Connect with us

মত দ্বিমত

স্বাধীনতার আগমন

Published

on

আকিজ

রাত পোহালেই ভোর হবে
একটি নতুন সূর্য উঠবে আকাশে,
পঞ্চান্ন বছর আগের সেই প্রভাতের মতো
যেখানে রক্তের ভেতর থেকে জন্ম নিয়েছিল একটি দেশ।

এই মাটির গন্ধে আছে ইতিহাস,
ধানক্ষেতে শিশির ভেজা স্বপ্ন,
নদীর জলে ভেসে আসে
অসংখ্য অশ্রু আর অগণিত হাসির গল্প।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

মানুষগুলো সহজ, তবু গভীর,
তাদের চোখে ক্লান্তি, তবু আশার আলো,
গ্রামের পথে হাঁটলে শোনা যায়
বাউল গানের ভাঙা সুরে স্বাধীনতার ডাক।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবুজের বুক চিরে লাল সূর্য ওঠে
জাতীয় পতাকার রঙে মিশে থাকে ভালোবাসা,
এই পতাকা শুধু কাপড় নয়
এটি আমাদের আত্মার পরিচয়।

সঙ্গীতে বাজে ইতিহাস
প্রতিটি সুরে প্রতিধ্বনি তোলে মুক্তির গান,
ভালোবাসা এখানে কেবল মানুষে মানুষে নয়
এটি মাটির সাথে, নদীর সাথে, আকাশের সাথে এক অদ্ভুত বন্ধন।

প্রকৃতি এখানে কথা বলে
কখনো কাশফুলে, কখনো বর্ষার বৃষ্টিতে,
কখনো শিউলির গন্ধে ভোরের আলোয়
স্বাধীনতার স্মৃতি জেগে ওঠে নীরবে।

আমরা সেই মানুষ
যারা হারিয়ে গিয়েও খুঁজে পায় নিজেদের,
যারা ভেঙে পড়েও দাঁড়ায় আবার
একটি পতাকার নিচে, এক সুরের টানে।

যেখানে নতুন প্রজন্ম প্রতিবাদ করতে জানে
জানে, প্রয়োজনে সবকিছু ভেঙে চুরমার করতে
পারে নতুন করে লিখতে এক নতুন সংবিধান
যেখানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা লেখা থাকবে,
থাকবে না অবিচার, অন্যায় আর বৈষম্যের ছায়া
সকলেই মিলে গড়িব দেশ, স্বাধীন সোনার বাংলাদেশ।

রাত পোহালেই আবার মনে পড়ে
স্বাধীনতা কোনো শেষ নয়, এটি একটি শুরু,
যেখানে প্রতিটি হৃদয় প্রতিজ্ঞা করে
দেশকে ভালোবাসার, নতুন করে গড়ার।

এই আমার বাংলাদেশ
মানুষ, মাটি, সংস্কৃতি আর ভালোবাসার এক অমলিন নাম,
যেখানে প্রতিটি ভোরে নতুন করে জন্ম নেয়
স্বাধীনতার আগমন।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক

শেয়ার করুন:-

মত দ্বিমত

চিন্তার অভাব নাকি তথ্যের দুনিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছি আমরা

Published

on

আকিজ

আমরা কি ধীরে ধীরে আমাদের চিন্তার ক্ষমতাটুকুও অন্যের হাতে তুলে দিচ্ছি, নাকি এমন এক সময়ে এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে আমরা উত্তর জানি, কিন্তু চিন্তা করতে ভুলে গেছি?

সহজ পথ বেছে নেওয়া মানুষের স্বভাব। কিন্তু যখন সেই সহজ পথ আমাদের চিন্তা করার ক্ষমতাকেই অপ্রয়োজনীয় করে তোলে, তখন সেটি আর শুধু সুবিধা থাকে না, ধীরে ধীরে তা এক ধরনের নির্ভরতা হয়ে ওঠে। এখন সেই সহজ পথের নাম কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। কাজ দ্রুত হচ্ছে, ঝামেলা কমছে, ক্লান্তিকর চিন্তার প্রয়োজন কমে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা কি খেয়াল করছি, এর বিনিময়ে আমরা কী ছেড়ে দিচ্ছি?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সামাজিক মাধ্যমে এখন প্রায়ই এমন লেখা চোখে পড়ে, যেখানে প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে সতর্ক করা হয়, অথচ পুরো লেখাটিই তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে। আরও বিস্ময়কর হলো, সেই লেখার নিচে যে আলোচনা, যে মতবিনিময়, তার বড় অংশও একইভাবে তৈরি। প্রথমে বিষয়টি মজার মনে হতে পারে। কিন্তু একটু গভীরভাবে দেখলেই বোঝা যায়, এটি নিছক কৌতুক নয়, এটি আমাদের চিন্তার জায়গা দখল করে নেওয়ার একটি নীরব প্রক্রিয়া।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবচেয়ে অস্বস্তিকর সত্য হলো, এগুলো কোনো ভুয়া পরিচয় বা অদৃশ্য কোনো বটের কাজ নয়। আমাদের আশেপাশের মানুষ, পরিচিত মুখ, শিক্ষিত নাগরিক, তাঁরাই নিজেদের পড়ার বোঝাপড়া, বিশ্লেষণ এবং এমনকি অন্যের সঙ্গে সংলাপের দায়িত্বও একটি অ্যালগরিদমের হাতে তুলে দিচ্ছেন। যে অ্যালগরিদম মানুষের ভাষা অনুকরণ করতে পারে, কিন্তু মানুষের অভিজ্ঞতা, দ্বিধা, নৈতিক টানাপোড়েন বা দায়বোধের ভেতর দিয়ে যায় না।

এই প্রবণতা যদি শুধু ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে হয়তো উদ্বেগ কম হতো। কিন্তু বিষয়টি এখন নীতিনির্ধারণী স্তরেও প্রভাব ফেলছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজস্ব বিশ্লেষণের পরিবর্তে প্রস্তুত করা উত্তর বা সারাংশের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। এর ফলে সিদ্ধান্তের ভেতরের জবাবদিহিতা কোথায়, সেই প্রশ্নটি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যাচ্ছে। আমরা কি বুঝতে পারছি, এতে করে ভুল হলে দায় নেবে কে?

