আন্তর্জাতিক
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার তথ্য নিশ্চিত করল জাতিসংঘ
ইরানের বুশেহর শহরে একটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ‘শত্রুপক্ষের বিস্ফোরকবাহী উড়ন্ত বস্তু’ আঘাত হেনেছে। জাতিসংঘের পরমাণু প্রকল্প পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইএইএ) এবং ইরানের সরকার উভয়েই পৃথক বিবৃতিতে এমন দাবি জানিয়েছে।
আঘাত করা বস্তুটি ঠিক কি ছিল— তা নিশ্চিত করেনি আইএইএ কিংবা ইরান কোনোপক্ষই। ধারণা করা হচ্ছে সেটি ড্রোন ছিল। গতকাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই হামলা ঘটে।
আইএইএ-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “হামলায় বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, কেউ হতাহতও হয়নি। তবে আইএইএ-এর মহাপরিচালক পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। কারণ হামলার জেরে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিস্ফোরণ ঘটলে বিশাল বিপর্যয় দেখা দেবে।”
ইরানের সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এ ধরনের হামলা সব প্রকার আন্তর্জাতিক আইনবিরুদ্ধ। আন্তর্জাতিক আইনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ কারণ এমন হামলার ফলাফল ভয়াবহ হতে পারে। যদি ভবিষ্যতেও এমন হামলা হয়, তাহলে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে বিপর্যয় দেখা দেবে।”
সূত্র : সিএনএন
আন্তর্জাতিক
হরমুজ প্রণালিতে অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না : ম্যাক্রোঁ
হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিয়ে আলোচনার জন্য ফ্রান্সের মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
পৃথক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা ও রয়টার্স।
ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মাঝে হরমুজ প্রণালি সচল করার জন্য কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না। তবে যুদ্ধ শেষ হলে সেখানে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস। যা যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নই। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত বা মুক্ত করার অভিযানে ফ্রান্স কখনোই অংশ নেবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, পরিস্থিতি শান্ত হলে এবং আমি সচেতনভাবেই এই শব্দটি ব্যবহার করছি, অর্থাৎ যখন মূল বোমা হামলা বন্ধ হবে, তখন আমরা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে মিলে (জাহাজ চলাচলের জন্য) এসকর্ট বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।’
আন্তর্জাতিক
ইরানের নিরাপত্তা প্রধান লারিজানির মৃত্যু নিয়ে দাবি–পাল্টা দাবি
ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানির মৃত্যু নিয়ে পরস্পরবিরোধী দাবি তুলেছে ইসরায়েল ও ইরান। ইসরায়েলের দাবি, হামলায় নিহত হয়েছেন লারিজানি। অন্যদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, তিনি শিগগিরই বার্তা নিয়ে আসছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে আইডিএফ। তবে আলী লারিজানি নিহত হয়েছেন নাকি আহত হয়েছেন, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়।
একই সাথে বাসিজ কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিকে হত্যার কথাও দাবি করেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎসকে উদ্ধৃত করে জানায়, সোমবার রাতে লারিজানি নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েল কাৎস বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করতে আইডিএফকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
এদিকে ইরানের গণমাধ্যমগুলো বলছে, আলী লারিজানি শিগগিরই একটি বার্তা দেবেন।
ইরানের তাসনিম এবং মেহর সংবাদ সংস্থার পোস্টগুলোতে বলা হয়েছে, বার্তাটি ‘কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে।’
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধ: চীন সফর ‘একমাস’ পেছাতে চান ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে পরিকল্পিত বেইজিং সফর একমাস পেছানোর অনুরোধ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৬ মার্চ) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা জানান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের কারণে বেইজিংয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পরিকল্পিত বৈঠকটি যুক্তরাষ্ট্র একমাস পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করেছে।
আগের সূচি অনুযায়ী চলতি মার্চ মাসের শেষের দিকে ট্রাম্পের চীন সফরের কথা রয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত সফরটি হচ্ছে কিনা সোমবার বিকেলে জানতে চাইলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমি জানি না। এই মুহূর্তে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘আমরা বৈঠকটি মাসখানেক পিছিয়ে দেয়ার অনুরোধ করেছি। আমি তার সঙ্গে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো।’
