জাতীয়
ঈদযাত্রায় প্রথমদিনে কমলাপুরে উপচেপড়া ভিড়, সময়মতো ছাড়ছে ট্রেন
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শুরু হওয়া টানা ছুটির প্রথমদিনেই রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচেপড়া ভিড়। তবে ভিড়ের মধ্যেও অধিকাংশ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল থেকেই উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীচাপ দেখা গেছে। প্ল্যাটফর্মে ট্রেন আসামাত্রই যাত্রীরা আসন দখলে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। সকালের ট্রেনগুলোতে গাদাগাদি করেই যাত্রা করেছে মানুষ। যেন তীল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদেও চেপে বসেছেন অসংখ্য যাত্রী।
তবে পূর্বাঞ্চলের ট্রেনগুলো ছিল তুলনামূলম ফাঁকা। তবে প্রতিটি ট্রেনেই স্বস্তির কথা জানিয়েছেন যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গের ট্রেন নীলসাগর এক্সপ্রেস ছাড়া মঙ্গলবার প্রতিটি ট্রেনই কমলাপুর স্টেশন থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে গেছে৷ শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় রেলপথের যাত্রীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
রংপুরের এক যাত্রী বলেন, ‘কমলাপুর স্টেশনে এসেই দেখি হাজার হাজার যাত্রী।
সবাই স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করার জন্য বাড়ি যাচ্ছে। মানুষ বেশি হলেও আনন্দ লাগছে। আশা করি ট্রেনে উঠতে পারব।’
এক সরকারি চাকরিজীবী বলেন, ‘বউ-বাচ্চাকে আগেই পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন আমি যাচ্ছি বাড়ি। তবে এতে মানুষ দেখে শঙ্কায় আছি ঠিকভাবে ট্রেনে উঠতে পারব কি না। তবে ট্রেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ছেড়ে যাচ্ছে দেখলাম।’
কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘এবার শতভাগ অনলাইনে টিকিট দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দাঁড়িয়ে যাওয়ার টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ১০০টি আসনের বিপরীতে ২৫ জন যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে পারবেন। বিভিন্ন রুটের ট্রেন মাঝপথে কয়েকটি স্টেশনে থামে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজের কারণে কখনো কখনো দেরি হতে পারে। তবে আমরা চেষ্টা করছি ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছাড়তে এবং যাত্রীদের সর্বোত্তম সেবা দিতে।’
এমএন
জাতীয়
২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রীর ২৮ কর্মসূচির কথা জানালেন তাঁর উপদেষ্টা
দায়িত্ব নেওয়ার ২৮ দিনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ২৮টি কর্মসূচির তথ্য তুলে ধরেছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ফেসবুকে ‘প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ : এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ’ শিরোনামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কর্মসূচিগুলো তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর ২৮ দিনের ২৮ পদক্ষেপ : এক অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ
আজ ১৭ মার্চ। ঠিক এক মাস আগে, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করে। মাত্র ২৮ দিনে, রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি মুহূর্তে তিনি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। এই পদক্ষেপগুলো শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, এটি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার স্পষ্ট প্রতিফলন।
এখানে ২৮ দিনে নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো তুলে ধরা হলো, যা সামাজিক সুরক্ষা, অর্থনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতিটি অঙ্গনকে আলোকিত করেছে।সামাজিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা:
১. ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি : ৩৭,৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে, প্রতিটি কার্ডে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা। মাত্র ২১ দিনে বাস্তবায়ন, সরকারের মানবিক অগ্রাধিকারের উদাহরণ।
২. ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানী : ৪,৯০৮ মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০ মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪ বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬ গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন।
৩. ঈদে ত্রাণ ও উপহার বিতরণ : নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ। সকল পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার।
৪. প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা : দরিদ্রদের কাছে সম্পদ পৌঁছানো ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তার জন্য আলেম মাশায়েখদের সাথে আলোচনার প্রেক্ষিতে প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ।
কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতি:
৫. কৃষক কার্ড ও কৃষিঋণ মওকুফ : প্রায় ২৭,০০০ কৃষককে বহুলপ্রত্যাশিত কৃষক কার্ড প্রদানের মাধ্যমে শীঘ্রই কার্যক্রম শুরু, প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ, নতুন উদ্যমে চাষাবাদে সহায়তা। ৬. দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি : ২০,০০০ কিলোমিটার খাল ও জলাশয় খনন, ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু। সেচ উন্নত হবে, জলাবদ্ধতা কমবে, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
৭. সাপ্তাহিক অফিস ও অফিস সময় : প্রধানমন্ত্রী শনিবারও অফিস করছেন; কর্মকর্তাদের সকাল ৯টার মধ্যে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
৮. ভিভিআইপি প্রটোকল হ্রাস : প্রধানমন্ত্রীর অতি সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় নজিরবিহীন পরিবর্তন, জনগণও ট্রাফিক আইন মেনে চলতে উৎসাহিত।
৯. বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত : উপস্থিত থাকবেন একজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব।