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গভীর। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় এখনো মুখস্থনির্ভরতা একটি বড় বাস্তবতা। সেখানে যদি চিন্তা, বিশ্লেষণ এবং নিজে বোঝার প্রক্রিয়াটুকুও প্রযুক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়, তাহলে আমরা এমন একটি প্রজন্ম তৈরি করব, যারা তথ্য জানে, কিন্তু বোঝে না; উত্তর দেয়, কিন্তু প্রশ্ন করতে শেখে না।
আজ অনেক শিক্ষার্থী বই খুলে পড়ার আগেই উত্তর খুঁজে ফেলে। তারা বিষয়টি নিয়ে লড়াই করে না, ভুল করে না, আবার চেষ্টা করে না। ফলে শেখার যে ধীর, কষ্টসাধ্য কিন্তু গভীর প্রক্রিয়া, সেটি ভেঙে পড়ে। পরীক্ষায় ভালো ফল করা সম্ভব, কিন্তু জ্ঞান ভিতরে গেঁথে বসে না। এর প্রভাব আমরা ইতিমধ্যেই দেখতে শুরু করেছি, সাধারণ জ্ঞানের ঘাটতি, ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতা, এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের মৌলিক ধারণা সম্পর্কে অস্পষ্টতা।

আমরা ধর্মীয় গ্রন্থ প্রতিদিন পড়ি, নৈতিক বা আধ্যাত্মিক শিক্ষা পাই, কিন্তু কতজন তাৎপর্য উপলব্ধি করে বা সেই অনুযায়ী কাজ করে? দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো, যা আমাদের চরিত্র ও বিচারের জন্য অপরিহার্য, তা প্রায়শই কোনো রিফ্লেকশন ছাড়া দ্রুত অতিক্রম হয়ে যায়। তথ্যের দ্রুততা ও শর্টকাটে অভ্যস্ত হয়ে আমরা এমন একটি যুগে পৌঁছেছি যেখানে টিকটকের কয়েক সেকেন্ডের ভিডিও আমাদের মনকে আটকে রাখে, আর নিজের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড বা ফোন নম্বর মনে রাখা পর্যন্ত এখন অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে নিজের মনন ও চিন্তার গভীরতা হারাতে শুরু করেছি।

কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে পুরো ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ এই একই প্রযুক্তি, যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে বাংলাদেশের বহু দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথও খুলে দিতে পারে।

দুর্নীতি দমনে আমরা বহু বছর ধরে সংগ্রাম করছি। ঘুষ, অনিয়ম, প্রভাব, এসব যেন অনেক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেয়েছে। এখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা তৈরি করতে পারে। অস্বাভাবিক আর্থিক লেনদেন শনাক্ত করা, সরকারি সেবায় অস্বচ্ছতা চিহ্নিত করা, কিংবা নির্দিষ্ট প্যাটার্নের মাধ্যমে অনিয়ম ধরার ক্ষেত্রে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। যেখানে মানুষ প্রভাবিত হয়, সেখানে প্রযুক্তি অন্তত একটি নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক হতে পারে, যদি আমরা তাকে সেইভাবে ব্যবহার করতে চাই।

শিক্ষাক্ষেত্রে নকল নিয়ন্ত্রণেও এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা বিশাল। প্ল্যাগিয়ারিজম শনাক্ত করা, পরীক্ষার উত্তর বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক মিল খুঁজে বের করা, কিংবা শিক্ষার্থীর শেখার দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাকে আলাদা করে সহায়তা করা, এসবই সম্ভব। অর্থাৎ, যে প্রযুক্তিকে আমরা শর্টকাট হিসেবে ব্যবহার করছি, সেটিকেই আমরা মান উন্নয়নের হাতিয়ার হিসেবেও গড়ে তুলতে পারি।

গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার কথা ভাবুন। দেশের অনেক এলাকায় এখনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তার পাওয়া কঠিন। সেখানে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, জরুরি স্বাস্থ্য পরামর্শ, এমনকি দূরবর্তী চিকিৎসা সেবার মাধ্যমে একজন রোগীকে দ্রুত সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া সম্ভব। একটি সঠিক সময়ে দেওয়া পরামর্শ অনেক ক্ষেত্রে একটি জীবন বাঁচাতে পারে। এই জায়গায় প্রযুক্তি একটি সহায়ক শক্তি, বিকল্প নয়।

অর্থাৎ, সমস্যা প্রযুক্তির অস্তিত্বে নয়, সমস্যা আমাদের ব্যবহারে। আমরা কি এটিকে সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করছি, নাকি নিজের দায়িত্ব এড়ানোর একটি সহজ অজুহাত হিসেবে নিচ্ছি, সেটিই মূল প্রশ্ন।

মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তি তৈরি হয় প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে। কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে, ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে, আবার ফিরে এসে ঠিক করার মধ্য দিয়ে। এই যাত্রাটি কষ্টসাধ্য, কিন্তু এই কষ্টের মধ্যেই তৈরি হয় বিচারবোধ, ধৈর্য এবং দায়িত্ববোধ। যদি আমরা সেই প্রক্রিয়াটিই বাদ দিয়ে দিই, তাহলে আমরা শুধু কাজের ফল পাব, কিন্তু মানুষ হিসেবে বেড়ে ওঠার সুযোগ হারাব।

আজকের তরুণদের দিকে তাকালে একটি দ্বৈত চিত্র দেখা যায়। একদিকে তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি তথ্যের নাগালে আছে। অন্যদিকে সেই তথ্যকে জ্ঞানে রূপান্তর করার ধৈর্য ও অভ্যাস কমে যাচ্ছে। ইতিহাস, সাহিত্য, দর্শন, যে বিষয়গুলো একটি মানুষের চিন্তার ভিত্তি তৈরি করে, সেগুলোর সঙ্গে সংযোগ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। কারণ, প্রয়োজন হলে একটি অ্যাপই কয়েক সেকেন্ডে সব উত্তর দিয়ে দিচ্ছে।

কিন্তু জ্ঞান কখনোই প্রস্তুত উত্তর নয়। জ্ঞান হলো প্রশ্ন করার সাহস, অস্বস্তির মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকার ক্ষমতা, এবং নিজে বুঝে ওঠার এক দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়া ছাড়া তথ্য আসে, কিন্তু প্রজ্ঞা জন্মায় না।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখানেই। আমরা কি ধীরে ধীরে এমন একটি সমাজের দিকে এগোচ্ছি, যেখানে অধিকাংশ মানুষ নিজে চিন্তা করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে, এবং একই সঙ্গে সেই চেষ্টা করার ইচ্ছাটুকুও হারিয়ে ফেলছে? যদি তা হয়, তাহলে সেই সমাজকে প্রভাবিত করা, বিভ্রান্ত করা এবং নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়ে যাবে।
প্রযুক্তি আমাদের শত্রু নয়। কিন্তু প্রযুক্তির ওপর অন্ধ নির্ভরতা আমাদের ভেতরকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এখনই সময় নিজেকে প্রশ্ন করার, আমি কি প্রযুক্তিকে ব্যবহার করছি, নাকি অজান্তেই প্রযুক্তিই আমাকে ব্যবহার করছে?

