রাজনীতি
ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতিশ্রুতি জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেনের
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ (যাত্রাবাড়ী-ডেমরা) আসনে বিজয়ী হলে একটি দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন এবং বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছেন ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন। নির্বাচনী এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সামনে রেখেই নির্বাচনী পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ১১ দলীয় জোট জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন তাঁর নির্বাচনী পরিকল্পনা ও এলাকার উন্নয়নের ভাবনা তুলে ধরেন।
কামাল হোসেন বলেন,ঢাকা-৫ এলাকার মানুষের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তিনি কাজ করতে চান। তাঁর পরিকল্পনার মূলে রয়েছে তিনটি খাত, তা হলো- শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান। এই তিন খাতকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শিক্ষা খাতের প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ আসনে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তীব্র সংকট রয়েছে। এই আসনে একটি আধুনিক সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা এবং বিদ্যমান স্কুল-মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং শিক্ষার মান বাড়ানোর তার প্রধান লক্ষ্য।
স্বাস্থ্যসেবার প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, এই এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই মানসম্মত চিকিৎসা সেবার বাইরে রয়েছে। তার পরিকল্পনায় যাত্রাবাড়ী এবং ডেমরাবাসীর জন্য ২৫০ থেকে ৫০০ শয্যার একটি আন্তর্জাতিক মানের আধুনিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা নিশ্চিত করা হবে।
কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, ঢাকা-৫ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান- লতিফ বাওয়ানী জুট মিল ও করিম জুট মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে আছে। এই মিল দুটি পুনরায় চালু করে স্থানীয় যুবকদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলে দেশে ও বিদেশে কাজের সুযোগ তৈরির কথাও বলেন।
নগর ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জলাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন। জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ড্রেনেজ সিস্টেম এবং যাত্রাবাড়ীর ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তিনি আরও বলেন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আওতায় এনে দুর্গন্ধ ও জীবাণুর বিস্তার রোধ করা হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসনের বিষয়ে কামাল হোসেন বলেন, “আমি নিজে দুর্নীতি করব না এবং দুর্নীতির ছায়াকেও আশপাশে ঘেঁষতে দেব না।” চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সন্ত্রাস ও ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট নির্মূল করার বিষয়েও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এলাকার দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট নিরসনে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে কামাল হোসেন বলেন, তিনি শুধু ব্যক্তি হিসেবে নন, তার দল জামায়াতে ইসলামীও সবসময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার মতে, একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর মূল দায়িত্বই হলো আইন প্রণয়ন, আইনের প্রয়োগ তদারকি এবং বাজেট প্রণয়ন, আর সেই জায়গা থেকেই আইন মানা অত্যন্ত জরুরি। তবে তিনি অভিযোগ করেন, ‘বাস্তবে সমান মাঠ পাওয়া যাচ্ছে না।’ তবে দলীয় কর্মীদের আইন মেনেই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গেও তিনি বলেন,আসন্ন নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের প্রশ্নে যে গণভোট হওয়ার কথা রয়েছে। সে বিষয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই বিপ্লবের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবে।
নিজের রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কামাল হোসেন বলেন, তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। জুলাই শহিদদের যে আকাঙ্ক্ষার একটি ন্যায়ভিত্তিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করাই তাঁর অঙ্গীকার।
নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে কামাল হোসেন বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে তিনি ভালো সাড়া পাচ্ছেন।’
নিজের রাজনৈতিক জীবনের আন্দোলন সংগ্রামের কথা স্মরণ করে কামাল হোসেন বলেন, তিনি ৯ বার কারাবরণ করেছেন এবং মোট ৮৫৩ দিন কারাগারে ছিলেন। তাঁর ভাষায়, তিনি ও তাঁর কর্মীরা সবাই নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা ন্যায়ের পক্ষে এক কাতারে দাঁড়িয়ে লড়ছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। ন্যায়সঙ্গত প্রতিযোগিতা হলে তিনি বিজয়ী হবেন বলেও প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র জানায়, ঢাকা-৫ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৫ জন। পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধন করেছেন ৪ হাজার ৫৪১ জন ভোটার। এই আসনে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৫০টি।
ইসি আরও জানায়, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা) ছাড়াও বিএনপির মো. নবী উল্লা (ধানের শীষ), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ইবরাহীম (হাতপাখা), বাংলাদেশ লেবার পার্টি’র মো. গোলাম আজম (আনারস), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-এর মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি), বাংলাদেশ কংগ্রেস-এর মো. সাইফুল আলম (ডাব), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)’র মো. হুমায়ুন কবির (ছাতা), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী)’র শাহিনুর আক্তার সুমি (কাঁচি) এবং গণঅধিকার পরিষদ-এর সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক) প্রার্থী রয়েছেন।
