কর্পোরেট সংবাদ
জাতিসংঘের ‘প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিং’-এ যোগ দিল সিটি ব্যাংক
বাংলাদেশের শীর্ষ টেকসই ও দায়িত্বশীল ব্যাংকিংয়ের বৈশ্বিক অঙ্গীকার নিয়ে জাতিসংঘের প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিং (পিআরবি) -এ স্বাক্ষর করেছে সিটি ব্যাংক পিএলসি। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম ফাইন্যান্স ইনিশিয়েটিভ (ইউএনইপি এফআই)-এর সদস্য হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিটি ব্যাংক এই মাইলফলকের কথা জানায়। পিআরবি-তে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সিটি ব্যাংক এখন থেকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল ও টেকসই অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
ইউএনইপি এফআই এর উদ্যোগে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ব্যাংকের সহযোগিতায় প্রণীত পিআরবি ব্যাংকসমূহকে তাদের ব্যবসায়িক কৌশল, পোর্টফোলিও এবং কার্যক্রমকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) এবং জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্যারিস চুক্তির উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রদান করে।
১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএনইপি এফআই সারা বিশ্বের ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদের একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ককে একত্রিত করে, যা আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সঙ্গে জাতিসংঘের সংযোগ স্থাপন করে টেকসই অর্থায়ন সংক্রান্ত এজেন্ডা প্রণয়নে কাজ করে। এর জেনেভাভিত্তিক সেক্রেটারিয়েট বিশ্বব্যাপী ৫৫০ টিরও বেশি ব্যাংক ও বীমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে।
পিআরবির স্বাক্ষরকারী হিসেবে সিটি ব্যাংক পিএলসি এখন একটি বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের অংশ, যেখানে সদস্য ব্যাংকসমূহ সম্মিলিতভাবে আরও টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহনশীল আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। এই নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে সিটি ব্যাংক এখন থেকে তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাবগুলো আরও নিবিড়ভাবে মূল্যায়ন করবে। ব্যাংকটি আন্তর্জাতিক চর্চার সঙ্গে মিল রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করবে।
পিআরবিতে যোগদান সম্পর্কে সিটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন বলেন, প্রিন্সিপালস ফর রেসপনসিবল ব্যাংকিংয়ে যোগদান আমাদের টেকসই ব্যাংকিং যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এর মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়তা, জলবায়ু অর্থায়ন জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আমাদের ভূমিকা বৈশ্বিক পরিসরে তুলে ধরতে পারব।
তিনি আরও বলেন, এই সদস্যপদ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সফল ব্যাংকের অভিজ্ঞতা থেকে উদীয়মান টেকসই উন্নয়ন-সম্পর্কিত বিষয়গুলো সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করবে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
আইএফআইসি ব্যাংক ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত
নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় অধিকতর গতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ব্যাংকিং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এখন থেকে নগরবাসী তাদের সকল প্রকার ট্যাক্স ও ফি আইএফআইসি ব্যাংকের মাধ্যমে সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন।
গত ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের অতীন্দ্র মোহন রায় কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সম্পাদিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আইএফআইসি ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ ক্রেডিট অফিসার জনাব মো. রফিকুল ইসলাম এর উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ব্যাংকের চিফ অব ব্রাঞ্চ বিজনেস জনাব হেলাল আহমেদ। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. শাহ আলম।
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইএফআইসি ব্যাংকের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা রিজিওনাল হেড ও শাখা ব্যবস্থাপক জনাব মো. ফরিদ আল মাহমুদ। সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মোহাম্মদ মামুনসহ উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকগণ এখন থেকে আইএফআইসি ব্যাংকের যেকোনো শাখা বা উপশাখার মাধ্যমে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্সসহ যাবতীয় সরকারি ফি প্রদান করতে পারবেন। এর ফলে সেবা গ্রহণ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, সহজ এবং সময়োপযোগী হবে বলে উভয় প্রতিষ্ঠান আশা প্রকাশ করেছে।
আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি বিশ্বাস করে, এ ধরনের অংশীদারিত্বভিত্তিক উদ্যোগ নাগরিক সেবার আধুনিকায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আধুনিক ব্যাংকিং সেবাকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়াই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
