আন্তর্জাতিক
ভারতের ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিলে ট্রাম্পের সম্মতি
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও ইউরেনিয়াম আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’কে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করতে ভারত, চীন ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত চড়া আমদানি শুল্ক আরোপের একটি বিলে সম্মতি দিয়েছেন তিনি। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক—উভয় পার্টির সমর্থনে তৈরি এই ‘রাশিয়া স্যাংশন বিল’ কার্যকর হলে বিশ্ব বাণিজ্যে এক বিশাল অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।
সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম ও রিচার্ড ব্লুমেনথালের তৈরি এই বিলে ট্রাম্প প্রশাসনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে যারা জেনেবুঝে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস কিনবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট সরাসরি সেই দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা পণ্যের ওপর আকাশচুম্বী শুল্ক এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারবেন। মূলত মস্কোর অর্থের উৎস পুরোপুরি বন্ধ করে ভ্লাদিমির পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করাই ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য।
এই বিল পাস হলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বে ভারত। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা ভারতীয় কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক রাশিয়ার তেল কেনার কারণে আগে থেকেই কার্যকর রয়েছে। নতুন বিল অনুযায়ী এই শুল্কের পরিমাণ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লে দুই দেশের বাণিজ্যে বড় ধরনের ধস নামতে পারে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের মতে, ইউক্রেন যখন শান্তির জন্য ছাড় দিচ্ছে, তখন পুতিনকে দমাতে এই কঠোর পদক্ষেপের কোনো বিকল্প নেই।
সিনেটর গ্রাহাম জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহেই বিলটি নিয়ে মার্কিন সিনেটে ভোটাভুটি হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, রাশিয়ার ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করাই এখন হোয়াইট হাউসের প্রধান কৌশল। এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় শুধু তেল নয়, রাশিয়ার ইউরেনিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোও বড় ধরনের অর্থনৈতিক শাস্তির মুখে পড়বে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই আগ্রাসী নীতি বিশ্বজুড়ে নতুন এক অর্থনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করতে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রে ডিভি লটারি ভিসা ইস্যু স্থগিত
ডাইভারসিটি ইমিগ্র্যান্ট ভিসা (ডিভি) ইস্যু করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এক জরুরি ঘোষণায় এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ডিভি লটারির আওতায় কোনো নতুন ভিসা ইস্যু করা হবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্প্রতি ব্রাউন ইউনিভার্সিটিতে গুলিবর্ষণ এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির একজন অধ্যাপককে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি ডিভি প্রোগ্রামের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই ডিভি প্রোগ্রামের স্ক্রিনিং ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া পুনরায় পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভিসা আবেদনকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং তারা জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি কি না—তা কঠোরভাবে যাচাই করতেই এই বিরতি দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই না ডিভি প্রোগ্রামের কোনো দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনিরাপদ কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করুক।’
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যারা এরই মধ্যে ডিভি ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বা যাদের ইন্টারভিউয়ের তারিখ নির্ধারিত আছে, তাদের প্রক্রিয়া চালু থাকবে। আবেদনকারীরা নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউয়ে অংশ নিতে পারবেন। তবে ইন্টারভিউ সফল হলেও পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত কাউকে কোনো নতুন ভিসা দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, বর্তমানে কোনো নতুন ভিসা ইস্যু হচ্ছে না।
যাদের কাছে এরই মধ্যে বৈধ ডিভি ভিসা রয়েছে, তাদের দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কারণ এই স্থগিতাদেশের ফলে কোনো বর্তমান বৈধ ভিসা বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়নি। এছাড়া ডিভি-২০২৭ লটারি সংক্রান্ত কোনো নতুন আপডেট এই মুহূর্তে নেই বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
এই নির্দেশনার কোনো ব্যতিক্রম থাকবে না। জননিরাপত্তার স্বার্থে পুরো প্রক্রিয়াটি ঢেলে সাজানোর পরই এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সূত্র: বিজনেস টুডে
আন্তর্জাতিক
ইরানে বিক্ষোভ দমনে কঠোর সরকার, শুধু তেহরানেই একরাতে নিহত ২০০
ইরানে টানা দুই সপ্তাহ ধরে চলমান বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে গত বুধবার থেকে। বিক্ষোভকারীদের কণ্ঠে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে সরকার পতনের ডাক। ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির পদত্যাগের দাবি তুলে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান, ‘স্বৈরশাসকের মৃত্যু হোক’।
