রাজনীতি
মির্জা আব্বাসকে ভয়ভীতি : নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ-কে অপরাধমূলক ভয়ভীতি দেখানো ও মানহানির অভিযোগে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী-এর বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয়েছে।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ এ আবেদন করেন রাজধানীর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র রমনা থানার বর্তমান সভাপতি মো. আশরাফুল ইসলাম। মামলার আবেদনটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত।
বাদী পক্ষের আইনজীবী মো. আমিরুল ইসলাম আমির জানান, ইতোমধ্যে আদালতে মামলার আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং বেলা ১১টার দিকে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাদীর তার অভিযোগে উল্লেখ করে বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শাপলা কলি নিয়ে মির্জা আব্বাসের সঙ্গে বিপুল ভোটে হেরে যান। নির্বাচনের সময় এই আসামি বিভিন্ন মিথ্যা ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়ে আসছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নির্বাচনে বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার পর আরও বেশি করে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এবং বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে মিথ্যা মানহানিকর বক্তব্য ও বিভিন্ন হুমকি দিয়ে আসছেন। সর্বশেষ গত ৫ মার্চ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাদী দেখেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মানহানিকর হুবহু বক্তব্যে কয়েকটি অনলাইন নিউজ মিডিয়াতে এসেছে।
বাংলাদেশ ক্রিমিনাল র্যাংকিয়ে নাম্বার ওয়ান গডফাদার ‘মির্জা আব্বাস’ —এই বক্তব্যগুলো অত্যন্ত মানহানিকর ও নিন্দনীয় কাজ। এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইউটিউবে ভাইরাল করে দিয়ে মির্জা আব্বাসের সম্মান ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আসামির এসব বক্তব্য ফেসবুকে দেখে বাদী ও মির্জা আব্বাস বিস্মিত হয়েছেন। বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব বক্তব্য দেখেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে একের পর এক বাদী ও মির্জা আব্বাসের সুনাম ও রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কালিমা লেপনের জন্য মিথ্যা বানোয়াট বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে, যা সব প্রকার শিষ্টাচার সভ্যতার রীতিনীতি বহিঃভূত এবং মানহানিকর বলে অভিযোগ উল্লেখ করা হয়।
এমএন
রাজনীতি
ঢাকা-১৬ আসনের ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আমিনুল হক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে ঢাকা-১৬ আসনের প্রার্থী আমিনুল হক হাইকোর্টে আবেদন করেছেন।
রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ হাইকোর্ট বিভাগ-এর বিচারপতি মো. জাকির হোসেন-এর নেতৃত্বাধীন একক বেঞ্চে এ আবেদনের ওপর শুনানি হতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন আমিনুল হক। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেন-এর কাছে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন। নির্বাচনে আব্দুল বাতেন মোট ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়েছেন। আর আমিনুল হক পান ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট। তবে ভোটে হারলেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর (টেকনোক্র্যাট) দায়িত্ব পেয়েছেন আমিনুল হক।
এর আগে ১৫ এর অধিক প্রার্থী হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন। শুনানির জন্য আবেদনগুলো গ্রহণ করে ওইসব আসনের ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র শুনানির জন্য হাইকোর্টে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে একক বেঞ্চ এসব আবেদনের ওপর শুনানি গ্রহণ করছেন।
হাইকোর্ট বিভাগের কার্যতালিকায় এই বেঞ্চে অন্যান্য দেওয়ানি এখতিয়ারের সঙ্গে দেখা যায়, ২০০১ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব (সংশোধন) অধ্যাদেশ দ্বারা সংশোধিত ১৯৭২ ইং সনের গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ মোতাবেক ‘নির্বাচনী’ আবেদনপত্র; যেসব বিষয় এই বেঞ্চে স্থানান্তরিত হইবে এবং উপরোল্লিখিত বিষয়াদি সংক্রান্ত রুল, আবেদনপত্র গ্রহণ ও শুনানি করবেন।
এমএন
রাজনীতি
বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর পুরস্কার নিলেন নাতনি জাইমা রহমান
নারী শিক্ষা এবং গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ ‘অদম্য নারী’র মরণোত্তর পুরস্কার পেলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রায়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ মার্চ) সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাত থেকে পুরস্কারটি গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়ার নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
এদিকে, আট বিভাগ থেকে ৩৯ নারীর মধ্যে ৫ জনকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। এদের মধ্যে খুলনার ববিতা খাতুন, চট্টগ্রামের শমলা বেগম, রংপুরের নুরবানু কবীর, ময়মনসিংহের নূরুন নাহার আক্তার, ঢাকার আফরোজা ইয়াসমিনের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
যেসব ক্যাটাগরিতে পুরস্কার:
- অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী।
- শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী নারী।
