জাতীয়
অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন দখলের চেষ্টা
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে (বিএএসএ) অস্থিরতা ও পাল্টাপাল্টি কমিটির ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র তোয়াক্কা না করে একতরফা কমিটি ঘোষণা এবং মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিয়াম ফাউন্ডেশনে কর্মকর্তাদের নেমপ্লেট পরিবর্তনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বর্তমান কমিটির পক্ষ থেকে এই নতুন কমিটিকে ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করা হয়েছে।
গত ২৫ জানুয়ারি রাতে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে বর্তমান কমিটির মহাসচিব ও ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী পৃথক বৈঠক করে ৫২ সদস্যের একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এতে সংসদ সচিবালয়ের সচিব বেগম কানিজ মওলাকে সভাপতি এবং পরিকল্পনা কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মো. বাবুল মিঞাকে মহাসচিব হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
এই কমিটির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বর্তমান সভাপতি ও গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, ওই সভায় নতুন কমিটি গঠন নিয়ে কোনো এজেন্ডা বা সিদ্ধান্ত ছিল না। সংবাদমাধ্যমে আসা খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য ও বিভ্রান্তিকর।
মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, বিসিএস ২২ ব্যাচের কর্মকর্তা হাফিজুল্লাহর নেতৃত্বে সংগঠনের কার্যালয়ে বর্তমান সভাপতি ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নেমপ্লেট পরিবর্তন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে ক্যাডার সার্ভিসের ইতিহাসে নজিরবিহীন হিসেবে দেখছেন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
সংগঠনের বর্তমান সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কমিটি গঠন হয় দুই বছরের জন্য। যদি বিশেষ প্রয়োজনে নতুন কমিটি করতেই হয়, তবে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হয়। আমাদের মাধ্যমেই যদি ‘চর দখলের’ মতো অনিয়ম হয়, তবে দেশ কীভাবে এগোবে? নির্বাচনের আগে এ ধরনের ফ্যাসিস্ট আচরণে আমরা বিব্রত।”
অভিযোগ উঠেছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রভাব বিস্তার করতেই এই তাড়াহুড়ো করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অফিসার্স ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ এম এ খালেকের নেপথ্য নির্দেশনায় ৯ জন সদস্য মিলে এই কমিটি ঘোষণা করেছেন। ৫২ সদস্যের কথা বলা হলেও মূলত ৯ জন মিলেই এই অ্যাডহক কমিটি করেছেন, যার মধ্যে চারজনই বর্তমান কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৪ জানুয়ারি সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে বর্তমান কমিটি গঠিত হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত এই কমিটির মেয়াদ থাকার কথা।
তবে স্বঘোষিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল মিয়া এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, “বর্তমান যে কমিটি রয়েছে সেটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করে হয়নি। তাই সংগঠনের গতিশীলতা ফেরাতে নতুন কমিটি করা হয়েছে।”
ঘোষিত ওই কমিটিতে সহসভাপতি হিসেবে খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমানের নাম রয়েছে। এছাড়া যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে একেএম হাফিজুল্লাহ খান লিটন ও নুরজাহান খানমের নাম ঘোষণা করা হয়েছে।
বিএএসএ’র সাধারণ সদস্যরা মনে করছেন, আমলাতন্ত্রের ভেতরে এ ধরনের প্রকাশ্য কোন্দল ও নিয়মবহির্ভূত ক্ষমতা দখল প্রশাসনের চেইন অব কমান্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
এমকে
জাতীয়
ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু বৃহস্পতিবার
দীর্ঘ ১৪ বছর পর ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু হচ্ছে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি)। ট্রানজিট না থাকায় কমবে সময়, বাঁচবে সর্বনিম্ন ৩০ হাজার টাকা। আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করবে বিমান বাংলাদেশ।
আনুষ্ঠানিকভাবে আকাশপথে ঢাকা-করাচি-ঢাকা নন-স্টপ ফ্লাইট শুরুর মাধ্যমে পুরোনো সম্পর্কের ভিত আরও শক্ত করার পথে দুই দেশ।
দীর্ঘদিন পর পাকিস্তানে বাংলাদেশের ফ্লাইট পরিচালনায় উচ্ছ্বসিত সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীরা বলেন, পাকিস্তানটা কেমন সেটা দেখার স্বপ্ন অনেকেরই আছে। বিমান চলাচলের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতেও উন্নতি হবে।