রাজধানী তেহরান ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বান্দার আব্বাস, মাশহাদ, ফারদিস ও বোজনুর্দসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই বিক্ষোভ। সরকারি ভবন, রাষ্ট্রীয় টিভি চ্যানেলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন দিচ্ছে বিক্ষোভকারীরা। এমনকি নিজ দেশের পতাকাও ছিঁড়ে ফেলতে দেখা গেছে বিক্ষোভকারীদের।
এ অবস্থায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ঘোষণা করেছেন, যারা দেশে ধ্বংসাত্মক কাজ লিপ্ত হয়েছেন, তাদের মোকাবিলা করতে আর পিছপা হবে না সরকার। পরে দেশটির এলিট ফোর্স ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডও এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের যেসব চলছে, তা আর অব্যাহত রাখতে দেবে না তারা।
বিবৃতি দেওয়ার পর বিক্ষোভ দমনে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড। সহিংস বিক্ষোভাকারীদের ওপর ব্যাপকহারে গুলি চালিয়েছে বাহিনীটি। এতে শুধুমাত্র রাজধানী তেহরানেই এক রাতে নিহত হয়েছে ২০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন।
ওই প্রতিবেদনে টাইম ম্যাগাজিন জানিয়েছে, নাম গোপন রাখার শর্তে তেহরানের এক চিকিৎসক তাদের জানিয়েছেন, শুধুমাত্র তেহরানের ছয়টি হাসপাতালে ২০৬ বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। যাদের বেশিরভাগ গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন।
সাময়িকীটি বলেছে, যদি মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত হয় তাহলে ধারণা করা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারিকে তোয়াক্কা না করে এবার বিক্ষোভকারীদের দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইরান সরকার। তিনি হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তাহলে খামেনি সরকারকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এ আন্দোলন এখন পর্যন্ত ৩১টি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতের তীব্র আন্দোলনের পর শুক্রবার রাতেও হাজার হাজার মানুষ তেহরানসহ অন্যান্য জায়গায় জড়ো হয়েছেন।
ওই চিকিৎসক টাইমস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, শুক্রবার হাসপাতাল থেকে এসব মরদেহ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, উত্তর তেহরানের একটি পুলিশ স্টেশনের বাইরে বিক্ষোভকারীদের মেশিনগান থেকে ব্রাশফায়ার করা হয়েছে। সেখানে অন্তত ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। নিহতদের বেশিরভাগ তরুণ বলে জানিয়েছেন এ চিকিৎসক।
তবে, হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে টাইমস ম্যাগাজিন।
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় এবং সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়ে ওঠায় বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে শুক্রবার কঠোর ভাষায় বক্তব্য দেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি বলেন, ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র শত শত হাজার সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যারা এটাকে ধ্বংস করতে চায়— এমন শক্তির সামনে ইরান কখনোই মাথা নত করবে না।’ বিক্ষোভকারীদের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করার অভিযোগও তোলেন তিনি। এছাড়া তেহরানের পাবলিক প্রসিকিউট বলেন, যারা নাশকতা চালাবে বা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়াবে, তাদেরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ অবস্থায় ইরান সরকারকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা গুলি চালানো শুরু করো না, কারণ তাহলে আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমি শুধু আশা করি ইরানের বিক্ষোভকারীরা নিরাপদ থাকবে, কারণ জায়গাটি এই মুহূর্তে খুবই বিপজ্জনক।’
এমকে
আন্তর্জাতিক
ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে তেল কোম্পানিগুলো: ট্রাম্প
ভেনেজুয়েলায় দ্রুত বিনিয়োগে ফেরার আহ্বান জানিয়ে দেশটির তেল খাতে ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের লক্ষ্যের কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউসে তেল শিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠককালে তিনি তাদের আশ্বস্ত করেন যে, বিনিয়োগ করলে তারা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছ থেকে ‘সম্পূর্ণ নিরাপত্তা’ পাবেন।
বৈঠকের শুরুতে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা থাকবে। আপনারা সরাসরি আমাদের সঙ্গে কাজ করবেন, ভেনেজুয়েলার সঙ্গে নয়। আমরা চাই না আপনারা ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সরাসরি লেনদেন করুন।
ট্রাম্প আরও বলেন, আমাদের বড় তেল কোম্পানিগুলো অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে—এটি সরকারের অর্থ নয়, তাদের নিজস্ব অর্থ। তবে তাদের সরকারের সুরক্ষা দরকার।
এই বৈঠকের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী ভেনেজুয়েলার তেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও একটি ট্যাংকার জব্দ করে। গত এক মাসে এটি পঞ্চম ঘটনা। এতে স্পষ্ট হয়, ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানি, পরিশোধন ও উৎপাদনের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্প প্রশাসন কতটা দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানায়, ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ছিল শেভরন, যা এখনও ভেনেজুয়েলায় কাজ করছে, পাশাপাশি এক্সনমোবিল ও কনোকোফিলিপস—যাদের প্রকল্প ২০০৭ সালে জাতীয়করণের সময় হারিয়ে যায়। এছাড়া হলিবার্টন, ভ্যালেরো, ম্যারাথন, শেল, সিঙ্গাপুরভিত্তিক ট্রাফিগুরা, ইতালির এনি ও স্পেনের রেপসোলসহ দেশি-বিদেশি বহু প্রতিষ্ঠান বৈঠকে অংশ নেয়।
