রাজনীতি
নাহিদের রাজনৈতিক কার্যালয়ে গুলির ঘটনা ‘সত্য নয়’
রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক কার্যালয়ে কোনো ধরনের গুলির ঘটনা ঘটেনি। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তার নির্বাচনি কার্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ভবনে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা থানায় নতুন অফিসার ইনচার্জ (ওসি)। তিনি জানিয়েছেন, গতকাল মঙ্গলবার রাতে চাঁদা না পেয়ে দুই রাউন্ড গুলির ঘটনা ঘটছে।
এবিষয়ে নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, নির্বাচনি অফিসে গুলির ঘটনা রাজনৈতিক নয়। এরসঙ্গে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই।
এবিষয়ে এনসিপির নির্বাচনি মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান মাহাবুব আলম বলেন, বাড্ডায় ৩৮ নং ওয়ার্ড এনসিপির সাংগঠনিক অফিসের পাশে গতকাল গুলির ঘটনা ঘটেছে। এটি নির্বাচনি অফিস বা নাহিদ ইসলাম এর অফিস নয়। ঘটনার সাথে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই বলে আমাদের মনে হচ্ছে।
রাজনীতি
সুখবর পেলেন বিএনপির ১৩ নেতা
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দীর্ঘ সময় দলের বাইরে থাকার পর অবশেষে বড় সুখবর পেলেন বিএনপির ১৩ জন নেতা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তাদের ওপর আরোপিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের কথা জানানো হয়েছে। নেতাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দলের হাইকমান্ড তাদের পুনরায় দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জুলফিকার আলী ভুট্টো এবং সিলেট জেলা মহিলা দলের সাবেক সহসভাপতি খোদেজা রহিম কলি আবারও আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেলেন। এছাড়া রংপুরের পীরগাছা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ মো. ফরহাদ হোসেন অনুও তার হারানো পদ ফিরে পেয়েছেন। মূলত সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করতেই তৃণমূলের এসব নেতাদের পুনরায় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বগুড়া জেলা বিএনপির বড় একটি অংশ এই সুখবরের তালিকায় রয়েছেন। যার মধ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলা ও পৌর বিএনপির সাবেক দুই সভাপতি মো. এ কে আজাদ এবং মো. কামরুল হাসান জুয়েলের নাম রয়েছে। কাহালু ও গাবতলী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটের একাধিক নেতাও তাদের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের চিঠি পেয়েছেন। আবেদনের পর দলের প্রতি তাদের আনুগত্য যাচাই করেই এই ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হওয়া এই নেতারা এখন থেকে দলের নীতি ও আদর্শ মেনে সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করতে পারবেন। এই ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলাগুলোতে তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে।
রাজনীতি
তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করলেন সানজিদা তুলি
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। ‘মায়ের ডাক’ নামক ভুক্তভোগী পরিবারের সংগঠনের সমন্বয়ক তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া উইং থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বৈঠকে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ঢাকা-১৪ আসন নিয়ে পলিসিভিত্তিক আলোচনা হয়।
বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এ সময় সানজিদা ইসলাম তুলিকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তারেক রহমান।
এমকে
রাজনীতি
জামায়াতসহ ১১ দলীয় সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা বিকালে
জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসছে আজ। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তবে গতকাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত এ বিষয়ে সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আজ বুধবার সকালে সংবাদ সম্মেলন বিষয়ে গণমাধ্যমকে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
এর আগে মঙ্গলবার দিনভর ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ শরিক বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে বেশির ভাগ দলের আসন চূড়ান্ত করা হলেও ইসলামী আন্দোলনের আসন প্রাপ্তি নিয়ে এখনো কিছু অসন্তোষ রয়ে গেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ক্ষেত্রেও কয়েকটি বিষয়ে সমাধান বাকি রয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, এসব বাকি বিষয় চূড়ান্ত করতে আজ দুপুরের আগেই আরেক দফা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে সমঝোতা সম্পন্ন হলে বিকেলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
এমকে
রাজনীতি
প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে: মির্জা ফখরুল
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান মুছাব্বির এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার বিচার নিয়ে ফেসবুকে আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ পোস্ট দেন তিনি।
পোস্টে তিনি লেখেন, আজ ঢাকা এয়ারপোর্টে নামলাম। সঙ্গে আমার স্ত্রী! একটি তরুণ তার স্ত্রীকে নিয়ে এগিয়ে এলো আমার দিকে।
‘স্যার, আপনারা ক্ষমতায় এলে, জাস্টিস ফর হাদি!’
