ধর্ম ও জীবন
রামাদানের আগমন ও আমাদের প্রস্তুতি
আমরা আল্লাহর প্রশংসা ও শুকরিয়া আদায় করি এজন্য যে তিনি আমাদের মহিমান্বিত এবং বরকতময়, কল্যাণকর ও সুবাসিত মৌসুম দান করেছেন। এ মহান নিয়ামত এবং বিরাট অনুগ্রহ প্রাপ্তির জন্য আমাদের কর্তব্য হবে একনিষ্ঠচিত্তে আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সিয়ামের (রোজা) যেসব বিধিবিধান আল্লাহপাক আমাদের ওপর ফরজ/ওয়াজিব করেছেন সেগুলো পালন করা। অর্থাৎ (১) ইমান ও নিষ্ঠার সঙ্গে সিয়াম রাখা, (২) রাতে কিয়ামুল লাইল/তারাবি আদায় করা, (৩) শেষ দশকে লাইলাতুল কদর তালাশ ও ইতেকাফ করা, (৪) সামর্থ্যানুযায়ী সাদকাহ দেওয়া, (৫) কোরআন তিলাওয়াত ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে সৎ আমলের সৌন্দর্য বর্ধিত করা। নিশ্চয় রামাদান একটি মহান বরকতময় মৌসুম।
কারণ এ মাস কোরআন নাজিলের মাস। যা আত্মশুদ্ধি, রহমত, বরকত, মাগফিরাত প্রাপ্তির ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ (বাকারা-১৮৩-২১৮৫)। নবী (সা.) বলেছেন যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে ও সওয়াবের আশায় এ মাসের সিয়াম পালন করবে তার পূর্ববর্তী সব গুনা মাফ করে দেবেন (বুখারি ও মুসলিম)।
এ মাসে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় আর শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখা হয় এবং একজন ঘোষক ঘোষণা দিতে থাকেন ‘হে কল্যাণকারী অগ্রসর হও, হে অকল্যাণকামী পিছু হটো (সহিহ বুখারি-১৮৯৯ ও সহিহ মুসলিম-১০৭৯)। এ মাসের শেষ দশকের মধ্যে রয়েছে কদরের রাত, যার ইবাদত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সুরা কদর ১-৩)।
রামাদানের সিয়াম জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করে (বুখারি-১৮৯৪)। এতদ্ব্যতীত এ মাসের ফরজসমূহের প্রতিদান অন্য মাসের তুলনায় দ্বিগুণ এবং নফল ইবাদত অন্য মাসের ফরজ ইবাদতের সমান। রামাদান মাস প্রাপ্তিতে আমাদের আরও খুশি হওয়া উচিত এ কারণে যে রোজাদারদের পুরস্কার আল্লাহপাক নিজ হাতে দেবেন (বুখারি-১৯০৪)।
তাই আমাদের জন্য হলো রামাদান মোবারকের আগমন উপলক্ষে সব মুসলিমকে শুভেচ্ছা জানানো। আল্লাহ এ মাসকে কল্যাণ ও বরকতের মৌসুম বানিয়েছেন। তাই জীবন শেষ হওয়ার আগেই এ মাসকে গনিমত মনে করি আর আল্লাহর আনুগত্যের দিকে অগ্রসর হই। কারণ মানুষ দুনিয়ায় চিরদিন বাঁচবে না এবং চিরস্থায়ীও হবে না। আমরা আমাদের সেই ভাই ও বোনদের কথা স্মরণ করি, যারা গত বছরও আমাদের মাঝে ছিল তারা এ রামাদান মাসের জন্য অপেক্ষা করেছিল যেটি কল্যাণ ও বরকতের মাস কিন্তু তাদের সময় শেষ হয়ে গিয়েছে এবং তাদের আমল বন্ধ হয়ে গিয়েছে এখন তারা এমন প্রান্তরে অবস্থান করছে যেখানে তাদের সঙ্গে আমল ছাড়া আর কেউই নাই।
এ রামাদান যখন ফিরে এসেছে এবং আমাদের আবার আল্লাহ সুযোগ দিয়েছেন তাই আমরাও ফিরে আসি তাঁর উজ্জ্বল দিনগুলো পালন করতে। যার মাধ্যমে এ মাসের দিন ও রাতগুলো উজ্জীবিত করতে পারি। আল্লাহ আমাদের তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন, যারা ইমানের সঙ্গে সওয়াব প্রাপ্তির আশায় সিয়াম ও কিয়াম পালন করবে।