ঢাকা থেকে করাচি ১৪৭১ মাইল পথ যাতায়াতে ব্যবহার হবে ১৬২ সিটের বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ। সপ্তাহে আপাতত বৃহস্পতি ও শনিবার ফ্লাইট চলবে করাচি রুটে। প্রথম ফ্লাইটেই যাত্রীদের প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া গেছে।
বাংলাদেশ বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানান, প্রথম ফ্লাইটের সব সিট বিক্রি হয়ে গেছে। দ্বিতীয় ফ্লাইটের সিটও ৮০ শতাংশের বেশি বিক্রি হয়েছে। এখন যারা যাত্রা করছেন, আগে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় তাদের অনেক ঘুরতে হতো। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় সময় অনেক কমে এসেছে। তিন ঘণ্টার মধ্যেই যাত্রা সম্পন্ন হবে এবং প্যাসেঞ্জারদের ট্রানজিটের ঝামেলাও নেই, তাই ভ্রমণ হবে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য ও দ্রুত।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে ৩০ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আয় করে পাকিস্তান সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভ্রমণপিপাসুদের পাশাপাশি ঢাকা-করাচি রুটটি বাণিজ্যিক ও কৌশলগতভাবেও গুরুত্বপূর্ণ।
দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম বলেন, দুই দেশের মধ্যে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দুই দেশের বিমান চলাচল শুধু যাত্রী পরিবহনেই লাভজনক হবে না, বরং কার্গো পরিবহনের ক্ষেত্রেও এখানে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তাজনিত কারণে ২০১২ সালে ঢাকা-করাচি রুটে ফ্লাইট বন্ধ হয়ে যায়। এতদিন যাত্রীদের দুবাই, দোহাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ট্রানজিট হাব ব্যবহার করতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল ছিল। নতুন ব্যবস্থায় রাউন্ড ট্রিপে ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হয়ে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
এমকে
জাতীয়
অতিরিক্ত সচিব হলেন ১১৮ জন কর্মকর্তা
পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন প্রশাসনের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১৮ কর্মকর্তা। পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তাদের সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদোন্নতির আদেশে উল্লিখিত কর্মস্থল থেকে কোনো কর্মকর্তার দপ্তর বা কর্মস্থল ইতোমধ্যে পরিবর্তন হলে কর্মরত দপ্তরের নাম-ঠিকানা উল্লেখ করে তাকে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। জনপ্রশাসন সচিবের কাছে সরাসরি বা ইমেইলে যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে।
পদোন্নতি পাওয়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরবর্তীতে কোনো বিরূপ বা ভিন্নরূপ তথ্য পেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন বা বাতিল করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ২৮৫ জন অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন। নতুন ১১৮ জনকে নিয়ে অতিরিক্ত সচিবরে সংখ্যা হয়েছে ৪০৩ জন। অতিরিক্ত সচিবের স্থায়ী পদের সংখ্যা ২১২ জন হওয়ায় পদোন্নতি পাওয়া বেশির ভাগ কর্মকর্তাকে আগের পদেই (ইনসিটু) কাজ করতে হবে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০তম ব্যাচের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনেক যোগ্য ও দক্ষ কর্মকর্তা আবারও বাদ পড়েছেন। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের বড় একটি অংশ এই তালিকায় জায়গা পাননি বলে জানা গেছে।
এমকে
জাতীয়
টিসিবির জন্য ১ কোটি লিটার তেল ও ১০ হাজার টন ডাল কিনছে সরকার
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১ কোটি লিটার সয়াবিন তেল এবং ১০ হাজার টন মসুর ডাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এতে ব্যয় হবে ২৫৬ কোটি ৮৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের নিকট ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কেনার প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়। উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করেছে।
এক কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল ১০টি লটে কেনার জন্য (প্রতি লটে ১০ লাখ লিটার করে) স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। তার মধ্যে ১ থেকে ৫ নম্বর লটে প্রতিটিতে সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড এবং ৬ থেকে ১০ নম্বর লটে প্রতিটিতে শবনাম ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড একক দরদাতা হিসেবে দরপত্র জমা করে। দুটি প্রতিষ্ঠানের সব দরপ্রস্তাবই আর্থিক ও কারিগরিভাবে রেসপনসিভ বিবেচিত হয়।
