আইন-আদালত
সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ আটক
সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) শেখ মামুন খালেদকে আটক করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার রাতে তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি ডিবির একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাতে সাবেক ওই সেনা কর্মকর্তাকে মিন্টুরোডে ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব) শেখ মামুন খালেদকে আমরা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে এসেছি। কিছু বিষয়ে আমরা উনার সঙ্গে কথা বলব। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
আটক এই সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও ভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে রাজনৈতিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে।
এর আগে গত বছরের ২২ মে ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদ, কর কমিশনার আবু সাঈদ মো. মুস্তাক এবং জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল টি. এম. জোবায়েরের ভায়রা ভাই খন্দকার আবুল কাইয়ুমের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব ওই আদেশ দেন।
আইন-আদালত
অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
সদ্য নিয়োগ পাওয়া দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় তিনি কিছু প্রয়োজনীয় নথিতে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলকে দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য। এ ছাড়া তিনি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ব্যারিস্টার কাজল ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সদস্য হন।
এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। পদত্যাগ করে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নেন। এমপি নির্বাচনের পর সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হন আসাদুজ্জামান।
এমএন
আইন-আদালত
অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হচ্ছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ওই সময় থেকে অ্যাটর্নি জেনারেলের পদটি শূন্য রয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সর্বশেষ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এক্সিকিউটিভ কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আইন-আদালত
ছেলেকে মৃত দেখিয়ে মামলা : শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি
পুরান ঢাকার কেরানীগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে জিহাদ (১১) নামের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগের মামলায় তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১২৪ জনকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের উপপরিদর্শক বদিয়ার রহমানের ফাইনাল প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত।
তদন্ত কর্মকর্তা গত বছরের ১১ আগস্টে তদন্ত শেষে আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। পরে আদালত পর্যালোচনা শেষে ওই বছরের ৩০ নভেম্বরে মামলাটি থেকে সব আসামিকে অব্যাহতির আদেশ দেন। কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিআরও আবদুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তদন্তে ভুক্তভোগী জিহাদ জীবিত থাকা ও ঘটনাস্থল নিয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং সম্পূর্ণ ভিন্ন স্থানে (হাজারীবাগ) জখম হওয়ার ঘটনাকে কেরানীগঞ্জে ‘হত্যা’ সাজিয়ে করা এই মামলায় ‘তথ্যগত ভুল’ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এই অব্যাহতির আদেশ দেন।
অব্যাহতি পাওয়া আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আসাদুজ্জামান খান কামাল, শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আদালতের আদেশে বলা হয়, মামলার এজাহার, চার্জশিট এবং ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, এটি হত্যা মামলা হলেও ভুক্তভোগী জীবিত রয়েছে।
তিনি শুধু জখমপ্রাপ্ত হয়েছেন; যা স্বয়ং নিজেই আদালতে স্বীকার করেছেন। এ অবস্থায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় করা মামলাটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
আইন-আদালত
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
সংবিধানে বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বহাল রেখে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রায়ে সবশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
গত ২০ নভেম্বর ওই রায় দিয়েছিলেন সর্বোচ্চ আদালত।
১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের আমলে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০১১ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল ঘোষণা করে রায় দিলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটে।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০১১ সালের সেই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হলে নতুন করে আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নেন সর্বোচ্চ আদালত। পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত দেন সর্বোচ্চ আদালত।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারকের পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারক হলেন– বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
এমএন
আইন-আদালত
বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা যাবে: আপিল বিভাগ
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে কোনো বাধা থাকলো না।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট।
এ বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়।
সেদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলে দ্বিধা বিভক্ত রায় দেন হাইকোর্ট। বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফাতেমা নজীব চুক্তি প্রক্রিয়া অবৈধ ঘোষণা করেন। বেঞ্চের জুনিয়র বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার রিট খারিজ করে চুক্তি প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেন।
পরে নিয়মানুযায়ী প্রধান বিচারপতি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠানো হয়।
গত ২৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। একইসঙ্গে আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।
গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি হাবিবুল গনি ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন। একইসঙ্গে যেকোনো অপারেটরকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব (নিযুক্ত) দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি অনুসারে ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক পাবলিক বিডিং (দরপত্র আহ্বান) নিশ্চিত করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে।
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনটির সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিটটি করেন। রিটে নৌসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়।
নিউমুরিং টার্মিনালে সবই আছে, তবু কেন বিদেশির হাতে যাচ্ছে’ শিরোনামে গত ২৬ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ছাপা হয়। এ প্রতিবেদনসহ এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে এনসিটি পরিচালনায় ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র আহ্বান করার নির্দেশনা চেয়ে রিটটি করা হয়।
এমএন