আল্লাহ তাঁর দয়া ও অনুগ্রহে আমাদের জাহান্নাম থেকে মুক্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করেন। অনুরূপভাবে আমরা মুসলিম ভাই ও বোনেরাসহ আমাদের সাবালক সন্তানসন্তানাদির উচিত আল্লাহর জন্য ইখলাসের সঙ্গে আমলগুলো রসুল (সা.) এর দেখানো পদ্ধতিতে পালন করা। আরও কর্তব্য হলো, ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করা এবং এই মূল্যবান দিনগুলোতে মুসলিম হিসেবে ছবি তোলা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে সময় নষ্ট করা উচিত নয়। এ মৌসুমে এমন কাজে সময় ব্যয় করা উচিত যেগুলোর মাধ্যমে নিজেদের উপকার হবে এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে।
মহান আল্লাহর কাছে চাই যাতে তিনি আমাদের সৎ আমলগুলো কবুল করে নেন এবং যাতে এ মাসকে বরকতময় করে দেন ও জাহান্নামের আগুনে থেকে আমাদের বাঁচান। উপরন্তু ভবিষ্যতে তিনি যেন আমাদের এ মাসকে আবার নসিব করেন। হে আল্লাহ আমাদের, আমাদের পিতা-মাতাদের ক্ষমা করুন এবং তাদেরও ক্ষমা করুন; যারা পূর্ববর্তী বছরগুলোতে এ মাসে আমাদের মাঝে ছিল। কিন্তু এ বছর এ মাস পাওয়ার সুযোগ হয়নি। যেহেতু এ মাস পাওয়া একটি বড় নিয়ামত তাই আমাদের উচিত আমাদের সময়গুলো দুআ করার মাধ্যমে কাটানো। আমাদের নিজেদের জন্য, মুসলিম ভাইদের জন্য, দেশের জন্য, মুসলিমদের অবস্থা যথার্থ হওয়ার জন্য এবং মুসলিমদের হক আদায়ের জন্য, তাদের কালিমা এক হওয়ার জন্য এবং সব স্থানে তাদের অবস্থা উন্নতি হওয়ার জন্য। অগণিত সালাত ও সালাম বার্ষিত হোক বিশ্ববাসীর নেতা আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রসুল নবী মুহাম্মদ (সা.) তাঁর পরিবার এবং সাহাবিদের ওপর। হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে এ মহান মাসের সব ফজিলত নবী মুহাম্মাদুর রসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক একমাত্র আপনার সন্তুষ্টির জন্য আমল করার তৌফিক দান করুন।
লেখক: ইসলামিক গবেষক / এমএন
ধর্ম ও জীবন
যেসব কারণে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়
রমজান মাস মুমিনের জন্য সংযম, আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। এ মাসে শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম রোজা পালন নয়; বরং দৃষ্টি, জিহ্বা, কান ও চিন্তাকেও গোনাহ থেকে সংযত রাখার শিক্ষা দেয় ইসলাম। তাই শরিয়তের দৃষ্টিতে রোজার কিছু বিষয় রয়েছে, যেগুলো রোজা ভঙ্গ না করলেও এর সওয়াব কমিয়ে দেয় বা রোজাকে মাকরুহ করে তোলে।
অনেক সময় অজ্ঞতাবশত বা অসতর্কতার কারণে মানুষ এমন কিছু কাজ করে বসে, যা রোজার আদব ও মর্যাদার পরিপন্থী। তাই রোজার হুকুম-আহকাম জানার পাশাপাশি কোন কাজগুলো রোজাকে মাকরুহ করে তোলে—এ বিষয়ে সচেতন থাকা প্রতিটি মুসলমানের জন্য জরুরি।
নিচে অর্থসংবাদ পাঠকদের জন্য হাদিস ও ফিকহের আলোকে এমন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা হলো, যেগুলোর কারণে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়।