তথ্য আমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু চিন্তা আমাদের ভেতর থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

রমজানের এই মাসে আল্লাহ, তুমি আমাদের মন সংস্কার করে দাও

Published

on

আকিজ

রমজান আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং আত্মসমালোচনার মাস। এই মাস মানুষকে শুধু ব্যক্তিগত ধার্মিকতার দিকে নয়, সামাজিক ন্যায়বোধ এবং নৈতিকতার দিকেও ফিরে তাকাতে শেখায়। বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় যদি আমরা রমজানের শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে উপলব্ধি করতে পারি, তাহলে সমাজ ও রাষ্ট্রে যে জটিলতা, বিভ্রান্তি এবং জালিয়াতির সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তার থেকে বেরিয়ে আসার পথও খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে বহু বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে, সংস্কার কি সত্যিই পরিবর্তনের জন্য, নাকি ক্ষমতা ও প্রভাব ধরে রাখার আরেকটি কৌশল। রাষ্ট্রের বিভিন্ন স্তরে সংস্কারের কথা বলা হয়, কিন্তু বাস্তবে সেই সংস্কার প্রায়ই আটকে যায় স্বার্থের দেয়ালে। কখনো রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, কখনো প্রশাসনিক জটিলতা, আবার কখনো ব্যক্তিগত লোভ ও ক্ষমতার খেলায় প্রকৃত পরিবর্তনের সম্ভাবনা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে বিশ্বাসের সংকটে। মানুষ যখন দেখে যে নীতি, আদর্শ এবং ন্যায়বিচারের কথা বলা হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হয় না, তখন সমাজের ভেতরে সন্দেহ ও হতাশা জন্ম নেয়। এই পরিস্থিতি থেকে ধীরে ধীরে একটি বিপজ্জনক সংস্কৃতি তৈরি হয়, যেখানে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলাফল হিসেবে জনগণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের সম্পর্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

রমজানের শিক্ষা এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দিতে পারে। রোজা মানুষকে শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করতে শেখায় না, এটি মানুষকে সততা, আত্মসংযম এবং জবাবদিহিতার মূল্যও মনে করিয়ে দেয়। ইসলামের মূল শিক্ষায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, অন্যায়, প্রতারণা এবং মিথ্যার ওপর কোনো সমাজ দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না। সত্য এবং ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে যে সমাজ গড়ে ওঠে, সেই সমাজই টেকসই এবং শান্তিপূর্ণ হয়।

বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় সংস্কারের প্রশ্নকে নতুনভাবে ভাবতে হবে। সংস্কার মানে শুধু আইনের পরিবর্তন নয়, বরং মানসিকতা ও নৈতিকতার পরিবর্তন। যদি সমাজের মানুষ, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং প্রশাসন একই সঙ্গে নিজেদের ভেতরে আত্মসমালোচনার সাহস দেখাতে পারে, তাহলে পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে।

প্রথমত, সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা। রাষ্ট্র ও সমাজে সত্যকে আড়াল করার প্রবণতা যতদিন থাকবে, ততদিন কোনো সংস্কার স্থায়ী হবে না। সত্য প্রকাশের সাহস থাকতে হবে, এমনকি সেই সত্য অস্বস্তিকর হলেও।

দ্বিতীয়ত, জবাবদিহিতা। ক্ষমতার যে কোনো অবস্থানে থাকুক না কেন, প্রত্যেককে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে। এই জবাবদিহিতা যদি কেবল আইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেও প্রতিষ্ঠিত হয়, তাহলে দুর্নীতি ও প্রতারণার সুযোগ অনেক কমে যাবে।

তৃতীয়ত, নাগরিক সচেতনতা। একটি রাষ্ট্র তখনই শক্তিশালী হয় যখন তার নাগরিকরা সচেতন ও দায়িত্বশীল হয়। মানুষ যদি সত্যকে চিনতে শেখে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব না থাকে, তাহলে কোনো জালিয়াতি বা প্রতারণা দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

রমজান আমাদের শুধু উপবাসের শিক্ষা দেয় না, এটি আমাদের শেখায় সত্যের প্রতি শ্রদ্ধা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহস এবং নিজের ভুল স্বীকার করার শক্তি। একটি জাতির প্রকৃত পরিবর্তন কখনো কেবল আইন, ক্ষমতা বা রাজনৈতিক স্লোগানের মাধ্যমে আসে না। পরিবর্তনের শুরু হয় মানুষের অন্তরে।

যদি আমরা সত্যকে লুকিয়ে রাখি, অন্যায়কে প্রশ্রয় দিই এবং প্রতারণাকে স্বাভাবিক মনে করি, তাহলে কোনো সংস্কারই স্থায়ী হবে না। কিন্তু যদি আমরা নিজেদের মনকে সত্য, সততা এবং ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে পারি, তাহলে সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির ভবিষ্যৎও পরিবর্তিত হতে পারে।

রমজানের এই পবিত্র সময় আমাদের সামনে সেই আত্মসমালোচনার দরজা খুলে দেয়। এখন প্রশ্নটি আমাদের সবার কাছে। আমরা কি সত্যিকার অর্থে নিজেদের মনকে সংস্কার করতে প্রস্তুত, নাকি পুরোনো অভ্যাস, ভয় এবং স্বার্থের ভেতরেই আটকে থাকতে চাই। কারণ মানুষের মন পরিবর্তন হলেই সমাজ, রাষ্ট্র এবং জাতির প্রকৃত সংস্কার সম্ভব।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

ধর্ম, ভূরাজনীতি এবং মানবজাতির অস্তিত্ব

Published

on

আকিজ

মধ্যপ্রাচ্য যখন ইরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং জনঅসন্তোষের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে এক নতুন ধর্মীয় বয়ান তৈরি হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, এই দুই প্রান্তের অস্থিরতার মধ্যে কি কোনো অদৃশ্য কৌশলগত সংযোগ আছে?

