রাজনীতি
কারাবন্দী সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন মারা গেছেন। আজ শনিবার সকাল ৯টায় দিনাজপুর জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সকাল সাড়ে ৯টায় তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর জেলা কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার।
রমেশ চন্দ্র সেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে ১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার নাম ক্ষিতীন্দ্র মোহন সেন ও মায়ের নাম বালাশ্বরী সেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।
দিনাজপুর কারাগারের জেলার ফরহাদ সরকার বলেন, ‘গত ১৭ আগস্ট রমেশ চন্দ্র সেনকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে আনা হয়। এখানে তিনি ডিভিশনপ্রাপ্ত কয়েদি ছিলেন। এখানে আনার আগে থেকেই তিনি অসুস্থ ছিলেন। শনিবার সকাল ৯টায় হঠাৎ বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর পাই।’
দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাসুদ রানা বলেন, ‘সকালে অসুস্থ অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেনকে হাসপাতালে আনা হয়। সে সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক অনুপম পাল সকাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ব্রট ডেথ ঘোষণা করেন।’
রমেশ চন্দ্র সেন কার্যক্রম–নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি ১৯৯৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি উপনির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ১৭ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে রমেশ চন্দ্র সেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মির্জা ফখরুলের শোক
রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তাঁর পক্ষ থেকে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করা হয়েছে।
শোকবার্তায় বলা হয়, ‘ঠাকুরগাঁও- ১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক মন্ত্রী , বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ শ্রী রমেশ চন্দ্র সেন আজ প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীর শোক জানাচ্ছি। তাঁর পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবার ঠাকুরগাঁও–১ থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
রাজনীতি
বিএনপির ২৭ নেতাকে অব্যাহতি
দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বিএনপি থেকে আরো ২৭ নেতাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জয়নাল আবেদিন ভূঞা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান মজনুর সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার দলপা ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হাসেম, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শফিক, ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জজ মিয়া, ২নং ওয়ার্ডের সদস্য আবুল মিয়া, আবুল হাসেম মেম্বার, সাইদুল হক মেম্বার, ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমান তালুকদার, ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোতালিব, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম নয়ন, সৈয়দ উসমান গণি দুলু, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল মোতালিব, ৭নং ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডল, ৯নং ওয়ার্ডের সভাপতি গোলাম মোস্তফা, সদস্য নূর মোহাম্মদ স্বপন, উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. ফজলু মিয়া, মো. আতিকুর রহমান ভূঞা, মো. আব্দুল লতিফ, মো. আসাদুজ্জামান বাবুল, মো. আবুল বাশার, মো. ইদ্রিস মিয়া (ইদু), অত্র ইউনিয়নের ২নং বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হলুদ মিয়া, ৬নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. আব্দুল হেকিম, ১নং ওয়ার্ডের সদস্য মো.হাদিছ মিয়া, ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মল্লিক মিয়া, নওপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মো. বাহার উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, কামরুজ্জামান কনক।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাদের অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মজিবুর রহমান মজনু বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করায় দল থেকে ২৭ নেতাকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
রাজনীতি
নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের হাতিয়ার, দিলেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি: তারেক রহমান
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য নয়, বরং এটি দেশ পুনর্গঠনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, দেশ পুনর্গঠনের কাজেও হাত দেওয়া হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন,দীর্ঘ এক যুগ ধরে দেশের মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে। বিগত স্বৈরাচার শাসক নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে পারেনি। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শুধু সরকার পরিচালনা নয়, রাষ্ট্র সংস্কার, পুনর্গঠন ও নারী ও যুবকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার কাজে হাত দেবে।
