আন্তর্জাতিক
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা ট্রাম্পের
সামাজিক মাধ্যমে দেয়া এক এক পোস্টে নিজেকে লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেয়ার কয়েকদিনের মাথায় দেয়া এই ঘোষণাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। যদিও ডেলসি রদ্রিগেজ সম্প্রতি দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ‘ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট (অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট)’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। নিজের সামাজিক মাধ্যমে দেয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছেন— ‘Acting President of Venezuela, Incumbent January 2026’ (ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে দায়িত্বে)। পোস্টটির সঙ্গে ছিল উইকিপিডিয়ার আদলে তৈরি একটি সম্পাদিত ছবি, যেখানে ট্রাম্পের সরকারি প্রতিকৃতি দেখানো হয় এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম ও ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
তবে প্রকৃত উইকিপিডিয়া পাতায় ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখানো হয়নি। কোনও আন্তর্জাতিক সংস্থাও তার এই দাবির স্বীকৃতি দেয়নি।
ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পোস্টটি এমন এক সময়ে দিলেন যখন কয়েকদিন আগেই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। মূলত ট্রাম্পের নির্দেশে সামরিক অভিযান চালিয়ে মাদুরোকে তার স্ত্রীসহ নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগে সেখানে তাদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক তৎপরতার পর এই অভিযান চালানো হয়। মাদুরো দাবি করেছেন, তাকে ‘অপহরণ’ করা হয়েছে। চীন, রাশিয়া, কলম্বিয়া এমনকি স্পেনও যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছে।
নজিরবিহীন সেই অভিযানের কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এবং ‘নিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা হস্তান্তর’ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলা পরিচালনা করবে। তিনি আরও বলেন, এই অন্তর্বর্তী সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির দায়িত্বও যুক্তরাষ্ট্র তদারকি করবে।
এদিকে ভেনেজুয়েলার ভেতরে মাদুরোর ডেপুটি ডেলসি রদ্রিগেজ দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি মাদুরোর মুক্তি দাবি করেছেন এবং তাকেই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প তাকে সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা না করলে রদ্রিগেজকেও ‘ভয়াবহ মূল্য দিতে হতে পারে’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পরিণতি মাদুরোর চেয়েও কঠোর হতে পারে। নিউইয়র্কে আটক মাদুরোর বিরুদ্ধে ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’ ও মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়া মাদুরোকে আটকের পর ভেনেজুয়েলায় কিছু রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার ঘোষণার কৃতিত্বও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ’ হিসেবে এই মুক্তি দেয়া হয়েছে। ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের পর ‘বড় আকারে’ বন্দিমুক্তি হয়েছে। একইসঙ্গে মুক্তিপ্রাপ্তদের ‘এটা কখনও ভুলে না যেতে’ সতর্ক করে দেন তিনি।
এছাড়া ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের বড় তেল কোম্পানিগুলোকে ভেনেজুয়েলায় সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের আহ্বান জানান, যাতে দ্রুত দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ানো যায়। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, কোন কোম্পানি ভেনেজুয়েলায় কাজ করবে তা যুক্তরাষ্ট্রই ঠিক করবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত তেল খাত পুনর্গঠনে সহায়তা দেবে।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতৃত্বের সঙ্গে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে সরবরাহের একটি চুক্তিরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই সরবরাহ অনির্দিষ্টকাল চলতে পারে এবং বাড়তি তেল সরবরাহ যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমাতে সহায়ক হবে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রি থেকে অর্জিত অর্থ সুরক্ষায় একটি নির্বাহী আদেশেও সম্প্রতি স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প।
আন্তর্জাতিক
মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের জীবনে নরক সৃষ্টি করেছে: গাম্বিয়া
আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। গত সোমবার এই বিচার শুরু হয়। মামলার বাদী গাম্বিয়া বলেছে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে নির্মূলের লক্ষ্যে টার্গেট করা হয়েছে। তাদের জীবনকে মিয়ানমার এক বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে।
গত এক দশকেরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ গণহত্যা মামলা শুনানির পর্যায়ে এসেছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে)। মামলার রায় শুধু মিয়ানমারের ক্ষেত্রেই নয়, এর প্রভাব পড়বে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যা মামলার ওপরও। মিয়ানমার শুরু থেকেই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী দাওদা জালো আদালতে বলেন, ‘রোহিঙ্গারা ছিল শান্তি ও মর্যাদায় বাঁচার স্বপ্ন দেখা সাধারণ মানুষ; কিন্তু মিয়ানমার সেই স্বপ্ন কেড়ে নিয়েছে। বরং তাদের জীবনকে এমন এক দুঃস্বপ্নে পরিণত করেছে, যার ভয়াবহতা কল্পনারও বাইরে।’
