রাজনীতি
বাংলাদেশকে ৩৫তম থেকে ২০তম অর্থনীতিতে নিতে চায় জামায়াত
বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি থেকে বাংলাদেশকে ২০তম স্থানে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ইশতেহার পাঠ করেন। ১৩তম জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে প্রকাশিত এই ইশতেহারের শিরোনাম— ‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশের ইশতেহার’।
ইশতেহারে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করা হবে এবং মাথাপিছু আয় ১০ হাজার ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং আর্থিক খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করে ধাপে ধাপে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও পদ্ধতিগত জটিলতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে ইনভেস্টমেন্ট বন্ড মার্কেট গঠনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে।
রাজস্ব খাতে সংস্কারের মাধ্যমে করের আওতা সম্প্রসারণ করে রাজস্ব আহরণ জিডিপির ১৪ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগসহ মোট ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং বাজেট ঘাটতি কোনোভাবেই জিডিপির ৫ শতাংশ অতিক্রম করবে না—এমন অঙ্গীকারও রয়েছে।
নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা সহজ করতে করমুক্ত আয়ের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ৫ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের কথা বলা হয়েছে। করপোরেট কর পর্যায়ক্রমে ২০ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে।
ইশতেহারে বর্ধিত রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, গৃহায়ণ, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং যোগাযোগ অবকাঠামো ও পরিবহন খাতে ব্যয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি, অপচয় ও অদক্ষতা দূর করে সরকারি ব্যয়ের কার্যকারিতা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।
আর্থিক খাতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক ও ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে একটি আর্থিক খাত সংস্কার কমিশন গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
শেয়ারবাজারে অনিয়ম ও কারসাজি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, আস্থাহীনতা দূর করে বাজারকে গতিশীল করা এবং শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার অঙ্গীকার করেছে জামায়াত।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের অংশ হিসেবে অ্যাডভান্সড টেক্সটাইল, চামড়া, পাট, ফ্রিল্যান্সিংসহ আইটি সার্ভিস এবং এগ্রো-প্রসেসিং খাত আধুনিকায়নের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়িয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের কার্যকর অংশীদার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভজনক ও প্রতিযোগিতামূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের পাশাপাশি অলাভজনক শিল্পের পরিবর্তে নতুন শিল্প স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও ইশতেহারে উল্লেখ রয়েছে। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমানো, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করে রেমিট্যান্স আয় দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে ইশতেহারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে Employment and Entrepreneur Ecosystem গড়ে তোলার পাশাপাশি দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং কর্মসংস্থান অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক জেলায় জেলা কর্মসংস্থান অফিস এবং মহানগর ও থানায় স্থানীয় কর্মসংস্থান অফিস স্থাপনের কথাও বলা হয়েছে।
এ ছাড়া হঠাৎ কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য ভাতা কর্মসূচির পরিসর বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট ইন্স্যুরেন্স চালু, এসএমই খাতে বিশেষ প্রণোদনা, সুনীল অর্থনীতির উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় যাকাত সংগ্রহ ও বণ্টন, ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের বিকাশ, কমার্শিয়াল কোর্ট স্থাপন এবং পরিসংখ্যান ব্যবস্থার সংস্কারের কথাও ইশতেহারে তুলে ধরা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা বলেন, এই ইশতেহার বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।
রাজনীতি
রাষ্ট্রপতিকে বাদ দিতেই হবে, কোনো অপশন নেই: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসনের মাধ্যমে দ্রুত বিদায় করতে হবে।
শনিবার (২১ মার্চ) সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি তুলেন।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রপতি (চুপ্পু) এখানে এসেছেন। মুসল্লিরা প্রতিবাদ করেছেন। আমরা সরকারকে দ্রুত জানাব যে, নয়ছয় না করে রাষ্ট্রপতির (চুপ্পু) অভিশংসন জরুরি। তাকে বাদ দিতেই হবে। সরকারের কোনো অপশন নেই। যদি বাদ না দেওয়া হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলনে যেতে হবে।
ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি নতুন শপথ নিতে জাতীয় ঈদগাহে এসেছি। কারণ, আমরা অনেক শহীদ ভাইকে নিয়ে আজ নামাজ পড়তে পারতাম। আমরা চাই বাংলাদেশে শহীদ ও আহতদের বিচার বুঝে পাব। একই সঙ্গে বুঝে পাব শহীদ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার।
আগামী দিনের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কয়েক দিন ধৈর্য ধারণ করছি। সবকিছু সচল হলে আমরা রাজপথে যেতে বাধ্য হবো, ইনশা আল্লাহ।
রাজনীতি
মনিপুরে ঈদের নামাজ পড়লেন বিরোধীদলীয় নেতা
রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ (মূল বালিকা ক্যাম্পাস) মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান।শনিবার (২১ মার্চ) সকালে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে আয়োজিত ঈদ জামাতে অংশ নেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই মিরপুর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সাধারণ মুসল্লিরা মনিপুর স্কুল মাঠে ঈদের নামাজ আদায়ের জন্য সমবেত হন। বিরোধীদলীয় নেতার আগমনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে খুতবা পাঠ করা হয়। এরপর দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন ডা. শফিকুর রহমান। মোনাজাত শেষে তিনি উপস্থিত মুসল্লিদের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
এ সময় তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে : জামায়াত আমির
ঈদযাত্রীদের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ঈদ উপলক্ষে বাংলাদেশ এবার ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা প্রত্যক্ষ করল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ কথা বলেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ঈদে নাড়ির টানে ঘরে ফেরা লোকজনের ওপর চরম জুলুম করা হচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে শহর থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষ আপনজনের সঙ্গে মিলেমিশে ঈদ করার জন্য একবুক প্রত্যাশা ও আনন্দ নিয়ে সারা বছর ধরে অপেক্ষা করেন।’
তবে এবার ঈদযাত্রায় জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘ইতিহাসের জঘন্যতম অব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ এবার প্রত্যক্ষ করল। এর দায় অবশ্যই সরকারকে নিতে হবে।’
কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠনের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, এ অব্যবস্থাপনার মূলভিত্তি এটিই।’
জনগণকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘বাস মালিকরা স্বাভাবিক ভাড়ার চেয়ে ঈদ যাত্রায় কম ভাড়া নিচ্ছে, যা চরম মিথ্যাচার। জনগণের এই দুঃখ এবং আফসোস দেখবে কে? তাহলে কি প্রিয় বাংলাদেশ আবারও ফ্যাসিবাদের কবলে পড়তে যাচ্ছে?’
হুঁশিয়ারি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘কেউ ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চাইলে তাদের জন্য দুঃসংবাদ— জেগে ওঠা যুবসমাজ ও জনগণ তা বরদাশত করবে না। অতএব সময় থাকতে সাবধান হওয়া দরকার। অন্যথায় বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদেরই এসব দায় বহন করতে হবে।’
রাজনীতি
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা মেনে নেবে না জনগণ: জামায়াত আমির
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সমাগত পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেছেন, গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, জাতি এমন একসময়ে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করতে যাচ্ছে, যখন দেশে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে এবং একটি ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, নতুন করে কেউ আর ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলবে, চলাফেরা করবে। সমাজে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না এবং নাগরিকেরা জানমাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা পাবেন। দেশ হবে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন। এরপরও এই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ করা যাচ্ছে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। তাই সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান জানান তিনি।
যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতি ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশ পেয়েছে, শুভেচ্ছা বার্তায় তাদের জন্য দোয়া কামনা করেন জামায়াত আমির। একই সঙ্গে আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী ব্যক্তিদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে সব ভেদাভেদ ভুলে মানুষে মানুষে দয়া, সৌভ্রাতৃত্ব, সাম্য, ঐক্য ও ভালোবাসার এক মহাসেতুবন্ধ গড়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহভীতি তথা তাকওয়ার গুণাবলি সৃষ্টির মাধ্যমে মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর পবিত্র ঈদুল ফিতর মুসলমানদের জীবনে শান্তি ও আনন্দের বার্তা নিয়ে আসে; ধনী-গরিব সব শ্রেণির মধ্যে নিবিড় ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। তাই ঐক্যবদ্ধভাবে একটি হিংসা ও বিদ্বেষমুক্ত সমাজ গঠনে তৎপর হওয়ার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার এবং একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিশেষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে দেশবাসীর সুখ-শান্তি, সমৃদ্ধি, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবন কামনা করে সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনীতি
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান নাহিদ ইসলামের
তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসবে নগরবাসীকে শামিলের আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাতে ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, যান্ত্রিক জীবনযাত্রায় ক্লান্ত, কর্মব্যস্ত নগরবাসীর জন্য সুখবর! গত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও নাগরিক উদ্যোগে রাজধানীতে আয়োজিত হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ঈদ উৎসব।
চাঁদরাতে মেহেদী উৎসব, ঈদের নামাজের পর বর্ণাঢ্য ঈদ মিছিল এবং পরদিন ঘুড়ি উৎসব; এমন অনন্য সব আয়োজনে আবারও ফিরে আসছে আমাদের পাঁচশো বছরের ঐতিহ্য।
তিনি বলেন, সব ভেদাভেদ ভুলে এই আনন্দোৎসবে শামিল হওয়ার জন্য নগরবাসীর প্রতি আন্তরিক আহ্বান জানাচ্ছি।



