অর্থনীতি
পদ্মা ও যমুনা সেতুতে টোল আদায়-যান চলাচলে নতুন রেকর্ড
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক যানবাহন পারাপার এবং সর্বোচ্চ টোল আদায়ের নতুন মাইলফলক অতিক্রম করা হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকালে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে এ বছর যাতায়াতের প্রথম তিন দিনে পদ্মা সেতু দিয়ে ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৮২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৮০২টি। ২০২৬ সালের প্রথম তিন দিনে মোট টোল আদায় হয়েছে ১৩ কোটি ২১ লাখ ৫১ হাজার ৮০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১২ কোটি ৭৮ হাজার ৪০০ টাকা।
একইভাবে যমুনা সেতুর ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ এক দিনে সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৩৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৩৬৮টি। ২০২৬ সালে এক দিনে সর্বোচ্চ টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৫১ লাখ ৮২ হাজার ৬০০ টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ৩ কোটি ৪৬ লাখ ২৭ হাজার ৮৫০ টাকা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও এ বছর বড় কোনো দুর্ঘটনা বা বড় ধরনের যানজট পরিলক্ষিত হয়নি। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।
এবার ঈদ উপলক্ষ্যে সেতু বিভাগের পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু এলাকায় নেওয়া উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে— টোল কালেক্টরদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু রাখা, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি চালু, মাওয়া বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে উন্নত ট্রাফিক মনিটরিং, উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ, যাত্রীদের জরুরি সহায়তা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সেতুর প্রতি ৫০০ মিটার পরপর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা একটি ভারী রেকারসহ মোট তিনটি রেকারের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা, ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু এবং ইফতার সামগ্রী বিতরণ।
অর্থনীতি
সপ্তাহের মধ্যে স্বর্ণের দাম ভরিতে কমল ২৫ হাজার টাকা
এক সপ্তাহের মধ্যে বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম ভরিতে কমেছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রদত্ত স্বর্ণের দাম সম্পর্কিত সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
বাজুস-এর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা ধার্য করা হয়েছে। এছাড়া ২১ ক্যারেট মানের প্রতি ভরির দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে ভরি প্রতি ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকায়।
গত ১১ মার্চ তারিখে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেট মানের স্বর্ণের দাম ছিল প্রতি ভরি ২ লাখ ৮৭ হাজার ২৬২ টাকা। অর্থাৎ, সপ্তাহের ব্যবধানে দাম ভরিতে কমেছে ২৫ হাজার টাকা। এই এক সপ্তাহে অন্যান্য ক্যারেটের দামও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন দেখা গেছে। শক্তিশালী ডলার ও মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর অবস্থানের কারণে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমেছে। এর আগে বুধবারও কয়েক দফায় স্বর্ণের দাম কমেছে। ঈদের আগে বাজারের এ পরিস্থিতিতে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দাম আরও কমতে পারে। খবর রয়টার্সের।
স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১.১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৭৬৪.২৭ ডলারে, যা ৬ ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্সের দাম ২.৬ শতাংশ কমে ৪,৭৭০ ডলারে নেমেছে।
অর্থনীতি
৬ ঘণ্টার ব্যবধানে স্বর্ণের দামে ফের পতন, ভরিতে কমলো ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা
৬ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দেশের বাজারে আরেক দফা স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ৭ হাজার ৬৯৮ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৯২৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৭১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২ হাজার ২০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫২১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে এর আগে, সবশেষ আজ ১৯ মার্চ সকালে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেদিন ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল আজ সকাল ১০ টা থেকেই।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৫ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম ২৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে ১৯ দফা। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।