এক : কুলি করার সময় গড়গড়া করা এবং নাকে পানি দেওয়ার সময় উপরের দিকে পানি পৌঁছানো মাকরুহ। হযরত লাকিত ইবনে সবিরা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,‘নাকে পানি দেওয়ার সময় ভালোভাবে নাকে পানি দাও, তবে রোজাদার হলে নয়। (জামে তিরমিজি : ৭৬৬, সুনানে আবু দাউদ : ১/৩২২, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা : ৯৮৪৪)
দুই : এমন কাজ করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার নিতান্তই দুর্বল হয়ে পড়ে। যেমন শিঙ্গা লাগানো।
তিন: রোজা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত বের হলে বা ইনজেকশন ইত্যাদি দ্বারা রক্ত বের করলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে এ পরিমাণ রক্ত বের করা মাকরুহ, যার দ্বারা রোজাদার খুব দুর্বল হয়ে যায়। সাবেত আলবুনানী (রাহ.) বলেন, হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করা হলো, রোজার হালতে শিঙ্গা লাগানোকে কি আপনারা মাকরুহ মনে করতেন? তিনি বলেন, ‘না। তবে এ কারণে দুর্বল হয়ে পড়লে তা মাকরুহ হবে।’ (বোখারি : ১৯৪০)
চার: রোজার হালতে গিবত করলে, গালি-গালাজ করলে, টিভি-সিনেমা ইত্যাদি দেখলে, গান-বাদ্য শ্রবণ করলে এবং যে কোনো বড় ধরনের গোনাহে লিপ্ত হলে রোজা মাকরুহ হয়ে যায়। আর এ কাজগুলো যে সর্বাবস্থায় হারাম, তা তো বলাই বাহুল্য। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন,‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে, তখন সে যেন অশালীন কথাবার্তা না বলে ও হৈ চৈ না করে। (বোখারি: ১৯০৪)
সুনানে আবু দাউদের রেওয়ায়েতে এ শব্দ রয়েছে, ‘রোজাদার যেন কোনো অন্যায়-অপরাধে লিপ্ত না হয়’(হাদিস : ৩৩৬৩-১/৩২২)। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা-প্রতারণা ও গোনাহর কাজ ত্যাগ করে না, আল্লাহ তায়ালার নিকট তার পানাহার থেকে বিরত থাকার কোনো মূল্য নেই।’(বোখারি : ১৯০৩, আবু দাউদ : ৩৩৬২-১/৩২২)
নাইম
ধর্ম ও জীবন
রোজার আগে যে ৭ জিনিস সংগ্রহে রাখতে পারেন
বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে পবিত্র রমজান মাসের প্রস্তুতি। ১৯ ফেব্রুয়ারি পবিত্র এই মাস শুরু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রমজানে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ইবাদত করতে এখন থেকেই ধর্মীয় বইপুস্তক ও বিভিন্ন জিনিসপত্র কেনার চাহিদা বেড়েছে। অনেকেই তসবি, ডিজিটাল জিকির রিং, কোরআন শরিফ, জায়নামাজসহ ধর্মীয় প্রায় সব পণ্য কিনে রাখছেন এখন থেকে।
রমজান মাস শুরুর পর তাড়াহুড়ো না করে প্রস্তুতি হিসেবে এখনি কিনে রাখতে পারেন এমন ৬টি পণ্যের তালিকা তুলে ধরা হলো—
১. তসবি
রমজানে ইবাদতের জন্য সহায়ক ধর্মীয় জিনিসগুলোর মধ্যে তসবি অন্যতম। রমজান এলেই মানুষ প্রথমে তসবি খোঁজে। কেউ সাধারণ কাঠের তসবি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন, কেউ পাথর বা ক্রিস্টালের তসবি পছন্দ করেন। রমজানে বেশি বেশি জিকির করার জন্য তসবি গুরুত্বপূর্ণ। এখনই সংগ্রহ করে রাখতে পারেন তসবি।
২. ডিজিটাল জিকির রিং ও ইলেকট্রনিক কাউন্টার
তসবি পাশাপাশি ডিজিটাল জিকির রিং পছন্দ করেন অনেকে। তরুণদের মধ্যে এসব জিকির রিং বেশ জনপ্রিয়। এই জিকির রিংগুলো ছোট, ব্যবহার করা সহজ এবং যেকোনো জায়গায় নীরবে জিকির ও তাসিবের সংখ্যা গণনা করা যায়। এখনই সংগ্রহ করে রাখতে পারেন ডিজিটাল জিকির রিং ।