পশ্চিম আফ্রিকার ছোট মুসলিম দেশ গাম্বিয়া ২০১৯ সালে আইসিজেতে এই মামলা করে। ৫৭ দেশের ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার সমর্থনে রোহিঙ্গাদের পক্ষে এই মামলা করে তারা। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার পশ্চিমাঞ্চলের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী বড় পরিসরে অভিযান চালায়। এতে অন্তত ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। তারা হত্যাযজ্ঞ, সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগের বিবরণ দেন। এর আগে ও পরে আরও তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়।
জাতিসংঘের একটি তদন্ত কমিশন বলেছে, সেনা অভিযানে ‘গণহত্যার লক্ষণ’ ছিল। হেগে আদালত প্রাঙ্গণে রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীরা বলেন, তারা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই মামলায় সুবিচার প্রত্যাশা করেন।
প্রায় ৫২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী ইউসুফ আলী বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী তাকে নির্যাতন করেছে। তিনি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা আশা করছি এমন একটি রায় হবে, যা বিশ্বকে জানাবে যে মিয়ানমার সত্যিই গণহত্যা চালিয়েছে এবং আমরা তার শিকার। আমরা ন্যায়ের দাবিদার।’
মিয়ানমার অবশ্য এসব অভিযোগকে সন্ত্রাসবাদবিরোধী বৈধ সামরিক অভিযান বলে দাবি করে, যা মুসলিম জঙ্গিদের হামলার জবাবে চালানো হয়েছিল বলে জানায় তারা। ২০১৯ সালে মামলার প্রাথমিক শুনানিতে মিয়ানমারের তৎকালীন বেসামরিক নেত্রী অং সান সু চি গাম্বিয়ার অভিযোগকে ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন।
এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে তিন সপ্তাহ ধরে। রোহিঙ্গা ভুক্তভোগীদের সাক্ষ্য নেওয়া হবে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের উপস্থিতি ছাড়া, যাতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা যায়। জাতিসংঘের এই সর্বোচ্চ আদালত রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করে থাকে।
২০২১ সালে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের পর পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে ওঠে। নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীদের কঠোরভাবে দমন করে। এরপর থেকে দেশজুড়ে চলছে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধ। বর্তমানে মিয়ানমারে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন চলছে। তবে জাতিসংঘ, পশ্চিমা কয়েকটি দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু নয় বলে অভিহিত করেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
এবারও কলকাতার বইমেলায় থাকছে না বাংলাদেশ
আগামী ২২ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ৪৯তম কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক মেলার মাঠে এই বইমেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতি বছরের মতো এবারও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এবারের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্টিনা।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে আয়োজকেরা জানান, এবারের বইমেলায় বাংলাদেশের কোনো স্টল থাকছে না। গত বছরও বাংলাদেশ অংশ নেয়নি। ১৯৯৬ সাল থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশ কলকাতা বইমেলায় অংশনিলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে টানা দ্বিতীয় বছরের মতো দেশটি অনুপস্থিত থাকছে।
বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন আর্জেন্টিনার সাহিত্যিক গুস্তাবো কানসোব্রে। এবছর বইমেলায় এক হাজারের বেশি স্টল থাকবে এবং ২০টিরও বেশি দেশ অংশ নেবে। ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল।
মেলার প্রাঙ্গণে মোট নয়টি তোরণ তৈরি করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুটি আর্জেন্টিনার স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত হবে। প্রয়াত সাহিত্যিক প্রফুল্ল রায় ও প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের নামে দুটি তোরণ থাকছে। সাহিত্যিক শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার নামে একটি তোরণ উৎসর্গ করা হবে।
বইমেলায় যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোর বিশেষ বুথ থাকছে, যেখানে ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টিকিট কাটা যাবে। মেলার দিনগুলোতে রাত ১০টা পর্যন্ত মেট্রো পরিষেবা চালু থাকবে এবং ছুটির দিনেও পরিষেবা মিলবে।
এ ছাড়া অ্যাপ ও কিউআর কোডের মাধ্যমে মেলার ডিজিটাল ম্যাপ, স্টল খোঁজার সুবিধা এবং ভার্চুয়ালি বইমেলা দেখার সুযোগ থাকছে বলে জানানো হয়েছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা ট্রাম্পের
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে- এমন দেশগুলোর পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ঘোষণায় তিনি জানান, এই সিদ্ধান্ত ‘তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর’।
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর প্রেক্ষাপটে এ পদক্ষেপ তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে ট্রাম্প কীভাবে ‘ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা’ সংজ্ঞায়িত করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে সাধারণত চীনের নাম উল্লেখ করা হয়। এর পরেই রয়েছে ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও ভারত। নতুন এই শুল্ক আরোপ এসব দেশের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘোষণা আসে এমন এক সময়, যখন ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যার ঘটনা ঘটলে সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট সোমবার বলেন, বিমান হামলাসহ সামরিক বিকল্পগুলোর পরিকল্পনা এখনো ‘টেবিলে রয়েছে’।
ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে লেখেন, “ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করে- এমন যে কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সব ধরনের বাণিজ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে।” তিনি আরও বলেন, “এই আদেশ চূড়ান্ত ও কার্যকর।”
