত্রীদের মধ্যে স্পেন থেকে ৩০, ইতালি থেকে ২২, তুরস্ক থেকে ২১ এবং মালয়েশিয়া থেকে ১২ জন রয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, ইসরায়েলি নৌ-সেনারা জাহাজগুলোয় উঠে স্বেচ্ছাসেবীদের জিম্মি করছে। তারা সুইডিশ জলবায়ু কর্মী গ্রেটা থুনবার্গসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটক করা জাহাজগুলো নিরাপদে একটি বন্দরে নেওয়া হয়েছে এবং যাত্রীদের শারীরিক অবস্থা ভালো আছে। তারা ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে হামাসের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছে, তবে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেনি।
মানবাধিকারকর্মীরা ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ এবং ‘ডাকাতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ফ্লোটিলার সংগঠনও জানিয়েছে, তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলের হামলার শিকার হয়েছে, কিন্তু কোনো আইন ভাঙেনি।
অপরদিকে, জাহাজ আটক ও গ্রেপ্তারকাণ্ডেও ফ্লোটিলার মিশন থেমে নেই। এখনও প্রায় ৩০টি নৌযান গাজার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সংগঠকরা জানান, দখলদার বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে অংশগ্রহণকারীরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন গাজার উপকূলে পৌঁছাতে। মরগানা জাহাজ গাজা থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। অন্যান্য জাহাজগুলোও এর কাছাকাছি রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ইরানের অস্থিরতায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম
ইরানের অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে বাড়লো তেলের দাম। বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক দেশটিতে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই উদ্বেগ এত বেশি যে, তা ভেনেজুয়েলা থেকে তেল সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনাকেও ছাপিয়ে গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০৬ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬৪ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। এই দাম গত মধ্য নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ।
একইভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ০২ ডলার বা ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৬০ দশমিক ৫২ ডলার হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান ওপেকের অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানিকারক দেশ এবং সেখানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি বাজারের ওপর সরবরাহ ঝুঁকি তৈরি করছে।
ব্রিটিশ ব্যাংক বারক্লেস জানিয়েছে, ইরানে অস্থিরতা এখন তেলের দামের ওপর প্রতি ব্যারেল ৩০৪ ডলার পরিমাণ ‘জিওপলিটিক্যাল রিস্ক প্রিমিয়াম’ যোগ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরিস্থিতি নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এমনকি, যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে তাদের মার্কিন ব্যবসায় ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ইরান তার তেলের বড় অংশ চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে। ফলে ট্রাম্পের এ ধরনের হুমকি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও তা সরবরাহ ঝুঁকিকে পুরোপুরি দূর করতে পারেনি। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহ করা হবে।
তবে রাজনৈতিক ও কারিগরি জটিলতার কারণে এই সরবরাহ বাস্তবে কতটা আগাবে তা অনিশ্চিত।
এমকে
আন্তর্জাতিক
তেহরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের সামরিক সক্ষমতা প্রমাণ এবং যুদ্ধ করতে চায় তাহলে ইরান যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানকে ‘পরীক্ষা’ করতে চায়, তবে তেহরান তার দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত। আরাঘচির দাবি অনুযায়ী, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাতের অভিজ্ঞতার আলোকে বর্তমানে ইরানের সামরিক প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি ‘বিশাল ও বিস্তৃত’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ইরানের পক্ষ থেকে এই কঠোর প্রতিক্রিয়া এল।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে ইরানেও ‘শক্তিশালী বিকল্প’ ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প জানিয়েছেন, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য একটি বৈঠকের আয়োজন করা হচ্ছে ঠিকই, তবে বৈঠকের আগে ইরানে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।
ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে আরাঘচি বলেন যে, ওয়াশিংটন অতীতেও সামরিক পথ বেছে নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে এবং আবারও সেই ভুল করলে ইরান তা মোকাবিলায় সক্ষম। তবে একই সঙ্গে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে, বর্তমান অস্থিরতার মধ্যেও আমেরিকার সাথে যোগাযোগের কূটনৈতিক পথগুলো ইরান খোলা রেখেছে।
ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এক ভয়াবহ স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। প্রথমে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও দ্রুত তা সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরান অভিযোগ করেছে যে, গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার পেছনে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাত রয়েছে।
আরাঘচি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, কিছু পক্ষ নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টেনে আনার চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, আমেরিকা হঠকারিতা বাদ দিয়ে বুদ্ধিমানের মতো সংলাপের পথ বেছে নেবে।
বর্তমানে ইরান সরকার দাবি করছে যে তারা যেকোনো অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক সংকট মোকাবিলায় আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এখন চরম ঝুঁকির মুখে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিদেশি হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তার আগুন ‘পুরো অঞ্চলকে জ্বালিয়ে দেবে’।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও কোনো ঝটিকা অভিযানের পরিকল্পনা করলে তা একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। এখন বিশ্ব রাজনীতির নজর ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর নিবদ্ধ।
এদিকে বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্যপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। নেটব্লকস জানায়, সোমবার পর্যন্ত টানা ৯৬ ঘণ্টা দেশটি কার্যত অফলাইনে ছিল। আরাঘচি জানান, নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ইন্টারনেট সেবা পুনরায় চালু করা হবে।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট দাবি করেছেন, প্রকাশ্যে ও গোপনে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সামরিক হামলার কথা ভাবছে, অন্যদিকে ইরানের সামরিক আলোচনার প্রস্তাবও বিবেচনা করছে।
গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে যুক্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল।
এমকে
আন্তর্জাতিক
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবনে নরক সৃষ্টি করেছে: গাম্বিয়া
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। গত সোমবার এই বিচার শুরু হয়। মামলার বাদী গাম্বিয়া বলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূলের লক্ষ্যে টার্গেট করা হয়েছে। তাদের জীবনকে মিয়ানমার এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ গণহত্যা মামলা শুনানির পর্যায়ে এসেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, এর প্রভাব পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা মামলার ওপরও। মিয়ানমার শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাওদা জালো আদালতে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ছিল শান্তি ও মর্যাদায় বাঁচার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষ; কিন্তু মিয়ানমার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। বরং তাদের জীবনকে এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে, যার ভয়াবহতা কল্পনারও বাইরে।’
পশ্চিম আফ্রিকার ছোট মুসলিম দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে এই মামলা করে। ৫৭ দেশের ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সমর্থনে রোহিঙ্গাদের পক্ষে এই মামলা করে তারা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বড় পরিসরে অভিযান চালায়। এতে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তারা হত্যাযজ্ঞ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বিবরণ দেন। এর আগে ও পরে আরও তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।
জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন বলেছে, সেনা অভিযানে ‘গণহত্যার লক্ষণ’ ছিল। হেগে আদালত প্রাঙ্গণে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলায় সুবিচার প্রত্যাশা করেন।
প্রায় ৫২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী ইউসুফ আলী বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাকে নির্যাতন করেছে। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এমন একটি রায় হবে, যা বিশ্বকে জানাবে যে মিয়ানমার সত্যিই গণহত্যা চালিয়েছে এবং আমরা তার শিকার। আমরা ন্যায়ের দাবিদার।’
মিয়ানমার অবশ্য এসব অভিযোগকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী বৈধ সামরিক অভিযান বলে দাবি করে, যা মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে চালানো হয়েছিল বলে জানায় তারা। ২০১৯ সালে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন।
এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে তিন সপ্তাহ ধরে। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের উপস্থিতি ছাড়া, যাতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমন করে। এরপর থেকে দেশজুড়ে চলছে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। বর্তমানে মিয়ানমারে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন চলছে। তবে জাতিসংঘ, পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে অভিহিত করেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
এবারও কলকাতার বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ
আগামী ২২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠে এই বইমেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানান, এবারের বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো স্টল থাকছে না। গত বছরও বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। ১৯৯৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ কলকাতা বইমেলায় অংশনিলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটি অনুপস্থিত থাকছে।
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে। এবছর বইমেলায় এক হাজারের বেশি স্টল থাকবে এবং ২০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল।
মেলার প্রাঙ্গণে মোট নয়টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি আর্জেন্টিনার স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হবে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণ থাকছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার নামে একটি তোরণ উৎসর্গ করা হবে।
বইমেলায় যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোর বিশেষ বুথ থাকছে, যেখানে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে। মেলার দিনগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে এবং ছুটির দিনেও পরিষেবা মিলবে।
এ ছাড়া অ্যাপ ও কিউআর কোডের মাধ্যমে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ, স্টল খোঁজার সুবিধা এবং ভার্চুয়ালি বইমেলা দেখার সুযোগ থাকছে বলে জানানো হয়েছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে- এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্প কীভাবে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা’ সংজ্ঞায়িত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে সাধারণত চীনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত। নতুন এই শুল্ক আরোপ এসব দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন, বিমান হামলাসহ সামরিক বিকল্পগুলোর পরিকল্পনা এখনো ‘টেবিলে রয়েছে’।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে- এমন যে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে।” তিনি আরও বলেন, “এই আদেশ চূড়ান্ত ও কার্যকর।”
তবে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোন কোন দেশের কোন পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে- সে বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরপতনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈধতা নিয়েই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। তবে বিবিসিকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বর্তমানে দেশটির ভেতর থেকে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না।
এর আগে রোববার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ‘আলোচনার জন্য’ যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানিরা রাস্তায় নামেন, যখন খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান বড় ধরনের ধাক্কা খায়। গত এক বছরে ইরানের মুদ্রা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় রান্নার তেল, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
এমকে




