ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জকসু নির্বাচনে দুই ভিপি প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে। এই নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, ছাত্রশিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ ও বামপন্থি মওলানা ‘ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেল অংশ নিয়েছে। এ ছাড়া একটি আংশিক প্যানেল ছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা রয়েছেন।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এরই মধ্যে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সমর্থিত উভয় প্যানেল নির্বাচন কমিশনের দিকে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছেন।
ছাত্রশিবির সমর্থিত অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল থেকে ভিপি প্রার্থী মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তিনি বলেন, জকসু নির্বাচন সুষ্ঠু করতে হলে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। রাষ্ট্রের এখানে সরাসরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। ক্যাম্পাসের ভেতরে বাইরে সমস্যা হচ্ছে। তারা ভোটকেন্দ্রে প্যানেল পরিচিতি নিয়ে যাচ্ছে। তারা ভোটারদের ম্যানিপুলেট করছে। নারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টোকেন ছিনিয়ে নিচ্ছে ও হেনস্তা করছে। গেটের সামনে বিশৃঙ্খলা করছে।
তিনি বলেন, শুরুতে নির্বাচনের সুন্দর পরিবেশ ছিল। শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করলে ছাত্রদলের ভাইয়েরা গেটের সামনে ভিড় করতে শুরু করেন। বিভিন্ন কেন্দ্রের তারা প্যানেল পরিচিতি বই আকারে ভোটারদের দিতে থাকেন। আমাদের প্রার্থীরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা আমাদের প্রার্থী ও ভোটারদের দিকে মারতে আসে। শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারির সহযোগিতায় এসব পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। দর্শন, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানসহ যত কেন্দ্রে গেছি সব জায়গায় ছাত্রদল একই কর্মকাণ্ড করছে। তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
ছাত্রশিবির সমর্থিত এই ভিপি প্রার্থীর আশঙ্কা, নির্বাচনে ভোট গণনার সময়ও তারা বড় কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে পারে। আমরা বিভিন্ন উপায়ে জেনেছি, ক্যাম্পাসের আশপাশে তারা ক্যাডার করেছে। তারা বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এসব বিষয়ে অভিযোগ দিলে তারা বরাবরের মতো জানায়, আমরা এসব বিষয়ে কিছু জানি না। কিন্তু তাৎক্ষণিক এসব সমস্যার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার মতো সময় নেই, এসব সমস্যা তাৎক্ষণিক সমাধান করতে হবে। নির্বাচন কমিশন ছাত্রদলের সঙ্গে পক্ষপাতিত্বমূলক আলোচনা করছে।
এদিকে ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী এ কে এম রাকিব অভিযোগ করে বলেন, শুধু একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন নম্বর দেখে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ওই প্যানেলের টোকেন নম্বর ছাড়া অন্য প্যানেলে টোকেন নম্বর দেখলে দায়িত্বরতরা ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখায়। যদি সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে সবাইকে সুযোগ দিতে হবে, না হলে কাউকে দেওয়া যাবে না। নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে আমরা দ্বিচারিতা আশা করি না।
একেএম রাকিব বলেন, দেখতে পেলাম একটা নির্দিষ্ট প্যানেলের টোকেন কেন্দ্রে ও ক্যাম্পাসে আছে। আমরা নির্বাচন কমিশন ও প্রক্টরের সাথে কথা বললাম তখন আমাদের ব্যালটের বিষয়ে অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, আমরা এমন কোনো নির্দেশনা দেয়নি যেখানে কেন্দ্রে ব্যালট নাম্বার বা অন্য কিছু নিয়ে যাওয়া যাবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জরুরি সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে জকসু নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুনরায় ৬ জানুয়ারি জকসু নির্বাচনের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রার দুই দশক পর প্রথমবারের মত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী (জকসু) সংসদের প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এই নির্বাচনের মাধ্যমে সাড়ে ১৬ হাজার ৬৪৫ জন শিক্ষার্থীর ভোটে এক বছরের জন্য কেন্দ্রীয় সংসদ গঠিত হবে।
এমকে
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য মাউশির জরুরি নির্দেশনা
জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০২৬ (এনএইচএসপিসি) নিয়ে নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)। এই প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার-প্রচারণা ও নিবন্ধন কার্যক্রম আগামীকাল শনিবার (২ মে) রাত ১২টার মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানকে পাঠানো মাউশির এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়ে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) আয়োজনে হাইস্কুল, মাদরাসা, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও কলেজ পর্যায়ের ‘শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬ (এনএইচএসপিসি)’ এর আয়োজন করা হয়েছে।
