আইন-আদালত
শেখ হাসিনা, টিউলিপ ও আজমিনার মামলার রায় ২ ফেব্রুয়ারি
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে অনিয়মের মাধ্যমে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) ১০ কাঠার প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিকসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য আগামী ২ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ-৪ আদালতের বিচারক রবিউল আলমের আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ রায়ের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজুর রহমান।
গত ৫ জানুয়ারি একই আদালত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন। ওইদিন আদালতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া সাক্ষ্য দেন। পরে আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলমের পক্ষে তার আইনজীবী শাহিন উর রহমান তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জেরা করেন। জেরা শেষে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
এ মামলায় তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ৩১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পরে ৮ জানুয়ারি আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা সরকারি প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া আজমিনা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৬ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১০ মার্চ আরও দুজনকে যুক্ত করে মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন- জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সহকারী আনিছুর রহমান মিঞা, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (ইঞ্জি.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (অব.), রাজউকের সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, পরিচালক কামরুল ইসলাম এবং উপ-পরিচালক নায়েব আলী শরীফ।
পরবর্তীতে মামলায় যুক্ত হওয়া দুই আসামি হলেন— সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ।
এমকে
আইন-আদালত
আবুজর হত্যা মামলা: শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর গুলশানে পর্যটনকর্মী আবুজর শেখ (২৪) নিহতের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই ইসরাইল হোসেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) গুলশান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে চার্জশিটটি আমলে নেয়ার বিষয়ে আদালতে এখনও শুনানি হয়নি।
চার্জশিটভুক্ত উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম এবং আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।
চার্জশিটে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বে-আইনিভাবে জনতাবদ্ধ হয়ে সাধারণ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে বল ও উগ্রতা প্রয়োগ করেছেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে প্ররোচনা প্রদানের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করায় তাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোডের ১৪৩/৩২৬/৩০২/১১৪/১০/৩৪ ধারার অপরাধ প্রাথমিকভাবে সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গুলশানের প্রগতি সরণির বারিধারা জেনারেল হাসপাতালের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল চলাকালে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের স্থানীয় নেতাকর্মীরা নির্বিচারে গুলি চালায়। এতে আবুজর শেখ গুরুতর গুলিবিদ্ধ হন। প্রথমে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেট্রোপলিটন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় গত বছরের ১৬ নভেম্বর নিহতের মা ছবি খাতুন বাদী হয়ে গুলশান থানায় শেখ হাসিনাসহ ২৭ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২৭ জনের মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বর্তমানে বিচারপতি মানিকসহ তিন আসামি কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরসহ পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।
সূত্র: বাসস
আইন-আদালত
সাবেক ভূমিমন্ত্রী জাবেদের যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ
আওয়ামী লীগ সরকারের ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নামে যুক্তরাজ্যে থাকা ৫১৮ ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতের নথিতে এসব সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার সহযোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘অর্থ পাচারের’ অভিযোগ তদন্তে দুদক, সিআইডি ও এনবিআর থেকে ৯ সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মামলার ২৩ বস্তা আলামত উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা আলামত পরে ঢাকায় এনে পর্যালোচনা, পরীক্ষা ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
উদ্ধার করা রেকর্ডগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি, দলিল, পেমেন্ট অর্ডার, বুকিং মানি রসিদ, বিভিন্ন চেক, ভাউচার এবং সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে বিদেশে সম্পত্তি কেনার নথিপত্রের মূল কপি পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা তথ্য ও নথিপত্রের বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী এবং তার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন দেশে অধিগ্রহণকৃত সম্পত্তির একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এর মধ্যে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।
এসব স্থাবর সম্পদ যাতে তিনি হস্তান্তর ও স্থানান্তর করতে না পারেন, সেজন্য স্থাবর সম্পদ জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন উল্লেখ করে আবেদন করে দুদক।
প্রসঙ্গত, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ২০১৪ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।
এমএন
আইন-আদালত
মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ
বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি জুলাইকে অসম্মান করে সাংবিধানিক দায়িত্ব ও শপথের পরিপন্থি বক্তব্য দেওয়ায় তাকে এ নোটিশ পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার এ আইনি নোটিশটি পাঠান। নোটিশটি সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবের কাছে প্রেরণ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে বলা হয়, জুলাইকে অসম্মান করে সাম্প্রতিক বক্তব্য দেয়ায় শপথ ভেঙেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর তাই তাকে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়ে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে উদ্বোধন করাতে সংসদ সচিবালয় ও আইন সচিবকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার শাহরিয়ার।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এমএন