ইরানের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক অসন্তোষ জমে আছে। অন্যদিকে ইসরায়েল তার নিরাপত্তা কৌশলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রেখেছে। এমন বাস্তবতায় একটি প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবে উঠে আসে: আঞ্চলিক শক্তিগুলো কি অভ্যন্তরীণ সংকটকে বহির্মুখী সংঘাতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করছে?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা এবং তার পরবর্তী সময়ে তাকে “ঐশ্বরিকভাবে রক্ষিত নেতা” হিসেবে উপস্থাপন করার রাজনৈতিক প্রচার কি কেবল অভ্যন্তরীণ মার্কিন রাজনীতির অংশ, নাকি এটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক কৌশলের উপাদান?

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

ইসরায়েল কি তার নিরাপত্তা নীতিকে শক্তিশালী করতে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির নির্দিষ্ট ধারাকে প্রভাবিত করছে?

ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কি আঞ্চলিক উত্তেজনাকে আরও উসকে দিচ্ছে?

নাকি আমরা কেবল সমান্তরাল সংকটকে একটি বৃহৎ কাহিনিতে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি?

এই প্রশ্নগুলোই আমাদের বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতা বোঝার সূচনা বিন্দু।

বর্তমান বিশ্ব এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে ধর্মীয় ভাষা, রাজনৈতিক কৌশল এবং ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক জটিল বিন্যাস তৈরি করেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এবং “শেষ সময়ের যুদ্ধ” ধরনের ভাষার পুনরুত্থান আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। এই প্রতিবেদনটি ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে বিশ্লেষণ করছে।

১. ট্রাম্পকে ঘিরে “ঐশ্বরিক রক্ষা” ধারণা: ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর হত্যাচেষ্টা এবং তার বেঁচে যাওয়া মার্কিন রাজনীতিতে গভীর প্রতীকী প্রভাব ফেলে। তার কিছু সমর্থকের মধ্যে ধারণা জোরদার হয় যে তিনি ঈশ্বরের দ্বারা রক্ষিত অথবা ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ।

এই বিশ্বাসের পেছনে কয়েকটি ধর্মীয় ব্যাখ্যা কাজ করে। মার্কিন ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের একটি অংশ মনে করে ঈশ্বর ইতিহাসে রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করেন। বাইবেলের পুরনো নিয়মে এমন উদাহরণ রয়েছে যেখানে নৈতিকভাবে নিখুঁত নন এমন রাজাকেও ঐশ্বরিক পরিকল্পনায় ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। ফলে ট্রাম্পকে কেউ কেউ নৈতিক আদর্শ নয়, বরং ঐশ্বরিকভাবে ব্যবহৃত নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি সব রিপাবলিকান বা সব খ্রিস্টানের বিশ্বাস নয়। রিপাবলিকান পার্টির কোনো আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় মতবাদ নেই। এটি একটি গোষ্ঠীগত ধর্মীয় ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক বাস্তবতার আনুষ্ঠানিক কাঠামো নয়।

২. ইরানকে “অশুভ শক্তি” হিসেবে চিত্রায়ন: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনাপূর্ণ। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং ইসরায়েল প্রশ্ন এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে। মার্কিন রক্ষণশীল রাজনীতির একটি অংশ ইরানকে কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরে।

কিছু ইভানজেলিক্যাল গোষ্ঠী বাইবেলের ভবিষ্যদ্বাণীকে আধুনিক ভূরাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করে। তাদের মতে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত “শেষ সময়ের” পূর্বাভাস হতে পারে, ইসরায়েল রক্ষা করা ঈশ্বরের পরিকল্পনার অংশ, এবং ইরান সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ শক্তি। তবে এটি মূলধারার খ্রিস্টীয় মতবাদ নয়, বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা।

৩. ইহুদি ধর্মে “শেষ সংঘাত” ধারণা: ইহুদি ধর্মে মেসিয়ানিক যুগের ধারণা রয়েছে, যেখানে ভবিষ্যতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে। কিছু ঐতিহ্যিক গ্রন্থে “গগ ও মাগগ” নামে একটি চূড়ান্ত সংঘাতের উল্লেখ আছে। কিন্তু এখানে একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। ইহুদিরা যিশুকে মেসিয়া হিসেবে মানে না এবং যিশুর পুনরাগমনে বিশ্বাস করে না। তাদের মতে ভবিষ্যৎ মেসিয়া এখনো আগমন করেননি। ফলে “শেষ যুদ্ধের পর যিশু ফিরে আসবেন” এই ধারণা ইহুদি বিশ্বাস নয়, বরং খ্রিস্টীয় ধর্মতত্ত্বের অংশ।

৪. খ্রিস্টধর্মে পুনরাগমন ও চূড়ান্ত বিচার: খ্রিস্টধর্মে বিশেষ করে উপেনবারেলসেবোকেনে একটি চূড়ান্ত আধ্যাত্মিক সংগ্রামের বর্ণনা রয়েছে। সেখানে যিশুর পুনরাগমন, ভালো ও মন্দের চূড়ান্ত বিচার এবং নতুন আকাশ ও নতুন পৃথিবীর ধারণা উল্লেখ আছে। এই পাঠে মুসলমানদের কোনো উল্লেখ নেই, কারণ ইসলাম খ্রিস্টধর্মের কয়েক শতাব্দী পরে আবির্ভূত হয়েছে। এখানে সংঘাতটি ধর্মতাত্ত্বিক অর্থে ঈশ্বর ও অশুভ শক্তির মধ্যে, আধুনিক কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়। অধিকাংশ খ্রিস্টান এই বর্ণনাকে প্রতীকী বা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম হিসেবে দেখেন।

