আন্তর্জাতিক
জেদ্দায় মার্কিন নৌবাহিনীর অবস্থান, প্রস্তুত সৌদি আরব
সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী পশ্চিমাঞ্চলীয় বন্দরনগরী জেদ্দায় যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ব্লু ডিফেন্ডার ২৬’ নামের এই মহড়া জেদ্দার কিং ফয়সাল নৌঘাঁটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মহড়ার সময়কাল সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই যৌথ প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় করা। মহড়ায় মাঠপর্যায়ের ও কৌশলগত বিভিন্ন পরিস্থিতির অনুশীলন করা হয়েছে। উভয় বাহিনী উচ্চমানের পেশাদারিত্ব ও যুদ্ধ প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে, যা তাদের যৌথ অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্র নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষমতার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
এই মহড়া এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। গত জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি বিনিয়োগ ফোরামে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মোট ২৭০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সৌদি আরবের পশ্চিম উপকূলে লোহিত সাগরের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় এই যৌথ মহড়াকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে গণভোট চলছে থাইল্যান্ডে
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও ক্রমবর্ধমান জাতীয়তাবাদী আবহের মধ্যে সংস্কারপন্থি, সামরিক-সমর্থিত রক্ষণশীল এবং জনতাবাদী— এই তিন ধারার রাজনৈতিক শক্তি আজ মুখোমুখি ভোটের লড়াইয়ে।
এবারের নির্বাচনে সরকার বাছাইয়ের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি চলছে গণভোটও। সংবিধান বদলের প্রশ্নে এই গণভোটে রায় দিচ্ছেন থাইল্যান্ডের জনগণ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এদিন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে থাইল্যান্ডে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই ভোটগ্রহণ কার্যক্রম।
গণভোটে ভোটারদের সামনে প্রশ্ন রাখা হয়েছে, ২০১৭ সালে সামরিক বাহিনী প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না।
গণতন্ত্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো মনে করছে, নতুন সংবিধান সামরিক বাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে, রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আগাম ভোটগ্রহণ পর্বে ইতোমধ্যে ২২ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোট দিয়েছেন।
থাইল্যান্ডে এবারের সাধারণ নির্বাচনে মোট নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা ৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং তীব্র জাতীয়তাবাদী আবহের প্রেক্ষাপটে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যদিও ৫০টিরও বেশি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে, বাস্তবে কেবল তিনটি দল— পিপলস পার্টি, ভূমজাইথাই এবং ফেউ থাই দেশজুড়ে সংগঠন ও জনপ্রিয়তার কারণে সরকার গঠনের মতো ম্যান্ডেট পাওয়ার অবস্থানে রয়েছে।
অবশ্য ৫০০ আসনের এই সংসদে কোনও দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না বলে জরিপগুলোতে ইঙ্গিত মিলছে। ফলে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় নিশ্চিত। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভোটেই পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবেন।
আল জাজিরা বলছে, নাথাফং রুয়াংপানইয়াওয়ুতের নেতৃত্বে সংস্কারপন্থি পিপলস পার্টিই সবচেয়ে বেশি আসন পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে, দলটির সংস্কারমূলক কর্মসূচি, বিশেষ করে সামরিক বাহিনী ও আদালতের প্রভাব কমানো এবং অর্থনৈতিক নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে, তারা একজোট হয়ে পিপলস পার্টিকে ক্ষমতার বাইরে রাখার চেষ্টা করতে পারে।
এই দলটি মূলত থাইল্যান্ডের মুভ ফরওয়ার্ড পার্টির উত্তরসূরি। ২০২৩ সালের নির্বাচনে ওই দলটি সংসদে সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সামরিক-নিয়োগপ্রাপ্ত সিনেট তাদের ক্ষমতায় যেতে বাধা দেয়। পরে রাজতন্ত্র অবমাননা সংক্রান্ত কঠোর আইন সংস্কারের আহ্বানের কারণে সাংবিধানিক আদালত দলটিকে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।
অন্যদিকে ভূমজাইথাই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। রাজতন্ত্রপন্থি ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের সমর্থক শক্তির প্রধান রক্ষক এবং পছন্দের দল হিসেবেই দেখা হচ্ছে দলটিকে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অনুতিন। এর আগে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন শিনাওয়াত্রার মন্ত্রিসভায় ছিলেন তিনি। কম্বোডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনায় নৈতিকতা লঙ্ঘনের অভিযোগে পায়েতংতার্নকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল। পরে অনুতিনের বিরুদ্ধেও অনাস্থা প্রস্তাবের হুমকি তৈরি হয়। তাই ডিসেম্বরে সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের ডাক দেন তিনি।