৩. কোরআন শরিফ ও অনুবাদগ্রন্থ
রমজান মাস কোরআন নাজিলের মাস। এই মাসে বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় কোরআন তিলাওয়াত করা হয় সবচেয়ে বেশি। কোরআনের কপি পুরোনো হয়ে গেলে অথবা কারো বাড়িতে কোরআনের কপি বা অনুবাদ ও তাফসিরগ্রন্থ না থাকলে রমজানের আগে কোরআনের কপি ও এর বাংলা অনুবাদ ও গ্রহণযোগ্য তাফসিরগ্রন্থ কিনে রাখতে পারেন। নিজের জন্য অথবা কাউকে উপহার দেওয়ার জন্যও কিনতে পারেন।
৪. জায়নামাজ
রমজানে যেকোনো নফল ইবাদত ও নামাজের গুরুত্ব অন্য সময়ের তুলনায় বেশি। সুন্দরভাবে নামাজ আদায়ের জন্য জায়নামাজ গুরুত্বপূর্ণ। রমজান শুরুর আগে জায়নামাজ কিনে রাখতে পারেন অগ্রিম।
৫. টুপি ও নামাজের পোশাক
রমজানের ইবাদতে নিজেকে পরিপাটি ও সতেজ রাখতে পোশাক গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষঙ্গ। পুরোনো কাপড় পরিচ্ছন করে রাখতে পারেন অথবা নতুন করে টুপি টুপি ও পাঞ্জাবি কিনে রাখতে পারেন। নারীরাও নামাজের আবায়া ও স্কার্ফ কিনে রাখতে পারেন।
৬. খেজুর
ইফতারের অবিচ্ছেদ্য অংশ খেজুর। খেজুর প্রোটিন সমৃদ্ধ। রাসুল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তাই ইফতারে মুসলমানদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে খেজুর।
৭. আতর
সুগন্ধি মানুষের মনকে সতেজ রাখে। সুগন্ধির মধ্যে অন্যতম সেরা আতর। নবীজি (সা.) নিজেও সুগন্ধি ব্যবহার করতেন এবং পছন্দ করতেন। এক হাদিসে সুগন্ধি ব্যবহারকে আল্লাহর রাসুল সব নবীদের সুন্নত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে হজরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘চারটি বস্তু সব নবীর সুন্নত-আতর, বিয়ে, মিসওয়াক ও লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৪৭৮)।
এমএন
জাতীয়
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ‘না’ নিয়ে যা বললেন বায়তুল মোকাররমের খতিব
গণভোটে একাধিক বিষয়ের ওপর একসঙ্গে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলতে বাধ্য করায় জনগণকে এক ধরনের পেরেশানি ও যন্ত্রণার মধ্যে ফেলা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জুমার খুতবায় তিনি ভোটের অধিকারকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশবাসীকে সজাগ ও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
মুফতি আবদুল মালেক বলেন, গণভোটে পাঁচ থেকে আটটি বিষয়ে একসঙ্গে ভোট নেওয়া হচ্ছে। অথচ ভোটারদের প্রতিটি বিষয়ে আলাদাভাবে মত দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি। আলাদা আলাদা অপশন নাই কেন। আপনাদের সিলে কম পড়ছে, না কালিতে টান পড়ছে; কিসে কম পড়ছে। ‘হ্যাঁ’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ বলতে হলে সব বিষয়ে ‘না’ বলতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ পেরেশানিতে পড়েছে।