আগামী ১৬ মে দেশব্যাপী আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা ২ মে রাত ১২টার মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
এই প্রতিযোগিতার বিষয়ে মাউশির আওতাধীন মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের সব প্রতিষ্ঠানে প্রচার-প্রচারণা এবং শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।
সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিষয়টি জানাতে চিঠিটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের ছবি ভাইরাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নেতার
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুবাশ্বির আমিনের মাদক সদৃশ বস্তু সেবনের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছবিটিকে ‘বন্ধুদের সঙ্গে অভিনয়ের দৃশ্য’ বলে দাবি করেছেন ওই ছাত্রনেতা।
রোববার (২৬ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “৩৬ দিনে খুনি হাসিনা ভারতে পালিয়েছিল, ৩৬ ঘণ্টাও লাগবে না লন্ডনে পালাতে” শিরোনামে মুবাশ্বির আমিনের একটি ভিডিও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওর মন্তব্যের ঘরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান হাফিজ একটি ছবি পোস্ট করেন।
ছবিতে দেখা যায়, মুবাশ্বির আমিনের মুখে মাদক সেবনের মতো একটি বস্তু, হাতে লাইটার ও কাগজ রয়েছে। ছবির ক্যাপশনে হাফিজ লেখেন, খাওয়া শেষে বেচে থাকিস, বহুত হিসাব দেওয়া লাগবে। তুই আর তোর বাপের পালানোর সুযোগ নাই এইটুকু মাথায় ঢুকায়ে রাখ, কত হুমকি দেওয়া লোক তুই বুঝতে পারবিনি।
এবিষয়ে ইবি থানায় জিডি করেছেন ওই ছাত্র নেতা। জিডির সূত্রে, বিবাদীগণ অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র এবং ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল ২৬ এপ্রিল (২০২৬) দুপুরে আমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার শাহ আজিজুর রহমান হলে অবস্থানকালে লক্ষ করি যে ১নং বিবাদী তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নামে বিভিন্ন ধরনের কুটুক্তিমূলক কথাবার্তা সহ প্রাণনাশের হুমকী প্রদান করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। কিছুক্ষণ পর দেখি যে, ৩নং বিবাদী শাহিন আলম তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমার নানা রকম অপ্রচার সহ হুমকী প্রদান করে পোস্ট করেছে। ২নং বিবাদী সাব্বির খান তার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি থেকে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে কমেন্ট করেছে। বর্তমানে আমি বিবাদীদের ভয়ে আতংকে দিন কাটাচ্ছি।
বিষয়টি জানতে চাইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মুবাশ্বির আমিন বলেন, ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেকেন্ড ইয়ারে পড়াকালীন শহীদ জিয়া হলে একটি অভিনয়ের দৃশ্য থেকে তোলা ছবিকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এটি কোনো মাদকসংক্রান্ত বিষয় নয় বরং র্যাগিং সংস্কৃতির অংশ হিসেবে করা একটি অভিনয় ছিল। অতীতে এ ছবি দিয়ে আমাকে ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ দিব। থানায় একটা জিডি করেছি। বাকিটা তারা দেখবেন।
জিডি সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবি থানার ওসি মাসুদ রানা বলেন, ওই শিক্ষার্থী জিডি করে গেছে। আমরা উর্ধ্বতন কর্মকতার অনুমতি সাপেক্ষে তদন্ত করে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এমএন/এমএসএ
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার রেজাল্ট কবে, যা বলছে কর্তৃপক্ষ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরের নির্বাচিত ১৩৮টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠিত এই পরীক্ষার রেজাল্ট আগামী ১০ থেকে ১২ দিন পর হতে পারে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সাড়ে ৪ লাখের বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছে।
তাদের ওএমআর শিট দেখতে সময় লাগবে। তারপরও আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে রেজাল্ট দিয়ে দিবো। আশা করছি আগামী ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই রেজাল্ট প্রকাশ করতে পারবো।
এদিকে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন বলে জানা গেছে। সেই হিসেবে আসন প্রতি লড়েন প্রায় ২ জন শিক্ষার্থী।
এর আগে, শুক্রবার রাজধানীতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর কার্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।
উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, এ পরীক্ষায় সারাদেশে মোট ৮৮০টি কলেজে (৩৭৫টি সরকারি ও ৫০৫টি বেসরকারি) ৪ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৫টি আসনের বিপরীতে এই ভর্তি যুদ্ধ অনুষ্ঠিত হবে।