অনুতিনের নির্বাচনী প্রচারের মূল বিষয় ছিল অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও জাতীয় নিরাপত্তা। প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘর্ষের পর উসকে ওঠা জাতীয়তাবাদী আবেগকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কাজে লাগান।
থাইল্যান্ডের তৃতীয় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ফেউ থাই দলটি কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা-সমর্থিত রাজনৈতিক ধারার সর্বশেষ রূপ। দলটি থাই রাক থাই পার্টির জনতাবাদী রাজনীতির উত্তরাধিকার বহন করছে এবং এই দলটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিল এবং পরে সামরিক অভ্যুত্থানে উৎখাত হয়।
অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার মতো প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছে ফেউ থাই পার্টি। দলটি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াতকে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
জাপানে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু
জাপানে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।
জাপানের এ নির্বাচনে সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫ আসনেন জন্য ১ হাজার ২৮৪ প্রার্থী লড়াই করছেন।
এ বছরের ২৩ জানুয়ারি দেশটির সংসদ ভেঙে দেন প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাচি। ওই সময় তিনি ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ক্ষমতাসীন দলকে জয় এনে দিতে তিনি আগাম নির্বাচনের দিকে গিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত অক্টোবরে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তাকাইচি মাত্র চার মাস ধরে ক্ষমতায় আছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী হলেও তার দল এলডিপি বেশ কিছু কেলেঙ্কারির কারণে জনসমর্থন বেশ কমেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মানুষ তাকাইচিকে পছন্দ করলেও দলকে কতটা ভোট দেবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
সবশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও জনতাবাদী জাপান ইনোভেশন পার্টির জোট নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে। এতে গত বছর জাপানের পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলডিপির জন্য বড় ধরনের ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত মিলছে।
রক্ষণশীল এই নেতা করছাড় ও ভর্তুকির প্রস্তাব দিয়ে কিছু ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন। যদিও সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ জাপানের ধীরগতির অর্থনীতির ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা রাশিয়ার
রাশিয়ার বাহিনীর চালানো একাধিক বড় ধরনের হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ গ্রিড অপারেটর।
প্রায় চার বছর ধরে চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনজুড়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রাশিয়া পরিকল্পিতভাবে দেশটির জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে। এর ফলে তীব্র শীতের মধ্যে লাখো মানুষ বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত গ্রিড অপারেটর ইউক্রেনেরগো শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বিবৃতিতে জানায়, রাশিয়া ইউক্রেনের বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপনাগুলোর ওপর আরেক দফা বৃহৎ হামলা চালাচ্ছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শত্রুপক্ষের হামলাজনিত ক্ষয়ক্ষতির কারণে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে জরুরি ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হয়েছে। ইউক্রেনেরগো জানায়, বর্তমানে রুশ হামলা অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলেই ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামত ও বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করা হবে।
কিয়েভ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, এদিকে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দুই দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব আলোচনায় বড় পরিসরের বন্দি বিনিময়ে উভয় পক্ষ সম্মত হলেও ভূখণ্ড সংক্রান্ত মূল বিরোধে কোনো অগ্রগতি হয়নি।
ভূখণ্ডগত দাবি ও দখল নিয়ে দ্বন্দ্বই এখনো দুই পক্ষের আলোচনার সবচেয়ে বড় জটিলতা হিসেবে রয়ে গেছে। এর মধ্যেই মস্কো অভিযোগ করেছে, শুক্রবার রাশিয়ার রাজধানীতে শীর্ষ পর্যায়ের এক সামরিক গোয়েন্দা জেনারেলের ওপর গুলিবর্ষণের পেছনে ইউক্রেন জড়িত। ওই হামলায় জেনারেল আহত হন বলে জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কিয়েভ এখনো কোনো মন্তব্য করেনি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ভারতের সংসদে বাংলাদেশকে নিয়ে একাধিক আলোচনা
ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় বাংলাদেশ-ভারত বিদ্যমান সম্পর্ক এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং চীন-পাকিস্তান প্রভাব নিয়ে বিরোধী দলগুলোর করা বিভিন্ন প্রশ্নের লিখিত উত্তর দেন ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।
তাকে প্রশ্ন করা হয় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে এ মুহূর্তে স্পর্শকাতর সম্পর্ক চলছে কি না এবং পাকিস্তান এটির সুযোগ নিচ্ছে কি না। যা তাদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
জবাবে কীর্তি বর্ধন বলেন, “প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত গভীর ঐতিহাসিক, ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত সম্পর্ক; এমনকি আমাদের সামাজিক বন্ধনও অভিন্ন। আমাদের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল লক্ষ্য হলো জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় নিয়মিত বিভিন্ন বৈঠক ও পারস্পরিক মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।”
পাকিস্তান কোনো সুযোগ নিচ্ছে কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক অন্য দেশগুলোর থেকে স্বাধীন।”
এছাড়া বাংলাদেশের যেসব জায়গায় ভারতের জাতীয় স্বার্থ রয়েছে সেগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি এবং স্বার্থগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তাকে আরেকটি প্রশ্ন করা হয়— বাংলাদেশে সংখ্যালঘু, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে (কথিত) প্রকাশ্যে হত্যার ব্যাপারে ভারত সরকার কোনো আলোচনা করেছে কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “ভারত ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠকসহ সকল প্রাসঙ্গিক পরিবেশে উত্থাপন করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী নিজে এই বিষয়টি তুলেছেন এবং গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সাথে বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বিষয়টি আলোচনা করেছেন।”
তাকে আলাদা অপর এক প্রশ্নে জিজ্ঞেস করা হয় ‘বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান জোটের’ বিষয়টি ভারত সরকার আমলে নিয়েছে কি না। কারণ এই দেশগুলোর সঙ্গেই ভারতের সবচেয়ে বেশি সীমানা রয়েছে। যদি এটি আমলে নেওয়া হয়েও থাকে তাহলে এ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে সরকার কী করছে?
জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ভারত সরকার ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থের ওপর সার্বক্ষণিক নজর এবং এগুলো রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। যার মধ্যে ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিষয়ও আছে।”
‘সবার আগে প্রতিবেশি’ এ নীতি অনুযায়ী ভারত সরকার প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত কূটনৈতিক আলোচনা, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রেখে চলছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া নিজস্ব নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষা করার পাশাপাশি এই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে ভারত সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এমএন
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে, বললেন ট্রাম্প
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও চরম উত্তেজনার মধ্যেই ওমানের রাজধানী মাস্কাটে এক পরোক্ষ সংলাপে বসেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা। গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের সঙ্গে খুবই ভালো আলোচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক শক্তি জড়ো করেছে মার্কিনিরা। এরমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। এ আলোচনার লক্ষ্য ছিল উত্তেজনা বৃদ্ধি আটকানো।
ভালো আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ট্রাম্প তার সরকারি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের বলেন, “ইরান নিয়ে আমাদের খুব ভালো আলোচনা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে ইরান চুক্তি করতে মরিয়া। আমরা আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।”
আলোচনার মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা
ওমানে আলোচনা চলার মধ্যেই দেশটিকে নিয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরমাধ্যমে তেহরানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প এই আদেশে বলেছেন, যেসব দেশ ইরান থেকে পণ্য কিনবে সেসব দেশের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র সেকেন্ডারি শুল্ক আরোপ করবে।
এদিকে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গতকাল ইরানি ও মার্কিন প্রতিনিধি দলের মধ্যে মূলত পরমাণু ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এতে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল ইস্যু উত্থাপনই করা হয়নি। ইরান বৈঠকে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী তাদের নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি বন্ধ করবে না। এর বদলে অন্য কিছু বিবেচনা করলে সেখানে তারা ছাড় দিতে পারে।
এমএন



