আন্তর্জাতিক
এবার পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব
সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির পর এবার শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। পাকিস্তান থেকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান কিনতে চায় সৌদি আরব। তবে সৌদি আরব পকিস্তানকে যে ঋণ দিয়েছে তার আওতায় এ চুক্তি হতে পারে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের ঋণকে যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চুক্তিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে নিজেদের সামরিক আধিপত্য বজায় রাখতে সৌদি আরব এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করতে আগ্রহী বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বছর দেশ দুটির মধ্যে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির ধারাবাহিকতায় এই আলোচনা সামনে এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তান ও সৌদির এই ঘনিষ্ঠতা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী সম্ভাব্য এই চুক্তির মোট অর্থমূল্য চার বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। যেখানে ঋণের সমন্বয় ছাড়াও অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম ক্রয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে পাকিস্তান ও সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে কাজ করে আসছে। যেখানে তেল সমৃদ্ধ দেশটি বিভিন্ন সময়ে ইসলামাবাদের আর্থিক সংকট কাটাতে বিলিয়ন ডলারের ঋণ ও জ্বালানি সহায়তা প্রদান করেছে। বিনিময়ে পাকিস্তানের সুদক্ষ সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সৌদি আরবের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান তাদের সামরিক সরঞ্জামের রপ্তানি বাড়াতে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিছুদিন আগেই লিবিয়ার খলিফা হাফতারের বাহিনীর কাছে চার বিলিয়ন ডলার মূল্যের জেএফ-সেভেনটিন যুদ্ধবিমান বিক্রির চুক্তি সম্পন্ন করেছে দেশটি।
গত মে মাসে ভারতের সাথে আকাশপথের সংক্ষিপ্ত লড়াইয়ে এই বিমানের কার্যকারিতা প্রমাণিত হওয়ার পর থেকেই আরব দেশগুলোর মধ্যে এই যুদ্ধবিমানের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রক্সি গোষ্ঠী এসটিসির অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি বিমান বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তবে পাকিস্তানের এই চীনা প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া কী হবে তা নিয়ে জল্পনা চলছে। বর্তমানে ওয়াশিংটন ও রিয়াদ আমেরিকার সর্বাধুনিক এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর একটি অংশ মনে করছে যে সৌদি আরব যদি চীনের সহযোগিতায় নির্মিত পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এফ-থার্টিফাইভ বিক্রির প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
নিজেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। রোববার (১১ জানুয়ারি) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পোস্ট করা ছবির নিচে লেখা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
মার্কিন সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলার নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার এক সপ্তাহ পর ট্রাম্পের এই ঘোষণায় লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি ঝটিকা অভিযান চালায়।
ওই অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারের অভিযোগে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে আটক রয়েছেন। ওই অভিযানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকবে।
এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি জানান, অনির্দিষ্টকালের জন্য ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের তদারকি ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে এবং পরে ‘উপযুক্ত সময়ে’ তা দেশটির সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মাদুরো আটক হওয়ার পর ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে এবং সেনাবাহিনীও তাকে সমর্থন দেয়।
তবে ট্রাম্পের নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণার ফলে এখন ভেনেজুয়েলায় একই সঙ্গে দু’জন নিজেদের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দাবি করছেন। সূত্র: রয়টার্স।
এমকে
আন্তর্জাতিক
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যার বিচার শুরু
মিয়ানমারের সংখ্যালঘু মুসলিম রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলার বিচার প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় পর জাতিসংঘের আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস (আইসিজি)। জাতিসংঘের এই আদালত ‘বৈশ্বিক আদালত’ (ওয়ার্ল্ড কোর্ট) নামেও পরিচিত।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে জাতিসংঘের আদালতের অবস্থান। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দেশটির স্থানীয় সময় বেলা ১০টা থেকে (বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টা) মামলার শুনানি শুরু হবে। আগামী ৩ সপ্তাহ পর্যন্ত চলবে এই শুনানিপর্ব।
