স্বাস্থ্য
১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে : স্বাস্থ্যকর্মী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও সেবা প্রদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সংসদে সরকারি দলের সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর (নওগাঁ-৪) টেবিলে উপস্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এসময় সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
মন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ৪৮তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ২ হাজার ৯৮৪ জন সহকারী সার্জন, ২৭৯ জন ডেন্টাল সার্জন এবং ৪৪তম বিসিএস-এর মাধ্যমে ৯৮জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস) ও ২২জন ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর ২৭তম বিসিএসের মাধ্যমে ১৬২ জন সহকারী সার্জন (এমবিবিএস ডাক্তার) নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফেনী-২ আসনের সরকারি দলের সদস্য জয়নাল আবদিনের তারকাচিহ্নিত আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ২০২০-২১ থেকে এ যাবৎ করোনা ভাইরাস মৌসুমে মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটায় ৪ হাজার ৬৪৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেই বরাদ্দ থেকে ভ্যাকসিন ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সিরিঞ্জ ক্রয়ে ব্যয় হয়েছে ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ভ্যাকসিন এবং সিরিঞ্জ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে দিতে পরিবহন ব্যয় হয়েছে ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার ৩৫৪ টাকা। সিরিঞ্জ শিপিং চার্জ হিসেবে খরচ হয়েছে ৯৯ লাখ ৯৮ হাজার ৯৮০ টাকা।’
তিনি জানান, ভ্যাকসিন ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে সরকার সর্বদা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি ৬টি শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। এই হিসাব ১৫ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৬ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়কালের।
প্রতিবেদনে অনুযায়ী, হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১১ শিশু। আর হাম শনাক্ত হয়েছে ৯২ শিশুর।
এমএন
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ((১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামে নিশ্চিত এবং উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে আট শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে এবং এক শিশু নিশ্চিত হামে মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া শিশুর মধ্যে ছয়জনই ঢাকার, দুজন চট্টগ্রামের এবং একজন রাজশাহীর।
একই সময় ১ হাজার ১০৫ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ৪৮৫ জনই ঢাকা বিভাগের। হামের উপসর্গ নিয়ে একই সময় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৯৮ শিশু। যার ২৯০ জনই ঢাকা বিভাগের। আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৭৬। যার মধ্যে ১৫৭ জনই ঢাকা বিভাগের।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল ছেড়েছে ৯৩৫ শিশু। ছাড় পাওয়া চট্টগ্রামের শিশু ঢাকার, ২৫৮ শিশু ঢাকার, ৭৯ শিশু খুলনার, ৯ শিশু ময়মনসিংহের, ৮৯ শিশু রাজশাহীর, ১৩ শিশু রংপুরের, ২৬ শিশু সিলেটের এবং ৫০ শিশু বরিশালের।
এর আগে গত রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বাকি পাঁচ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামে মোট ৩১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৬৪ শিশুর।
এ ছাড়া হামের উপসর্গ পাওয়া ১৮ হাজার ১২৯ শিশুর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১১ হাজার ৬৫২ শিশু। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৮৯৭ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। আর সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯ হাজার ৩০৪ শিশু বাসায় ফিরেছে বলেও জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ১৪২৮ জন শিশু।
রোববার (১২ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে। বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে (সন্দেহজনক)।
এছাড়া নতুন আক্রান্ত ১৪২৮ জনের মধ্যে ১৫০ জন নিশ্চিতভাবে এবং ১২৬৮ জন সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে হামের লক্ষণ নিয়ে বা সন্দেহজনক হিসেবে মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫১ জন শিশুর। অর্থাৎ, গত এক মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১৭৯ জন শিশুর মৃত্যু হলো।
একই সময়ে সারাদেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। এছাড়া সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ২২৫ জনে।
স্বাস্থ্য
ঢাকার দুই সিটিতে টিকা দেয়া হলে নিয়ন্ত্রণে আসবে হাম: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা দেয়া গেলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্মেলন কক্ষে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে বর্তমান সরকার। ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সম্পন্ন করা গেলে হাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সরকার এরইমধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেইসঙ্গে মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’
এদিকে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী আয়োজনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৯ মাস পর্যন্ত যাদের বয়সি শিশুদের অবশ্যই টিকা দিতে হবে। শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিলো কি না তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
‘অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে’ যোগ করেন এম এ মুহিত।
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। আজ ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার এই টিকাদান কর্মসূচি। ঢাকার দুই সিটিতে টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার শিশু। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
স্বাস্থ্য
হাম ও উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু
গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৮৭ জন এবং নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৪২ জন। একই সময়ে হাম সন্দেহে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত হামে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ১৮৭ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১২ হাজার ৩২০ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৬৪২ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দুই হাজার ২৪১ জন।
১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আট হাজার ২৫১ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন পাঁচ হাজার ৮০১ জন।
মৃত্যুর হিসেবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি চার জনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। একই সময়ে জেলার তালিকাতেও রাজশাহীতে সর্বোচ্চ চার জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিত এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে ছয় জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জনের।