৫. “মুসলমানদের বিরুদ্ধে শেষ যুদ্ধ” ধারণার বিশ্লেষণ: মুসলমানদের বিরুদ্ধে অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুদ্ধ সাধারণত এমন একটি ধর্মীয় রঙযুক্ত ধারণাকে বোঝায় যেখানে পৃথিবীর শেষ সময়ে ভালো ও মন্দের মধ্যে একটি চূড়ান্ত যুদ্ধ হবে, এবং সেখানে মুসলমানদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে কল্পনা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ধারণা মূলধারার কোনো ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিনিধিত্ব করে না। এটি নির্দিষ্ট কিছু উগ্র বা চরমপন্থী ব্যাখ্যার ফল। তাই বিষয়টি বোঝার জন্য আমাদের প্রথমেই দুটি জিনিস আলাদা করতে হবে। ধর্মতাত্ত্বিক বিশ্বাস এবং রাজনৈতিক বা উগ্র ব্যাখ্যা।

ইসলাম ধর্মে শেষ সময়ের ধারণা, ইসলামে “আখেরাত” ও “কিয়ামত” সংক্রান্ত একটি পূর্ণাঙ্গ তত্ত্ব আছে, যাকে এস্ক্যাটোলজি বলা হয়। কিছু হাদিসে বড় ফিতনা, আল মাহদীর আবির্ভাব এবং ঈসা আলাইহিস সালামের পুনরাগমনের কথা উল্লেখ আছে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

  • এসব বর্ণনার ব্যাখ্যা বিভিন্ন আলেম বিভিন্নভাবে করেছেন।
  • অধিকাংশ মুসলমান এগুলোকে প্রতীকী বা আল্লাহর জ্ঞানের অন্তর্গত বিষয় হিসেবে দেখেন।
  • ইসলামের মূলধারার শিক্ষা দৈনন্দিন জীবনে ন্যায়, দায়িত্ব, শান্তি ও সহাবস্থানের উপর জোর দেয়।

অর্থাৎ ইসলাম কোনো জাতি বা নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক আহ্বান দেয় না। কিছু উগ্র গোষ্ঠী এসব বর্ণনাকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু তা মূলধারার ইসলাম নয়।

খ্রিস্টধর্মে শেষ সময়ের ধারণা, খ্রিস্টধর্মেও শেষ সময় বা পৃথিবীর অন্তিম অধ্যায় নিয়ে বর্ণনা আছে। বিশেষ করে নতুন নিয়মের উপেনবারেলসেবোকেনে ভালো ও মন্দের এক চূড়ান্ত সংঘাতের কথা বলা হয়েছে, যাকে অনেক সময় হারমাগেডন বলা হয়।

  • সেখানে মুসলমানদের কোনো উল্লেখ নেই, কারণ ইসলাম খ্রিস্টধর্মের কয়েক শতাব্দী পরে আবির্ভূত হয়েছে।
  • যুদ্ধটি ধর্মতাত্ত্বিক অর্থে ঈশ্বর ও অশুভ শক্তির মধ্যে, আধুনিক কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়।
  • অধিকাংশ খ্রিস্টান এই বর্ণনাকে প্রতীকী বা আধ্যাত্মিক সংগ্রাম হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

কিছু চরমপন্থী গোষ্ঠী এসব পাঠকে আক্ষরিক অর্থে নিয়ে বর্তমান ভূরাজনীতির সাথে যুক্ত করার চেষ্টা করে। পার্থক্য মূলত তিনটি ক্ষেত্রে:

  • ইতিহাসের শেষ অধ্যায় কিভাবে বর্ণনা করা হয়েছে
  • কোন কোন ধর্মীয় চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন
  • পাঠগুলোকে আক্ষরিক না প্রতীকীভাবে ব্যাখ্যা করা হয়

দুই ধর্মের দৈনন্দিন জীবনের মূল বার্তা হলো নৈতিকতা, দায়িত্ব, শান্তি এবং ঈশ্বরের সাথে সম্পর্ক। মুসলমানদের বিরুদ্ধে অ্যাপোক্যালিপ্টিক যুদ্ধ ধরনের ভাষা সাধারণত রাজনৈতিক প্রচারণা, চরমপন্থী মতাদর্শ, সভ্যতার সংঘাত তত্ত্ব এবং ধর্মীয় পাঠের অপব্যবহারের প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। এটি মূলধারার খ্রিস্টান বা মুসলমানদের বিশ্বাসকে প্রতিনিধিত্ব করে না।

৬. ইসরায়েল প্রশ্ন ও নিরাপত্তা রাজনীতি: ইসরায়েল বর্তমানে নিরাপত্তাকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে রেখেছে। হামাস, হিজবুল্লাহ ও ইরানপন্থী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান তাদের কৌশলগত নীতির অংশ। প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখা, শত্রুকে নিরস্ত করা এবং প্রযুক্তিগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখা তাদের অগ্রাধিকার। তবে আন্তর্জাতিক মহলে সামরিক পদক্ষেপের মানবিক মূল্য, দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের অভাব এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নের অনিরসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক রয়েছে। নিরাপত্তা ও মানবিকতার দ্বৈত বাস্তবতা এখানেই স্পষ্ট।

৭. ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্ব রাজনীতিতে কয়েকটি শিক্ষা দিয়েছে:

  • জাতীয়তাবাদ বহুপাক্ষিকতার ওপর প্রাধান্য পেতে পারে।
  • ব্যক্তিকেন্দ্রিক কূটনীতি প্রথাগত কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
  • ধর্মীয় ভোটব্যাংক নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • অভ্যন্তরীণ মেরুকরণ আন্তর্জাতিক অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।

৮. ভবিষ্যৎ প্রবণতা: বিশ্ব এখন মূলত কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে প্রবেশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে প্রক্সি সংঘাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রযুক্তি, সাইবার যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা সামরিক সংঘাতের বিকল্প হাতিয়ার হয়ে উঠছে।

বিশ্ব কি ধর্মীয় শেষ যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে? বাস্তব বিশ্লেষণ বলছে, না। ধর্মীয় ভাষা ব্যবহৃত হচ্ছে, কিন্তু সিদ্ধান্তগুলো মূলত নিরাপত্তা, ক্ষমতার ভারসাম্য এবং অর্থনৈতিক কৌশলের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। ধর্মতত্ত্ব, পরিচয় রাজনীতি এবং ক্ষমতার ভাষার এই মিশ্র বাস্তবতা বোঝা আজ অত্যন্ত জরুরি। আবেগ নয়, বিশ্লেষণই হতে পারে দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের পথ।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

বিংশ শতাব্দীর কাঠামো না কি একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর: কোন পথে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা?