ইরান যুদ্ধ এবং চীনের বাণিজ্য নীতি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তদন্তের মধ্যে সম্প্রতি দুই পরাশক্তির মধ্যে উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের বেইজিং সফর পিছিয়ে দেয়ার খবর এল।
তবে সোমবার ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, পরিকল্পিত এ সফর বিলম্বিত করার একমাত্র কারণ চলমান ইরান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যস্ত থাকা।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, এর মধ্যে কোনো ছলচাতুরি নেই। বিষয়টা খুবই সহজ। আমাদের একটা যুদ্ধ চলছে। আমি মনে করি আমার এখানে থাকা জরুরি।
ট্রাম্পসহ হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তরা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে চীনে উচ্চপর্যায়ের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের পরিকল্পনা ব্যাহত হতে পারে।
সূত্র: সিএনবিসি নিউজ
আন্তর্জাতিক
আইআরজিসির বাসিজ ফোর্স কমান্ডারকে হত্যার দাবি ইসরাইলের
হামলা চালিয়ে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী বাহিনীর (আইআরজিসি) বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলেইমানিকে হত্যার দাবি করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
ইসরাইলি বাহিনী বলছে, সোলেইমানিকে হত্যা ইরানের ‘কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কাঠামোর’ ওপর একটি ‘বড় আঘাত’ এবং ইরানি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে ‘শক্তি প্রয়োগ অব্যাহত রাখার’ অঙ্গীকার। খবর আল জাজিরা’র।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এদিকে ইরানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে নিজেদের আকাশপথ সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (জিসিএএ) সাময়িকভাবে সব ধরনের ফ্লাইট চলাচল স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত জানায়।
আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জিসিএএ আকাশপথের পূর্ণ ও সাময়িক বন্ধের ঘোষণাটি একটি ‘ব্যতিক্রমী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে গ্রহণ করেছে। মূলত ফ্লাইটের যাত্রী, ক্রু এবং আমিরাতের ভূখণ্ডকে সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত।
জিসিএএ জানিয়েছে, নিরাপত্তা ও অপারেশনাল ঝুঁকিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণের পর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আকাশপথ বন্ধ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক
কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ : ট্রাম্প
হরমুজ প্রণালির মধ্য দিয়ে যাওয়া তেলবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তায় পুরোনো মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এসব মার্কিন মিত্র দেশ সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেছেন, কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়ার পরও তারা কৃতজ্ঞতা দেখাচ্ছে না।
রয়টার্সের খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে এবং এর শেষ কবে হবে তা স্পষ্ট নয়। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বর্তমানে প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। এতে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
এই সংঘাত ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, ইরানের ওপর বিমান হামলার আগে তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হয়নি। এছাড়া ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকেই ট্রাম্প তার মিত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনা ও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়ে আসছেন।
মার্কিন মিত্রদের মধ্যে জার্মানি, স্পেন এবং ইতালি জানিয়েছে, কৌশলগত জলপথটি পুনরায় চালু করতে তারা আপাতত কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে না। ইরান ড্রোন ও নৌ-মাইন বসিয়ে কার্যত পথটি বন্ধ করে রেখেছে।
জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বার্লিনে বলেন, জার্মান সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে হলে জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন অথবা ন্যাটোর অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু ওয়াশিংটন ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর আগে জার্মানির সঙ্গে কোনো আলোচনা করেনি।
ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, অনেক দেশ আমাকে সহায়তার আশ্বাস দিলেও কিছু পুরোনো মিত্র দেশের আচরণে আমি হতাশ।
তিনি বলেন, কিছু দেশ এতে খুবই আগ্রহী, আবার কিছু নয়। এমন কিছু দেশ আছে যাদের আমরা বহু বছর ধরে সাহায্য করেছি এবং বাইরের ভয়াবহ হুমকি থেকে রক্ষা করেছি। কিন্তু তারা খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি। আর সেই আগ্রহের মাত্রা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
এমএন