তিনি ঠাকুরগাঁও বাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ধানের শীষ জয়ী হলে বন্ধ থাকা ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলকে কৃষিভিত্তিক শিল্পের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড চালুর কথায় তিনি বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সহজে ঋণ নিতে পারবেন, সার ও কীটনাশক পাবেন। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি রেজিস্টার্ড এনজিও থেকে নেওয়া কৃষিঋণ সরকার পরিশোধ করবে বলেও জানান।
তিনি বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকায় কলকারখানা স্থাপন করা হবে, যাতে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে চা কারখানা ও শিল্পকারখানা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যুবকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঠাকুরগাঁওয়ে ক্যাডেট কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি হিমাগার নির্মাণ, যুবকদের জন্য আইটি পার্ক, মেডিক্যাল কলেজ ও একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি বলেন, গত এক যুগে শাসকগোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ দেখেছে। ফলে মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে স্বাস্থ্যসেবার জন্য হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দেওয়া হবে। আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়তে চাই। এই কাজ বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, এক দল আরেক দলের সমালোচনা করতেই পারে। কিন্তু শুধু সমালোচনা করে জনগণের কোনো লাভ হয় না। জনগণ জানতে চায়, তাদের জন্য কী করা হবে। বিএনপি জনগণের জন্য পরিকল্পনার কথা বলছে এবং জনগণকেই সব ক্ষমতার উৎস মনে করে। যে বাংলাদেশে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে, তরুণরা বেকার থাকবে না, সবাই চিকিৎসা পাবে—এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই। দেশ স্বাধীন করেছি, চব্বিশে স্বাধীনতা রক্ষা করেছি। এখন গণতন্ত্রকে শক্ত করতে হবে, দেশ পুনর্গঠন করতে হবে।
ধর্মের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাইকে মূল্যায়ন করা হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়েই বাংলাদেশ গড়বে বিএনপি। ধানের শীষের প্রার্থী বিজয়ী হলে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা নিয়েই কাজ করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
এমএন
রাজনীতি
আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে : জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, দেশে টাকার বিনিময়ে আর বিচার বিক্রি হতে দেওয়া হবে না। তিনি অঙ্গীকার করেন, আমরা ন্যায়বিচার কায়েম করার পক্ষে। ঐক্যজোট ক্ষমতায় গেলে দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর বিচার একই আইনে হবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ নিউ ফিল্ড মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, গত সাড়ে ১৫ বছরে বাংলাদেশ থেকে ২৮ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়ে গেছে। এই টাকাগুলো ১৮ কোটি মানুষের।
রাস্তার ভিক্ষুক বা আজকে জন্ম নেওয়া শিশুরও এই টাকায় অংশ রয়েছে। তারা এই টাকা বিদেশ পাঠিয়ে দিয়েছে।
জামায়াতের আমির বলেন, আপনাদের এখানে খুব একটা চাঁদাবাজি হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শুনেছি এখানেও চাঁদাবাজি হয়।
আমরা ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি চলবে না। ব্যবসায়ীর রাতের ঘুম হারাম হবে না। ফুটপাতের সাধারণ মানুষের চোখের পানি ফেলতে হবে না। আপনারা জানেন, ঢাকা শহরের ভিক্ষুকদেরও চাঁদা দিতে হয়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দল– আমাদের ভাই-বন্ধু আমাদের মা-বোনদের ইজ্জত রাখতে দেয় না।
তারা কিভাবে বোরকা-হিজাব খুলে ফেলার কথা বলতে পারে! তারা কি কোনো মায়ের গর্ভ থেকে আসেনি! তাদের বলব, আগে নিজের মা-বোনদের সম্মান করতে শিখুন। প্রয়োজনে জীবন দিব, তবু মা-বোনদের ইজ্জত কাউকে কেড়ে নিতে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, আমাদের অঙ্গীকার স্পষ্ট। আমাদের যারা নির্বাচিত হবেন, তারা প্রতি বছর একবার নিজেদের ও নিজের পরিবারের সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব দিতে হবে। তিনি জনগণের সম্পদে হাত দিয়েছেন কি-না সেটা জানার অধিকার জনগণের অবশ্যই আছে। অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে যে প্লট এমপি-মন্ত্রীদের দেওয়া হয়, সেটা আমরা নিব না। শুল্কমুক্ত গাড়ি আমরা কিনব না। সাধারণ মানুষ যেভাবে চলে, আমরাও সেভাবে চলব।
হবিগঞ্জ নিয়ে তিনি বলেন, আমি শুনেছি হবিগঞ্জও সন্ত্রাসকবলিত এলাকা। নির্বাচিত হলে দুর্নীতিমুক্ত জেলা উপহার দেব ইনশাআল্লাহ। আপনারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে ১২ তারিখ ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে ভোট দিবেন প্রত্যাশা করি। যে এলাকা যত বেশি উন্নয়ন বঞ্চিত হয়েছে, আল্লাহ আমাদেরকে সুযোগ দিলে সেই এলাকা থেকেই উন্নয়নের ধারা শুরু করব।
যুবকদের উদ্দেশে জামায়াতের আমির বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না। তাদের হাতে মর্যাদার কাজ তুলে দিব। আমরা গ্রামকেও শিল্পাঞ্চল বানাব। সেখানে হবে কৃষিভিত্তিক শিল্প-কারখানা। সেখানকার শিক্ষিতরা তাদের যোগ্যতা দিয়ে গ্রামের অবস্থা পাল্টে দিবে। যুবকরা তৈরি হয়ে যাও, আমরা এই বাংলাদেশ তোমাদের হাতে তুলে দিব।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, আল্লাহ তায়ালা দায়িত্ব দিলে প্রতিটি জেলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। হবিগঞ্জে বিশেষায়িত হাসপাতাল ও স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করা হবে।