- সফল জননী নারী।
- নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী নারী।
- সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন যে নারী।
ঢাকা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আরিফা বেগম, মারুফা আক্তার, নাছরিন আক্তার, মুক্তা আক্তার, মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
রাজশাহী বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: লতা-খাতুন, রিজু তামান্না, মোসা. রাশেদা বেগম, রাজিয়া খাতুন, সুমাইয়া ইসলাম।
চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: আসমা আক্তার কনা, বেগম তাজকেরা চৌধুরী, বিলকিছ বেগম, শমলা বেগম।
সিলেট বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: কুলসুমা বেগম, মোছাম্মৎ আমিনা বেগম, মোছা. রহিমা বেগম, কাঞ্চন বেগম, রিফাত আরা রিফা।
খুলনা বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: তারানা তাবাচ্ছুম, মোছা. ববিতা খাতুন, লুৎফুন নেছা বেগম, শরিফা ইয়াসমিন, মোছা. রাজিয়া খাতুন।
রংপুর বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: ফরিদা পারভীন, রিক্তা বানু, মোসা. রাশেদা বেগম, মোছা. পারভীন আক্তার, খন্দকার আবিদা সুলতানা রিয়া।
বরিশাল বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন, নাহীদ রুমানা মিতু, দেলোয়ারা বেগম, সালমা আক্তার, রিতা ব্রহ্ম।
ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে পাচ্ছেন: নুরুন নাহার বেগম, উম্মে রাফিবা জাহান, হাসনা হেনা বারী, নাসরীন বেগম, তাহমিদা।
এমএন
রাজনীতি
সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের নেতৃত্বে নতুন দল
নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম অলটারনেটিভস ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, সাবেক এনসিপি নেত্রী তাজনুভা জাবীনসহ ১৭ জন রয়েছেন। আজ শুক্রবার (৬ মার্চ) আংশিক এই কমিটি ঘোষণা করা হয়।
কমিটিতে আরও রয়েছেন, আহমদ ইবনে আরিফ (অনি), ইমন সৈয়দ, ইমরান আহমেদ, জাহিন ফারুক আমিন, তানভীর চৌধুরী, ডা. তাজনুভা জাবীন, দুর্জয় দাশ গুপ্ত, ফরহাদুল আলম সবুজ, মাহফুজ আলম, মায়িদা তানহা বিদুষী, মুতাসিম বিল্লাহ, মনিরুজ্জামান, মো. রায়হানুর রহমান (রাবি), মোহাম্মাদ এরফানুল হক, সাজ্জাদ হোসেন শহীদুল্লাহ, শেখ ফরিদ, হাসান আলী।
এরআগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করে অলটারনেটিভস।অলটারনেটিভস’র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ, নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বিকাশ এবং জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার হৃত স্বপ্ন পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে ন্যাশনাল অর্গানাইজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী দিনে দেশব্যাপী সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। কমিটির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক যোগাযোগ ও সংলাপের মাধ্যমে ছাত্র-শ্রমিক-কৃষক-জনতাকে এক করে সাংগঠনিক কাঠামো গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে নেবেন।
রাজনীতি
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী রিজওয়ানা হাসান: গোলাম পরওয়ার
সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরিকল্পিত চক্রান্তের মাধ্যমে জামায়াতকে জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা (মেজরিটি) পেতে দেওয়া হয়নি। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং।
শুক্রবার (৬ মার্চ) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রত্যক্ষ রাজসাক্ষী উল্লেখ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জামায়াত ইসলাম। মেইনস্ট্রিম বলতে পার্লামেন্টে মেজরিটি পেতে দেন নাই। এটাই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং। আপনার কথাই তো প্রমাণ করে আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দৃশ্যত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন। দুঃখ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে তখন- যখন ভোটগণনা, ফলাফলের প্রক্রিয়া পুরোটাই ছিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভরা। দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছে। ১১টা পর্যন্ত জামায়াতের বিপুল বিজয়ের সম্ভাবনা ছিল, সেখানে রাত দশটার দিকে নির্বাচন সম্প্রচার বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপরই অল্প অল্প ভোটে জামাতের পরাজয়ের খবর আসে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াতে আমির ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রশ্নে বলেছেন, অতীতে দেখা যায় যারা কারচুপি করে, তারা বলে আমি কলা খাইনি, ঠিক তেমনি তাদের মুখ থেকেই বেরিয়ে যাবে। রাজসাক্ষী পেয়ে গেছি আমরা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসনকে বলছি, আপনি ব্যাখা দেয়ার চেষ্টা করেছেন মিডিয়ায়। বলেছেন- উগ্রবাদী এবং তাদের মেইনস্ট্রিমে আসতে দেই নাই। বিরোধী দলে কোনো উগ্রবাদী নেই। সংসদে কোনো উগ্রবাদী নেই। ইসলাম কোনো চরমপন্থাকে প্রশ্রয় দেয় না। আপনারা নারীবাদী হয়ে যা বলেন তার চেয়ে হাজারগুণ মর্যাদা নারীকে দেয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আনন্দবাজারের সঙ্গে আবার বললেন- মবের স্বীকার হলে জামায়াত-শিবিরকেই দায়ী থাকতে হবে, এগুলো উসকানি। জামায়াত ইসলামী মবের রাজনীতি করে না। আপনার কথাই তো প্রমাণ আপনারা আমাদের মেজরিটি পেতে দেননি। আপনার সঙ্গে আর কে কে ছিলেন তাদের নাম প্রকাশ করুন।’