স্বর্ণের দাম কমানোর সঙ্গে আবারও কমানো রয়েছে রুপার দাম। ভরিতে ৩৫০ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ২৯ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ১৬ দফা বাড়ানো হয়েছে; কমানো হয়েছে বাকি ১৩ দফা। আর ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল রুপার দাম। যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার, আর কমেছিল মাত্র ৩ বার।
অর্থনীতি
দেশের বাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম, কত দামে বিক্রি হচ্ছে আজ
দেশের বাজারে কমানো হয়েছে সোনার দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন এই দাম কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাজুস।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ২০ টাকা।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৩২০ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
সোনার দামের পাশাপাশি কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধের কারণে চলতি মাসের শুরু থেকে বিশ্ব বাজারে সোনার দাম ঊর্ধ্বমুখি ছিল। এরপর মূল্য সমন্বয় দর উঠানামা করতে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সোনার বাজারের দরপতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে সোনা ও রুপার দামের নির্ভরযোগ্য ওয়েবসাইট গোল্ডপ্রাইস.ওআরজি সূত্রে জানা যায়, এখন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৪ হাজার ৮৫৩ ডলার। যা গতকাল ছিল ৫ হাজার ডলারের উপরে।
এর আগে গত ৩০ জানুয়ারি ছিল ৫ হাজার ২০০ ডলার এবং ২৯ জানুয়ারি ৫ হাজার ৫৫০ ডলারে উঠেছিল।
এমএন
অর্থনীতি
বৃহস্পতিবার কোন ব্যাংকের কোন শাখা খোলা থাকবে
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তৈরি পোশাকশিল্প-সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের সুবিধার্থে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সীমিত পরিসরে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালু থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত কিছু শাখা স্বল্পসংখ্যক জনবল দিয়ে খোলা রাখা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীসহ আশুলিয়া, টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, ভালুকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের তৈরি পোশাকশিল্প-ঘন এলাকায় অবস্থিত ব্যাংকের শাখাগুলো এদিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। ব্যাংকের অফিস সময় থাকবে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত, তবে গ্রাহক লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত। এর মধ্যে জোহরের নামাজের জন্য স্বল্প বিরতি থাকবে।
আগামীকাল যেসব ব্যাংকের যেসব শাখা খোলা থাকবে
প্রাইম ব্যাংক: আগ্রাবাদ শাখা (চট্টগ্রাম), নারায়ণগঞ্জ শাখা, গণকবাড়ী শাখা (সাভার) ও টঙ্গী শাখা (গাজীপুর) খোলা থাকবে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ: আগ্রাবাদ করপোরেট শাখা (চট্টগ্রাম), ঢাকার হেড অফিস কমপ্লেক্স করপোরেট, লোকাল অফিস ও নারায়ণগঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
সিটি ব্যাংক: জয়পুরহাট, দিনাজপুর, গোবিন্দগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, সৈয়দপুর, রাজশাহী, কুড়িগ্রাম, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, বগুড়া ও রংপুর শাখা খোলা থাকবে।
ব্র্যাক ব্যাংক: মতিঝিল, টঙ্গী, গণকবাড়ী, জয়দেবপুর, সিডিএ অ্যাভিনিউ (চট্টগ্রাম), রোকেয়া সরণি, রংপুর, ধানমন্ডি-২৭, বড় বাজার (খুলনা), গুলশান নর্থ অ্যাভিনিউ, যশোর ও সিদ্ধিরগঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক: ফরেন এক্সচেঞ্জ শাখা খোলা থাকবে।
প্রিমিয়ার ব্যাংক: কাওরান বাজার ও মতিঝিল শাখা (ঢাকা); এছাড়া বনানী, গুলশান ও উত্তরা শাখাও খোলা থাকবে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: চন্দ্রা, গুলশান, জুবিলি রোড, নারায়ণগঞ্জ বিসিক, প্রিন্সিপাল শাখা, উত্তরা মডেল টাউন, কুষ্টিয়া, খুলনা, যশোর ও লোহাগড়া শাখা।
এনসিসি ব্যাংক: ও আর নিজাম রোড (চট্টগ্রাম), মতিঝিল, বারিধারা, সাভার, জয়দেবপুর ও বাইপাইল শাখা খোলা থাকবে।
অর্থনীতি
অনিয়মের অভিযোগে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালককে অপসারণ, পর্ষদে নতুন মুখ