১০. এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল : শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যার ফলে রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমবে, জনগণের আস্থা পুনঃস্থাপিত হবে।
অর্থনীতি ও বাজার স্থিতিশীলতা
১১. বাজার মনিটরিং ও জ্বালানি স্থিতিশীলতা : রমজান ও ঈদে মূল্যবৃদ্ধি রোধ, বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখতে স্পট এলএনজি ক্রয়।
১২. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণ : ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া।
১৩. শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস নিশ্চিতকরণ : সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ঈদ বোনাস সময়মতো পরিশোধ। পোশাকসহ রপ্তানিমুখী শিল্পে ২,৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ।
১৪. রুগ্ন ও বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু : পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি।
১৫. স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি : স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাই-টেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে ইকোসিস্টেম তৈরী শুরু।
শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন
১৬. পুনর্ভর্তি ফি বাতিল ও লটারি বাতিল : প্রতি বছর পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল; লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা সাক্ষাৎকার, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত ।
১৭. বিদেশে উচ্চশিক্ষায় সহায়তা : রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টি।
১৮. ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ : ৯,০০০ শিক্ষক নিয়োগ, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ জোরদার। ১৯. ক্রীড়া উন্নয়ন ও নতুন কুঁড়ি কর্মসূচি : শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত; নতুন কুঁড়ি সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও কোরআন তেলাওয়াত উদ্যোগ; উপজেলা পর্যায়ে ৬টি খেলায় ৩ জন করে মোট ১৮ জন ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ শুরু।
স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণ
২০. ই-হেলথ কার্ড ও চিকিৎসাকেন্দ্র : স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছাতে ই-হেলথ কার্ড চালু; ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ শুরু যার ৮০ ভাগ হবেন নারী।
২১. ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযান : সাপ্তাহিক জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান; স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি সমন্বয়ে কার্যক্রম।
আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা
২২. চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
২৩. নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস : সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত পিংক বাস চালুর নির্দেশ; সাইবার বুলিং প্রতিরোধ।
রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ
২৪. রাষ্ট্রীয় ইফতার সীমিতকরণ ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সরকারি অফিসে অর্ধেক ফ্যান ও এসি; অপচয় রোধে ইফতার সীমিত।
২৫. অবৈধ দোকান উচ্ছেদ : কক্সবাজার সুগন্ধা সি বিচে ২০ বছর পরে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ এবং দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ।
২৬. শহীদ সেনা দিবস : ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষণা ও পালনের পাশাপাশি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ।
২৭. ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল : উচ্চপর্যায়ের সভার মাধ্যমে এবং বহুপাক্ষিক আলোচনা ও কর্মকৌশল ঠিক করে দ্রুত তৃতীয় টার্মিনাল চালুর উদ্যোগ।
২৮. বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট : ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটে শাহজালাল, শাহ আমানত ও এম এ জি ওসমানী বিমানবন্দরে উন্নত দেশের মতো ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবস্থার নির্দেশ ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে উদ্বোধন।
সবশেষ মাহদী আমিন লেখেন, সরকার গঠনের প্রথম ২৮ দিনে নেওয়া পদক্ষেপগুলো তারেক রহমানের দৃঢ় নেতৃত্ব, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রতিফলন। তার নেতৃত্ব এভাবেই সাধারণ মানুষের আশা ও অনুভূতিকে ধারণ করছে, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবায়ন করছে। অভূতপূর্ব এ পথযাত্রা নতুন প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করবে, ইনশাআল্লাহ।
তাই তো তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’
এমএন
জাতীয়
বসিলা ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু, দৈনিক চলবে ৬ লঞ্চ
ঈদের সময় সদরঘাটের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে বসিলা ঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল শুরু করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। প্রথম লঞ্চটি আনুষ্ঠানিকভাবে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টায় বসিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিনের উদ্দেশে (এমভি টিপু) ছেড়েছে।
বিআইডব্লিউটিএর শুল্ক আদায়কারী কর্মকর্তা ইনসানুর রহমান বলেন, সকাল ৭টায় বসিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিনের উদ্দেশে (এমভি টিপু) লঞ্চটি বসিলা ঘাট থেকে ছেড়েছে।
তিনি বলেন, প্রথম দিনের প্রথম লঞ্চে ১০০ থেকে ১৫০ যাত্রী নিয়ে রওয়ানা হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে বসিলা-সদরঘাট-শরীয়তপুর (এমভি ইমাম হাসান-৫) রুটের লঞ্চটি বসিলা ঘাট থেকে ছেড়ে যাবে।
বিআইডব্লিউটিএ সূত্র বলছে, বসিলা ব্রিজ সংলগ্ন লঞ্চঘাট (ব্রিজের নিচে) থেকে আজ ৬টি লঞ্চ ছাড়া হবে। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই লঞ্চঘাট থেকে ছয়টি বিভিন্ন নৌপথে যাত্রী পরিবহন করবে।
লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি
বসিলা থেকে সকাল : বছিলা-সদরঘাট-হাকিমুদ্দিন : ৭টা (এমভি টিপু); বছিলা-সদরঘাট-শরীয়তপুর : ৮টা ৩০ মিনিট (এমভি ইমাম হাসান-৫); বছিলা-সদরঘাট-চাঁদপুর : ১১টা (এমভি ঈগল-৪)।
দুপুর : বছিলা-সদরঘাট-ইলিশা : ১২টা (এমভি টিপু-৬); বছিলা-সদরঘাট-গলাচিপা : ১টা ৩০ মিনিট (এমভি বোগদাদীয়া-১২ ও এমভি শরিয়তপুর-৩)।
বিকেল : বছিলা-সদরঘাট-ইলিশা : ৫টা ৩০ মিনিট (এমভি ইয়াদ-১)।
শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে সকালে : শিমুলিয়া-চাঁদপুর : ৮টা (এমভি সমতা অ্যান্ড সমৃদ্ধি এক্সপ্রেস); শিমুলিয়া-চাঁদপুর : ৯টা (এমভি সমতা সমৃদ্ধি-১); শিমুলিয়া-বরিশাল : ৮টা, বরিশাল-শিমুলিয়া : ৭টা (এমভি রাজারহাট বি)।
এমএন
জাতীয়
ইউএনসিটিএডির মহাসচিব গ্রিনস্প্যানের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুরের সাক্ষাৎ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনের (ইউএনসিটিএডি) মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে, যার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর ওপর।
সোমবার (১৬ মার্চ) নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন ইউএনসিটিএডি মহাসচিব রেবেকা গ্রিনস্প্যান।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। দুই পক্ষই মনে করেন, এ সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘ্ন এবং জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা ইতোমধ্যেই উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলো বহু বছরের অর্জিত উন্নয়ন অগ্রগতি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংঘাত আরও না বাড়ানোর এবং দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান তারা।
বৈঠকে উভয় কর্মকর্তা তাদের নিজ নিজ প্রার্থিতা নিয়েও আলোচনা করেন। রেবেকা গ্রিনস্প্যান, যিনি আগে কোস্টারিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন, বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব পদে প্রার্থী। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খালিলুর রহমান জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী।
এ সময় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এমএন
জাতীয়
১৯ বছর পর চাকরি ফিরে পাচ্ছেন ৩৩০ পুলিশ কর্মকর্তা
২০০৭ সালে ‘দলীয় বিবেচনায়’ বাতিল হওয়া পুলিশ সার্জেন্ট ও সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। ফলে ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত ১২৩ পুলিশ সার্জেন্ট ও ২০৭ জন সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন।
সোমবার (১৬ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা-২ থেকে জারি করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০০৬ সালে নিয়োগের জন্য বাছাইকৃত সার্জেন্ট ও এসআইদের ২০০৭ সালে ‘দলীয় বিবেচনায়’ বাতিল করা হয়।
এখন ওই আদেশ প্রত্যাহার করা হলো। নির্বাচিতদের নির্ধারিত শর্তে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শর্ত অনুযায়ী, ২০০৭ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল না হলে আবেদনকারীরা যে তারিখে স্বাভাবিকভাবে চাকরিতে যোগদান করতেন, সেই তারিখ থেকে তাদের ভূতাপেক্ষ জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের মৌলিক প্রশিক্ষণকাল ছয় মাস এবং শিক্ষানবিশকাল সর্বোচ্চ দুই বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিধিবিধান অনুসরণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যাচের গ্রেডেশন তালিকা নির্ধারণ করা হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এমএন
জাতীয়
ঈদ উপলক্ষে টানা ৭ দিনের ছুটি শুরু
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশে শুরু হয়েছে টানা সাত দিনের ছুটি। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) শবে কদরের সরকারি ছুটি দিয়ে শুরু হওয়া এই ছুটি চলবে আগামী ২৩ মার্চ পর্যন্ত।
সোমবার (১৬ মার্চ) ছিল ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস। কর্মদিবস শেষ হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরের সড়ক ও বাসস্ট্যান্ডে ঘরমুখো মানুষের ঢল নামে। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) দেশে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সম্ভাব্য এই তারিখকে সামনে রেখে আগেই পাঁচ দিনের ছুটির সূচি নির্ধারণ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ১৯ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ছুটি রাখা হয়। এর মধ্যে ২১ মার্চ ঈদুল ফিতরের দিন সাধারণ ছুটি। এছাড়া ঈদের আগে ১৯ ও ২০ মার্চ এবং ঈদের পর ২২ ও ২৩ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছিল।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে পূর্বঘোষিত ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ১৮ মার্চও ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ফলে ১৭ মার্চের শবে কদরের ছুটিসহ সরকারি চাকরিজীবীরা টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন।
এর আগে, ঈদযাত্রায় মানুষের ভোগান্তি কমাতে ১৮ মার্চ ছুটি দেওয়ার দাবি ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ মার্চ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। পরে ৮ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ওই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কার্যবণ্টন (কার্যপ্রণালি বিধিমালা, ১৯৯৬)-এর তফশিল অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতাবলে ১৮ মার্চ নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে জরুরি সেবাগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি সরবরাহ, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট সেবা, ডাক বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট যানবাহন ও কর্মীরা।
এ ছাড়া হাসপাতাল, জরুরি চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনও ছুটির আওতার বাইরে থাকবে। জরুরি কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসগুলোও খোলা থাকবে।
এমএন




