জাতীয়
৩৬ বার অপারেশনের পর ঘরে ফিরল অগ্নিদগ্ধ আবিদ
রাজধানীর উত্তরায় বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় দগ্ধ মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী আবিদুর রহিম (১২) দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা ও ৩৬ বার অস্ত্রোপচারের পর অবশেষে বাড়ি ফিরেছে। সে বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক নাসির উদ্দিন।
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের মোয়াকোলা পূর্বপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে আবিদ। পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঢাকার উত্তরায় বসবাস করে সে। তার বড় মেয়ে রাইসা (১৩) মাইলস্টোন স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে ও ছেলে আবিদ পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। বিমান দুর্ঘটনায় তার দুই হাত, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ সহ ২৫ ভাগ আগুনে পুড়ে যায়। এ ছাড়া তার শ্বাসনালীও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই দুপুরে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি দোতলা ভবনে বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় মোট ৩৬ জন নিহত এবং ১২৪ জন আহত হয়। তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে যুদ্ধবিমানের পাইলটের উড্ডয়ন-ত্রুটি চিহ্নিত করেছে।
এমকে
জাতীয়
ইমাম-মুয়াজ্জিনের বেতন নির্ধারণ করে দিলো সরকার
মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় এটি প্রকাশ করা হয়েছে।
এ নীতিমালা প্রণয়নে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি কমিটি কাজ করেছে। এটি চূড়ান্ত করার পূর্বে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা ও ইমাম-খতিবদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একাধিক মতবিনিময় সভা করেছে এ কমিটি। ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন এসব মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এ নীতিমালায় দেশের মসজিদগুলোর খতিব ব্যতীত অন্যান্য জনবলের গ্রেডভিত্তিক বেতনকাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। খতিবের বেতন নির্ধারিত হবে চুক্তিপত্রের শর্তানুসারে। তবে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল এবং পাঞ্জেগানা মসজিদের ক্ষেত্রে সামর্থ্য অনুসারে বেতন-ভাতাদি নির্ধারণের জন্য বলা হয়েছে।
নীতিমালায় সিনিয়র পেশ ইমামকে জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম, পেশ ইমামকে ৬ষ্ঠ ও ইমামকে ৯ম গ্রেডে বেতন দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। প্রধান মুয়াজ্জিনকে ১০ম, মুয়াজ্জিনকে ১১তম, প্রধান খাদিমকে ১৫তম ও খাদিমকে ১৬তম গ্রেডে বেতন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ নীতিমালায় মসজিদে কর্মরত জনবলের প্রয়োজন বিবেচনায় সামর্থ্য অনুসারে সপরিবারে আবাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ কল্যাণের স্বার্থে মাসিক সঞ্চয়ের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া, চাকরি সমাপনান্তে এককালীন সম্মাননা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিদের ছুটি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে এই নীতিমালায়। কমিটির অনুমোদনক্রমে প্রতিমাসে সর্বোচ্চ চারদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন মসজিদে কর্মরত ব্যক্তিরা। এ ছাড়া, পঞ্জিকাবর্ষে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ও প্রতি ১২ দিনে একদিন অর্জিত ছুটির বিধান রাখা হয়েছে।
এ নীতিমালা অনুসারে মসজিদের কোনো পদে নিয়োগের জন্য সাত সদস্যবিশিষ্ট বাছাই কমিটি থাকবে। এ কমিটির সুপারিশ ব্যতীত কোনো পদে সরাসরি নিয়োগ করা যাবে না। এ ছাড়া, মসজিদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা, দায়িত্বাবলিসহ চাকরি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় উল্লেখ করে নিয়োগপত্র প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
২০২৫ সালের এ নীতিমালায় মসজিদে নিরাপত্তা প্রহরী ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এছাড়া, নারীদের জন্য মসজিদে শরিয়তসম্মতভাবে পৃথক নামাজের কক্ষ বা স্থান ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির কলেবর বৃদ্ধি করে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট করা হয়েছে। তবে মসজিদের আয়, আয়তন ও অবস্থান বিবেচনায় এ কমিটির সদস্য সংখ্যা কম-বেশি করার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া, নীতিমালা বাস্তবায়নে কোনো জটিলতা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটিও রয়েছে। এ নীতিমালা জারির মাধ্যমে ২০০৬ সালের মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালাটি রহিত করা হয়েছে।
এমকে
জাতীয়
পে স্কেলের সুপারিশ জমা আজ, যেসব সুখবর পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা
সচিবালয়ে পে স্কেলের সুপারিশ সংক্রান্ত পূর্ণ কমিশনের সভা হবে আজ বুধবার। এদিন বেলা ১২টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পুরোনো ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপরই বিকেলে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হবে। তার সঙ্গে বিকেল ৫টায় দেখা করার সময় নির্ধারণ হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান উপদেষ্টা।
কমিশনের চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করবেন। এ সময় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ উপস্থিত থাকবেন।
পে কমিশনের এক সদস্য বলেন, ‘নবম পে-স্কেলের সবকিছুই মোটামুটি চূড়ান্ত। বিষয়গুলো আরেকবার রিভাইজ করা হবে। কমিশনের সভায় খসড়া সুপারিশ পর্যালোচনা শেষে তা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হবে।’
সুপারিশ প্রকাশ করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই সদস্য আরও বলেন, ‘কমিশনের সুপারিশের কপি কোনো সদস্যের কাছেই থাকবে না। এটি কেবল প্রধান উপদেষ্টার কাছে থাকবে। পরবর্তীতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সময় আরও কয়েক কপি প্রিন্ট করা হতে পারে।’
সূত্র বলছে, বেতন কমিশন ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিক বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে। এটি পুরো মাত্রায় কার্যকর হবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দিন, অর্থাৎ আগামী ১ জুলাই থেকে।
অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিবেদনের নানা দিক তুলে ধরবেন বেতন কমিশনের প্রধান জাকির আহমেদ খান।
সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা, নতুন স্কেলে এটা দ্বিগুণের বেশি বাড়তে পারে। আর সর্বোচ্চ ধাপে নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা। এটা বাড়িয়ে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার বেশি করা হচ্ছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত থাকছে ১:৮।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো আংশিক কার্যকর করার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নিয়ে রেখেছে সরকার।
বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, বেতনকাঠামো পুরো মাত্রায় বাস্তবায়ন করতে গেলে বাড়তি ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা লাগবে।
প্রস্তাবিত বেতনকাঠামোয় নিচের দিকে বেতন–ভাতা বেশি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কমিশনের সুপারিশগুলোর সবকটি হুবহু বাস্তবায়ন করা নাও হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা প্রস্তাবে সরকারি চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট হবেন।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণের জন্য বেতন কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশনের প্রধান সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান।
২১ সদস্যের এ কমিশনকে ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখন ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুসারে বেতন-ভাতা পান। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংখ্যা এখন প্রায় ১৫ লাখ।
এমকে
জাতীয়
নিবন্ধন করেছেন ৭৬ হাজার ৫৮০ হজযাত্রী
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জনকে হজ পালনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৭৬ হাজার ৫৮০ জন হজযাত্রী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ৭৬ হাজার ৫৮০ জনের মধ্যে ৭২ হাজার ৩৪৪ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৪ হাজার ২৬০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালে হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক বলেন, সাধারণ হজযাত্রীদের পাশাপাশি মেডিকেল টিম, হজ গাইড, প্রশাসনিক ও কারিগরি দলও সৌদি আরবে যাবেন হজযাত্রীদের সহায়তার জন্য। মন্ত্রণালয় তাদের তালিকা সৌদি কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে।
সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করার শেষ সময় ছিল ২০২৫ সালে ১৬ অক্টোবর। আর নিবন্ধন শুরু হয় একই বছর ২৭ জুলাই।
হজ এজেন্সি ও এয়ারলাইনসগুলোকে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সকল নির্দেশনা কঠোরভাবে মানতে নির্দেশ দিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে শুরু হবে। সৌদি সরকার সকল হজযাত্রীর জন্য মেডিকেল ফিটনেস বাধ্যতামূলক করেছে।
মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, হজযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো স্বাস্থ্য সচেতন থাকা এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা। সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় হজযাত্রীদের প্রস্তুতি থাকতে হবে।
হজযাত্রীরা ই-হজ সিস্টেম, লাব্বাইক মোবাইল অ্যাপ, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ইসলামী ফাউন্ডেশনের বিভাগীয় ও জেলা অফিস এবং বায়তুল মুকাররম হজ অফিস ও আশকোনা হজ অফিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করেছেন। বাংলাদেশি হজযাত্রী বহনের জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, সৌদিয়া এয়ারলাইন্স এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স দায়িত্বে থাকবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, এজেন্সিগুলোকে প্রি-হজ ফ্লাইটের মধ্যবর্তী সময়ে ২০ শতাংশ হজযাত্রী পাঠাতে হবে এবং বাকিদের প্রথম ও শেষ পর্যায়ে পাঠাতে হবে।
মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো এজেন্সি প্রি-হজ ফ্লাইটের প্রথম বা শেষ পর্যায়ের হজ ফ্লাইটে ৩০ শতাংশের কম এবং ৫০ শতাংশের বেশি টিকিট ইস্যু করতে পারবে না। সকলকে নির্দেশনার আলোকে টিকিট ইস্যু ও ফ্লাইট পরিচালনা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়।
এমকে
জাতীয়
সংসদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দ আজ, কাল থেকে প্রচারণা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আজ বুধবার প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রতীক হাতে পাওয়ার পরদিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকেই আনুষ্ঠানিক প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় শেষ হয়েছে। সারা দেশে ৩০৫ প্রার্থী ভোটের মাঠ ছেড়েছেন। ফলে ২৯৮টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন মোট ১ হাজার ৯৬৭ জন প্রার্থী।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৩ জন প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর সর্বনিম্ন প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তবে এবারের ভোটে থাকছে না একক প্রার্থী।
ইসি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে ২৫৮৫ মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৫৮ জন। রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন নেওয়া হয়। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৩৯ জন আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এবার ৬৪৫ জন আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন। অবশ্য পাবনা ১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবেন। ভোটের দিন একই রেখে এ দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ছিল এই দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে সাতটি ও পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
ইসির রোডম্যাপ অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। স্বচ্ছ ব্যালট পেপারের মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে দেশের প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে ভিন্ন ব্যালটে।
এমকে
জাতীয়
জামায়াতের আমিরসহ ৭ নেতাকে নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ ইসির
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ দলটির শীর্ষ সাতজন নেতার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
নির্বাচন কমিশনের নির্বাচন পরিচালনা-০২ অধিশাখার উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেনের সই করা চিঠিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে জানানো হয়, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দলের সাতজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা এবং সংসদ সদস্য প্রার্থীর নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরও উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
জামায়াতের যে সাত নেতার নিরাপত্তা দিতে বলেছে ইসি তারা হলেন—জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
ইসি জানায়, নির্বাচনকালীন প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অংশ। এরই ধারাবাহিকতায় কমিশন থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই দাপ্তরিক নির্দেশনা পাঠানো হলো।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে ইসি ও সংশ্লিষ্ট বাহিনীগুলো।