Published

on

আকিজ

যুদ্ধের চরিত্র বদলে গেছে। একসময় যুদ্ধ মানেই ছিল সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ, রাইফেল, কামান, ট্যাংক এবং সম্মুখসমরের সংঘর্ষ। রাষ্ট্রের শক্তি মাপা হতো সৈন্যসংখ্যা দিয়ে। বড় বাহিনী মানেই বড় শক্তি। সেই ধারণা বিংশ শতাব্দীর বাস্তবতায় কার্যকর ছিল।

কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধের কেন্দ্র সরে গেছে। আজ যুদ্ধ শুধু সীমান্তে নয়, সার্ভার রুমে, স্যাটেলাইট কক্ষপথে, ডেটা সেন্টারে এবং কন্ট্রোল রুমে। ড্রোন আকাশে উড়ছে, সমুদ্রে স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ব্যবস্থা কাজ করছে, সাইবার আক্রমণ বিদ্যুৎ গ্রিড অচল করতে পারে, ব্যাংকিং ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করতে পারে, এমনকি একটি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করে দিতে পারে।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

বিশ্বের বড় শক্তিগুলো তাদের প্রতিরক্ষা কৌশলে প্রযুক্তিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সাইবার স্পেস এখন স্বীকৃত যুদ্ধক্ষেত্র। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রব্যবস্থা এবং স্যাটেলাইট নজরদারি আধুনিক সামরিক শক্তির মূল উপাদান। সৈন্য আছে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করছে প্রযুক্তি।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

এই বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠছে, কেবল শারীরিক প্রশিক্ষণ, কুচকাওয়াজ এবং বৃহৎ জনবল দিয়ে কি আধুনিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব? সাইবার আক্রমণ রুখতে রাইফেল লাগে না। ড্রোন প্রতিরোধে প্যারেড গ্রাউন্ডের অনুশীলন যথেষ্ট নয়। স্যাটেলাইট নজরদারি মোকাবিলায় প্রয়োজন ইলেকট্রনিক দক্ষতা।

জাতীয় নিরাপত্তা এখন সীমান্তের চেয়ে বেশি নির্ভর করছে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর।

এবার বাংলাদেশের দিকে তাকাই। আমাদের প্রতিরক্ষা কাঠামো ঐতিহ্যগতভাবে জনবলনির্ভর। বৃহৎ সৈন্যসংখ্যা, বিস্তৃত প্রশাসনিক পরিকাঠামো এবং স্থায়ী ব্যয়ের কাঠামো রাষ্ট্রীয় বাজেটের বড় অংশ দখল করে আছে। প্রশ্ন হলো, এই বিপুল জনশক্তি কি পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত দক্ষতায় রূপান্তরিত হচ্ছে? নাকি আমরা এখনো সংখ্যাকে শক্তি মনে করে আত্মতুষ্ট?

শুধু বড় বাহিনী থাকলেই শক্তিশালী হওয়া যায় না। দক্ষতায় বড় হওয়াই আজকের শক্তি।

এখানেই একটি বিকল্প চিন্তার দরজা খুলে যায়। যদি সামরিক জনবলের একটি অংশকে পরিকল্পিতভাবে পুনঃপ্রশিক্ষণ দেওয়া হয় সাইবার ডিফেন্স, ডেটা অ্যানালিটিক্স, ড্রোন প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রতিরক্ষা গবেষণায়, তাহলে একই মানবসম্পদ দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে পারে। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, অন্যদিকে প্রযুক্তিভিত্তিক অর্থনীতিতে অবদান।

প্রতিরক্ষা খাতকে কেবল ব্যয়ের খাত হিসেবে দেখা হবে, নাকি মানবসম্পদ উন্নয়নের কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা হবে, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন।

বাংলাদেশের সামনে চারটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা থাকতে পারে।

প্রথমত, ডিমান্ড বেজড প্রযুক্তিগত শিক্ষা। বিশ্ববাজারে কোন দক্ষতার চাহিদা বাড়ছে তা বিশ্লেষণ করে প্রশিক্ষণ কাঠামো তৈরি করতে হবে। সাইবার নিরাপত্তা, অটোমেশন, ডেটা ব্যবস্থাপনা এবং উন্নত প্রযুক্তি দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়।

দ্বিতীয়ত, সামরিক পুনর্গঠন। ঐতিহ্যগত জনবল কাঠামোকে ধীরে ধীরে দক্ষতানির্ভর কাঠামোয় রূপান্তর করতে হবে। উচ্চ প্রযুক্তি ইউনিট গঠন এবং গবেষণা ও উন্নয়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।

তৃতীয়ত, সমন্বিত সাইবার ও ডিজিটাল প্রতিরক্ষা কমান্ড গঠন, যা বেসামরিক ও সামরিক উভয় অবকাঠামোকে সুরক্ষা দেবে।

চতুর্থত, দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ। যে প্রযুক্তি সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য, সেখানে বিনিয়োগ করলে প্রতিরক্ষা ব্যয় উৎপাদনশীল বিনিয়োগে রূপান্তরিত হতে পারে।

কিন্তু এই চারটি সিদ্ধান্ত কেবল নীতিগত ঘোষণা হয়ে থাকলে চলবে না। এর পরেই প্রয়োজন একটি কাঠামোগত রূপান্তর পরিকল্পনা। মূল প্রশ্ন হলো, বর্তমানে সমগ্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় যে বিপুল জনশক্তি রয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কী হবে?

এই জনশক্তিকে কেবল নিরাপত্তা কাঠামোর স্থায়ী উপাদান হিসেবে না দেখে, জাতীয় উন্নয়নের কৌশলগত সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

রাষ্ট্রকে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তর রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতে কর্মরত জনবলকে ধাপে ধাপে নতুন প্রযুক্তি দক্ষতা, ডিজিটাল সক্ষমতা এবং সমাজকল্যাণমূলক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের আওতায় আনা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা ব্যবস্থাপনা, ড্রোন প্রযুক্তি, অবকাঠামো প্রযুক্তি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই জনশক্তি দ্বৈত সক্ষমতায় রূপ নিতে পারে।

এখানে আরেকটি কৌশলগত মাত্রা যুক্ত করা জরুরি। বিশ্বের বহু দেশে দক্ষ প্রযুক্তিগত ও শৃঙ্খলাবদ্ধ কর্মশক্তির ঘাটতি রয়েছে। পরিকল্পিত ও মানসম্মত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা পটভূমির মানবসম্পদকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে তোলা গেলে তা বৈদেশিক আয়ের একটি নতুন দ্বার খুলতে পারে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সমন্বিত চুক্তি, দক্ষতা সনদায়ন এবং পুনর্বাসন কাঠামোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়াকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া সম্ভব।