জাতিসংঘের আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত যে মামলাটি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল, সেই মামলার তদন্তকারী দল ‘ইউএন ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’-এর প্রধান নিকোলাস কৌমজিয়ান বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০১৭ সালের জুলাই মাসে বাংলাদশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি পুলিশ স্টেশন ও সেনা ছাউনিতে বোমা হামলা হয়েছিল। সশস্ত্র রোহিঙ্গাগোষ্ঠী আরাকান স্যালভেশন আর্মি (আরসা)-কে এই হামলার জন্য দায়ী করে মিয়ানমারের সরকার। পরে এ হামলার জের ধরে ওই মাসেই বাংলাদেশ- মিয়ানমার সীমান্তবর্তী রোহিঙ্গা গ্রামগুলোতে অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
অভিযানের নামে সাধারণ রোহিঙ্গাদের লক্ষ্য করে বর্মী সেনাবাহিনীর লাগাতার হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের সামনে টিকতে না পেরে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশে পালাতে শুরু করে। বাংলাদেশ সরকারের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে সময়। তারা এখনও বাংলাদেশেই আছেন।
২০১৭ সালে বেসামরিক রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের পরপরই জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী দল এ ঘটনার তদন্ত করেছিল। সেই দলের তদন্ত প্রতিবেদনে সেনাবাহিনীর অভিযানকে ‘গণহত্যামূলক তৎপরতা’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই ২০১৯ সালে বৈশ্বিক আদালতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলা করেছিল পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিায়া। সেই মামলারই শুনানি শুরু হচ্ছে সোমবার।
মিয়ানমারে যখন রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান চলছিল, সে সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অং সান সুচি। জাতিসংঘের অনুসন্ধানি দলের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। গাম্বিয়া যখন মামলা করে, তখনও সেই মামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সুচি বলেছিলেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ ‘অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর’।
২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের জেরে ক্ষমতাচ্যুত হন সুচি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার। বর্তমানে মিয়ানমারের কারাগারে আছেন তিনি এবং দুর্নীতির অভিযোগে সেনাবাহিনীর আদালতে তার বিচার চলছে।
দেশটিতে বর্তমানে পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা জাতিসংঘ, কিছু পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার গোষ্ঠী কর্তৃক অবাধ বা সুষ্ঠু নয় বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
এই বিচারের ফলাফলের প্রভাব মিয়ানমারের বাইরেও পড়বে। সম্ভবত গাজা যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার গণহত্যার মামলার উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি ইরানের
ইরানে যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। প্রাণঘাতী সরকারি দমন-পীড়ন উপেক্ষা করেও সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে আন্দোলনকারীরা। বিবিসির যাচাই করা ভিডিও এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে দেখা গেছে, বিক্ষোভের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর অবস্থানে গিয়েছে।
এই আন্দোলন ইরানের প্রতিটি প্রদেশের একশটিরও বেশি শহর ও নগরে ছড়িয়ে পড়েছে। দুইটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিবিসিকে জানিয়েছেন, দুইদিনে শতাধিক মরদেহ আনা হয়েছে। দেশজুড়ে নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আন্দোলনকারী নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সংসদের স্পিকার যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালায় তবে ইসরায়েলসহ ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ পরিবহন কেন্দ্রগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে ইরানের রাজধানী তেহরানে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। এখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান দাবি করছেন আন্দোলনকারীরা।
ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেছেন, যারা বিক্ষোভ করবে তাদের ‘এনিমি অব গড বা প্রভুর শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এই অপরাধের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।
এদিকে খামেনি বিক্ষোভকারীদের ‘একদল দুষ্কৃতকারী’ অভিহিত করে বলেছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুশি করতে এই আন্দোলন করছে।
অপরদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত’ যেহেতু ইরান ‘স্বাধীনতা চাইছে।’
একটি মানবাধিকার গ্রুপ জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত দুই হাজার পাঁচশো জনেরও বেশি মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
হিজাব পরা নারীই একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন: ওয়াইসি