দেশের শরীয়াহ ভিত্তিক বৃহত্তম ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর পরিচালনা পর্ষদে বড় ধরনের সংস্কার এনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নানা বিতর্ক ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠার পর ব্যাংকটির পরিচালক মো. আবদুল জলিলকে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সোমবার (১৬ মার্চ) এক জরুরি আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। একইসঙ্গে শূন্য হওয়া ওই পদে অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) এস এম আবদুল হামিদকে নতুন স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপকে ব্যাংক খাতের সুশাসন ফেরানোর লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আবদুল জলিলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ জমা হয়েছিল। দীর্ঘ তদন্তের পর কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাঁর অপসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। মূলত যে তিনটি কারণে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে:
আবদুল জলিল একসময় ইসলামী ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। পর্ষদ সদস্য হওয়ার পর তিনি তাঁর পুরোনো সম্পর্কের জের ধরে ব্যাংকের একজন নির্দিষ্ট গ্রাহককে বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে এর সত্যতা পাওয়ার পর শুরুতে তাঁকে নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার তাঁকে পরিচালক পদ থেকেও স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো।
অভিযোগ রয়েছে, আবদুল জলিল ব্যাংকের বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে রাজনৈতিক অনুষ্ঠানের নাম করে অর্থ সংগ্রহ করতেন। তাঁর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক আদর্শ (জামায়াতপন্থী) লালন এবং সেই প্রভাব খাটিয়ে ব্যাংকের প্রশাসনিক কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগও জোরালো ছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা এবং আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এই ব্যাংকারের বিরুদ্ধে নীতিগত বিচ্যুতি ও সতর্কবার্তা অমান্য করার বিষয়টিও আমলে নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
২০১৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংক ছিল এস আলম গ্রুপের একক নিয়ন্ত্রণে। এই দীর্ঘ সাত বছরে ব্যাংকটি থেকে নামে-বোনামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়ায় ব্যাংকটি বর্তমানে এক ভয়াবহ তারল্য ও প্রশাসনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই লুটপাট বন্ধে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়। সে সময়ই আবদুল জলিলকে পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু নতুন পর্ষদে আসার পরও তিনি পুরোনো ধারার অনিয়মে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয় বাংলাদেশ ব্যাংক।
গতকাল সোমবার সকালেও পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের পর্ষদ সদস্যদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে আবদুল জলিল সশরীরে উপস্থিত ছিলেন এবং ব্যাংকের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিকেলে তাঁর অপসারণের চিঠি ইস্যু করা হয়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের কাছে এই অপসারণের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্যাংকের বৃহত্তর স্বার্থে এবং সুশাসন নিশ্চিতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আবদুল জলিলের স্থলাভিষিক্ত হওয়া এস এম আবদুল হামিদ একজন অভিজ্ঞ ব্যাংকার ও পেশাদার হিসাববিদ। দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমকে জানান, তিনি ইতিমধ্যেই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছেন এবং পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটির পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন।
নিজের আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংকে বর্তমানে যে ধরনের বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার পেশাদার অভিজ্ঞতা দিয়ে ব্যাংকটিকে সঠিক পথে ফেরাতে কাজ করব।’
ব্যাংকিং খাত বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের মতে, কেবল একজন পরিচালক পরিবর্তন করলেই ইসলামী ব্যাংকের বিশাল সমস্যা মিটবে না। তবে যারা লুটপাটের পর নতুন করে অনিয়মের সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি একটি কড়া বার্তা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ২০২৬ সালে এসে ব্যাংক খাতে আর কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বরদাস্ত করা হবে না। গ্রাহকদের আস্থা ফেরাতে হলে পর্ষদে আরও স্বচ্ছতা এবং দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি।