তিনি বলেন, একজন ভোটার কোনো কোনো বিষয়ের সঙ্গে একমত হতে পারেন, আবার কিছু বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আলাদা আলাদা প্রশ্ন থাকলে তিনি সেভাবেই উত্তর দিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় তা সম্ভব নয়। এ কারণে মানুষকে জোরপূর্বক একটি অবস্থান নিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
খুতবায় তিনি ভোটকে একটি পবিত্র ‘আমানত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভয়, লোভ বা প্ররোচনায় পড়ে নয়, বরং আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ও সচেতনভাবে ভোট দেওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞ ও সৎ ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করার কথাও বলেন তিনি।
জাতীয় মসজিদের খতিব বলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’- দুটি বিকল্প থাকায় জনগণের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে। সরকার বা কোনো দল ‘হ্যাঁ’ ভোটে উৎসাহ দিলেও ‘না’ ভোট দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। কাউকে কোনো একটি পক্ষ নিতে বাধ্য করা উচিত নয়।
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় নাম, প্রতীক বা স্লোগানে প্রভাবিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। ইসলামের নাম ব্যবহার করলেই কোনো দল ইসলামসম্মত- এমন ধারণা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন মুফতি আবদুল মালেক। দলগুলোর আদর্শ, ইশতেহার ও কর্মকাণ্ড যাচাইয়ের ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, অনেক দল ইসলামের নাম ব্যবহার করলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ড সেকুলার ধারার মতো হতে পারে। তাই ভোট দেওয়ার আগে সঠিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
খুতবার মূল বক্তব্যে মুফতি আবদুল মালেক বলেন, ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে হবে। কোনো চাপ বা প্রলোভনে পড়ে নয়, বরং চরিত্র, তাকওয়া ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
ধর্ম ও জীবন
দুনিয়ার মোহ থেকে মুক্তির নবী (সা.)-এর দৃষ্টিভঙ্গি
মানুষের জীবনে আরাম-আয়েশের আকাঙ্ক্ষা চিরন্তন। একটু স্বস্তি, একটু নরম বিছানা, কিছু আরামদায়ক উপকরণ; এসবকেই আমরা সুখের মাপকাঠি মনে করি। অথচ যিনি ছিলেন সমগ্র মানবজাতির নেতা, আল্লাহর প্রিয়তম রাসুল, তাঁর জীবন ছিল অবিশ্বাস্য সরলতা, সংযম ও দুনিয়াবিমুখতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তাঁর জীবন আমাদের শেখায়, প্রকৃত মর্যাদা আরামের মধ্যে নয়; বরং আল্লাহমুখী হৃদয়, সংযমী জীবন ও আখিরাতমুখী দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যেই রয়েছে সত্যিকারের সফলতা।
নিচের হাদিসটি দেখুন-
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ نَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى حَصِيرٍ فَقَامَ وَقَدْ أَثَّرَ فِي جَنْبِهِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ لَوِ اتَّخَذْنَا لَكَ وِطَاءً . فَقَالَ “ مَا لِي وَمَا لِلدُّنْيَا مَا أَنَا فِي الدُّنْيَا إِلاَّ كَرَاكِبٍ اسْتَظَلَّ تَحْتَ شَجَرَةٍ ثُمَّ رَاحَ وَتَرَكَهَا ” .