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘লন্ডন কন্সপেরেসির হোতা ড. খলিলুর রহমান। নির্দলীয় সরকারের প্রথা থাকে যে ইমিডিয়েট সরকারে তারা যোগদান করে না, কেউ করেনি। বিএনপিই আপনার বিরুদ্ধে কথা বলেছে। শুধু ইচ্ছা করেই এই সরকারে যোগ দেন নাই। ডিপ স্টেটে যারা রয়েছেন তারাই আপনাকে পিক করেছে। আপনার সার্ভিসে তারা এত খুশি যে আগের সব দোষ ভুলে গেছে। আপনাদের সহযোগীদের নাম প্রকাশ করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আপনি এমন কিছু করেছেন যার জন্য মন্ত্রিত্বের পুরস্কার পেয়েছেন। উভয় পক্ষের প্রেম এমনি এমনি হয়নাই। গুড় খাইলে গুণ গাইতে হয়।’
বাম সেজে দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যারা চক্রান্ত করেন তারাই মেইনস্ট্রিম কী জবাব দেবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে ১৭০টিরও বেশি আসন আমরা পাব। কিন্তু পরিকল্পনা করে ১০০ এর নিচে নামানো হলো। ফলাফলপত্রে টেম্পারিং করা হয়েছে, কাটাছেড়া করা হয়েছে। অনেক এজেন্টের কাছ থেকে ফল গণনার আগেই ফলাফলপত্রে সই নেয়া হয়েছে।’
সংঘাত সহিংসতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চান না জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘সাবেক উপদেষ্টার কথা প্রমাণ করে তিনি একটা মন্দ কাজে জড়িত ছিলেন। আমাদের সব কর্মসূচি প্রকাশ্যে হয়, সমাজের অনেক স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী অনেক অপকর্ম করে তা ইসলামপন্থিদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই।’
রিজওয়ানার উদ্দেশে গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, ‘আমরা আপনার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে জুডিসিয়াল তদন্ত চেয়েছি। আপনি বলে ফেললেল মবের স্বীকার হলে জামায়াত- শিবিরকে দায়ী হতে হবে। এত উত্তেজিত হলে চলবে কীভাবে?
দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রগকাটার গুজব উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সরকার শুরু থেকেই গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে পারতো। সিটি করপোরেশনে দলীয় লোক বসানো, সংসদ অধিবেশনের আগের রদবদল কর্তৃত্ববাদী মনোভাবেরই প্রকাশ হয়।’
জুলাই সনদকে বিএনপি এড়িয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, আদালতের ঘাড়ে বন্দুক রেখে জনগণের ওপর জুলাই সনদকে ফায়ারের চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এমএন
রাজনীতি
ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে কোনো ছিন্নমূল নাগরিক থাকবে না: ড. হেলাল উদ্দিন
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন বলেছেন, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। একটি প্রকৃত ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে দেশের কোনো নাগরিককে আর ছিন্নমূল বা সুবিধাবঞ্চিত অবস্থায় থাকতে হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাজধানীর রমনা পার্কে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত অসহায়-সুবিধাবঞ্চিত ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. হেলাল উদ্দিন বলেন, মানুষের তৈরি মতবাদে সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও শান্তি প্রতিষ্ঠা হয় না। যার কারণে স্বাধীনতা পরবর্তী বিগত ৫৫ বছরেও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় হয়নি। বিদ্যমান শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে জনগণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ভোট দিয়ে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিল। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং ইলেকশনের মাধ্যমে জনগণের ভোট চুরি করা হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের একজন উপদেষ্টা ইতোমধ্যে মিডিয়ার সামনে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তারা জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় আসতে দেয়নি। কারণ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসলে দুর্নীতি-চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী চলবে না। আর দুর্নীতি-চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস বন্ধ হয়ে গেলে কথিত সুশীলরা ভাগ-বাটোয়ারা পাবে না।
তিনি আরও বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল এবং বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছে তাদের দুর্নীতি-চাঁদাবাজি আর লুটপাটের কারণে সমাজের রন্ধে রন্ধে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে। সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করতে হলে ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য এদেশের মানুষকে অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত সংগ্রামের প্রস্তুতি নিতে হবে।
বর্তমান বাংলাদেশে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এভাবে চলতে পারে না। বাংলাদেশকে নিরাপদ ও বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে জামায়াতে ইসলামীর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ইফতার বিতরণ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য ও পল্টন থানা আমীর শাহীন আহমেদ খান, মহানগরীর মজলিসে শুরা সদস্য ও শাহবাগ পশ্চিম থানা আমীর এডভোকেট শাহ মোহাম্মদ মাহফুজুল হক সহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এমএন