সরকারি কলেজগুলোর ২ লাখ ৭০ হাজার ৫২০টি আসনের বিপরীতে আবেদনকারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৯৪ হাজার ২২৯ জন এবং বেসরকারি কলেজের ১ লাখ ৮২ লাখ ৩৫৫টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছেন ৫৮ হাজার ১১৯ জন শিক্ষার্থী।
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সারাদেশে মোট ১৩৮টি কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা মহানগরে ১৮টি, ঢাকা বিভাগে ২৭টি, চট্টগ্রামে ২৩টি, খুলনায় ১৮টি, রাজশাহীতে ১৭টি, রংপুরে ১৩টি, বরিশালে ১০টি, সিলেটে ৯টি এবং ময়মনসিংহে ৩টি কেন্দ্র রয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
ঢাবিতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২ তদন্ত কমিটি গঠন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের এক শিক্ষার্থীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। উদ্ভূত ঘটনা তদন্তে দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) রাত সোয়া ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপপরিচালক ফররুখ মাহমুদের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রথম কমিটি সলিমুল্লাহ মুসলিম হলকেন্দ্রিক ঘটনায় গঠন করা হয়েছে। হলের আবাসিক শিক্ষক ড. মো. আনোয়ার হোসেনকে আহ্বায়ক এবং আবাসিক শিক্ষক জাওয়াদ ইবনে ফরিদকে সদস্য সচিব করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্য হিসেবে রয়েছেন আইসিটি বিশেষজ্ঞ ও সহকারী প্রক্টর ড. মোসাদ্দেক খান।
তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কমিটিকে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।
ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বৃহস্পতিবার রাতে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটির একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হলের সৌন্দর্য ও পরিবেশ রক্ষায় হলের অভ্যন্তরে সব ধরনের দেয়াল লিখন ও গ্রাফিতি অঙ্কন থেকে বিরত থাকতে শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
এদিকে শাহবাগ থানায় শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণের ঘটনা তদন্তে সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুব কায়সারকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের আরও একটি পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহনশীলতা প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
ক্যাম্পাস টু ক্যারিয়ার
বাংলাদেশ ও কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতার অঙ্গীকার
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একাডেমিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন উভয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সিউলে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন এবং সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট (ভাইস-চ্যান্সেলর) ড. ইয়ুনজাই লীর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের মধ্যে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়ক দপ্তর এর পরিচালক ইয়ং জিন আহন উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন কোরিয়ায় বাংলাদেশের অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌশলগত সহযোগী সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের প্রেসিডেন্ট ড. মুন জে-কিউন, এজেন্সি ফর ডিফেন্স ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকো এর ডিরেক্টর ড. লি ওন-হি, এসএমই এআই ইনোভেশন ফোরাম এর প্রেসিডেন্ট এবং সোল গেটওয়ে কর্পোরেশনের অ্যাডভাইজর ড. হোয়াং জে-কিউ, ব্যাংকো এর প্রেসিডেন্ট জাং মিন-সিওক।
বৈঠকে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি, যৌথ গবেষণা উদ্যোগ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক একাডেমিক সম্পর্ককে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দ্রুত একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতা চুক্তি (এমওইউ) স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ডিন ড. জংমিন শন এবং গ্লোবাল ফিউচার এডুকেশন ইনস্টিটিউটের পরিচালক গো ডং উহানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সুঙসিল বিশ্ববিদ্যালয় ১৮৯৭ সালে পিয়ংইয়ংয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কোরিয় যুদ্ধের পর সিউলে স্থানান্তরিত হয়। এটি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত। অন্যদিকে, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং ভবিষ্যৎমুখী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল আলম লিটন সিউলে বেসরকারি খাতে দক্ষতা উন্নয়নমূলক একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্পার্কস’ পরিদর্শন করেন।
প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের হাইটেক শিল্পে কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তুলছে এবং ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশে দক্ষতা উন্নয়ন খাতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে পারস্পরিক আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে এ সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।