অর্থাৎ প্রতিরক্ষা জনবলকে ধীরে ধীরে এমন এক মানবসম্পদ শক্তিতে রূপান্তর করা, যারা একদিকে জাতীয় নিরাপত্তায় অবদান রাখবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতায় যুক্ত হবে, এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও অংশ নিতে পারবে।

এটি কেবল সামরিক সংস্কার নয়। এটি নতুন মানবিক উন্নয়নের রূপরেখা। একটি কাঠামো ফর বিল্ডিং ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অব বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে ব্যয় হিসেবে নয়, মানবসম্পদে বিনিয়োগ হিসেবে পুনঃসংজ্ঞায়িত করা হবে।

রাষ্ট্র যদি চায়, তবে বৃহৎ জনবলকে স্থায়ী ব্যয়ের বোঝা হিসেবে না দেখে উৎপাদনশীল শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব। এটি হবে কৌশলগত মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, যেখানে প্রতিরক্ষা খাতের কর্মীরা একই সঙ্গে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা করবে এবং দেশের প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

এটি কোনো আবেগ বা সাধারণ মতামতের প্রশ্ন নয়। এটি রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অবস্থানের প্রশ্ন। এটি আমাদের জাতীয় ভবিষ্যৎ, আমাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং আগামী প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন।

বাংলাদেশ কি বড় জনবল ধরে রেখে বিংশ শতাব্দীর শক্তির ধারণায় স্থির থাকবে, নাকি সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা রাষ্ট্র গড়ে তুলবে?

রাষ্ট্রের শক্তি আর কেবল বন্দুকের নলে সীমাবদ্ধ নয়। আজ রাষ্ট্রের শক্তি নিহিত জ্ঞান, প্রযুক্তি এবং দক্ষ মানবসম্পদে। সিদ্ধান্তটি সরল—কিন্তু তার প্রভাব হবে ঐতিহাসিক।

রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, সাবেক পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

মত দ্বিমত

দুর্নীতিমুক্ত সংসদ ছাড়া ন্যায়বিচার অসম্ভব

Published

on

আকিজ

“যতদিন সংসদে দুর্নীতিমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত সংসদ সদস্য না যাবে, ততদিন বাংলাদেশে সংবিধান থেকে জাতি ন্যায়বিচার পাবে না। কারণ, অপরাধী রাজনীতিবিদরা যখন আইন তৈরি করবে, তখন আপনি কখনই ন্যায়বিচার পাবেন না।”

এটি কেবল একটি বাক্য নয়, এটি রাষ্ট্রের ভেতরের অমীমাংসিত সংকটের সংক্ষিত সারাংশ। এখানে প্রশ্ন ব্যক্তির নয়, কাঠামোর। প্রশ্ন দলীয় নয়, নৈতিকতার।

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সংবিধান বনাম বাস্তবতা

AdLink দ্বারা বিজ্ঞাপন ×

সংবিধান একটি জাতির সর্বোচ্চ নীতিপত্র, যেখানে ন্যায়, সমতা, মানবাধিকার ও জবাবদিহির অঙ্গীকার লেখা থাকে। কিন্তু সেই সংবিধান বাস্তবায়নের দায়িত্ব যাদের হাতে, তারাই যদি দুর্নীতি, ঋণখেলাপি, লুটপাট, ক্ষমতার অপব্যবহার, চাঁদাবাজি ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগে অভিযুক্ত হন, তবে সংবিধানের ভাষা কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে। ন্যায়বিচার তখন নথিতে থাকে, বাস্তবে নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রতিযোগিতা এখন নীতির লড়াই নয়, বরং প্রভাবের লড়াই হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণখেলাপিরা ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছে, অথচ সাধারণ আমানতকারীরা অনিশ্চয়তায় ভুগেছে। বড় প্রকল্পে অনিয়ম আর জবাবদিহির অভাব সাধারণ মানুষের আস্থায় চিড় ধরিয়েছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই ধারণা জন্মেছে যে—যোগ্যতা নয়, রাজনৈতিক সংযোগই সাফল্যের একমাত্র পথ। এই মানসিকতা রাষ্ট্রের জন্য এক গভীর বিপদের সংকেত।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ভোটের প্রতি আস্থার সংকট। যদি নাগরিক বিশ্বাস করতে না পারেন যে তাদের ভোটই প্রতিনিধিত্ব নির্ধারণ করে, তবে গণতন্ত্র কেবল আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়। গণতন্ত্রের প্রাণ হলো আস্থা। সেই আস্থা ক্ষয় হলে সংবিধানের প্রতিশ্রুতি দুর্বল হয়ে পড়ে।

এই বাস্তবতায় মূল প্রশ্নটি স্পষ্ট। আইন প্রণেতারা যদি নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হন, তবে আইন কি ন্যায় প্রতিষ্ঠা করতে পারে? যখন অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত বা আর্থিক অনিয়মে জড়িত ব্যক্তিরা আইন প্রণয়ন করেন, তখন আইনের প্রতি জনগণের শ্রদ্ধা কমে যায়। আইনের শাসন তখন ব্যক্তির শাসনে রূপ নিতে শুরু করে।

সমাধান কোনো ব্যক্তিবিশেষের বিরোধিতায় নয়, বরং কাঠামোগত শুদ্ধিতে। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী মনোনয়নে নৈতিক মানদণ্ড কঠোর করা, ঋণখেলাপি ও দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের সংসদে প্রবেশ চিরতরে বন্ধ করা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে বাস্তব অর্থে শক্তিশালী করা জরুরি।

রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে প্রথমে সংসদকে শুদ্ধ করতে হবে। কারণ সংসদই আইন তৈরি করে, আর আইনই রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করে। আইন যদি নৈতিকতার উপর দাঁড়ায়, রাষ্ট্র টিকে থাকে। আইন যদি স্বার্থের উপর দাঁড়ায়, রাষ্ট্র ভেঙে পড়ে।

অতএব এই বাক্যটি কেবল প্রতিবাদ নয়, একটি সতর্কবার্তা। ন্যায়বিচার কাগজে লেখা থাকে না, তা মানুষের হাতে গড়ে ওঠে। আর সেই হাত যদি কলুষিত হয়, তবে সংবিধানও ন্যায় দিতে পারে না।

প্রশ্নটি এড়ানো যায় না। রাষ্ট্রের জনগণ যেমন, তার নেতৃত্বও সাধারণত তেমনি হয়। বাংলাদেশের জন্য কি এই কথাটি প্রযোজ্য?