বিএনপি মহাসচিব আরও লেখেন, একটি ছেলে, একদম তরুণ, যে ছিল গণতন্ত্রের পক্ষে, নির্বাচন নিয়ে কী উচ্ছ্বাস, প্রচারণা চালাচ্ছিল, তাকে এভাবে হত্যা করা হলো! এর বিচার হতেই হবে, মুবাসসির, সাম্য- প্রতিটি হত্যার বিচার হতে হবে এ মাটিতে। ইনশাআল্লাহ।
এমকে
রাজনীতি
শুধু ফ্যামিলি কার্ড না, ফারমার্স কার্ডও দেবো: নজরুল ইসলাম
শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয় বিএনপি কৃষকদের ফারমার্স কার্ডও দেবে এবং এটা তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা পরিচালনার দায়িত্ব পাই, তাহলে আমরা দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশকিছু কর্মসূচি নেবো এবং এটা বিএনপির ইতিহাসই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন যেগুলো এখনো কার্যকর। তিনি অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন, অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। আমরা তো ফ্যামিলি কার্ড দেবো, আমরা বলেছি এবং পরিবারের যিনি নারীদের মধ্যে প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড, কোনো ছেলের নামে হবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পোস্টাল ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীক ভাঁজের মধ্যে পড়ে যায়, যা কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে। তাই এখনো যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়নি সেগুলোতে বিএনপি সংশোধন চেয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিএনপি নেতা বলেন, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের অনেক ভাই বোনেরা ভোটার হয়েছেন এবং তারা নির্বাচনে তাদের ভোট প্রয়োগ করবেন। তাদের কাছে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সেই ব্যালট পেপারে কেউ মনে করতে পারেন ঘটনাক্রমে, কিন্তু আমরা বলি যেটা খুব উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাঁজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এটা নিয়ে কথা বলেছি তাদের সঙ্গে। তাদের কথায় মনে হয়েছে, যে তারা বিষয়টি ঠিক ওভাবে খেয়াল করেননি।
তিনি বলেন, আমরা তাদের বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন, পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন, যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল, বিশেষ রাজনৈতিক দল, তাদের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয়ে ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো, ১৪টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো, তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। কাজেই ব্যাপারটা ইচ্ছাকৃতভাবেই করা হয়েছে। কমিশনের নজরে না পড়লেও যারা আসলে ভেতরে কাজটা করেছে, সম্ভবত তারা এটা কোনো উদ্দেশ্য নিয়েই করেছে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা তাদের অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালটগুলো পাঠানো হয়েছে, সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদের পরিষ্কার বলেছি যে এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি তাদের যে এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এতে কিছু ত্রুটি হচ্ছে। যার জন্য আমরা দেখছি যে, বাহরাইনে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেকগুলো ব্যালট পেপার তারা হ্যান্ডেল করছেন।
তিনি বলেন, আমাদের বক্তব্য শুনে কমিশন জানিয়েছে তারা বাহরাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং বাহরাইনের গভর্নমেন্টের কাছ থেকে যেটা এসছে, সেটা হলো যে এটা স্বীকার করা হয়েছে যে, হ্যাঁ এরকম একটা ঘটনা তারা জেনেছেন। কিন্তু এই ব্যাপারে আরও তদন্ত করে তারা রিপোর্ট দেবেন এবং সেই অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা বলেছি তাদের বিরুদ্ধে যেন আইন অনুযায়ী কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, এরই মধ্যে দুজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। কাজেই এটা তো কনসার্ন। আমাদেরও বেশকিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের। তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি যে সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোনো কারণে সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত হবে না। তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।