‘নগদ’ টিকিয়ে রাখতে বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন: বাংলাদেশ ব্যাংক
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান নগদের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। স্থানীয় বা বিদেশি— যে কোনো উৎস থেকে বিনিয়োগ এলে তা ইতিবাচকভাবেই দেখা হবে বলেও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।
এর আগে বেলা ১১টার পর ডাক বিভাগের এমএফএস প্রতিষ্ঠান নগদ-এ বিদেশি বিনিয়োগ আনার প্রস্তাব নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
আরিফ হোসেন খান বলেন, একসময় নগদ বড় ধরনের সংকটে পড়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির বিশাল গ্রাহকভিত্তি বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রশাসক ও প্রশাসক টিম নিয়োগ দেয়। দীর্ঘ সময় ধরে প্রশাসক টিম দায়িত্ব পালনের ফলে আর্থিক সূচক ও লেনদেনের তথ্যসহ সার্বিক কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এটি স্থায়ী সমাধান নয়। নগদকে শক্ত ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে বড় বিনিয়োগ অপরিহার্য। নগদ দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এটি টিকে থাকতে না পারলে বাজারে একচেটিয়া পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা গ্রাহকদের জন্য ক্ষতিকর হবে।
তিনি আরও জানান, অতীতে নগদে বিদেশি বিনিয়োগ আনার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মতি ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত হয়নি। বর্তমানে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
নগদে অতীতে যেসব অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে বলেও জানান মুখপাত্র। একই সঙ্গে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আরিফ হোসেন খান বলেন, নগদের মালিকানার সঙ্গে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ জড়িত, যা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারেরই। বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারকে পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেবে।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
৩১টি স্টার্টআপ ও এসএমই কে নিয়ে ‘অন্যরকম উদ্যোক্তা’র কোহর্ট ২.০- এর যাত্রা শুরু
দেশের বিকাশমান উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) প্রসারে যাত্রা শুরু করলো অন্যরকম উদ্যোক্তা অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০।
গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার ফার্মগেটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অন্যরকম উদ্যোক্তা আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০ উদ্বোধন করেছে।
অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রাম কোহর্ট ২.০-এর জন্য ৩১টি বৈচিত্র্যময় স্টার্টআপ ও এসএমই-কে নির্বাচিত করা হয়েছে। কোহর্ট ২.০ মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কৌশলগত সহায়তা, মেন্টরশিপ এবং প্রয়োজনীয় রিসোর্স প্রদান করা হবে।
অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানে ব্যবসা,উদ্যোক্তা ও শিক্ষা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন, শায়খ আহমাদুল্লাহ, আশিক চৌধুরী, আয়মান সাদিক এবং ফাহিম আবদুল্লাহ। তাঁরা বাংলাদেশের বিকাশমান উদ্যোক্তা ইকোসিস্টেমের সম্ভাবনা এবং টেকসই ব্যবসা গড়ে তোলা নিয়ে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
কোহর্ট ২.০-এর বাছাই প্রক্রিয়ায় বাজারে প্রভাব বিস্তার এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে এমন ৩১টি উদ্যোগকে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যরকম উদ্যোক্তা অ্যাকসিলারেটরের মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিবিড় প্রশিক্ষণ এবং নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করবে, যা তাদের প্রাথমিক স্তরের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক সফলতার মাঝের ব্যবধান কমিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
প্রথম আয়োজনের সফলতার ধারাবাহিকতায়, ছয় মাসব্যাপী অ্যাকসিলারেটর প্রোগ্রামে ‘কোহর্ট ১’-এর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। একটি সুনির্দিষ্ট ‘ফাউন্ডার-ফার্স্ট’ বা উদ্যোক্তা-কেন্দ্রিক দর্শনে উদ্বুদ্ধ হয়ে, অন্যরকম উদ্যোক্তা স্বল্পমেয়াদী বা ক্ষণস্থায়ী সাফল্যের পেছনে না ছুটে উদ্যোক্তাদের এমনভাবে ক্ষমতায়ন করার ওপর জোর দেয়, যাতে তাঁরা একটি মজবুত ও টেকসই ব্যবসা গড়ে তুলতে পারেন।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
ক্যাশলেস লেনদেনে সম্প্রসারণে চুক্তিবদ্ধ হলো ‘নগদ’ ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক
দেশব্যাপী আন্তঃপরিচালনযোগ্য লেনদেন সেবার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নগদ লিমিটেড এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর (এমটিবি) মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিলসি-এর প্রধান কার্যালয়ে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির আওতায় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের মাধ্যমে সম্পাদিত এনপিএসবি এবং বাংলা কিউ আর লেনদেনের সেটেলমেন্ট ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক। এই সেবাটি আন্তঃপরিচালনাযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) ক্যাশহীন লেনদেন সেবার পরিসর সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল অর্থনীতি ও স্মার্ট গভর্নেন্স প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নগদ লিমিটেড-এর প্রশাসক মো. মোতাছিম বিল্লাহ এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন। এসময় উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সামনের দিনে আরো বেশি সহযোগিতাপূর্ণ অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দেশব্যাপী ডিজিটাল পেমেন্টকে আরো ছড়িয়ে দিতে নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতামূলক প্রকল্প অব্যাহত থাকবে বলেও মন্তব্য করেন।
এমএন
কর্পোরেট সংবাদ
৮৮ জন নারী উদ্যোক্তার তৈরি পণ্য নিয়ে শুরু হলো ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’
নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি দেশীয় পণ্যের প্রসার ও এসব পণ্যের বাজারসৃষ্টি করতে ব্র্যাক ব্যাংকের আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘তারা উদ্যোক্তা মেলা ২০২৬’শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের তৈরি দেশীয় পণ্য নিয়ে তারা উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন। এই মেলা চলবে প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত এবং মেলার পর্দা নামবে ১ মার্চ।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর গুলশানের আলোকি কনভেনশন সেন্টারে ব্র্যাক ব্যাংকের আয়োজনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারপারসন মেহেরিয়ার এম. হাসান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ইনডিপেন্ডেন্ট ডিরেক্টর লীলা রশিদ ও আনিতা গাজী রহমান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান এবং অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর হেড অব এসএমই ব্যাংকিং-এর সৈয়দ আব্দুল মোমেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মেলার বিশেষত্ব, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৮৮ জন নারী উদ্যোক্তা তাঁদের তৈরি দেশীয় পণ্য নিয়ে তারা উদ্যোক্তা মেলায় অংশ নিয়েছেন। মেলায় অংশগ্রহণকারী বেশিরভাগ নারী উদ্যোক্তা উৎপাদন খাতে জড়িত, যারা দেশের ঐতিহ্যের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। প্রতিবছরের ন্যায় এবারও মেলায় নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে ব্র্যাক ব্যাংক বিনা খরচে স্টল বরাদ্দ দিয়েছে এবং মেলার সম্পূর্ণ খরচ বহন করছে। এতে নারী উদ্যোক্তারা এই মেলায় অংশ নিতে নিজেদের কোনো খরচ বহন করতে হচ্ছে না।
মেলায় বিভিন্ন ধরনের পণ্যের সমাহার নিয়ে হাজির হয়েছেন নারী উদ্যোক্তারা। তাঁদের তৈরি পণ্যের মধ্যে বুটিক, হাতে সেলাই করা পোশাক, মৃৎশিল্প, পাটজাত পণ্য, জামদানি, মসলিন, অর্গানিক স্কিনকেয়ার এবং বাঁশ ও বেতের তৈরি বিভিন্ন দেশীয় পণ্যের প্রদর্শনী ও বিক্রি চলছে। এছাড়াও মেলায় আগতদের জন্য রাখা হয়েছে ইফতার ও ডিনার ফুড কোর্টসহ অন্যান্য স্টল।
নারী উদ্যোক্তাদের ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত করতে মেলায় ব্র্যাক ব্যাংক কিউআর এবং কার্ড পেমেন্ট সুবিধা দিচ্ছে। মেলায় কিউআর পেমেন্টের মাধ্যমে কেনাকাটা করলে ক্রেতারা ২০% পর্যন্ত ছাড় উপভোগ করতে পারবেন। এছাড়া মেলায় আগতদের জন্য ইফতার ও ডিনারের জন্য ফুড কোর্টের ব্যবস্থা রয়েছে।
এই তারা উদ্যোক্তা মেলায় দেশীয় পণ্যের প্রচার এবং দেশের ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ন রেখে পণ্য উদ্ভাবনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের সৃজনশীলতা প্রকাশের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। বিশেষ করে মেলাটি ঈদের আগে হওয়ায় নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য বিক্রি বাড়ানোর পাশাপাশি অনেক নতুন গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাতে সহায়তা করছে এবং তাদের মেলায় অংশগ্রহণে আকৃষ্ট করছে।
তারা উদ্যোক্তা মেলা প্রদর্শনী সম্পর্কে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, উন্নয়নের সম-অংশীদার হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক নারী উদ্যোক্তাদের পূর্ণ সম্ভাবনার বিকাশে সহায়তা করে। সে মূল্যবোধ থেকেই আমরা প্রতিবছর এই তারা উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছি।
তিনি আরো বলেন, এই মেলার মাধ্যমে উদ্যোক্তারা যেমন দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে মিশে থাকা দেশীয় পণ্যের প্রচার ও প্রসারের সুযোগ পাচ্ছেন, অন্যদিকে নিজেরাও আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। তিনি আরও জানান,নারী উদ্যোক্তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমন আরও মেলার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এমএন




