জাতীয়
বাংলাদেশিদের জন্য জরুরি বার্তা দিল সৌদি আরব
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও যেসব বাংলাদেশি সৌদি আরব ত্যাগ করতে পারেননি, তাদেরকে আগামী ১৮ এপ্রিলের আগেই দেশটি ছাড়তে নির্দেশ দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সৌদি আরবে ভিজিট, ওমরাহ এবং ফাইনাল এক্সিট ভিসায় অবস্থানরত বাংলাদেশি ভাই ও বোনদের সদয় অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি যাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও সৌদি আরব ত্যাগ করতে পারেননি, তাদেরকে ১৮ এপ্রিলের পূর্বে সৌদি আরব ত্যাগ করার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষ সুযোগ দিয়েছে।’
এতে আরো জানানো হয়, ১৮ এপ্রিলের পূর্বে যেকোনো দিন টিকিট নিয়ে সরাসরি এয়ারপোর্টে গেলেই সৌদি আরব ত্যাগ করা সম্ভব হবে।
এই সময়ের মধ্যে কোনোরূপ ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি করা কিংবা জরিমানা ছাড়াই প্রবাসীরা সৌদি আরব ত্যাগ করতে পারবেন।
এমতাবস্থায় মেয়াদোত্তীর্ণ ভিজিট ভিসা, ওমরাহ ভিসা এবং ফাইনাল এক্সিট ভিসাধারীদের ১৮ এপ্রিলের পূর্বেই সৌদি আরব ত্যাগ করার জন্য অনুরোধ করা হলো। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সৌদি আরব ত্যাগ না করলে পরবর্তী সময় আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে দূতাবাস।
নাইম
জাতীয়
স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড শুরু
দেড় যুগ পর স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় প্যারেড ময়দানে শুরু হল সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। এ সময় অভিবাদন মঞ্চ থেকে সালাম গ্রহণ করলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে।
মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রাসহ ১০টার দিকে প্যারেড গ্রাউন্ডে উপস্থিত হন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তাকে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ -জামান, নৌ বাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব ইসরাত চৌধুরী। এর আগে ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং তিন বাহিনীর প্রধানরা।
এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি অতিথিরা।
অনুষ্ঠানস্থলে দেখা যায়, জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক মো. সাহাবুদ্দিনকে সম্মান জানিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। খোলা জিপে প্যারেড পরিদর্শন করেন তিনি তার সঙ্গী হিসেবে জিপে থাকেন প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এসএম আসাদুল হক। পরে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে রাষ্ট্রপ্রধান স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজের সালাম গ্রহণ করেন।
২০০৮ সালের পর অর্থাৎ ১৮ বছর পরে এবার ২৬ মার্চের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হল এ প্রদর্শনী।
চব্বিশের আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। তবে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনে এ আয়োজন থাকত।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবার স্বাধীনতা দিবসে জাঁকজমকভাবে এ আয়োজন করতে রোজার শুরু থেকে প্যারেড স্কয়ার মাঠে প্রস্তুতি শুরু হয়, মঙ্গলবার ‘চূড়ান্ত রিহার্সেলের’ মাধ্যমে তার প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়।
জাতীয়
ভারতে পলাতক হাদি হত্যার আসামিদের আনার প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
ভারতে পলাতক ওসমান হাদি হত্যায় জড়িত আসামিদের বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
ভারত থেকে ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের হস্তান্তরের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘ওসমান হাদি হত্যা মামলার আসামিদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। বন্দি বিনিময় চুক্তি অনুযায়ী তাদের বাংলাদেশে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালোরাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে প্রথম গণহত্যা শুরু হয়। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটেই স্বাধীনতার ঘোষণা আসে। তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান ওই গণহত্যার খবর পেয়ে চট্টগ্রামে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বিশ্বের সমর্থন কামনা করেন।’ একে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ‘প্রকৃত ইতিহাস’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রাজারবাগের পুলিশ সদস্যদের রক্তদানের মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা। তাদের এই আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।’
জাতীয়
স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে তারা ফুল দিয়ে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শ্রদ্ধা নিবেদনের পরই মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখান থেকে ঢাকা ফেরার সময় সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।
এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।
জাতীয়
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারের অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ ও ফ্লাই পাস্ট। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল থেকেই প্যারেড স্কয়ারে ভিড় জমাতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীদের অনেকের হাতেই দেখা যায় জাতীয় পতাকা, কেউ কেউ পতাকা মাথায় বেঁধে উৎসবের আমেজ আরো বাড়িয়ে তুলেছেন।
অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত। প্রবেশের জন্য গেট নম্বর ২, ৩, ৪, ১০ ও ১১ নির্ধারণ করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাগ বহন না করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জাতীয়
শ্রদ্ধার ফুলে বীর শহীদদের স্মরণ
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুলেল শ্রদ্ধায় জাতির বীর সন্তানদের স্মরণ করছেন সর্বস্তরের মানুষ।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের শহীদ বেদী।
সরেজমিনে দেখা যায়,বিভিন্ন সংগঠন ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা হাতে ফুল, ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আসছেন বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে।বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রদ্ধার ফুলে ফুলে ভরে যাচ্ছে শহীদ বেদী। একই সঙ্গে দলে দলে ফুল হাতে নিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে প্রবেশ করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
মানিকগঞ্জে স্কুল শিক্ষক রবিউল আলম জানান, আমি প্রতিবছরই শ্রদ্ধা জানাতে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ এসেছি। যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা দেশ পেয়েছিলাম। তাদের কাছে আমরা চিরঋণী। তাই শহীদ সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি বলে জানান তিনি।
অপরদিকে কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী তানজিন আফরোজা বলেন, আমি বন্ধুদের সঙ্গে জাতীয় স্মৃতিসৌধে এসেছি। আমরা গর্বিত আমাদের শহীদদের জন্য। তাদের জীবনের বিনিময়ে পরিচিত হয়েছে এই বাংলাদেশ ও আমাদের মাতৃভূমি। তাই তাদের শ্রদ্ধা জানাতে এসেছি বলে জানান তিনি।
এর আগে ভোর ৬টার দিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর, সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রদান করে গার্ড অব অনার। তারা কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থেকে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।



