খেলাধুলা
বিশ্বকাপ নয়, যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কটের ঘোষণা ইরানের- যা বলছে ফিফা
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ যুদ্ধ শেষ হওয়ার নাম-নিশানা নেই, উল্টো আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে বিশ্ব। অথচ তিন মাস পরই মাঠে গড়াতে যাওয়া ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে তারাই প্রথম হামলা শুরু করে ইরানে। ফলে মার্কিন ভূমিতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে অনড় মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। তবে সূচি ও ভেন্যু পাল্টানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে ফিফা।
যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি সহ-আয়োজক হিসেবে মেক্সিকো ও কানাডায় বিশ্বকাপের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। তবে গ্রুপপর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই রাখা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তখন থেকেই বিশ্বকাপে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। সূচি অনুযায়ী– লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ড ও বেলজিয়াম এবং সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী প্রথমে বলেছিলেন, তাদের ভূমিতে হামলা চালানো দেশে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা সম্ভব নয়। তখন তারা এই মেগা ইভেন্ট বয়কট করবে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। তবে পরবর্তীতে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদী তাজ এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘যখন ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে তিনি ইরানের জাতীয় দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবেন না, তখন আমরা অবশ্যই আমেরিকায় ভ্রমণ করব না। আমরা ইরানের বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা করছি।’
এরপর বিশ্বকাপের প্রস্তুতি গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করে তিনি বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি শুরু করছি। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে বয়কট করব, তবে বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াব না। জাতীয় দল তুরস্কে একটি ক্যাম্প করছে এবং আমরা এখানে দুইটি প্রীতি ম্যাচও খেলব।’ এর মধ্য দিয়ে যুদ্ধে লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্রকে রণাঙ্গনের পর ক্রীড়াঙ্গনেও ছাড় না দেওয়ার অবস্থান স্পষ্ট হলো ইরানের।
অন্যদিকে, এই মুহূর্তে আর বিশ্বকাপের সূচি পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তিনি জানান, ‘ইতোমধ্যে আমাদের সূচি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই সে অনুসারেই ফিফা বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হোক।’ এর আগে গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠিত হয়েছিল ওয়াশিংটনে। সূচি ঘোষণার ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ইরানের প্রতিনিধি দলের সবাই ভিসা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৫০ সালের পর কোনো দল বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর বিশ্বকাপ বয়কটের নজির নেই। কেবল ওই বছর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর উদ্ভুত পরিস্থিতিতে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ১৩টি দেশ। ফলে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে ইরানের খেলায় বিঘ্ন ঘটা কিংবা নির্ধারিত সূচিতে পরিবর্তন হলে সেটিও হবে আধুনিক ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম নজির। যদিও ফুটবলের শক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন দেশকে ঐক্যবদ্ধ করা যাবে বলে মনে করেন ফিফা সভাপতি।
ইনফান্তিনো বলেন, ‘ফিফা ভূ-রাজনৈতিক কোনো বিরোধ সমাধান করতে পারে না। কিন্তু আমরা ফুটবলের শক্তি ব্যবহার করতে চাই, ফিফা বিশ্বকাপ পরস্পরের মাঝে বন্ধন তৈরি এবং নিজেদের চিন্তাভাবনার মাঝে শান্তিপূর্ণ যোগসূত্র স্থাপন করতে পারে। এমনকি চলমান যুদ্ধে ভুক্তভোগী দেশের ক্ষেত্রেও আমাদের একই নীতি।’
খেলাধুলা
জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক বাশার, সহকারী নির্বাচক নাঈম