নেতৃত্ব আকাশ থেকে পড়ে না; তারা সমাজের ভেতর থেকেই উঠে আসে। সমাজ যদি দুর্নীতিকে সহনীয় মনে করে কিংবা ঋণখেলাপিকে কৌশলী ব্যবসায়ী হিসেবে বাহবা দেয়,ভোট জালিয়াতিকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে মেনে নেয় এবং চাঁদাবাজিকে প্রভাবের অংশ মনে করে, তবে সেই মানসিকতার প্রতিফলনই একদিন সংসদে বসে। তখন আমরা কেবল নেতৃত্বকে দোষ দিই, কিন্তু আয়নায় নিজেদের দেখি না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে জনগণই দায়ী বলেই রাষ্ট্র দায়ী। বরং পরিবর্তনের শক্তিও জনগণের হাতেই। সমাজ যদি নৈতিক মানদণ্ড উঁচু করে, ভোটাররা যদি প্রশ্ন করতে শেখেন এবং দলীয় অন্ধত্বের বদলে নৈতিকতার ভিত্তিতে প্রতিনিধি বাছেন, তবেই সংসদ বদলাবে। রাষ্ট্রকে বাঁচাতে হলে সংসদকে শুদ্ধ করতে হবে। কারণ সংসদই আইন তৈরি করে, আর আইনই রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণ করে।

বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি তাই দ্বিমুখী। নেতৃত্ব কি জনগণের প্রতিচ্ছবি, নাকি জনগণকে এমন কাঠামোর মধ্যে রাখা হয়েছে যেখানে বিকল্পই সংকুচিত? যদি দ্বিতীয়টি সত্য হয়, তবে কাঠামো ভাঙতে হবে। যদি প্রথমটি আংশিক সত্য হয়, তবে মানসিকতা বদলাতে হবে।

অতএব, যতদিন সংসদে দুর্নীতিমুক্ত ও ঋণখেলাপিমুক্ত প্রতিনিধি না যাবে, ততদিন সংবিধানের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে না। পরিবর্তনের চাবিকাঠি কিন্তু সাধারণ মানুষের হাতেই।

পরিশেষে, আমরা কি কেবল অভিযোগ করে যাব, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক নৈতিকতাকেও পুনর্গঠন করব?

এমএন/ রহমান মৃধা, গবেষক ও লেখক, প্রাক্তন পরিচালক, ফাইজার, সুইডেন

শেয়ার করুন:-
পুরো সংবাদটি পড়ুন

পুঁজিবাজারের সর্বশেষ

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার20 hours ago

আকিজ ফুডের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর ১০০৪তম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কমিশন সভায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৫০০ কোটি...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার20 hours ago

ব্লক মার্কেটে ২৪ কোটি টাকার লেনদেন

ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্লক মার্কেটে মোট ২১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিন...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার21 hours ago

দরপতনের শীর্ষে জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনস

ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে জেনারেশন নেক্সট...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার21 hours ago

দর বৃদ্ধি শীর্ষে ইবিএল এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড

ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ২৪১টির শেয়ারদর বৃদ্ধি...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার21 hours ago

শেয়ারবাজারে লেনদেনের শীর্ষে একমি পেস্টিসাইড

ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় কার্যদিবসে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন শেষে তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে একমি পেস্টিসাইড লিমিটেড। ঢাকা...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার21 hours ago

সূচকের উত্থানে লেনদেন ৬০৩ কোটি টাকা

ঈদ পরবর্তী দ্বিতীয় কার্যদিবসে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন লেনদেন...

আকিজ আকিজ
পুঁজিবাজার1 day ago

জ্বালানি খাতের দুই কোম্পানিতে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্র মালিকানাধীন জ্বালানি খাতের দুই প্রতিষ্ঠান- ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স লিমিটেড ও যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে নতুন...

সোশ্যাল মিডিয়া

তারিখ অনুযায়ী সংবাদ

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
১০১১১৩
১৫১৬১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
আকিজ
অর্থনীতি3 minutes ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার

আকিজ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাল ঢাবি

আকিজ
আবহাওয়া22 minutes ago

দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

আকিজ
আইন-আদালত28 minutes ago

সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ আটক

আকিজ
সারাদেশ32 minutes ago

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন

আকিজ
জাতীয়40 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড শুরু

আকিজ
মত দ্বিমত44 minutes ago

স্বাধীনতার আগমন

আকিজ
রাজনীতি51 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

ভারতে পলাতক হাদি হত্যার আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিল সৌদি আরব

আকিজ
অর্থনীতি3 minutes ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার

আকিজ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাল ঢাবি

আকিজ
আবহাওয়া22 minutes ago

দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

আকিজ
আইন-আদালত28 minutes ago

সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ আটক

আকিজ
সারাদেশ32 minutes ago

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন

আকিজ
জাতীয়40 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড শুরু

আকিজ
মত দ্বিমত44 minutes ago

স্বাধীনতার আগমন

আকিজ
রাজনীতি51 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

ভারতে পলাতক হাদি হত্যার আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিল সৌদি আরব

আকিজ
অর্থনীতি3 minutes ago

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিদেশি ঋণ বেড়েছে ১০ বিলিয়ন ডলার

আকিজ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার11 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাল ঢাবি

আকিজ
আবহাওয়া22 minutes ago

দেশের ৭ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা

আকিজ
আইন-আদালত28 minutes ago

সাবেক সেনা কর্মকর্তা শেখ মামুন খালেদ আটক

আকিজ
সারাদেশ32 minutes ago

সীতাকুণ্ডে চট্টলা এক্সপ্রেসে আগুন

আকিজ
জাতীয়40 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড শুরু

আকিজ
মত দ্বিমত44 minutes ago

স্বাধীনতার আগমন

আকিজ
রাজনীতি51 minutes ago

স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের শ্রদ্ধা

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

ভারতে পলাতক হাদি হত্যার আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আকিজ
জাতীয়1 hour ago

বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিল সৌদি আরব