জাতীয়
পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
পুলিশ কোনো রাজনৈতিক দলের রক্ষক নয়, তারা জনগণের করের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রের কর্মচারী। পুলিশ বাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো জনগণের সেবা করা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করা বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।
রবিবার সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে সহকারী পুলিশ সুপারদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনকালীন দায়িত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষা অনেকটাই মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের ওপর নির্ভর করে। জনগণের আস্থা অর্জন ছাড়া কেবল শক্তি প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রায় এক লাখ পুলিশ সদস্যকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের সময় শতভাগ নিরপেক্ষ থাকতে হবে এবং কোনো অনৈতিক সুবিধা বা আপ্যায়ন গ্রহণ করা যাবে না। ভোটকেন্দ্রে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে রিটার্নিং অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী তা কঠোরভাবে দমন করতে হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো সাধারণ বাহিনী নয়; এটি রাষ্ট্র ও জনগণের সেবক হিসেবে কাজ করবে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে হলে পুলিশের ভিত্তি হতে হবে জ্ঞান, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জনবান্ধব সেবা।
তিনি দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্নীতি প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে ধ্বংস করে এবং জনগণের বিশ্বাস নষ্ট করে। কোনো পুলিশ সদস্য যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক সুবিধার জন্য দায়িত্বচ্যুত হয়, তবে সে রাষ্ট্রের ভিত্তিকেই দুর্বল করে দেয়। অন্যায় আদেশ বা পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, পেশাগত জীবনে নানা চাপ ও সমালোচনা আসতে পারে, তবে সততা ও দেশপ্রেম থাকলে কোনো কিছুই দায়িত্ব পালনে বাধা হতে পারে না। আপনারা শুধু আজকের পুলিশ নন, আপনারাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের পুলিশ। জনগণের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশাকে ধারণ করে দুর্নীতি ও পক্ষপাতিত্বমুক্ত একটি মানবিক, সাহসী ও গৌরবময় পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে হবে।
সমাপনী কুচকাওয়াজের উপস্থিত ছিলেন আইজিপি বাহারুল আলম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল অ্যাডিশনাল আইজিপি মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরী বিপিএম।
২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও ২৮তম বিসিএস এর ০১ জন, ৩৫তম বিসিএস এর ০৩ জন, ৩৬তম বিসিএস এর ০১ জন, ৩৭তম বিসিএস এর ০২ জন এবং ৪০তম বিসিএস এর ০২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
আজকের এই প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ধীমান কুমার মন্ডল। দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বের অংশ হিসেবে বেস্ট প্রবেশনার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন। বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী আরিফ, বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মো. সজীব হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ এবং বেস্ট শ্যুটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার সালমান ফারুক।
সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে উক্ত সহকারী পুলিশ সুপারগণ বিভিন্ন জেলায় ০৬ (ছয়) মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য পদায়িত হবেন।
এমকে
জাতীয়
৮ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন: কার দায়িত্বে কোন মন্ত্রণালয়?
বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় ৮ জন প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে
এরমধ্যে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মো. শরীফুল আলমকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সুলতান সালাউদ্দিন টুকুকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা হাবিবুর রশিদকে রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা মো. রাজিব আহসানকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিকে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ফারজানা শারমীনকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মো. নুরুল হককে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা ববি হাজ্জাজকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
এমএন
জাতীয়
আনসার ও ভিডিপিকে জনসেবায় অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (ভিডিপি) জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এ সৌজন্য সাক্ষাতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির সদস্যদের দেশপ্রেম এবং পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই বাহিনীর নিরলস প্রচেষ্টা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জননিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা অপরিসীম।
এসময় দেশের শান্তি, নিরাপত্তা এবং জনগণের স্বার্থে জনসেবামূলক কাজ অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী অবহিত হন এবং এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে প্রধানমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করেন।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।
এমএন
জাতীয়
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি পুরোপুরি নেতিবাচক নয়: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পাদিত বাণিজ্য চুক্তিকে পুরোপুরি নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এই চুক্তির অনেকগুলো ধারা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানান তিনি।
বুধবার (৪ মার্চ) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চুক্তির অনেকগুলো ধারা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বাণিজ্য চুক্তিতে খারাপ কিছু দেখলে তা সরকারকে দেখিয়ে দিতে হবে। চুক্তির কোনো ধারা খারাপ মনে হলে তা নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ রয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করবে মার্কিন সরকার।
মার্কিন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নন-ট্যারিফ বাধাগুলো দূর করতে পল কাপুর নতুন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, তবে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে তার সঙ্গে আজ কথা হয়নি।
এমএন
জাতীয়
সদ্য সাবেক উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানালেন এলজিআরডি মন্ত্রী
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টাদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (০৪ মার্চ) ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি এ ধন্যবাদ জানান।
ফেসবুক পোস্টে এলজিআরডি মন্ত্রী লেখেন, বিএনপি সরকার গঠন করেছে দুই সপ্তাহ হলো। আমি সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছি। একই সঙ্গে একনেকের বিকল্প সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমার উপর আস্থা রাখার জন্য । সরকারের কাজ এবং ঠাকুরগাঁও সফরের কারণে গত কয়েক দিন খুব ব্যস্ত সময় কেটেছে।
তিনি আরও লেখেন, আজ আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই আমার ঠাকুরগাঁওবাসী, দেশের আপামর ছাত্র-জনতা, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের যারা অনলাইন ও অফলাইনে আমাদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেছেন। ধন্যবাদ জানাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সাংবাদিক ভাই-বোনদের, নির্বাচন কমিশনকে, সরকারের সব স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের, একটি চমৎকার নির্বাচন সম্পন্ন করা, সুষ্ঠুভাবে সরকার গঠন এবং গত দুই সপ্তাহ দেশ পরিচালনায় সহযোগিতা করার জন্য।
মির্জা ফখরুল লেখেন, আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ইউনূস এবং তার উপদেষ্টাদের, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী প্রধানদের, যারা নীতিতে অটল থেকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন এবং একটি গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর নিশ্চিত করেছেন।
সবশেষ তিনি লেখেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং। ১৭ বছরের বিশৃঙ্খল শাসনের পর একদিনে সবকিছু পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে ইনশাআল্লাহ, আমরা নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার করেছি, তা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, আল্লাহর রহমত এবং আপনাদের অব্যাহত সমর্থন নিয়ে। বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
জাতীয়
কাতার-দুবাইসহ বিমানের ছয় রুটের সব ফ্লাইট ৫ মার্চ পর্যন্ত বাতিল
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সেখানকার আকাশপথে তৈরি হওয়া নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৫ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সব ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে রাষ্ট্রীয় এই সংস্থাটি।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বাতিল হওয়া রুটগুলোর মধ্যে রয়েছে– সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবুধাবি ও শারজা; সৌদি আরবের দাম্মাম; কাতারের দোহা এবং কুয়েত। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংস্থাটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে যাত্রীদের বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর পরবর্তী শিডিউল বা সময়সূচি জানিয়ে দেওয়া হবে।
জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা ও আকাশপথে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। আকাশপথ বন্ধ থাকার কারণে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সূচি তছনছ হয়ে গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই যুদ্ধপরিস্থিতির প্রভাবে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ৩৮টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ২৩টি, ১ মার্চ ৪০টি এবং ২ মার্চ ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে মোট ১৪৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা ঘটল, যার বড় অংশই ছিল মধ্যপ্রাচ্যগামী।
বিমানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আকাশপথের উত্তেজনা নিরসন ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না। যাত্রীদের নিয়মিত বিমানের কল সেন্টার বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।