জাতীয় দলের সঙ্গে চলতি মাসেই শেষ হচ্ছে প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপুর পথচলা। পাকিস্তান সিরিজ জয়ের পরই তিনি ক্রিকেটারদের থেকেও বিদায় নিয়েছেন। তবে লিপুর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নতুন প্রধান নির্বাচক ও সহকারী নির্বাচক বেছে নিয়েছে বিসিবি। যার জন্য এর আগে তারা বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল।
গত ৮ মার্চ শেষ হয়েছিল জাতীয় দলের নির্বাচক পদে আবেদনের সময়সীমা। এই পদের জন্য সবমিলিয়ে ১৬ জন সাবেক ক্রিকেটার আবেদন করেন। পরে তাদের মধ্য থেকে সাক্ষাৎকার গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচক পদে হাবিবুল বাশার সুমনকে নিয়োগ দিয়েছে বিসিবি। জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক এর আগে সহকারী নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
এদিকে, সহকারী নির্বাচক পদে এগিয়ে ছিলেন দুই জন। তুষার ইমরান এবং নাঈম ইসলাম বিসিবির পছন্দের তালিকায় ছিলেন। তবে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত নাঈমকেই চূড়ান্ত করেছে বিসিবি। সেই হিসেবে বলা যায়, নতুন সহকারী নির্বাচক হিসেবে পথচলা শুরু হচ্ছে তার। যদিও বিসিবি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়নি।
জাতীয় দলের এই নির্বাচক প্যানেল বাছাইয়ের কাজে যুক্ত ছিলেন বিসিবির চার পরিচালক– ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট, নাজমুল আবেদিন ফাহিম ও আব্দুর রাজ্জাক। প্রধান নির্বাচক হিসেবে বাশারের মাসিক বেতন ৪ লাখ টাকা এবং সহকারী-নির্বাচক নাঈমের বেতন হতে পারে ৩ লাখ টাকা। একই বেতন নির্ধারিত হতে পারে আগে থেকেই সহকারী নির্বাচক হিসেবে দায়িত্বরত হাসিবুল ইসলাম শান্ত’রও।
খেলাধুলা
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পেলেন না নেইমার
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতিমূলক প্রীতি ম্যাচের জন্য শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। তবে ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে এই স্কোয়াডে জায়গা হয়নি দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা নেইমারের।
অন্যদিকে, ফর্মের তুঙ্গে থাকা তরুণ ফরোয়ার্ড এনড্রিককে প্রথমবারের মতো নিজের অধীনে ডেকেছেন ইতালিয়ান এই মাস্টারমাইন্ড।
যুক্তরাষ্ট্রে হতে যাওয়া ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার আগে এটিই আনচেলত্তির শেষ পরীক্ষা।
নেইমারের বাদ পড়া প্রসঙ্গে সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নেইমার বর্তমানে ১০০ ভাগ ফিট নয়, তাই সে এই তালিকায় নেই। যদি সে শারীরিকভাবে পূর্ণ সক্ষমতা ফিরে পায়, তবেই সে বিশ্বকাপে থাকতে পারবে। নেইমারকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে, নিয়মিত খেলতে হবে এবং নিজের সামর্থ্য ও শারীরিক কন্ডিশন বজায় রাখতে হবে।’
এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ার পর থেকে জাতীয় দলের বাইরে আছেন এই সান্তোস তারকা। রোববার করিন্থিয়ানসের বিপক্ষে পুরো ৯০ মিনিট খেলে নেইমার বিশ্বকাপে ফেরার আকুতি জানালেও, আনচেলত্তির সহকারী মিনো ফুলকো এবং ফ্রান্সেস্কো মাউরি গ্যালারিতে বসে নেইমারের মধ্যে সেই কাঙ্ক্ষিত ফিটনেস খুঁজে পাননি।
ব্রাজিলের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড
গোলরক্ষক : অ্যালিসন (লিভারপুল), বেন্টো (আল নাসর), এদেরসন (ফেনারবাচে)।
ডিফেন্ডার : অ্যালেক্স সান্দ্রো (ফ্ল্যামেঙ্গো), ব্রেমার (জুভেন্টাস), দানিলো (ফ্ল্যামেঙ্গো), দগলাস সান্তোস (জেনিত), গ্যাব্রিয়েল মাগালেস (আর্সেনাল), ইবানেজ (আল-আহলি), লিও পেরেইরা (ফ্ল্যামেঙ্গো), মার্কিনহোস (পিএসজি), ওয়েসলি (রোমা)।
মিডফিল্ডার : আন্দ্রে সান্তোস (চেলসি), ক্যাসেমিরো (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), দানিলো (বোটাফোগো), ফাবিনহো (আল-ইতিহাদ), গ্যাব্রিয়েল সারা (গালাতাসারে)।
ফরোয়ার্ড : এনড্রিক (লিওঁ), গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লি (আর্সেনাল), ইগর থিয়াগো (ব্রেন্টফোর্ড), লুইজ হেনরিখ (জেনিত), মাথেউস কুনহা (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), রাফিনহা (বার্সেলোনা), রায়ান (বোর্নমাউথ), ভিনিসিউস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ), জোয়াও পেদ্রো (চেলসি)।
আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। গ্রুপ ‘সি’-তে তাদের অন্য প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।
খেলাধুলা
ইরান যদি বিশ্বকাপে খেলতে যায়, জীবন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল অংশগ্রহণ করে, তাহলে খেলোয়াড়দের জীবন ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের জাতীয় ফুটবল দল বিশ্বকাপে অংশ নিলে স্বাগত জানাবেন। তবে তাদের নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় সেখানে থাকা উপযুক্ত হবে বলে আমি মনে করি না।’
মাত্র দুই দিন আগেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ন্নি ইনফান্তিনোকে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের খেলোয়াড়রা বিশ্বকাপে অংশ নিলে তিনি তাদের স্বাগত জানাবেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। সেই পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে আসন্ন বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়েও। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো এবং টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ১১ জুন।
এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের সময় ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
মঙ্গলবারের সেই বৈঠকের পর তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টে ইরান দল অবশ্যই অংশ নিতে স্বাগত।’
উল্লেখ্য, গত ডিসেম্বরে ইনফান্তিনো ফিফার একটি শান্তি পুরস্কার চালু করেন এবং সেই পুরস্কার পেয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ায় সফররত ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়াড়ের বিষয়েও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। এশিয়ান কাপের একটি ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় দেশে ফিরে প্রতিশোধের আশঙ্কা করছিলেন তারা।
পরে অস্ট্রেলিয়া সিদ্ধান্ত নেয়, সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া পাঁচজন খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেওয়া হবে।
খেলাধুলা
পাঁচ বছর পর ফিরছে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল
দীর্ঘ পাঁচ বছরের বিরতি কাটিয়ে দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার’ আবারও চালু করতে যাচ্ছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। আগামী জুন অথবা জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মনোনীত ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেবেন বলে নিশ্চিত করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত পাঁচ বছরে যারা ক্রীড়াক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য এই পুরস্কারের যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন, তাদের সবাইকে একসাথে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্মানিত করা হবে। ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কর্তৃক প্রবর্তিত এই রাষ্ট্রীয় খেতাবটি সবশেষ ২০২০ সালে প্রদান করা হয়েছিল এবং এরপর থেকে এটি অনিয়মিত হয়ে পড়েছিল।
মন্ত্রণালয়ের এই নতুন উদ্যোগে কেবল পুরস্কার প্রদানই নয়, বরং এর বাছাই প্রক্রিয়ার নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অতীতে এই পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে প্রায়ই রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠত, যা বর্তমান সরকার আর হতে দিতে চায় না।
স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একটি সর্বজনস্বীকৃত জাতীয় কমিটি গঠন করা হবে, যারা প্রকৃত যোগ্য ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করে পুরস্কারের জন্য মনোনীত করবেন। প্রতি বছরের পুরস্কার প্রতি বছর দিয়ে ক্রীড়াবিদদের যথাসময়ে যথাযথ সম্মান জানানোর সংস্কৃতি গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রতিভা অন্বেষণে সরকার ‘নতুন কুঁড়ি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৩০ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ইভেন্টে ফুটবল ও ক্রিকেটসহ মোট সাতটি খেলা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যেখানে মূলত ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করা হবে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গত ছয় মাসে ব্যক্তিগত ও দলীয় পর্যায়ে যারা দেশের জন্য পদক জিতেছেন, তাদেরও আগামী ২৯ মার্চ বড় ধরনের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান করবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
