রাজনীতি
জামায়াত আমীরের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মি. ইয়াও ওয়েন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় রাজধানীর বসুন্ধরায় অবস্থিত জামায়াত আমিরের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চীনা দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন (ডিসিএম) ড. লিউ ইউইন, পলিটিক্যাল ডিরেক্টর মি. ঝাং জিং, মি. রু কি (রাকি) এবং মিস নাফিসা (লিয়াং শুইন)।
বৈঠকটি আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় চীন ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনগণের কল্যাণ, উন্নয়ন সহযোগিতা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
উভয় পক্ষই আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে চীন–বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং এই সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
এ সময় আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ, উন্নয়ন টিম লিড দেওয়ান আলমগীর এবং জামায়াত আমিরের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।
এমকে
রাজনীতি
নির্বাচন করতে পারবেন না চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী
দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি-বাকলিয়া) আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিলই থাকছে। ফলে তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে ফজলুল হকের আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে তার আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। এদিন তৃতীয় দিনের মতো চলছে আপিল শুনানি।
এর আগে, গত ৪ জানুয়ারি দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতায় এ কে এম ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন।
জামায়াতের প্রার্থী এ কে এম ফজলুল হক রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন বলে জানান। গত ২৮ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগ করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেন।
তবে ওইদিন মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হলফনামায় দ্বৈত নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ করা হলেও তার সপক্ষে কোনো নথিপত্র দেওয়া হয়নি।
এমকে
রাজনীতি
জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে: চরমোনাই পীর
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, জুলাই সনদের আলোচনা রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে যদি বিপুল জনসমর্থন প্রদর্শিত না হয়, তবে অন্তর্বর্তী সরকার এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সবকিছুই প্রশ্নের মুখে পড়বে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে ইসলামী আন্দোলনের মিডিয়া সেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন।
চরমোনাই পীর বলেন, “আমরা বারবার বলেছিলাম, গণভোট ও জাতীয় নির্বাচন আলাদা করে আয়োজন করুন। এই জাতীয় নির্বাচনসহ সবকিছুই ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদের বরাতেই বৈধ হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট আয়োজন করলে জুলাই সনদের আলোচনাই আড়ালে চলে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের সেই দাবিকে উপেক্ষা করার পরিণতি আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। এ কারণেই জুলাই সনদের আলোচনা জারি রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
চরমোনাই পীর বলেন, “চব্বিশের জুলাইয়ে জনগণ কেবল নির্বাচনের জন্য জীবন দেয়নি। তারা একটি মহৎ উদ্দেশ্যের জন্য রাজপথে লড়াই করেছে। জুলাই সনদে সেই প্রত্যাশা পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশে প্রতিফলিত হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, “আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের পুনর্গঠনের সুবর্ণ সুযোগ প্রকৃতপক্ষে এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে। ওই সময় শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিল, যা আমাদের ফ্যাসিবাদের হাত থেকে মুক্ত করেছে।”
চরমোনাই পীর বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদ উৎখাত হলেও ফ্যাসিবাদী আইন, রীতি ও সংস্কৃতি এখনো বিদ্যমান। দেশ থেকে স্থায়ীভাবে ফ্যাসিবাদ দূর করতেই জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে। এই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করতে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। সেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’কে জয়যুক্ত করতে হবে এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।”
তিনি দেশের সব রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাই সনদের পক্ষে জনমত গঠনে সবাইকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
একই সঙ্গে তিনি সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চরমোনাই পীর বলেন, “জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব নয়। এ বিষয়ে এখনো উদ্বেগ রয়ে গেছে। সরকারকে কার্যকর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এমকে
রাজনীতি
বগুড়া-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন মান্না
বগুড়া-২ আসনে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে তার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। সকাল ১০টায় এই শুনানি শুরু হয়।
এর আগে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বগুড়া-২ আসনের প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্নার হলফনামায় নানা অসংগতি ছিল। হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কোনো তথ্য দেননি তিনি। হলফনামায় যে এফিডেভিট দিয়েছেন তা সম্পাদনের একদিন পর তিনি স্বাক্ষর করেছেন। তিনি সম্পদ বিবরণীর ফরম দাখিল করেননি। এসব অসংগতির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
পরে প্রার্থিতা বাতিলের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মাহমুদুর রহমান মান্না ইসিতে আপিল করেন। সেই আপিলের জেরে আজ তিনি প্রার্থিতা ফিরে ফেলেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ আপিল তালিকার ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর পর্যন্ত আবেদনগুলোর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। মান্নার শুনানি ১১৬ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল।
এমকে
রাজনীতি
জামালপুর-৩ আসনে জামায়াত প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-৩ (মেলান্দহ–মাদারগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পর শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত আসে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে কমিশন মজিবুর রহমান আজাদীর মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করে।
এর আগে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় কারিগরি ত্রুটির কারণে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার প্রার্থিতা বাতিল করেছিলেন। প্রস্তাবক ও সমর্থকের স্বাক্ষর সংক্রান্ত ঘরে ভুলক্রমে প্রার্থীর স্বাক্ষর পড়ে যাওয়ায় এবং সংশোধনী কাগজটি মূল নথির সঙ্গে সংযুক্ত না হওয়ায় এ জটিলতা সৃষ্টি হয়।
আপিল শুনানিতে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে নির্বাচন কমিশন তা বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। ফলে জামালপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ফিরে পান মজিবুর রহমান আজাদী।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় মজিবুর রহমান আজাদী বলেন, আপিল শুনানিতে আমার মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি একটি কারিগরি ভুল ছিল, যা কমিশন সংশোধন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।
তিনি জামালপুর-৩ আসনের ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।
এর আগে, আজ সকাল ১০টা থেকে ইসিতে দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানি শুরু হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আজ ৭১ থেকে ১৪০ নম্বর পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এসব আপিলের শুনানি চলবে।
রাজনীতি
এলপিজির সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার আহ্বান জামায়াতের
এলপিজির পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে এলপিজি গ্যাসের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ জনগণকে দুর্ভোগে ফেলছে। এ ধরনের অমানবিক ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরো বলেন, এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বৃদ্ধি ও বাজার অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অবিলম্বে এলপিজি বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি এবং যারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, মজুতদারি ও অসাধু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় সরকারকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বাজার মনিটরিং জোরদার করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এ ধরনের সংকট বারবার ফিরে আসবে।
তিনি দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনস্বার্থবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এমকে




