জাতীয়
হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় সরকারি চাকরিজীবীদের বাধা নেই: আলী রীয়াজ
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র প্রচারণায় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের সামনে কোনো আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর বিয়াম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বিভাগীয় কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, এবারের গণভোট কোনো দলকে ক্ষমতায় বসানো কিংবা কোনো দলকে ক্ষমতায় যেতে বাধা দেওয়ার এজেন্ডা নয়; এটি রক্তের অক্ষরে লেখা জুলাই জাতীয় সনদভিত্তিক রাষ্ট্র সংস্কারের এজেন্ডা, যা বাংলাদেশের সব মানুষের। এই গণভোট হলো জনগণের সম্মতি নেওয়ার একটি প্রক্রিয়া: যার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশ কোন পথে চলবে।
ঢাকা বিভাগের কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও পূর্ত সচিব মো. নজরুল ইসলাম ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
অনুষ্ঠানে প্রফেসর আলী রীয়াজ বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, সাবেক বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনায় ‘একবাক্যে’ মত পেয়েছি—গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের ওপর আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে অথবা ভিন্ন উদ্দেশ্যে বিষয়টি উত্থাপন করছে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে যে ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল, তার বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন, জেল-জুলুম-নিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন—তারাই আমাদের দুটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র যেন আর ফিরে আসতে না পারে, সেই পথ রুদ্ধ করা। আরেকটি দায়িত্ব হচ্ছে ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পথ নকশা নির্মাণ। বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে। আগামী অন্তত ৪০ বছর এই দেশ কেমনভাবে চলবে, আজ আমার ও আপনার দায়িত্ব হচ্ছে সে পথ নির্ধারণ করা এবং দুর্বার গতিতে সাফল্য ও সমৃদ্ধির এগিয়ে যাওয়ার আয়োজন করা।
আলী রীয়াজ বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কেবল কর্মকর্তা-কর্মচারী নন; তারা একই সঙ্গে নাগরিকও। তাই, রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণে নাগরিক দায়িত্ব পালনের প্রশ্নে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্তদের জনগণের সেবায় সর্বদা সচেষ্ট থাকার কর্তব্য এবং নাগরিকদের আইন মানা, শৃঙ্খলা রক্ষা ও জাতীয় সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব উল্লেখ রয়েছে। সেই দায়িত্বের আলোকে গণভোটে মানুষকে সচেতন করা ও ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করার কাজটিও নাগরিক কর্তব্যের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
গণভোট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়টি উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ভোট নিয়ে অনাস্থার কারণে অনেকের কাছে গণভোট নতুন অভিজ্ঞতা। ফলে জনগণকে বোঝাতে হবে কীভাবে ব্যালটে ভোট দিতে হবে এবং ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের অর্থ কী। তারা জানান, গণভোটের ব্যালটে ‘টিক চিহ্ন’কে প্রচারণার মূল প্রতীক হিসেবে ধরে জনগণকে ভোটকেন্দ্রে আনতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
আলী রীয়াজ আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে।
অতীতে এক ব্যক্তির ইচ্ছায় সংবিধান সংশোধন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পঞ্চদশ সংশোধনী করার জন্য জাতীয় সংসদের একটা কমিটি করা হয়েছিল। তাতে আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দলের সদস্যরা ছিল না। সেই কমিটি ২৫ থেকে ২৬টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। তবে কিছু শর্ত আরোপ করা হবে। যেমন ৯০ দিনের বেশি এটা থাকতে পারবে না। বিদেশের সঙ্গে কোনো চুক্তি করতে পারবে না। একটা বৈঠকে সেটা পরিবর্তিত হয়েছে। সেই বৈঠকটা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে বাংলাদেশে পঞ্চদশ সংশোধনী তৈরি হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল হয়েছে এক ব্যক্তির ইচ্ছায়। সংবিধান সংশোধনী ছেলে খেলায় পরিণত যাতে আর না থাকে সেটা বন্ধ করা দরকার।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত ৪৮টি সুপারিশ গণভোটে আসছে চারটি ক্যাটাগরিতে। চার ক্যাটাগরিতে ৪৮টি সুপারিশ থাকলেও কার্যত প্রশ্নটি একটাই। সেটি হলো—আপনি কি জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে, না বিপক্ষে?