দরপ্রস্তাবের সব প্রক্রিয়া শেষে টিইসির সুপারিশে রেসপনসিভ দরদাতা প্রতিষ্ঠান সুপার অয়েল রিফাইনারি লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯৫ পয়সা হিসেবে ৫০ লাখ লিটার ৯২ কোটি ৯৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় এবং শবনাম ভেজিটেবল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড থেকে প্রতি লিটার ১৮৫ টাকা ৯০ পয়সা হিসেবে ৫০ লাখ লিটার সয়াবিন ৯২ কোটি ৯৫ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে ১ কোটি লিটার পরিশোধিত সয়াবিন তেল কিনতে মোট লাগবে ১৮৫ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভোজ্যতেল কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ কোটি লিটার। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ২ কোটি ৫৫ লাখ লিটার।
এদিকে, বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজি বস্তায়) কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির লক্ষ্যে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার জন্য ১০টি লটে (প্রতিটি ১ হাজার মেট্রিক টন করে) স্থানীয়ভাবে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ১০টি লটের বিপরীতে ২৯টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। প্রত্যেকটি লটে রেসপনসিভ সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হয় ঢাকার কেবিসি অ্যাগ্রো প্রোডাক্টস প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল (৫০ কেজির বস্তায়) প্রতি কেজি ৭০ টাকা ৯৬ পয়সা হিসেবে ৭০ কোটি ৯৬ লাখ টাকায় কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে মসুর ডাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত ক্রয় চুক্তি সম্পাদন হয়েছে ৩২ হাজার মেট্রিক টন। আর টিসিবির গুদামে মজুত আছে ৫ হাজার ৯৮৬ মেট্রিক টন। চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে বিক্রয়ের জন্য প্রায় ৬৪ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন মসুর ডাল প্রয়োজন।
এমএন
জাতীয়
নির্বাচনে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করবে
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, ধৈর্য, সংযম এবং নাগরিকবান্ধব আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা সেনাবাহিনীর প্রধান অগ্রাধিকার।’
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুর ও রাজশাহী সফরকালে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় সেনাবাহিনী প্রধান এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে সেনাপ্রধান সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং মাঠপর্যায়ে মোতায়েন সেনাসদস্যদের দায়িত্ব পালনের ধরন সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় তিনি দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাসদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
রংপুর সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক সভায় সেনাবাহিনী প্রধান ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন। পরে রাজশাহীর ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টার (বিআইআরসি)-এ অনুরূপ আরেকটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময়কালে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতির বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়।
রংপুর ও রাজশাহী পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি), আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কমান্ড; জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া; জিওসি, ১১ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, বগুড়া এরিয়া; সেনাসদর, রংপুর ও বগুড়া এরিয়ার ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও বিভাগীয় কমিশনার, অসামরিক প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
এমএন
জাতীয়
রাষ্ট্রীয় সংস্কারে ইইউ’র পূর্ণ সমর্থন ও সহায়তার আশ্বাস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রীয় সংস্কার কার্যক্রম, সাংবিধানিক ও কাঠামোগত সংস্কার কার্যক্রমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। একইসঙ্গে আসন্ন গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরকারের নেওয়া উদ্যোগগুলো ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা জানান।
ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের এ নির্বাচন মনিটরিং করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় আকারের পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর প্রক্রিয়ায় একটি টিম ইতোমধ্যে বাংলাদেশে অবস্থান করছে।
রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে অব্যাহত থাকবে।
অধ্যপক আলী রীয়াজ বাংলাদেশের গণভোট ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আসন্ন গণভোটের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।
এমএন