এমএন
রাজনীতি
জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের আহ্বান
জাপানের সঙ্গে সুসম্পর্ক আরও জোরদার এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে প্রবাসীদের ভূমিকা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীদের দায়িত্বশীল আচরণ ও নৈতিকতার মাধ্যমেই বিদেশে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তোলা সম্ভব।
জাপানে বসবাসরত প্রবাসী মুসলিমদের নৈতিক ও চারিত্রিক মানোন্নয়ন এবং স্থানীয় সমাজে ইসলামের আদর্শ তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়ে ইসলামিক মিশন জাপান (আইএমজে) আয়োজিত কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলন ও শিক্ষা শিবির ২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাইতামা প্রিফেকচারের কশিগায়া শহরের গামো হলে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজনটি ছিল প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মিলনমেলা ও দিকনির্দেশনামূলক প্ল্যাটফর্ম।
সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এবং পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করা হয়। প্রথম অধিবেশনে দারসুল কুরআন পেশ করেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি সূরা মায়েদাহ’র ৫৪ থেকে ৫৬ নম্বর আয়াতের আলোকে বলেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি ভালোবাসা, মুমিনদের প্রতি ভ্রাতৃত্ববোধ এবং সত্যের পথে অবিচল থাকা একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য। তিনি আরও বলেন, নিন্দা-সমালোচনাকে উপেক্ষা করে ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠায় অটল থাকাই ঈমানদারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য, যা অর্জনের মধ্য দিয়েই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও চূড়ান্ত সফলতা লাভ সম্ভব।
সম্মেলনে সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে ২০২৬-২০২৮ সেশনের জন্য আইএমজে নতুন কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাফেজ সাবের আহমদ। এছাড়া পরামর্শ সভার সদস্য হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফ, মাজেদুল ইসলাম, নিয়ামত উল্লাহ, আবদুল মালেক, এটিএম মিছবাহুল কবির, মীর আলি আহকাম লিখন, সারোয়ার আলম সিদ্দিকী এবং ড. শাহরিয়ার কামাল নির্বাচিত হন।
এই অধিবেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি। অধিবেশনে ১৩ জন নতুন সদস্য শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন, যা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশেষ অতিথি সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম উম্মাহ বিভক্তির বাস্তবতা তুলে ধরে ঐক্যের অপরিহার্যতার ওপর জোর দেন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, বিভাজন ও মতপার্থক্য ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। “ইটের গাঁথুনির মতো দৃঢ় ঐক্যই আমাদের শক্তি”—এ কথা উল্লেখ করে তিনি জাপানে বসবাসরত বিভিন্ন পেশা ও স্তরের বাংলাদেশিদের একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, ভাষাশিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথা তিনি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাপানের মতো উন্নত দেশে ইসলামের সৌন্দর্য তুলে ধরার সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম হলো ব্যক্তিগত আচরণ ও চরিত্র। আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি ব্যবহার যেন ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন মানসিকতা ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জাপান বাংলাদেশের একটি অকৃত্রিম বন্ধু রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকেই দেশটি বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। প্রবাসীদের সততা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই পরিবর্তনের ধারাকে টেকসই ও সফল করতে দেশের ভেতরের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। প্রবাসীদের অর্জিত জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে হবে।
জাপানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আগত সদস্য-সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সম্মেলনটি এক প্রাণবন্ত ও কার্যকর সমাবেশে পরিণত হয়। সম্মেলনে সংগঠনের বার্ষিক কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা, সাংগঠনিক সম্প্রসারণ এবং প্রবাসী কমিউনিটির কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনের শেষপর্বে কেন্দ্রীয় সভাপতি ও পরামর্শ সভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে আগামী দুই বছরের জন্য পুনরায় কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন হাফেজ মাওলানা ছাবের আহমদ। পরামর্শ সভার নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
নির্বাচিত হওয়ার পর সভাপতির বক্তব্যে ছাবের আহমদ বলেন, “আমাদের দায়িত্ব শুধু সংগঠনের গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং জাপানে বসবাসরত সমগ্র প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজের কল্যাণে কাজ করা। ইসলামের সুমহান বার্তা সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সক্রিয় হতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা, সংকটে এগিয়ে আসার মানসিকতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি আদর্শ কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
দিনব্যাপী এই আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে এক আবেগঘন পরিবেশে। দেশ, জাতি এবং বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
রাজনীতি
ক্ষমতার অজুহাতে বিএনপি সংস্কার চায় না: আখতার হোসেন