তিনি বলেন, গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক একটি রাষ্ট্র তৈরি করা। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত গত ৫৪ বছরে সেই রাষ্ট্র আমরা পাইনি। বরং এই দীর্ঘ সময়ে ব্যক্তি ও গোষ্ঠীবিশেষ আমাদের স্বাধীনতাকে অ্যাবিউজ করেছে নিজেদের হীন স্বার্থে। এবার জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের সুযোগ করে দিয়েছে মুক্তিযুদ্ধের সেই লক্ষ্য অর্জনের। এখন গণভোটের মাধ্যমে এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।
এমকে
জাতীয়
বাস ভাড়া ১৫ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব যাত্রী কল্যাণ সমিতির
জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধিকে পুঁজি করে বাস মালিক সমিতির সরকার সমর্থিত প্রভাবশালী নেতারা অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সরকারের সাথে মিলে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা করছে, রাতের আধারে ভাড়া বৃদ্ধির গোপন বৈঠক এমন চক্রান্তের ইঙ্গিত দেয় বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
রোববার রাতে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজন ও গণমাধ্যম এড়িয়ে বিআরটিএ সদর দপ্তরে গোপনে ভাড়া বৃদ্ধির খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষ থেকে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এমন অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, নিকট অতীতে ৩ দফা জ্বালানি তেলের মূল্য ৩ টাকা হারে কমানোর প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া ৩ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে, ২ টাকা কমানোর প্রেক্ষিতে ২ পয়সা হারে ভাড়া কমানো হয়েছে। এবার প্রতিলিটার ডিজেলের মূল্য ১৫ টাকা বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাস ভাড়া প্রতিকিলোমিটারে ১৫ পয়সা হারে বৃদ্ধির জন্য দেশের যাত্রীসাধারণের পক্ষ থেকে প্রস্তাব তুলে ধরেন। আমলাতন্ত্রকে ম্যানেজ করে এর অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হলে সরকারের জনপ্রিয়তায় কমবে, জনরোষ তৈরি হবে। তাই বাস মালিক সমিতিকে একচেটিয়া সুবিধা প্রদানের এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
গণমাধ্যম
সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সংসদে বাগেরহাট-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের টেবিলে উত্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মাধ্যমে এআই প্রশিক্ষণ, ন্যারেটিভ তৈরি, তথ্যের বিষয়ে নীতি সহায়তা ও মাল্টিমিডিয়া সাংবাদিকতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রতি মাসে ঢাকার বাইরে ৪টি এবং ঢাকায় ২টি কর্মশালা বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতি মাসে ঢাকায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ন্যূনতম একটি করে এই কর্মশালার আয়োজন করা হবে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের অভ্যন্তরে কর্মরত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে সুসম্পর্ক ও যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। ফ্যাক্ট চেকিং ও ভুয়া খবর নিয়ে বিভিন্ন ফ্যাক্ট চেকিং সংস্থা, মূলধারার সংবাদমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা সভা ও সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ভুয়া সংবাদ ও অপপ্রচাররোধে বর্তমান সরকারের সময়ে তথ্য অধিদফতর হতে ২২টি ফটোকার্ড ও গুজব প্রতিরোধ বিষয়ক ১০টি তথ্যবিবরণী বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও নিউজ পোর্টালে প্রকাশের জন্য পাঠানো হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেস কাউন্সিল আইন অনুযায়ী কোনো সংবাদপত্র, সংবাদ সংস্থার সাংবাদিক বা সম্পাদক কর্তৃক সাংবাদিকতার নীতি-নৈতিকতা ও জনরুচি পরিপন্থী সংবাদ প্রচারের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে। সে অনুযায়ী প্রেস কাউন্সিলে দায়েরকৃত ৮টি অভিযোগ বিচারাধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অপসাংবাদিকতা পরিহার করে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল সম্প্রতি ঢাকাসহ দেশের ৩২টি জেলায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে গণমাধ্যমের অপসাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে। এছাড়া অবাধ তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন, প্রকৃত সাংবাদিকদের মর্যাদা নিশ্চিতকরণ ও ভুয়া সাংবাদিকতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃক সাংবাদিকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণসহ অনলাইন ডাটাবেজ তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
