আন্তর্জাতিক
ভূমিকম্পে কাঁপলো পাকিস্তান
চীন-তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া একটি ভূমিকম্পের কম্পন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিও রয়েছে।
পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের অধীন জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৮।
এনএসএমসি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল তাজিকিস্তান ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়ও কম্পন অনুভূত হয়। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সোয়াত, শাংলা, বুনের ও আশপাশের জেলা। কম্পনের সময় ভবন কেঁপে ওঠে এবং সতর্কতামূলকভাবে অনেক মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২১ অক্টোবর রাতে ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখোয়া, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (আজেক) এবং আশপাশের এলাকায় ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সেই সময় এনএসএমসি জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে এবং এর গভীরতা ছিল ২৩৪ কিলোমিটার।
এর চার দিন আগেই কেপি, ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ৫.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ এই অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভূকম্পন বেশি দেখা যায়।
গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্প কি মার্কিন সংবিধান লঙ্ঘন করছেন?
যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান সামরিক হামলার কারণে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি কার্যত যুদ্ধ?
সংবিধান কী বলে?
মার্কিন সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১, ধারা ৮ অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করার একমাত্র ক্ষমতা কংগ্রেসের। অন্যদিকে অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
হ্যামলাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান ও আইন বিভাগের অধ্যাপক ড্যাভিড স্ক্যালজ বলেন, এই কাঠামোর কারণে আধুনিক প্রেসিডেন্টরা অনেক সময় সামরিক পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষামূলক বা জরুরি ব্যবস্থা হিসেবে উল্লেখ করে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা ছাড়াই অভিযান চালান।
তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। পরবর্তী ভিয়েতনাম ও ইরাকের মতো সংঘাতগুলোতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে।
১৯৭৩ সালে কংগ্রেস ওয়ার পাওয়ার রেজুলিউশন পাস করে, যা প্রেসিডেন্টের একক সামরিক পদক্ষেপের সময়সীমা ৬০ দিনে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে। এই আইনের অধীনে, সামরিক অভিযান শুরুর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কংগ্রেসকে অবহিত করতে হয়।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসকে হামলার বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, ইরান থেকে আসা হুমকি সহনীয় সীমা অতিক্রম করেছে, যদিও মধ্যস্থতাকারী দেশ ওমান দাবি করেছিল যে দুই পক্ষ একটি সমঝোতার কাছাকাছি ছিল।
ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলিউশন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন।
আক্রমণ নাকি যুদ্ধ?
ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক পল কুইরক বলেন, আক্রমণ ও যুদ্ধ-এর পার্থক্য অনেক সময় নির্ভর করে এর সময়কাল ও তীব্রতার ওপর।
তার মতে, যদি অভিযান স্বল্পমেয়াদি হয়, তাহলে সেটিকে আক্রমণ বলা হতে পারে। কিন্তু যদি এটি সপ্তাহ বা মাস ধরে চলে, তাহলে বাস্তবে তা যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
আইনগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি। তবে চলমান হামলার বিস্তৃতি ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে—এটি কেবল সামরিক অভিযান, নাকি বাস্তব অর্থে একটি যুদ্ধ।
সূত্র: আল-জাজিরা
আন্তর্জাতিক
ইরানে এক হাজারের বেশি বেসামরিক নিহত
২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত চার দিনে ইরানে নিহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৭ জন বেসামরিক। নিহতদের মধ্যে ১৮১ জন শিশু, যাদের বয়স ১০ বছরের কম।
এছাড়া আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৫ হাজার ৪০২ জন। এই আহতদের মধ্যেও ১০০ জন শিশু আছে।
গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি এনজিও হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হারানা)। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২৮ তারিখ থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত চার দিনে ইরানজুড়ে শত শত রাউন্ড বোমা ফেলেছে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান বাহিনী। ইরানের সামরিক ঘাঁটি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় আঘাত হেনেছে এসব বোমা।
ইরানে নিহত এবং আহত সংক্রান্ত প্রচুর তথ্য আসছে উল্লেখ করে হারানা বলেছে, সেসব তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলছে।
সূত্র : বিবিসি
আন্তর্জাতিক
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হলেন খামেনির ছেলে মোজতবা
ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা। বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, বিপ্লবী গার্ডের চাপে ইরানের এসেম্বলি অব এক্সপার্ট মোজতবাকে নতুন লিডার হিসেবে নির্বাচিত করেছে।
খামেনিকে সমাহিত করা হবে মাশহাদ শহরে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে মাশহাদে সমাহিত করা হবে। ইরানিদের কাছে এটি একটি পবিত্র শহর।
বুধবার বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে।
৮৬ বছর বয়সী খামেনিকে লক্ষ্য করে গত শনিবার সকালে হামলা চালানো হয়। মৃত্যুর আগে দীর্ঘ ৩৬ বছর তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ছিলেন।
খামেনির জন্মও হয়েছিল মাশহাদ শহরে। সেখানকার ইমাম রেজা মাজারে পিতাকে সমাহিত করা হয়েছিল।
জানা গেছে, খামেনি মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিলেন তাকে যেন মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে শেষ নিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল
আন্তর্জাতিক
সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে তেল পরিবহন খরচ
মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীনে তেল পরিবহনের জন্য একটি সুপারট্যাঙ্কার ভাড়ার খরচ সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, এই খরচ বর্তমানে ৪ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।
গত সপ্তাহে যখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে আক্রমণের হুমকি দিয়েছিল, সেই সময়ের তুলনায় এই ভাড়া বর্তমানে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। দেশের দক্ষিণে অবস্থিত এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
রেকর্ড পরিমাণ এই ভাড়া মূলত সবচেয়ে বড় তেলবাহী জাহাজগুলোর (সুপারট্যাঙ্কার) জন্য প্রযোজ্য, যা একবারে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করতে পারে।
গত সপ্তাহে ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে জ্বালানি খাতের যে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে, এই জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধি তারই একটি বড় প্রতিফলন।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এমএন
আন্তর্জাতিক
খামেনির অনুপস্থিতিতে ক্ষমতার কেন্দ্রে আবির্ভূত কে এই লারিজানি?
ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একসময় অযোগ্য ঘোষিত নেতা আলি লারিজানিই এখন দেশে নেতৃত্বে শূন্যতার সংকটময় সময়ে নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
ইরানে শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে একটি যুগের অবসান ঘটেছে।
চারিদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।
রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।
গত বছরেই ইরানের নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তি হিসেবে নতুন করে লারিজানির আবির্ভাব ঘটেছে। ইরানের পারমাণবিক আলোচনা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং দেশের অভ্যন্তরীন বিক্ষোভ দমনে লারিজানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
ইরানে গতবছর বিক্ষোভ চলতে থাকার সেই সংকটের মধ্যে দেশের হাল ধরতে তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিজের অন্যতম বিশ্বস্ত ও অনুগত এক নেতার ওপরই আস্থা রেখেছিলেন। আর তিনিই হলেন ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি।
৬৭ বছর বয়সী লারিজানি ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান। মূলত তখন থেকেই আড়ালে থেকে ইরান চালাচ্ছিলেন তিনি। গত কয়েক মাসে লারিজানির ক্ষমতা ও দায়িত্বের পরিধি কেবলই বেড়েছে।
খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী:
আলি লারিজানি ইরানের অন্যতম প্রভাবশালী ধর্মীয় পরিবার থেকে এসেছেন। গত আগস্টে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সেক্রেটারি নিযুক্ত হন।
লারিজানিকে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
গত মাসেই তিনি ওমানে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিলেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রাশিয়ার সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদার করতেও তিনি সম্প্রতি বেশ কয়েকবার মস্কো সফর করেছেন, যা আরও উচ্চ পর্যায়ের কূটনীতিরই লক্ষণ।
তবে লারিজানির ভাবমূর্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। গত জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর ভূমিকা রাখার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রণালয় তার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল।
ওয়াশিংটনের অভিযোগ, লারিজানিই প্রথম বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা শুরুর ডাক দিয়েছিলেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, ওই দমনে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। লারিজানি অবশ্য বিক্ষোভকারীদের ‘শহরকেন্দ্রিক আধা-সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
লারিজানির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সুরক্ষা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে দরকষাকষিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
তিনি একবার ইউরোপীয় দেশগুলোর দেওয়া প্রস্তাবকে ‘চকলেটের বিনিময়ে মুক্তা দেওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সুর কিছুটা নরম করে বলেছিলেন, আমেরিকার উদ্বেগের জায়গা যদি এটি হয় যে, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দিকে আগানো উচিত না, তবে সেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।
শনিবার ইরানে হামলার পর রোববার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে লারিজনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনও ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
এক নজরে আলি লারিজানি:
লারিজানির জন্ম ১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে। তিনি একজন দর্শনের পিএইচডি ডিগ্রিধারী। ২০০৫-২০০৭ সালের প্রধান পারমাণবিক আলোচক এবং ২০০৮-২০২০ সাল পর্যন্ত পার্লামেন্ট স্পিকার ছিলেন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং চীনের সঙ্গে ২৫ বছরের কৌশলগত চুক্তিতেও তার বড় ভূমিকা ছিল।
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন এবং ২০২১ ও ২০২৪ সালে লারিজানি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লারিজানি অংশ নিতে চাইলেও তাকে অযোগ্য ঘোষণা করেছিল ইরানের গার্ডিয়ান কাউন্সিল।
সেই প্রত্যাখ্যাত নেতাই উঠে এসেছেন ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে। ইরানে নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরির এই সংকটময় মুহূর্তে লারিজানি নিজেকে ক্ষমতার নিয়ন্ত্রক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
এমএন