তবে হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত কোন কোন দেশের কোন পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে- সে বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
গত বছরের শেষ দিকে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের দরপতনকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির বৈধতা নিয়েই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।
মার্কিনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, চলমান বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ জন নিরাপত্তা সদস্যের মৃত্যুর তথ্য তারা যাচাই করেছে। তবে বিবিসিকে দেওয়া বিভিন্ন সূত্রের দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। একই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকায় ইরানের ভেতর থেকে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিবিসিসহ অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বর্তমানে দেশটির ভেতর থেকে সরাসরি সংবাদ সংগ্রহ করতে পারছে না।
এর আগে রোববার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানি কর্মকর্তারা তার সঙ্গে ‘আলোচনার জন্য’ যোগাযোগ করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, “বৈঠকের আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হতে পারে।”
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এর সঙ্গে সরকারি অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানে দোকানিরা রাস্তায় নামেন, যখন খোলা বাজারে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের মান বড় ধরনের ধাক্কা খায়। গত এক বছরে ইরানের মুদ্রা রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় রান্নার তেল, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
১৫ স্যাটেলাইট নিয়ে ছিটকে পড়ল ভারতের রকেট
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) উৎক্ষেপণের পরপরই ত্রুটির কারণে ১৫টি স্যাটেলাইট নিয়ে নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে একটি রকেট। সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে দেশটির অন্ধ্র প্রদেশের শ্রীহরিকোটা দ্বীপের সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের সময় এই ঘটনা ঘটে। ভারতের এ ঘটনাকে দেশটির মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বড় ধরনের ব্যর্থতা হিসেবে মনে করা হচ্ছে।
ইসরো বলেছে, রকেটটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী একটি উপগ্রহ ও বাণিজ্যিক পেলোড বহন করছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইসরো বলেছে, চার ধাপের উৎক্ষেপণযান পিএসএলভি-সি৬২ তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়।
তবে কী ধরনের ত্রুটির কারণে রকেটটি নির্ধারিত পথ থেকে ছিটকে পড়েছে, সেই বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি ইসরো। ভারতীয় এই মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বলেছে, এই বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
উৎক্ষেপণ দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ভিডিওতে রকেটটিকে আকাশে ছুটে যেতে দেখা যায়। তবে ত্রুটির কারণে রকেটটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি ঘটে বলে ইসরোর প্রধান ভি নারায়ণন জানিয়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ভারতের জাতীয় মহাকাশ কর্মসূচির প্রধান ভরসা হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি রকেট দেশটির বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন উৎক্ষেপণ করেছে; যার মধ্যে প্রথম চন্দ্র ও মঙ্গল অভিযানের কক্ষপথযানও রয়েছে।
২০১৭ সালে একক মিশনে ১০৪টি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছিল পিএসএলভি।
সোমবার উৎক্ষেপিত পিএসএলভি-সি৬২ রকেটটি একটি পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহসহ দেশি ও বিদেশি গ্রাহকদের জন্য ১৫টি উপগ্রহ বহন করছিল বলে ইসরো পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন দূরদর্শনকে নারায়ণন বলেন, তৃতীয় ধাপের শেষের দিকে আমরা যানটিতে কিছুটা বেশি অস্থিরতা লক্ষ্য করছি। তিনি বলেন, এর পরপরই যানটির উড্ডয়নপথে বিচ্যুতি দেখা যায়।
বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারত গত এক দশকে মহাকাশ অভিযানে নিজেদের সক্ষমতা জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। তুলনামূলক কম খরচে প্রতিষ্ঠিত শক্তিধর দেশগুলোর অর্জনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মহাকাশ কর্মসূচি আকার ও গতি ব্যাপক বাড়িয়েছে দেশটি।
২০২৩ সালের আগস্টে রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের পর চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মনুষ্যবিহীন একটি যান অবতরণ করায় ভারত। ২০২৪ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০৪০ সালের মধ্যে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনার ঘোষণা দেন।
আন্তর্জাতিক
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্ট করা ছবির নিচে লেখা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের এই ঘোষণায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি ঝটিকা অভিযান চালায়।
ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। ওই অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে এবং পরে ‘উপযুক্ত সময়ে’ তা দেশটির সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দেয়।
তবে ট্রাম্পের নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণার ফলে এখন ভেনেজুয়েলায় একই সঙ্গে দু’জন নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন। সূত্র: রয়টার্স।
এমকে