উক্ত সমাবেশে হবিগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কাজী মুখলিছুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন— সিলেট বিভাগীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, হবিগঞ্জ–৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ কাজী মহসিন আহমেদ, হবিগঞ্জ-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর জোট বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম মিরপুরী, হবিগঞ্জ-২ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল বাছিত আজাদ, হবিগঞ্জ-৪ আসনের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আহমদ আবদুল কাদের, হবিগঞ্জ জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সভাপতি সদ্য জামায়াতে ইসলামীতে যোগদানকারী অ্যাডভোকেট চৌধুরী আশরাফুল বারী নোমানসহ জামায়াতের নেতৃস্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এমএন
রাজনীতি
বিএনপির ইশতেহার ঘোষণায় ৩৮ দেশের কূটনীতিকের সরব উপস্থিতি
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ের বলরুমে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই ইশতেহার ঘোষণা করেন।
বিএনপির এই রাজনৈতিক ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিশ্বের ৩৮টি দেশের প্রভাবশালী কূটনীতিকরা সরব উপস্থিত ছিলেন।
দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ইশতেহারে বিএনপির আগামী দিনের পররাষ্ট্র নীতি কী হবে—তা নিয়েই বিদেশি প্রতিনিধিদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল। অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, পাকিস্তানের হাইকমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতিগুলো গভীর মনোযোগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেন।
অনুষ্ঠানে শুধু কূটনীতিকরাই নন, বরং দেশের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট নাগরিক ও বুদ্ধিজীবীদের মিলনমেলা বসেছিল। প্রবীণ সাংবাদিক ও যায়যায়দিন পত্রিকার সম্পাদক শফিক রেহমানসহ প্রায় ৬০ জন সিনিয়র সাংবাদিক ও সম্পাদক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, ব্যবসায়ী নেতা এবং কবি-কথাসাহিত্যিকরা বিএনপির এই রাজনৈতিক সনদ প্রকাশ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
ইশতেহারে দেশের শাসনব্যবস্থা সংস্কার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং জুলাই বিপ্লবের চেতনা সমুন্নত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়।
এমএন
রাজনীতি
ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান তারেক রহমানের
আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি নিজেই পর্যাপ্ত আসনে জিতবে বলে মন্তব্য করেছেন দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচনের পর ঐক্য সরকার গঠনের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক বিরোধী দলের সঙ্গে কীভাবে আমি ঐক্য সরকার গঠন করব। তাহলে বিরোধী দল কে হবে?”
“আমি জানি না তারা কত আসনে জিতবে। যদি তারা বিরোধী দলের অবস্থানে থাকে। আমি তাদের ভালো বিরোধী দল হিসেবে আশা করব।”
তারেক রহমানের সহযোগীরা জানিয়েছেন, তাদের বিশ্বাস এবারের নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী হবে। সংসদে ৩০০ আসন থাকলেও বিএনপি তার নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে ২৯২টি আসনে। বাকিগুলো দেওয়া হয়েছে জোটের অন্যান্য দলগুলোকে।
তবে তারেক রহমান নিজে কোনো সংখ্যার কথা উল্লেখ করেননি। তিনি রয়টার্সকে শুধু বলেছেন “আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে আমরা সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসনে জয়ী হব।”
দেশের স্থিতিশীলতার স্বার্থে নির্বাচন শেষে জামায়াত মূলত ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২০২৪ সালে সাবেক স্বৈরাচার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন আন্দোলনের সময় দেশের তৈরি পোশাক খাত মূলত ব্যহত হয়েছে। সেটি থেকে উত্তরণের জন্য সরকার গঠনের জন্য পর্যাপ্ত আসন পেলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠনের আগ্রহ দেখিয়েছে দলটি।
জয়ী হলে ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন?
তারেক রহমানকে রয়টার্স প্রশ্ন করেছিল যদি তার দল জয়ী হয় তাহলে তারা ভারত থেকে চীনের দিকে ঝুঁকবেন কি না।
জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমরা সরকারে থাকি, আমাদের তরুণদের চাকরি দিতে হবে। দেশে আমাদের ব্যবসা আনতে হবে যেন তাদের চাকরির সুযোগ তৈরি হয় এবং মানুষ ভালো জীবনযাপন করতে পারেন।”
“তাই, বাংলাদেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে, যেসব প্রস্তাব আমাদের জনগণ ও দেশের জন্য উপযুক্ত হবে, আমরা তাদের সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব করব। আলাদা কোনো দেশের সঙ্গে নয়।”
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ দেবেন কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তারেক রহমান বলেন, “যদি জনগণ কাউকে মেনে নেয়, যদি মানুষ তাদের স্বাগত জানায়। তাহলে যে কারও রাজনীতি করার সুযোগ আছে।”
এছাড়া মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা যতক্ষণ নিশ্চিত না হবে ততক্ষণ তারা বাংলাদেশে থাকতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন তারেক।
এমএন