এক্সনমোবিলের সিইও ড্যারেন উডস বলেন, বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী ভেনেজুয়েলা বিনিয়োগযোগ্য নয়। বাণিজ্যিক কাঠামো, আইন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ সুরক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।
অনিশ্চয়তায় কোম্পানিগুলো
ইউসিএলএর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ বেঞ্জামিন র্যাড জানান, ভেনেজুয়েলায় ফেরার বিষয়ে তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে এখনও দ্বিধা রয়েছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না থাকলে এই বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণই থাকবে।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন দৈনিক এক মিলিয়ন ব্যারেলের নিচে নেমে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সম্পর্ক কতটা স্থিতিশীল হয় এবং কী ধরনের আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়—তার ওপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ।
সমালোচনা ও রাজস্ব বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন
পাবলিক সিটিজেন নামের ভোক্তা অধিকার সংগঠনের জ্বালানি কর্মসূচির পরিচালক টাইসন স্লোকাম এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের লক্ষ্য মূলত ‘কোটি কোটি ধনকুবেরের হাতে ভেনেজুয়েলার তেলের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া’
এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকার জানায়নি, ভেনেজুয়েলার তেল বিক্রির আয় কীভাবে বণ্টন হবে বা কত অংশ কারাকাস পাবে। বিশেষজ্ঞ র্যাচেল জিয়েম্বা সতর্ক করে বলেন, যদি এই অর্থ ভেনেজুয়েলার জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে না যায়, তাহলে দেশটির অর্থনৈতিক সংকট আরও গভীর হবে।
এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা জানায়, তারা কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই দিনে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি প্রতিনিধি দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে।
এমকে
আন্তর্জাতিক
ভূমিকম্পে কাঁপলো পাকিস্তান
চীন-তাজিকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় উৎপত্তি হওয়া একটি ভূমিকম্পের কম্পন শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পাকিস্তানের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুভূত হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ইসলামাবাদ ও পার্শ্ববর্তী শহর রাওয়ালপিন্ডিও রয়েছে।
পাকিস্তান আবহাওয়া দপ্তরের অধীন জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (এনএসএমসি) জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫.৮।
এনএসএমসি জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১৫৯ কিলোমিটার গভীরে এবং এর কেন্দ্রস্থল ছিল তাজিকিস্তান ও চীনের সীমান্তবর্তী অঞ্চল।
ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায়ও কম্পন অনুভূত হয়। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে সোয়াত, শাংলা, বুনের ও আশপাশের জেলা। কম্পনের সময় ভবন কেঁপে ওঠে এবং সতর্কতামূলকভাবে অনেক মানুষ ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
এখন পর্যন্ত কোথাও হতাহতের বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
গত বছরের ২১ অক্টোবর রাতে ইসলামাবাদ, খাইবার পাখতুনখোয়া, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (আজেক) এবং আশপাশের এলাকায় ৫.৩ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সেই সময় এনএসএমসি জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল আফগানিস্তানের হিন্দুকুশ অঞ্চলে এবং এর গভীরতা ছিল ২৩৪ কিলোমিটার।
এর চার দিন আগেই কেপি, ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় ৫.৬ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানসহ এই অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিকম্প হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে ভূকম্পন বেশি দেখা যায়।
গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ৬ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দুই হাজার ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং আরও কয়েক হাজার মানুষ আহত হন।
আন্তর্জাতিক
ইরানকে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প
ইরানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের হত্যা করা হলে ইরানকে ভয়াবহ পরিণতি ভোগ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দেওয়া এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানজুড়ে গত প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে।
রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, আমি তাদের জানিয়ে দিয়েছি— যদি তারা মানুষ হত্যা শুরু করে তাহলে আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানবো।
রেডিও উপস্থাপক উল্লেখ করেন যে, বিক্ষোভে এরই মধ্যে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, নিহতদের মধ্যে কিছু মৃত্যু পদদলিত হয়ে ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কারণে নাও হতে পারে।
এর আগেও গত শুক্রবার ট্রাম্প একই ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, যদি ইরান শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ‘সহিংসভাবে হত্যা করে’, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘উদ্ধারে এগিয়ে আসবে’।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আটজন অপ্রাপ্তবয়স্ক।
হিউইটের রেডিও অনুষ্ঠানে ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিতে বলা হলে ট্রাম্প বলেন, আপনাদের স্বাধীনতার পক্ষে দৃঢ় থাকতে হবে… আপনারা সাহসী মানুষ। আপনার দেশের সঙ্গে যা হয়েছে, তা দুঃখজনক। একসময় আপনার দেশ ছিল একটি মহান দেশ।