খুলনা-৫ আসনের সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ আলির অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করা ও সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সাংবাদিকতা করার লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে প্রণীত প্রেস কাউন্সিল অ্যাক্ট যুগোপযোগী করে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর গণমাধ্যমবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার জন্য আইনটি সংশোধন করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে পেশাগত কাজ করতে অক্ষম বা অসমর্থ, শারীরিক বা মানসিকভাবে অসুস্থ ও চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে অসমর্থ সাংবাদিকদের এবং সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১১০ জন অসুস্থ, অসচ্ছল ও দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক এবং নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের মাঝে আর্থিক অনুদান দিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাস্টের অন্যান্য সহায়তামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। ৪০২ জন সাংবাদিক পরিবারের মেধাবী সন্তানদের ৭৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা বৃত্তি দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের রমজান মাসে ২ হাজার জন সাংবাদিক পরিবারের মধ্যে ১ কোটি ১২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ইফতার ও ঈদ উপহার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয়
পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তাকে বদলি
বাংলাদেশ পুলিশের পাঁচজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ মোট ছয় কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে জনস্বার্থে তাদের এই নতুন পদায়ন করা হয়।
বদলির আদেশ পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন– মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. বিল্লাল হোসেনকে একই জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশারকে মুন্সিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে।
এছাড়া মাগুরা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষকে নারায়ণগঞ্জ ‘খ’ সার্কেলে এবং নৌ পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. ইমতিয়াজ আহম্মেদকে ফেনীর ছাগলনাইয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
পৃথক আরেক আদেশে, নারায়ণগঞ্জ ‘খ’ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত এবং বর্তমানে টাঙ্গাইলের গোপালপুর সদর সার্কলে বদলির আদেশ পাওয়া মো. ইমরান আহম্মেদকে মুন্সিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার টাঙ্গাইলের গোপালপুর সার্কলে বদলির আগের আদেশটি বাতিল করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে জারি হওয়া এই বদলির আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে।
জাতীয়
এলপিজির দাম বাড়লো, ১২ কেজি সিলিন্ডার ১৯৪০ টাকা
ভোক্তাপর্যায়ে এলপি গ্যাসের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন, যা আজ সন্ধ্য থেকে কার্যকর হবে।
এর আগে সবশেষ গত ২ এপ্রিল চলতি মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওইদিন ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ৭২৮। অর্থাৎ এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে এক লাফে ২১২ টাকা দাম বাড়ল।
এমএন
জাতীয়
অ্যামোনিয়া সংকটে বন্ধ ডিএপি সার কারখানার উৎপাদন
অ্যামোনিয়ার তীব্র সংকটে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মজুত থাকা শেষ অ্যামোনিয়াও শেষ হয়ে গেলে কারখানা কর্তৃপক্ষ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের সূত্রে জানা যায়, গত ৪ মার্চ থেকে গ্যাস সংকটের কারণে পাশের দুটি কারখানা-চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে অ্যামোনিয়া ও ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ওই দুই কারখানা থেকেই ডিএপি কারখানায় নিয়মিত অ্যামোনিয়া সরবরাহ করা হতো।
সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মজুত অ্যামোনিয়া দিয়ে কিছুদিন উৎপাদন চালু রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার বিকেলে তা শেষ হয়ে যায়। এরপরই উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে।
আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়া এলাকায় অবস্থিত কারখানাটির দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ টন, দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) মিলিয়ে।
কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক বলেন, ৪ মার্চ থেকেই অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুত দিয়ে উৎপাদন চালানো হয়েছিল, কিন্তু এখন আর সম্ভব হচ্ছে না।
এমএন



