আন্তর্জাতিক
হরমুজে ইরানের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে: যুক্তরাষ্ট্র
হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের সামরিক অবস্থান পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। খবর আলজাজিরার।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির পাশে ইরানের প্রতিরক্ষা ঘাঁটিগুলো দুর্বল করার জন্য সামরিক অভিযান চলছে এবং সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এটি চলবে।’
বেসেন্ট দাবি করেন, এ অভিযান ইতোমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এদিকে, চলমান যুদ্ধ নিয়ে গণমাধ্যমের উপস্থাপনাকে সমালোচনা করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কী করছে সে বিষয়ে জনগণের কাছে ‘সঠিক চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে না’।
তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফির মন্তব্যও প্রত্যাখ্যান করেন। মারফি অভিযোগ করেছিলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ‘যুদ্ধের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে’ এবং ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে’। এ বিষয়ে বেসেন্ট বলেন, ‘এটি ভুল। আমরা ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে দিয়েছি।’
আন্তর্জাতিক
একজোট হচ্ছে সৌদি তুরস্ক মিসর ও পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোট গঠনের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার রিয়াদে ইসলামিক দেশগুলোর এক সম্মেলনের সাইডলাইনে দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই আলোচনা করেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গত বছর থেকেই তুরস্ক একটি নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যেখানে পাকিস্তান ও সৌদি আরবকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। পরে এই প্রক্রিয়ায় মিসরকেও যুক্ত করার প্রচেষ্টা শুরু হয়।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, আঞ্চলিক প্রভাবসম্পন্ন দেশ হিসেবে আমরা কীভাবে নিজেদের শক্তিকে একত্র করে সমস্যার সমাধান করতে পারি, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই জোট ন্যাটোর মতো আনুষ্ঠানিক প্রতিরক্ষা চুক্তি হবে না। বরং এটি একটি নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে প্রতিরক্ষা খাত ও সামরিক সহযোগিতা বাড়ানো যাবে।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান এবং এর জবাবে তেহরানের পাল্টা হামলার বিষয়ও গুরুত্ব পায়। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলায় যৌথভাবে কী করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে নতুন কৌশলগত সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক
এবার হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
নিজেদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা এই হুঁশিয়ারি দিল তেহরান। খবর আলজাজিরা।
রবিবার ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্যবস্তু করা হলে হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণরূপে’ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা বন্ধ থাকবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র আক্রান্ত হলে ইসরায়েলের বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি স্থাপনায় ‘ব্যাপক হামলা’ চালানো হবে। এ ছাড়া এই অঞ্চলের যেসব কম্পানিতে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানা রয়েছে, সেগুলোকেও ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ করে দেওয়া হবে।
আইআরজিসি আরো জানায়, এই অঞ্চলের যেসব দেশে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকেও বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি পার হতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানির দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
ইরান বলছে, হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বা তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ হরমুজ পার হতে পারবে না। পার হতে গেলে হামলা চালানো হবে।
এদিকে প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে ন্যাটো মিত্রদের সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে একাধিকবার অনুরোধ করেছেন ট্রাম্প। কিন্তু অধিকাংশ দেশ বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা হরমুজে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে প্রস্তুত নয়।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটামে বাড়ল তেলের দাম
ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। এই দুই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ইসরায়েল সতর্ক করেছে, বর্তমান সংঘাত আরো কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গ্রিনিচ মান সময় রবিবার রাত ১০টায় বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়। মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর মে মাসের সরবরাহমূল্য ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। যদিও পরে তা কিছুটা কমে আসে।
একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মে মাসের সরবরাহমূল্যও বাড়ে। ব্যারেলপ্রতি দাম ওঠে ১১৩ দশমিক ৪৪ ডলারে। তবে লেনদেন শুরুর ৪৫ মিনিট পর তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের কাছাকাছি স্থিতিশীল হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগের দিন ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ৬৭ দশমিক ০২ এবং ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করছে। পরিস্থিতি আরো জটিল হলে তেলের দামে বড় ধরনের ওঠানামার আশঙ্কা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ ইস্যুতে কূটনৈতিক সমাধান খুঁজছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান সংকট নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এ লক্ষ্যে ইইউর পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস ইরানসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। খবর আলজািজিরার।
রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে ফোনালাপ করেন কালাস। পাশাপাশি তুরস্ক, কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও তিনি পৃথকভাবে কথা বলেন।
একজন ইইউ কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান সংকটের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজতেই এসব আলোচনা করা হয়েছে।
ফোনালাপে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি, জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ওপর বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক চাপ নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে গত বুধবারও কালাস আরাগচির সঙ্গে একই বিষয় নিয়ে কথা বলেছিলেন।
ইইউ কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর নতুন করে হামলার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে কোটি মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালি নিয়ে হুমকিতে উদ্বিগ্ন নয় ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ ও হুমকিতে ইরান কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। খবর আলজাজিরার।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি `বন্ধ নয়’। জাহাজ চলাচলে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তা ইরানের কারণে নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আরাগচি বলেন, `জাহাজগুলো দ্বিধায় রয়েছে, কারণ বিমা কোম্পানিগুলো আপনাদের শুরু করা যুদ্ধকে ভয় পাচ্ছে, ইরানকে নয় ‘ তিনি আরও বলেন, ‘আর কোনো হুমকিতে কোনো বিমা কোম্পানি বা কোনো ইরানি প্রভাবিত হবে না।’
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি ও বিঘ্ন সৃষ্টির জন্য সরাসরি দায়ী করে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরানের বার্তা স্পষ্ট যে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিয়ে তারা কঠোর অবস্থান বজায় রাখবে এবং বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।