আইন-আদালত
মানবতাবিরোধী মামলায় খালাস পেলেন বাগেরহাটের খান আকরাম
১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাগেরহাটের খান আকরামকে খালাস দিলেন আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় দেন।
এর আগে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় খান আকরামকে যে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়।
এ মামলায় ট্রাইব্যুনাল সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন তারা হলেন- খান আকরাম হোসেন (৬০), শেখ মোহম্মদ উকিল উদ্দিন (৬২), মো. মকবুল মোল্লা (৭৯) কারাবন্দি। পলাতক রয়েছেন- খান আশরাফ আলী (৬৫), রুস্তম আলী মোল্লা (৭০), শেখ ইদ্রিস আলী (৬১) ও শেখ রফিকুল ইসলাম বাবুল (৬৪)।
২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর তাদের সাজা দিয়েছিলেন ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে মোট সাতটি অভিযোগ আনা হয়। ২০১৭ সালের ৩১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগগুলো হলো-১৯৭১ সালের ২৬ মে ১৫-২০ জন রাজাকার এবং ২৫-৩০ জন পাকিস্তানি দখলদার সেনাবাহিনীর সদস্য বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার চাপড়ী ও তেলিগাতীতে নিরীহ নিরস্ত্র মুক্তিকামী মানুষদের ওপর হামলা চালায়। তারা ৪০-৫০টি বাড়ির মালামাল লুণ্ঠন করে, বাড়িঘর অগ্নিসংযোগে ধ্বংস করে। দুইজন নিরীহ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করে এবং ১০ জন নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের মানুষকে গুলি করে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের ৭ জুলাই আসামিরা বাগেরহাটের কচুয়া থানার হাজরাখালী ও বৈখালী রামনগরে হামলা চালিয়ে অবৈধভাবে নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের চারজন মানুষকে আটক ও অপহরণ করে আবাদের খালের ব্রিজে হত্যা করে লাশ খালে ফেলে দেয়।
১৯৭১ সালের ১৩ নভেম্বর বাগেরহাটের মোড়লগঞ্জ থানার ঢুলিগাতী গ্রামে হামলা চালিয়ে দুইজন নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধাকে অবৈধ আটক, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের ১৭ নভেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া থানার বিলকুল ও বিছট গ্রামে হামলা চালিয়ে চারজন নিরীহ নিরস্ত্র স্বাধীনতার পক্ষের লোককে আটক ও অপহরণ করে কাঁঠালতলা ব্রিজে এনে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয়।
১৯৭১ সালের ৩০ নভেম্বর বাগেরহাটের কচুয়া থানার বিলকুল গ্রাম থেকে নিরস্ত্র মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর আলী নকীবকে আটক ও অপহরণ করে মোড়লগঞ্জ থানার দৈবজ্ঞহাটির গরুর হাঁটির ব্রিজের ওপরে নিয়ে নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যা করে।
১৯৭১ সালের ১৬ অক্টোবর বাগেরহাটের কচুয়া থানার উদানখালী গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ নিরস্ত্র উকিল উদ্দিন মাঝিকে অবৈধভাবে আটক করে হত্যা করে এবং তার মেয়ে তাসলিমাকে অবৈধভাবে আটক ও অপহরণ করে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে নিয়ে যায়। কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও আশপাশের রাজাকার ক্যাম্পে দীর্ঘদিন অবৈধভাবে সলিমাসহ চার জনকে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ দখলদারমুক্ত হলে মুক্তিযোদ্ধারা রাজাকার ক্যাম্প তল্লাশি করে ভুক্তভোগী তাসলিমাকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে পৌঁছে দেন।
বাগেরহাটের কচুয়া থানার গজালিয়া বাজারে হামলা চালিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ নিরস্ত্র শ্রীধাম কর্মকার এবং তার স্ত্রী কমলা রানী কর্মকারকে অবৈধভাবে আটক করে নির্যাতন করতে থাকে। আসামিরা শ্রীধাম কর্মকারকে হত্যা করে কমলা রানী কর্মকারকে জোরপূর্বক অপহরণ করে কচুয়া রাজাকার ক্যাম্পে এনে আটকে রাখে। উল্লেখিত আসামিসহ কচুয়া রাজাকার ক্যাম্প ও এর আশেপাশের রাজাকার ক্যাম্পে কমলা রানী কর্মকারসহ আটক অন্য চারজনকে দীর্ঘদিন রাজাকার ক্যাম্পে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। প্রায় এক মাস শারীরিক নির্যাতনের পর কমলা রানী কর্মকার অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।
এমএন
আইন-আদালত
রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতি, উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের
দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল প্রকল্প পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের নেতৃত্বে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে আগামী দুই মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। রিটকারী আইনজীবী মাসুদ আহমেদ সাঈদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে জনবল নিয়োগে অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির নজিরবিহীন অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিয়োগ জালিয়াতি সংক্রান্ত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করে এ রিট করা হয়।
‘মোটা অঙ্কের ঘুষে বড় পদ, জাল সনদে স্থায়ী চাকরি’ শিরোনামে প্রতিবেদনে বলা হয়, পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মাণাধীন রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ও স্পর্শকাতর প্রকল্প। গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও মেধাবী জনবল নিয়োগ হওয়ার কথা থাকলেও ঘটেছে উল্টোটা। ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগ ও ভারতের আশীর্বাদপুষ্ট এবং মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে বসানো হয়েছে দেশবিরোধী, অসৎ ও অদক্ষদের।
এমনকি জাল সনদে স্থায়ী করা হয়েছে চাকরি। প্রকল্পের দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার জন্য গঠিত নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডে (এনপিসিবিএল) জনবল নিয়োগে এমন বেপরোয়া অনিয়ম, দুর্নীতি, প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির নজিরবিহীন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত একাধিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক হাজার ৮০০ জনের বেশি জনবল নেয় এনপিসিবিএল কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে প্রায় এক হাজার ৪০০ জনকে রাশিয়ার রোসাটম টেকনিক্যাল একাডেমিতে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে ২০১৯ ও ২০২৩ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়া ঘিরে জাল সনদ, ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ, ঘুষ এবং স্বজনপ্রীতির বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে’ মর্মেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এমএন