আবদুল্লাহ (রা.) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোনো একসময় খেজুর পাতার মাদুরে শুয়েছিলেন। তিনি ঘুম হতে জাগ্রত হয়ে দাঁড়ালে দেখা গেল তার গায়ে মাদুরের দাগ পড়ে গেছে। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমরা আপনার জন্য যদি একটি নরম বিছানার (তোষক) ব্যবস্থা করতাম। তিনি বললেন, দুনিয়ার সঙ্গে আমার কি সম্পর্ক দুনিয়াতে আমি এমন একজন পথচারী মুসাফির ছাড়া তো আর কিছুই নই, যে একটি গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিল, তারপর তা ছেড়ে দিয়ে গন্তব্যের দিকে চলে গেল।
(তিরমিজি, হাদিস : ২৩৭৭)
এই হাদিসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার প্রকৃত বাস্তবতা অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী উপমার মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। দুনিয়া স্থায়ী আবাস নয়; এটি সাময়িক বিশ্রামস্থল মাত্র। যেমন পথিক দীর্ঘ সফরের মাঝে কিছুক্ষণ ছায়ায় বিশ্রাম নিয়ে আবার যাত্রা শুরু করে, তেমনি মানুষের প্রকৃত গন্তব্য আখিরাত। তাই দুনিয়ার আরাম-আয়েশ, ভোগ-বিলাস ও প্রাচুর্যের প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত হওয়া একজন মুমিনের জন্য সমীচীন নয়।
এ হাদিস আমাদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। প্রথমত, সরল জীবনযাপন মানুষের মর্যাদা কমায় না; বরং তা হৃদয়কে পরিশুদ্ধ ও আল্লাহর নিকটবর্তী করে। দ্বিতীয়ত, দুনিয়ার সাময়িক কষ্ট বা অভাব নিয়ে অতিরিক্ত দুঃখিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ এটি চিরস্থায়ী নয়। তৃতীয়ত, জীবনের মূল প্রস্তুতি হওয়া উচিত আখিরাতের জন্য, দুনিয়াকে লক্ষ্য নয়, বরং মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা।
মোটকথা, একজন মুমিনের দৃষ্টিতে দুনিয়া হলো সফরের পথ, আর আখিরাত হলো স্থায়ী ঠিকানা। যে ব্যক্তি এ সত্য উপলব্ধি করতে পারে, তার জীবন হয়ে ওঠে সংযমী, সচেতন ও উদ্দেশ্যময়; আর সে দুনিয়ার মোহে নয়, বরং চিরস্থায়ী সফলতার পথেই এগিয়ে চলে।
এমএন
ধর্ম ও জীবন
মহানবী (সা.) শাবান মাসে যে দোয়া বেশি বেশি পড়তেন
যেকোনো বড় আয়োজন সফলতার সহিত সম্পাদনের জন্য যেমন প্রস্তুতি প্রয়োজন। রমজানের রোজা ও অন্যান্য ইবাদত উত্তম রূপে সম্পাদনের জন্য তেমনি অগ্রিম প্রস্তুতি প্রয়োজন। কারণ রমজান মুমিন জীবনের জন্য অনেক বড় এক পাওনা। সেই ক্ষেত্রে প্রথম প্রস্তুতি হচ্ছে রমজান পযর্ন্ত বেঁচে থাকার দোয়া করা।
রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব ও শাবান মাসব্যাপী বেশি বেশি বরকত হাসিলের দোয়া করতেন। রমজান মাসে ইবাদত করার সুযোগ চাইতেন। তিনি এ দোয়া বেশি বেশি পড়তেন। দোয়াটি হলো–
اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي رَجَبٍ، وَشَعْبَانَ، وَبَلِّغْنَا رَمَضَانَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রমাদান।
অর্থ : হে আল্লাহ! রজব মাস ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান আমাদের নসিব করুন। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২৫৯)
এমএন