হিজাব পরা একজন নারীই ভবিষ্যতে একদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে মন্তব্য করেছেন সর্বভারতীয় মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) দলের প্রধান এবং হায়দরাবাদের প্রভাবশালী রাজনীতিক আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। ভারতের সংবিধান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে সমান অধিকার দিয়েছে— এই যুক্তি তুলে ধরে এই মন্তব্য করেন তিনি। এদিকে তার এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাসীন বিজেপি একে ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্য বলেও আখ্যা দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু বলছে, হায়দরাবাদের সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসির এই বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। দলটির দাবি, ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যের মাধ্যমে ওয়াইসি অর্ধসত্য তুলে ধরেছেন, কারণ ‘বহু মুসলিম নারীই’ হিজাব পরার প্রথার ‘বিরোধী’।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, আগামী ১৫ জানুয়ারির পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে গত শুক্রবার মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে এক নির্বাচনী সভায় ভাষণ দিতে গিয়ে ওয়াইসি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের সংবিধানে বলা আছে, কেবল একটি ধর্মের মানুষই সে দেশের প্রধানমন্ত্রী বা প্রেসিডেন্ট হতে পারে। কিন্তু ড. বাবাসাহেব আম্বেদকরের লেখা আমাদের সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে— যে কোনও নাগরিক ভারতের প্রধানমন্ত্রী, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কিংবা একজন মেয়রও হতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে সেই দিন আসবে, যেদিন আমি বা বর্তমান প্রজন্ম কেউই হয়তো থাকব না, কিন্তু হিজাব পরা এক নারী ভারতের প্রধানমন্ত্রী হবেন’। ওয়াইসি বলেন, তিনি এই বিষয়ে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতাসীন দলের উদ্দেশে বলেন, ‘মুসলিমদের বিরুদ্ধে যে ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে, তা বেশিদিন টিকবে না।’
এই বক্তব্যের জবাবে বিজেপি সংসদ সদস্য অনিল বন্ডে বলেন, ওয়াইসি দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন এবং অর্ধসত্য তুলে ধরছেন। তার দাবি, মুসলিম নারীরা হিজাব পরার বিরুদ্ধে, কারণ কেউই পরাধীনতা চায় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি ইরানে হিজাববিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি ভারতে জনসংখ্যাগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ করে হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নির্বাচনী সভায় ওয়াইসি স্থানীয় ভোটারদের আহ্বান জানান, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসের বিজেপি, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডের শিবসেনা এবং অজিত পাওয়ারের এনসিপি— এই দলগুলোর প্রার্থী বা তাদের সমর্থিত কাউকে যেন ভোট না দেয়া হয়।
এছাড়া মুম্বাইয়ের মেয়র কে হবেন সেই বিতর্কও সম্প্রতি সামনে এসেছে। কারণ সম্প্রতি বিজেপি দাবি করেছে রাজ্য রাজধানীর পরবর্তী মেয়র হবেন একজন মারাঠি ও হিন্দু। এ প্রসঙ্গে ওয়াইসি বলেন, এ ধরনের আলোচনা কেবল নির্বাচনের সময়ই সামনে আসে। তিনি অভিযোগ করেন, ফড়নবীস, শিন্ডে ও পাওয়ার জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন এবং ভোটের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত জবাব দেয়ার আহ্বান জানান। ওয়াইসির ভাষায়, ‘আমরা আপনাদের ষড়যন্ত্রের শিকার হব না’।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দলগুলো সংবিধান মেনে সরকার পরিচালনা করছে না। তাদের শাসনের ভিত্তিই হলো ঘৃণা। তারা নিজেদের সংখ্যালঘু ও দলিতদের বন্ধু বলে দাবি করে, কিন্তু বাস্তবে তা নয়। কৃষকদের জন্যও তারা কিছু করছে না বলেও অভিযোগ করেন ওয়াইসি।
এমকে
আন্তর্জাতিক
যেভাবেই হোক, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্র দখল করবেই: ট্রাম্প
গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে আবারও কড়া অবস্থানের কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, এই আর্কটিক দ্বীপটি দখলে নিতে যুক্তরাষ্ট্র সহজ বা প্রয়োজনে কঠিন পথে এগোতে পারে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে তেল খাতের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু একটা করব—তারা চাক বা না চাক। গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে তিনি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব কার্যত উপেক্ষা করেন।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চাইবে। তবে তা সম্ভব না হলে শক্ত পথ বেছে নেওয়া হবে। তার মতে, খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ার কারণে।
তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র না নিলে রাশিয়া বা চীন গ্রিনল্যান্ডের দখল নিতে পারে। তাই বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটি থাকলেও, দ্বীপটি দখলের হুমকিতে ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্ররা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন সতর্ক করে বলেছেন, এমন আগ্রাসন ন্যাটো ও যুদ্ধ-পরবর্তী বৈশ্বিক নিরাপত্তা কাঠামোর জন্য ভয়াবহ হবে।
তবে ডেনমার্কের এই উদ্বেগকে গুরুত্ব দেননি ট্রাম্প। তিনি বলেন, ডেনমার্ক যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধু হলেও কয়েকশ বছর আগে সেখানে জাহাজ ভেড়ানোই মালিকানার প্রমাণ হতে পারে না।
এদিকে আগামী সপ্তাহে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এমকে