ক্ষমতার বাহানায় বিএনপি সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংস্কার ও ঐকমত্যের মাধ্যমে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে দলটির অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ।
রোববার (৩ মে) সকালে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এনসিপির সংস্কার বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজিত জ্বালানি, অর্থনীতি সংস্কার ও গণভোট বিষয়ে জাতীয় কনভেনশনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতাকে নিরঙ্কুশভাবে উপভোগ করতে চায়। কিন্তু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্বের ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত হয়, সেটাকে ক্ষমতার দৃষ্টিতে দেখার যে মানসিকতা, সেখান থেকে তারা এখনো বের হতে পারেননি।
আখতার হোসেন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ‘সংস্কারের বাহানায় যদি নির্বাচনটা হতে দেওয়া না হয়, সে কারণে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছেন।’ তারা বারবার নোট অব ডিসেন্টের কথা বলছেন। ঐকমত্য কমিশনে যখন আমরা আলাপ করেছিলাম, তখন নোট অব ডিসেন্টের অর্থ এই ছিল যে, আমরা মূল সিদ্ধান্তকে মেনে নিলাম, যার একটা ভিন্ন মত রয়েছে। তিনি সে ভিন্ন মতটা উল্লেখ করে রাখলেন। নোট অব ডিসেন্টটা এখানে মুখ্য বিষয় নয়। এখানে মূল যে সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক দলগুলো এবং ঐকমত্য কমিশন উপনীত হয়েছে সেটাই এখানে কার্যকর হবে।
তিনি আরও বলেন, গণভোট হয়ে যাওয়ার পরে বিএনপি কোন বিষয়ে রাজি বা কোন বিষয়ে নারাজি সেটার মুখ্য বিষয় হতে পারে না। সেই গণভোটের বিষয়গুলোর দিকে একটু তাকিয়ে দেখি। তারা বলছেন, যে চারটা কোশ্চেনের মধ্যে সাড়ে তিনটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি নাই। আধাটা কোশ্চেনে তাদের আপত্তি। আমরা আসলে ক্লিয়ার হতে চাই যে, গণভোটের কোন আধাটার বিষয়ে আপনাদের আপত্তি ছিল। কারণ গণভোটের প্রশ্নগুলোতে খুবই স্পষ্ট করে বলা ছিল যে, একটা উচ্চকক্ষ হবে ভোটের পিআর অনুযায়ী। তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে নতুন একটা ফর্মুলা অনুযায়ী, আর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগ হবে একটা নিরপেক্ষ ভোটিংয়ের মধ্য দিয়ে, যে বিষয়গুলোতে আমরা সবাই একমত হয়েছিলাম।
এনসিপির এই সদস্য সচিব বলেন, ক্ষমতায় আসার আগে নির্বাচনের সময়টাতে আপনারা (বিএনপি) গণভোটে ‘হ্যাঁ’য়ের কথা বলেছিলেন। কারণ আপনারা জানতেন যে, তখন গণভোটে যদি আপনারা ‘না’য়ের পক্ষে অবস্থান নিতেন। জনগণও আপনাদের বিপক্ষে চলে যেত। সে জনগণ তো ভোটের পরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে, ব্যাপারটা এমন না। শুধুমাত্র নির্বাচনের মধ্য দিয়েই বা পাঁচ বছর অপেক্ষা করেই তারপরে অনেক কিছু হবে, বিষয়টা তো এমনও না। বাংলাদেশের জনগণ তারা এই জিনিসগুলো দেখভাল করছে, তারা খেয়াল রাখছে এবং তারা সবাই প্রত্যাশা করছে।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, এখন আমরা শুধু এতটুকুই বলবো, সামনের দিনে আমরা দেখতে চাই, আপনারা আসলে কত ভালো আইন আপনারা নিয়ে আসেন। আমরা সেটা দেখার অপেক্ষায় থাকব। সেটা শুধু আমরা না, বাংলাদেশে আমজনতা সেটা দেখার অপেক্ষায় আছে।
এমএন
রাজনীতি
শাপলা চত্বরে শহীদদের স্মরণে দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা ছাত্র জমিয়তের
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আয়োজিত হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলায় শহীদদের মাগফিরাত কামনায় দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ।
কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৫ মে (মঙ্গলবার) সারা দেশের সব শাখায় আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
ছাত্র জমিয়তের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জুবায়ের হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, শাপলা চত্বরের শহীদদের স্মরণে এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দেশের সব শাখাকে যথাযথ মর্যাদায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সব ইউনিটকে কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
রাজধানী
টিএসসিতে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল, আটক ২
টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ঝটিকা মিছিল করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ। এ সময় একটি মাইক্রোবাসসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২ মে) সকাল ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন- ফারহান তানভীর নাসিফ (১৯-২০ সেশন, এফ রহমান হল) এবং মাইক্রোবাসের চালক রুবেল।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হঠাৎ করে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে জড়ো হয়ে মিছিল ও ব্যানার প্রদর্শন করে। পরে তারা দ্রুত একটি কালো হাইএস মাইক্রোবাসে উঠে স্থান ত্যাগ করে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা আরেকটি হাইএস গাড়ির ড্রাইভার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, রাজু ভাস্কর্য এলাকায় ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিলের সময় দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রাজনীতি
এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
শনিবার (২ মে) দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও দপ্তর সেলের সম্পাদক সালেহ উদ্দিন সিফাত এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপি থেকে নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা। কিছুক্ষণের মধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন বলে আমাদের জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে আমরা নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে কিছুক্ষণের মধ্যে ব্রিফ করবো।