ক্রীড়াবিদদের জীবনমান উন্নয়নেও সরকার কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে বলে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক উল্লেখ করেছেন। ইতিমধ্যে ৫০০ জন জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড়কে একটি স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে একটি পেশাদার পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ইভেন্টে পদকজয়ীদের উৎসাহিত করা এবং তৃণমূলের প্রতিভাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে আনার এই সমন্বিত পরিকল্পনা দেশের ঝিমিয়ে পড়া ক্রীড়াঙ্গনকে নতুন প্রাণ দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।
খেলাধুলা
ইরান না খেললে বিশ্বকাপে যাবে কোন দেশ, আলোচনায় এশিয়ার দুই দেশ
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান অংশ নেবে কি না তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে আলোচনা ও সমালোচনা। এর মাঝেই ফুটবলের বৈশ্বিক এই আসরে ইরানকে সাদরে আমন্ত্রণের জানানোর কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প। কিন্তু তার সেই আমন্ত্রণে আপাতত সাড়া দিচ্ছে না ইরান। চলমান পরিস্থিতিতে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতিতে নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ ডোনিয়ামাল।
ফলে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল না হলে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলবে না ইরান। যে কারণে আমেরিকা, মেক্সিকো, কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টটিতে একটি দেশ কমে যাচ্ছে। সেই জায়গায় কাদের নেওয়া হবে তা নিয়েও ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত রয়েছে আলোচনায়।
সাধারণত যে মহাদেশের দল নাম তুলে নেয়, সেই মহাদেশ থেকেই বিকল্প দল বেছে নেওয়া হয়। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করতে হবে, তা সুনির্দিষ্টভাবে বলা আছে ফিফার নিয়মে। সেই অনুযায়ী:
যে দেশ নাম প্রত্যাহার করেছে সেই গ্রুপের রানার-আপ দল বা সংশ্লিষ্ট মহাদেশ থেকে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন না করা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ের দল প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পাবে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে, বিশ্বকাপে খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এশিয়ায় তারাই সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দল যারা বিশ্বকাপে খেলতে পারছে না।
এ ছাড়া সরাসরি বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হতে পারে ইরাককে। এই মাসে ইরাক আন্তঃমহাদেশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে খেলবে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিরুদ্ধে। ইরাককে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ করে দিতে পারে ফিফা। সে ক্ষেত্রে আন্তঃমহাদেশীয় যোগ্যতা অর্জন পর্বে আমিরাতকে খেলতে হবে।
ইরাক যদি প্লে-অফ পর্ব জিতে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়ে যায়, তাহলে এশিয়ায় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল আমিরাতকে নেওয়া হতে পারে ইরানের জায়গায়। সে ক্ষেত্রে আমিরাতকে আলাদা করে প্লে-অফেও খেলতে হবে না।
এশিয়া থেকে কোনও দল না নিয়ে সরাসরি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ের বিচারে কোনও দেশকে নিতে পারে ফিফা। সে ক্ষেত্রে, সরাসরি বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন না করা দেশগুলোর মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে ওপরে রয়েছে ইতালি। এমনিতে তাদের প্লে-অফে খেলতে হবে। কিন্তু ইতালিকে সরাসরি বিশ্বকাপে নেওয়া হলে প্লে-অফে অন্য দেশকে আনতে হবে। এই প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল এবং বিতর্কিত। তাই বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ফিফা এই নিয়ম কাজে লাগাবে না।
এমএন




